In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবা

জলসা সালানা, ইউকে-২০০৮

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

হাদীকাতুল মাহ্‌দী, হ্যম্পশাইয়ার, ইউকে

২৫শে জুলাই, ২০০৮ইং

জলসাগাহে এবং এর বাইরেও সালামের প্রচলন করুন। প্রেম-প্রীতি, ভালবাসা ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ এক সৌন্দর্যময় পরিবেশ সৃষ্টি করুন, হযরত মসীহ্ মাওউদ (আ.) জলসায় আগমনকারীদের জন্য যে সব দোয়া করেছেন, আপনারাও যেন সেগুলোর অংশীদার হয়ে যান।

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

আজ সন্ধ্যায় ইনশাআল্লাহ্, যথারীতি উদ্বোধনের মাধ্যমে আহ্‌মদীয়া মুসলিম জামাআত, ইউকে-এর সালানা জলসা শুরু হচ্ছে। এ বছরের সালানা জলসা, খিলাফতে আহ্‌মদীয়া শতবার্ষিকী পূর্ণতা উপলক্ষ্যে এবং (গত) শত বছরে আল্লাহ্ তাআলার ফযল, রহমত ও সাহায্যের বর্ষিত বারিধারার (কৃতজ্ঞতা) জ্ঞাপনের জন্য একত্রিত হওয়ার ফলে এ জলসা এক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ জলসায় রূপ নিয়েছে। যুবক, বৃদ্ধ, পুরুষ ও মহিলা নির্বিশেষে প্রত্যেক আহ্‌মদীর হৃদয়ে এ জলসার এক বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে আর এ গুরুত্বকে দৃষ্টিতে রেখে এ বছর জামাআতে আহ্‌মদীয়া বৃটেনের কর্তৃপক্ষ দেশের অভ্যন্তর ও বহির্বিশ্ব থেকেও অধিক হারে অতিথি আগমনের আশা রেখে ব্যবস্থাপনায় বিশালতা সৃষ্টির জন্য চেষ্টা করেছে। আমি আশাবাদী যে আস্থায়ীভাবে করা এমন বিশাল ব্যবস্থাপনায় সাধারণত যেসব ঘাটতি হয়ে থাকে সে ধরনের ছোট খাট ঘাটতি ছাড়া তেমন কোন বড় ঘাটতি থাকবে না। সাধারণভাবে আল্লাহ্ তাআলার ফযলে ব্যবস্থাপনা ভালই থাকবে ইনশাআল্লাহ্।

আল্লাহ্ তাআলার ফযলে এক সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতার ফলে নিজ কর্মীবৃন্দ তাদের নিজ নিজ কাজে দক্ষ হয়ে উঠেছেন এবং এ অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার সাথে যখন একজন আহ্‌মদীর ঈমানী উদ্দীপনা যুক্ত হয়ে যায় তো, কর্মীগণের মাঝে কাজের উন্মাদনা চেপে বসে আর যেভাবে আমি বলেছি এ বছর তো খিলাফত জুবিলীর জলসাও। প্রত্যেক কর্মী, সে হোক বাচ্চা, যুবক বা বৃদ্ধ, তার মাঝে এক বিশেষ উদ্দীপনা রয়েছে। এ বছর যেখানে যেখানে জলসা হচ্ছে, যেসব দেশেই আমি গিয়েছি, এ উদ্দীপনা এক বিশেষ রূপে দৃষ্টিগোচর হয়েছে। হোক সেটা ঘানা নাইজেরিয়ার মতো পুরতান জামাআতের জলসা বা বেনিন-এর মতো নতুন জামাআতের জলসা বা আমেরিকা অথবা কানাডার জলসা।

আমেরিকার আহ্‌মদীদের সম্পর্কেও কিছু বলতে চাই। জানিনা পৃথিবীর অন্যান্য দেশের আহ্‌মদীদের কেন যে এমন ধারণা ছিল যে, সেখানকার জলসায় তেমন উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আমেজ পরিলক্ষিক হবে না যেমনটি পৃথিবীর অন্যান্য দেশে পরিলক্ষিত হয়। এখনও আমার নিকট যেসব চিঠি আসছে সেগুলোর অধিকাংশ চিঠির মাঝেই এর উল্লেখ রয়েছে। সম্ভবত এমন ধারণা জন্ম নেয়ার কারণ এটা ছিল যে, (তারা ভাবতো) আমেরিকায় যে সামাজিকতা পরিলক্ষতি হয়, আমাদের আহ্‌মদীরাও সেই সামাজিকতার শিকার কেননা এক বিরাট সংখক যুবক সেখানেই প্রতিপালিত হয়েছে। কিন্তু একতো এ ধারণের ধারণা সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রও ভুল, কারণ সেখানকার সাধারণ মানুষ খুব ভাল। আর যেখানে আহ্‌মদীদের প্রশ্ন, যেমনটা আমি পূর্বেও বলেছি, তারা কোন দিক দিয়ে-ই কম না। (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্ তাআলার) আর এ সবই হযরত মসীহ্ মাওউদ (আ.)-এর হাতে বয়াতের বরকত।

যা হোক আজ তো ইংল্যান্ড জলসার উল্লেখ হওয়া দরকার। যেভাবে আমি বলেছি, আল্লাহ্ তাআলার ফযলে কঠোর আইনী বাধ্যবাধকতার মধ্যে দিয়ে অস্থায়ী ব্যবস্থাপনার দিক থেকে এবং সংখ্যার দিক থেকেও তো এত বিশাল আয়োজন কোথাও হয় না। গত কয়েক বছর যাবত যেসব জলসা হচ্ছে সেগুলোর মধ্যে জার্মান ও ইংল্যান্ডের জলসা সমপর্যায়ের এ বছর ঘানার জলসা উপস্থিতির দিক থেকে অনেক এগিয়ে গিয়েছে।

আমি পাকিস্তানের উল্লেখ করিনি কেননা সেখানে তো মুখেমুখে অধিকার, ন্যায়-নীতি ও স্বাধীনতার দাবীকারী সরকার গত ২৪ বছর থেকে আমাদেরকে জলসা করতে দিচ্ছে না। জানি না, এ শান্তিপ্রিয় জামাআত নিয়ে তাদের কিসের এত ভয়? জলসার এ দিনগুলোতে আমি আপনাদের মাঝে এ তাহরীক করতে চাই যে, আপনারা পাকিস্তানের অবস্থার জন্য দোয়া করুন। একতো রাষ্ট্রের সাধারণ অবস্থার জন্যও দোয়া করুন, কেননা আল্লাহ্-ই জানেন শাসনকর্তারা দেশকে কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছে, আর এদেশের কি করতে চাচ্ছে। গত বছর যখন নির্বাচন হল, তখন মৌলভীরা ক্ষমতা পায় নি, তাই তারা তাদের স্বভাব অনুযায়ী সারা দেশে এর প্রতিশোধ নিচ্ছে এবং বিভিন্ন স্থানে বিশৃংখলা সৃষ্টি করে দেশের ভিত্তিকে দুর্বল করার পায়তারা করছে। শাসনকর্তা ও রাজনীতিবিদদের নিকট এদের বাস্তবিক অবস্থা উন্মোচিত হয়ে গেছে কেননা তারা দেখেছে, সাধারণ জনগণ নির্বাচনে কিভাবে তাদেরকে প্রতিহত করছে, এরপরও শাসনকর্তারা মোল্লাদের নিয়ে ভয় পাচ্ছে। তাদের বিশৃংখলা সৃষ্টিকারী কার্যকলাপ কঠোরভাবে পদদলিত করার পরিবর্তে, তাদের কাছে এমন ভাবে নতি স্বীকার করে আছে এবং তাদের সাথে এমনভাবে আলোচনা করছে যে, মনে হয় যেন তাঁরা তাদের (মোল্লাদের) অধিনস্ত। যাই হোক, আল্লাহ্ তাআলা আমাদের দেশের ওপর রহম করুন। দ্বিতীয়ত: পাকিস্তানের আহ্‌মদীদের জন্যও দোয়া করুন, যেন সেখানকার আহ্‌মদীরা তাদের অনুষ্ঠানসমূহ স্বাধীনভাবে উদযাপন করতে পারে, যেন শান্তিতে শ্বাস নিতে পারে, নিজেদের জলসাসমূহ পরিপূর্ণ ভাবগাম্ভির্যতা ও জৌলুসের সাথে পালন করতে পারে, অত্যাচারী আইনের যেন ইতি ঘটে, আল্লাহ্ তাআলা রাষ্ট্রের ঐসব নীতি নির্ধারকদেরকে বিবেক বুদ্ধি দান করুন, যারা এ বিষয়টি বুঝতে পারছে না যে তারা কোন দিকে ধাবিত হচ্ছে এবং তাদের সাথে কি ঘটবে। এ দিনগুলোতে বিশেষ ক��ে ঐ সকল আহ্‌মদী যারা পাকিস্তান হতে এসেছেন, আপনারা পাকিস্তান ও পাকিস্তানের আহ্‌মদীদের জন্য অনেক দোয়া করুন।

আমি আবার U.K এর দিকে ফিরছি, গত জুমুআয় আমি কর্মকর�����াদেরকে তাদ���র দায়িত্বের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি, এটা আমার একটা রীতি, এর অর্থ কখনোই এমন নয় যে, কর্মকর্তাগণ সঠিকভাবে কাজ করেন না। আল্লাহ্ তাআলার ফযলে অন্য যে কোন জামাআতের মত এখানকার কর্মকর্তা ও কর্মীগণও অনেক আন্তরিকতার সাথে কাজ করেন। যেভাবে আমি পূর্বেও বলেছি, এত বিস্তর অস্থায়ী ব্যবস্থাপনা এবং এর জন্য এত বেশী সুদীর্ঘ প্রস্তুতিও কোথাও নেয়া হয় না, যতটা এখানে নেয়া হয়। জার্মানির জলসা যদিও সংখ্যার দিক থেকে U.K (যুক্তরাজ্য) জলসার বরাবর কিন্তু তারা জলসাগাহে বেশ সুযোগ সুবিধা পেয়ে যান যেটা এখানে পাওয়া যায় না। গত বছর আল্লাহ্ তাআলা কর্মকর্তা ও কর্মীগণকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দান করেছেন। অর্থাৎ মৌসুমী বৃষ্টি, প্রচলিত ধারাবাহিকতাকে বেশ ওলট-পালট করে দিয়েছিল। কিন্তু কর্মকর্তা ও কর্মীগণ আল্লাহ্ তাআলার ফযলে এমন সমস্যার মাঝেও খুব সুন্দরভাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। প্রত্যেক শাখার কর্মীদেরকে তাদের নিজ নিজ গন্ডির মধ্যে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় আর এজন্য গত বছরও সম্মুখীন হতে হয়েছে।

এ বছর বাহ্যিকভাবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস তো ভাল, দোয়া করুন যেন আল্লাহ্ তাআলা ভালই রাখেন। প্রকৃতপক্ষে সকল বিষয়ের চাবি তো আল্লাহ্ তাআলার হাতে। তাঁর ফযল ব্যতীত তো কোন জিনিস-ই সম্ভব না। তিনি চাইলে এটা আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলে প্রমাণিত হয়। মানুষের একটি অনুমান রয়েছে, যার উপর ভিত্তি করে তারা আবহাওয়ার অবস্থার বর্ণনা করে। কিন্তু যেভাবে আমি বলেছি যে, গত বছরের বৈরী আবহাওয়ার কারণে একটা সুফল হয়েছে যে, খোদ্দামরা নতুন অভিজ্ঞতা লাভ করেছে। এখন পর্যন্ত তো খোদ্দামরা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পথে এবং শুষ্ক স্থানের কাজ করতে দক্ষ ও পারদর্শী ছিল এখন তারা কাদার মাঝে কাজ করতেও অভ্যস্ত হয়ে গেছে। কেউ একজন বলেছেন “আমাদের শিক্ষক তো গর্তে পড়েও শিক্ষা লাভ করেছেন” কিন্তু আল্লাহ্ তাআলার ফযলে এখানে তো শিক্ষকের কথা নাই, বরং আমাদের খোদ্দামরা যুক্তরাজ্যে বসবাস করার পরও খানা-খন্দকের ব্যাপারে অভিজ্ঞ হয়ে গেছে। আমি তো মনে করি এখন যদি কোন গাড়ি কাদায় আটকা পড়ে তাদের এতটা ট্রেনিং হয়েছে যে, তারা অনায়াসে তা উঠাতে পারবে। যাই হোক, আগত অতিথিদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, কর্মীগণ তো আল্লাহ্ তাআলার ফযলে অনেক পরিশ্রম করে কাজ করেন এবং ইনশাআল্লাহ্ করবেও, কিন্তু মেহমানদেরও দায়িত্ব রয়েছে যা পালন করা আপনাদের কর্তব্য। সর্বপ্রথম কথা হচ্ছে, এটা স্মরণ রাখতে হবে যে, আল্লাহ্ তাআলার জন্যই এ জলসায় উপস্থিত হওয়া, একমাত্র উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। এজন্য সর্বদাই এ উদ্দেশ্যকে সামনে রাখুন আর এ ক্ষেত্রে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে নামায আদায় করা এবং শুধু জলসাগাহে বসে চিত্তাকর্ষক কিছু বক্তৃতা শুনা-ই আপনাদের এ আগমনের উদ্দেশ্য পূর্ণ করে না। বরং এ দিনগুলিতে আপনারা সকলে নিজের মাঝে এমন পবিত্র পরিবর্তন সাধনের চেষ্টা করুন, যেন এ দিনগুলোতে কৃত ইবাদত ও নামাযসমূহ জলসায় অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিগণের জীবনের স্থায়ী অংশে পরিণত হয়ে যায়। শুধু খুশু-ও-খুজুর (চরম বিনয়ের) সাথে নামায পড়লেই হবে না বরং নামাযগুলো সময় মত পড়ার জন্য চেষ্টা করতে হবে বরং এটা আবশ্যক যে বা’জামাত নামায পড়তে হবে।

এখানে নামায ও জলসার সময়ে দোকানগুলো সাধারণত বন্ধ থাকে, এজন্য নতুন মেহমানগণ এবং পুরাতনগণও ঐ দিকে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। কতক সময় বিনা কারণে নিয়ম ভাঙ্গার চেষ্টা করা হয় আর তাই এভাবে বাড়াবাড়ি করে কর্মীদের জন্যও সমস্যার কারণ হবেন না। এরপর জলসার এ দিনগুলোতে তো সাধারণত জলসাগাহে জামাতে তাহাজ্জুদ নামাযের ব্যবস্থা থাকে এবং লোকেরা এখানে আসেও আর অন্যান্য আবাসস্থলেও সেখানকার অবস্থানকারীরা এ বিষয়ের পা-বন্দি করুন। ইসলামাবাদে সমবেতভাবে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে অনুরূপভাবে, বায়তুল ফুতুহতেও রয়েছে। এসব স্থানেও তাহাজ্জুদ ও ফযর নামাযের পা-বন্দির (নিয়মানুবর্তিতার সাথে পালনের) চেষ্টা করুন। এছাড়াও অনেক লোক বাসায় অবস্থান করছেন, তাদের আশ-পাশেও যদি নামাযের ব্যবস্থা থাকে, সেখানে যাওয়ার সুব্যবস্থা থাকে এবং ফযর, মাগরিব ও এশার নামাযের আগেই যদি চলে যান তবে মাগরিব ও এশার নামায সেখানকার মসজিদে পড়ার চেষ্টা করুন, লন্ডনের অধিবাসীদের মধ্যে থেকে যারা প্রত্যেক দিন বাড়ি ফিরে যান, তারা নিজেরাও যেন নামাযে পা-বন্দি হন এবং তাদের মেহমানদেরকেও পা-বন্দি করান। যদি নামায ও ইবাদতের দিকে মনযোগ নিবদ্ধ না হয় তবে তো আপনারা, এ জলসার অনেক বড় একটি উদ্দেশ্যের পূর্ণকারী বলে বিবেচিত হবেন না। কোন বক্তৃতা উপকারে আসতে পারে না অথবা এ বক্তৃতার মাধ্যমে জ্ঞানের স্বাদ গ্রহণের ফলে, কোন উপকার সাধিত হয় না, যদি না নামাযের প্রতি পূর্ণ উৎসাহ এবং এর হক (প্রাপ্য অধিকার) আদায়ের উদ্দেশ্যে নামায পড়ার চেষ্টা করেন। এটি খিলাফত জুবিলীর জলসা, এজন্য লোকজন অনেক বড় সংখ্যায় এসেছে, উদ্দেশ্য হচ্ছে, খিলাফত জুবিলীর বছরের প্রথম জলসা। আমি আগেই বলেছি এবার অধিকাংশরাই এ বিষয়ের উপর ভিত্তি করে এবং এর গুরুত্বকে সামনে রেখে জলসায় শামিল হয়েছে।

সুতরাং, যখন আল্লাহ্ তাআলা খিলাফতের নেয়ামতের উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন তিনি মুমিনদের ভয়-ভীতির অবস্থাকে শান্তি ও নিরাপত্তার অবস্থায় বদলে দিবেন, তখন এ আয়াতে এ বিষয়টি ও বর্ণনা করেছেন, তারা আমার ইবদত করবেন এবং আমার সাথে কোন কিছুর শরিক না করার কারণে তারা এসব নেয়ামতের অধিকারী হবে অর্থাৎ খিলাফতের জন্য দৃঢ়তা দান করবেন অত:পর এসব কথা তাদেরকে আরো বেশি ইবাদত দিয়ে আকৃষ্ট করবে।

পরবর্তী আয়াত যেটি এ আয়াতে এস্তেখলাফের পর রয়েছে সেটার প্ররম্ভেই বলেছেন, وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ (আন্ নূরঃ ৫৭) অর্থাৎ ইবাদতের মৌলিক বিষয় এবং শিরক্ না করার প্রথম ধাপ হচ্ছে নামায প্রতিষ্ঠা করা। নামায প্রতিষ্ঠা জিনিসটা আসলে কি? বাজামাত নামায পড়া, (দোয়া-অনুনয় ও বিনয়ে) সুসজ্জিত নামায পড়া এবং সময় মত নামায পড়া। নামাযের বিপরীতে অন্য যে কোন বিষয়কে তুচ্ছ ভাবা, কোন মূল্যায়ণ না করা। সুতরাং এ দিনগুলোতে আগত অতিথি এবং জলসায় অংশগ্রহণকারীগণ, আপনারা আপনাদের নামাযের প্রতি মনযোগী হোন। শুধু এ দিনগুলোতে নয়, বরং এ সময়ে বিশেষভাবে দোয়া করুন যেন, এবং চেষ্টা করুন এ দিনগুলোর নামাযের অভ্যাস আপনাদের জীবনের অংশ হয়ে যায়, আল্লাহ্ তাআলা আমাদেরকে খিলাফতের রঙ্গে যে নেয়ামত দান করেছেন আমরা যেন তার অংশীদার হই। যদি আমাদের ইবাদত প্রাণবন্ত হয়, তবে তা প্রত্যেক আহ্‌মদীর জন্য ব্যক্তি জীবনেও দৃঢ়তার কারণ হবে এবং জামাআতি ভাবেও দৃঢ়তার কারণ হবে। সুতরাং এ দিনগুলোতে বিশেষ ভাবে নামাযসমূহের সংরক্ষণ করুন, কেননা এটাই আমাদের বুনিয়াদী উদ্দেশ্য।

হযরত মসীহ্ মাওউদ (আ.) বলেন,

“প্রত্যেক উম্মত ততক্ষণ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের মনযোগ আল্লাহ্‌র প্রতি নিবদ্ধ থাকে”।

তিনি (আ.) আরো বলেন,

“ঈমানের মূল হচ্ছে নামায।”

অতঃপর, আল্লাহ্ তাআলা বলেছেন, وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ অর্থাৎ আল্লাহ্ তাআলা তোমাদের মধ্য থেকে ঈমানদারদের সাথে অঙ্গীকার করেছেন لَيَسْتَخْلِفَنَّهُم فِي الْأَرْضِ যে, তিনি তাদেরকে পৃথিবীতে খলীফা নিযুক্ত করবেন। তাই প্রত্যেক আহ্‌মদীকে এই এনাম (পুরস্কার) ও কল্যাণ লাভের জন্য ঈমানের পথে অগ্রগামী হওয়ার চেষ্টা করা উচিত। যেভাবে হযরত মসীহ্ মাওউদ (আ.) বলেছেন, ঈমানের মূল বিষয় হচ্ছে নামায, এই মূলকে দৃঢ়ভাবে ধরার চেষ্টা করা উচিত, বরং তাঁর মূল আমাদের হৃদয়ে এমন ভাবে প্রথিত করতে হবে যে, কোন অবস্থাতেই যেন এ মূলের ক্ষতি সাধিত না হয়, কেননা এর ক্ষতি সাধন করা বা নামাযে দুর্বলতা দেখানোর অর্থ হচ্ছে, ঈমানে দুর্বলতা সৃষ্টি আর যখন ঈমান দুর্বল হবে তখন খিলা���তের সাথে সম্পর্কও হালকা হবে। কাজেই বর্তমানে আপনারা যখন বিশেষ দিনগুলোতে একত্রিত হয়েছেন তখন আপনারা আপনাদের নামাযকে সংরক্ষণ করুন, যাতে আল্লাহ্ তাআলার ওয়াদা মোতাবেক নামাযগুলো আমাদেরকে হিফাযত করে, আমাদের নামাযগুলোতে যেন দৃঢ়তা সৃষ্টি হয় এবং আল্লাহ্ তাআলা মু’মিনদের সাথে যার ওয়াদা করেছেন। আমরা যেন আল্লাহ্ তাআলার নৈকট্য পেয়ে সর্বদা তাঁর ঐ নামসমূহের উত্তরাধিকারী হই।

নামাযে দোয়া করার পদ্ধতি ও এর বাস্তবতা সম্পর্কে হযরত মসীহ্ মাওউদ (আ.) বলেছেন,

“ অনুনয় ও বিনয়ের সাথে নামায আদায় করা উচিত।”

وَالَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَوَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ (সূরা আল মু’মিনুন: ১০) অর্থৎ এমন লোক যারা তাদের নামায সমূহকে হেফাযত করে, কখনো অনুপস্থিত থাকে না আর মানুষের সৃষ্টির প্রকৃত উদ্দেশ্যও এটি যে, মানুষ যেন নামাযের মূলতত্ত্ব শিখে। স্মরণ রাখা উচিত যে, নামাযই সেই জিনিস, যার মাধ্যমে সমস্ত সমস্যার সমাধান হয় এবং সবধরণের বালা-মুসিবত দূর হয়ে যায়। কিন্তু এ নামাযের মাধ্যমে সেই নামাযকে বুঝায় না, সাধারণ লোকেরা প্রথাগতভাবে যে ধরণের নামায পড়ে থাকে বরং এ নামাযের অর্থ হচ্ছে, যার মাধ্যমে মানুষের হৃদয় কোমল হয় এবং এক অদ্বিতীয় আল্লাহ্ তাআলার দরবারে অবনত হয়ে এমন মোহিত হয় যে, গলে যাওয়ার উপক্রম, হয় অত:পর এটাও বুঝা উচিত যে, এজন্য নামাযের হিফাযত করা হয় না যে, খোদা তাআলার তা প্রয়োজন, খোদা তাআলার নিকট আমাদের নামাযের কোন প্রয়োজন নেই। তিনি তো غَنِيٌّ عَنِ الْعَالَمِينَ সমস্ত জগত হতে অমুখাপেক্ষী। তাঁর কোন কিছুর প্রয়োজন নেই বরং এর উদ্দেশ্য ও ভেদ কথা হচ্ছে, মানুষ নিজেই নিজের মঙ্গল কামনা করে থাকে। এজন্য তারা আল্লাহ্ তাআলার সাহায্য প্রর্থনা করে। কেননা এটা সত্য কথা যে, আল্লাহ্ তাআলার সাথে মানুষের সম্পর্ক সৃষ্টি হওয়াই প্রকৃত কল্যাণ প্রাপ্ত হওয়া। সমস্ত পৃথিবী যদি তার শত্রু হয়ে যায় এবং তার ধ্বংসের আকাংখী হয় তবুও তাঁর কোন ক্ষতি করতে পারে না আর এমন ব্যক্তির জন্য প্রয়োজন পড়লে আল্লাহ্ তাআলা লাখ লাখ, কোটি-কোটি মানুষকেও ধ্বংস করেন। স্মরণ রেখো, নামায এমন জিনিস, যার মাধ্যমে পৃথিবীও সুসজ্জিত হয় এবং ধর্মও সুসজ্জিত হয়।

তিনি (আ.) বলেন,

“নামায তো এমন জিনিস যে, মানুষ এটা পড়ার মাধ্যমে সব ধরনের মন্দ কাজ ও নি:লজ্জতা হতে নিজেকে রক্ষা করে কিন্তু এভাবে নামায পড়ার যোগ্যতা মানুষের মাঝে নেই, এ পদ্ধতি খোদা তাআলার সাহায্য সহযোগিতা ব্যতীত অর্জন করা যায় না। মানুষ যতক্ষণ পর্যন্ত না বিভোর হয়ে দোয়ায় লেগে যায় ততক্ষণ পর্যন্ত এ ধরনের খুশু ও খুজু (চরম বিনয়) সৃষ্টি হতে পারে না। এজন্য তোমাদের দিন রাত মোট কথা কোন এক মুহূর্তও দোয়া শূন্য থাকা উচিত নয়।”

সুতরাং আল্লাহ্ তাআলা পুনরায় আমাদেরকে এমন দিন দান করেছেন, যাতে আল্লাহ্ তাআলার সাহায্য প্রার্থনা করতে থাকুন, নিজেদের নামাযসমূহকে অলংকৃত করুন এবং দিন রাত দোয়ার মধ্যে অতিবাহিত করুন। খোদা তাআলার নিকট ঐ সমস্ত নেয়ামতও পুস্কার প্রর্থনা করুন, খোদা তাআলা আমাদেরকে তেমন নামায দান করুন যা সব ধরনের মন্দ কাজ ও নি:লজ্জতা হতে রক্ষকারী। এ দিনগুলোতে আমরা যেন এমন দোয়া করার সৌভাগ্য লাভ করি যা, আল্লাহ্ তাআলার সন্তুষ্টিকে আকৃষ্ট করা অবস্থায় আমাদেরকে সর্বদা তাঁর রহমত ও ফযলের ওয়ারিশ বানাতে থাকবে। আল্লাহ্ তাআলা আমাদের বিরুদ্ধবাদীদের বোধ-উদয় ঘটান এবং হেদায়াত দান করুন, আল্লাহ্ তাআলার জ্ঞানে তাদের জন্য যদি এমনটি নির্ধারিত না থাকে তবে যেন আমাদেরকে সর্বদা তাদের অনিষ্ট হতে বাঁচার উপকরণ দান করতে থাকেন। সুতরাং এদিনগুলোতে একনিষ্ঠভাবে নামায, ইবাদত বন্দেগী ও দোয়ার প্রতি মনযোগী হউন। এর কারণ এখানে আমাদের একত্রিত হওযার এটাই উদ্দেশ্য।

জলসায় আগত প্রতিটি আহ্‌মদীকে সর্বপ্রথম এই মূল উদ্দেশ্যের প্রতি দৃষ্টি দিতে হবে। দ্বিতীয়ত: আমি যে কথাটি বলতে চাই, সেটি হচ্ছে জলসার দিনগুলোতে আপনারা সালামের প্রচলন করুন। আল্লাহ্ তাআলা আমাদেরকে যে সমস্ত আদেশাবলী দান করেছেন সেগুলোর মধ্যে থেকে এটিও একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক আদেশ এবং পরস্পরের মাঝে প্রেম-প্রীতি ও সৌহার্দ বৃদ্ধির উপায়। এরপর আগত মেহমানগণ এ কথাও স্মরণ রাখুন, আমন্ত্রণকারীর উপর আমন্ত্রিত মেহমানদের অনেক অধিকার রয়েছে কিন্তু মেহমানদেরও কিছু দায় দায়িত্ব রয়েছে। কুরআন করীমের সূরা আহযাবের আয়াতে আমাদের জন্য একটি আদেশ রয়েছে, যদিও এটি আঁ হযরত (সা.) সম্পর্কিত উদ্ধৃতি কিন্তু মেহমানদের জন্যও একটি মৌলিক আদেশ। সাধারণভাবে যেটিকে প্রত্যেক মেহমানেরই মনে রাখা উচিত, সে যে কোন উদ্দেশ্যে যে করো মেহমান হোক না কেন। কিন্তু জলসা সালানায় আগত মেহমানদেরকে এটি বিশেষভাবে স্মরণ রাখা উচিত। কেননা জলসায় আগত মেহমানরা এক বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে আসেন, বিশেষ করে জামাআতী ব্যবস্থাপনায় অবস্থানকারী মেহমানগণ যেন এর প্রতি বিশেষ ভাবে গরুত্ব দেন। প্রথম কথা হচ্ছে দাওয়াত ব্যতিত মেহমান হইও না। এ বিষয়ে আঁ হযরত (সা.)-এর উত্তম জীবনাদর্শ আমাদের সম্মুখে রয়েছে,

এক দাওয়াতে প্রাপ্ত নির্ধারিত সংখ্যার বেশি লোক শামিল হয়ে তিনি (সা.)-এর সাথে রওয়ানা দিলেন। একজন বেশি ছিলেন, যিনি তাঁদের সাথে যোগ দিয়েছিলেন, তিনি কথা বলতে বলতে যে বাড়ীতে খাওয়ার দাওয়াত ছিল সেই বাড়ী পর্যন্ত পৌঁছে গেলে । তিনি (সা.) বাড়ির লোকদের কাছ থেকে এই বলে অনুমতি নিলেন যে, আমার সাথে এ ব্যক্তি অতিরিক্ত এসে গেছে, আপনি চাইলে সে বাড়িতে প্রবেশ করবে অন্যথায় বিনা লৌকিকতা, দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ও লজ্জা না করে বলে দিন আমি তাকে ফিরে যেতে বলে দিবো।

কাজেই একটা কথা তো হচ্ছে, যারা বাইরে থেকে জলসায় এসেছেন তারা মনে রাখবেন, যদিও আপনারা আমন্ত্রিত হয়ে এসেছেন, আমন্ত্রণ ব্যতীত নয় কিন্তু একথাও স্মরণ রাখতে হবে যে, জামাআতের পক্ষ থেকে এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আতিথেয়তার ব্যবস্থা থাকবে, এরপর কিছু লোক জেদ করে অবস্থানের চেষ্টা করে। এ বিষয়টি তো তখন আমন্ত্রণহীন হাদীসে উল্লেখিত বিষয়টির মত হয় যা ফলশ্রুতিতে কষ্টদায়ক অবস্থার সৃষ্টি করে। কেউ কেউ সুদীর্ঘ সময় ব্যবধানের টিকিটের তারিখ নিয়ে আসে এরপর ওরা আপত্তি দেখাতে থাকে যে এখন কি করি আমি তো বাধ্য আর এই ফাঁকে কাজটাজও করে। তাই যদি বাধ্যবাধকতাই থাকে তবে যে অর্থ উপার্জন করছো সেখান থেকে খরচ কর, নিজের ব্যয়ভার নিজেই শামলাও, জামাআতের বোঝা হয়ো না। এত সুদীর্ঘ সময় অবস্থানকারীদের জন্য ব্যবস্থাপনায় সমস্যা সৃষ্টি হয়। গত বছরও হয়েছে এর পূর্ববর্তী বছরগুলোতেও হতে থেকেছে। তাদেরকে জায়গা খালি করে দিতে বললে এসব লোকের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠে। উপরন্তু আইনগত ভাবে কাজ করারও অনুমতি নেই। তারা যে ভিসা পায় তা ভিজিট ভিসা, এজন্যে কিছু জটিলতাও সৃষ্টি হয়। জামাআতের জন্য সমস্যা সৃষ্টি হয়। যদি প্রশাসনিক দপ্তরগুলোতে খবর হয়ে যায়, কারো সম্পর্কে তো খবর হয়েই যায়। এই জন্য সেই অল্প কিছু লোক, যারা এ ধরনের কার্যকলাপ করে থাকেন, আমি তাদেরকে বলছি, পরবর্তীতে যদি এভাবে থাকতে হয় তবে নিজের ব্যবস্থা নিজেই করুন, জামাআতের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করবেন না কেননা জলসার পর দীর্ঘ সময় অবস্থান করা তো ঐ দলের অন্তর্ভুক্ত হবে যারা দাওয়াত শেষ হওয়ার পরেও বসে থেকে বাড়ির লোকদেরকে কষ্ট দেয়া এবং তাদের জন্যে কষ্টের কারণ হয়।

অত:পর আর একটি বিষয়ও মেহমানদের মনে রাখা উচিত যে, বিভিন্ন অবস্থানের লোক তাদের সেবার জন্য কর্মী হিসেবে আসেন, যাদের মধ্যে অনেকে উচ্চ শিক্ষিতও রয়েছেন, সাধারণ মানের শিক্ষিতও রয়েছেন এবং বিভিন্ন পেশার লোকও রয়েছেন। এঁরা সবাই হযরত মসীহ্ মাওউদ (আ.)-এর অতিথিদের সেবার জন্য নিজেদের উৎসর্গ করে��� এ���ং স্ব-ইচ্ছায় ও উৎসাহের সাথে উৎসর্গ করেছেন। সাধারণত সকল কর্মীগণই খুব উৎসাহ নিয়ে এ কাজগুলো করছে এবং তারা সব ধরনের কাজ করার জন্য প্রস্তুত। জলসার পূর্বে আমিও ২/৩ বার মেহমানদের প্রতি সব দিকে থেকে খেয়াল রাখার ও তাদের সেবার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে থাকি। এরপরও যদি কারো পক্ষ থেকে কিছুটা এদিক-সেদিক হয়ে যায় তবে মেহমানদেরও সহনশীলতার পরিচয় দেয়া উচিত। প্রত্যেক মেহমান ও জলসায় অংশগ্রহণকারী সব লোক যদি নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়, তবে অল্প-সল্প যে তিক্ততা সৃষ্টি হয় সেটিও আর হবে না।

গত বছর বৃষ্টির জন্য ব্যবস্থাপনায় যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল, সেই সল্পতার জন্য কিছুটা মন্দ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। এর জন্য ট্রান্সপোর্ট কর্মীও মুসাফিরদের মাঝে ছোট ছোট কিছু তিক্ততার সৃষ্টি হয়েছিল এবং এখনো আমার নিকট অভিযোগ রয়েছে, উদাহরণ স্বরূপ কিছু মেহমান এমনও রয়েছেন যারা ছোট ছোট শহরে ও মহল্লায় তাদের গাড়ি দাঁড় করে রেখে আসে। রাস্তার ওপর গাড়ি দাঁড় করে রাখা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নিষেধ, প্রতিবেশীদেরও কষ্টের কারণ হয় আর M.T.A -তে বার বার কঠোরভাবে ঘোষণা করা হচ্ছে এবং জামাআতগুলোকেও বলা হয়েছে কিন্তু তার পরও ইউরোপ থেকে আগত কিছু লোক তাদের গাড়ি দাঁড় করিয়ে ট্যাক্সীযোগে চলে আসে। এটা পুরোপুরি ভুল পদ্ধতি, যদি জলসায় বরকত থেকে লাভবান হওয়ার ইচ্ছায় এসে থাকেন তবে আইন মান্য করে চলুন,। কর্মীদের মাঝেও যদি কিছুটা তিক্ততা সৃষ্টি হয় তখন কর্মীরাও কত কত সময় রাগান্বিত ও ক্ষিপ্র হয়ে উঠেন। তাদেরকে মানুষ মনে করে তাদের ছোট ছোট ভুলগুলো উপেক্ষা করা শিখুন, তবে তিক্ততা বাড়ায় সম্ভাবনা শুধু কমবেই না বরং এ অবস্থা সৃষ্টিই হবে না।

এরপর খাবারের সময় কখনো কখনো মহিলারা, শিশুরা অথবা এমন রোগীরা যাদের ডায়াবেটিকের মত রোগ রয়েছে, তারা ক্ষুধা সহ্য করতে পারেন না, অনেক ক্ষণ খালি পেটে থাকলে তাদের কষ্ট হয়, তারা অনেক ক্ষণ ক্ষুধার্ত থাকতে পারে না। কোন কারণে যদি অধিবেশন দীর্ঘ হয়ে যায় অথবা ট্রাফিক জ্যামে পড়ে দেরি হয়ে যায়, তবে এমতাবস্থায় যাদের কাছে শিশু রয়েছে এবং যারা রোগী এবং তাদের খাবার খাওয়ার প্রয়োজন পরে, যেভাবে আমি বলেছি। তাছাড়া আমি তো পূর্বেই এ সম্পর্কে কর্মীদেরকে বলেছি যে আপনারা এতটা কঠোর হবেন না, এমন লোকদের জন্য প্রোগ্রাম চলাকলিন সময়েও যদি প্রয়োজন পরে, তবে তাদের জন্য খাবার ব্যবস্থা করুন, এতে করে কোন সমস্যা নেই, কেননা এ সময় দোকান-পাট বন্ধ থাকে। দ্বিতীয়ত: যাদের সাথে বাচ্চা রয়েছে ও অসুস্থ লোকদের মধ্যে থেকে যারা জলসায় আসেন তারা এমন হাঙ্গামী অবস্থাকে সামনে রেখে নিজেদের পকেটেও খাওয়ার মত কিছু রেখে দিন, যাতে যে কোন ধরনের তিক্ততা ও কষ্ট থেকে বাঁচতে পারেন।

এরপর ট্রান্সপোর্টের জন্য অপেক্ষাও করতে পারবেন, যদিও এবার গত বছরের তুলনায় ব্যবস্থাপনা অনেক ভাল, ইনশাআল্লাহ্ কষ্ট হবে না। কিন্তু এরপরও কোন সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিতে পারি না। বিশেষ করে ফিরার সময় যখন ভিড় বেশি তখন কিছু কষ্টের পরিবেশ সৃষ্টি হয়, তখন ব্যবস্থাপকরাও এ রকম হাঙ্গামী অবস্থার সমাধানের জন্য যেখানে যেখানেই বাসষ্ট্যান্ড স্থাপন করেছে অথবা যেখান থেকে যাত্রীদের উঠানোর ব্যবস্থা করেছে, সেখানে (যাত্রীরাও) নিজেদের কাছে কিছু রাখুন এবং যিয়াফত টিমেরও কাজ তাদের কাছে কিছু দিয়ে দেয়া, বিশেষ কিছু না হলেও পিঠা বা রুটির প্যাকেট কাছে রেখে দিন দেড়ির ফলে হাঙ্গামী অবস্থা সৃষ্টি হলে যাতে তাৎক্ষণিকভাবে খাবার হিসাবে কিছু না কিছু দেয়া যায়।

গত বছরও এ ধরনের কিছু কিছু অভিযোগ আসত। মেহমানদের সব সময় স্মরণ রাখা উচিত, যারা আমন্ত্রক তারা তো তাদের দায়িত্ব পালন করবেন কিন্তু সাথে সাথেই আমদেরকেও তো আঁ হযরত (সা.) এর পবিত্র জীবনাদর্শের উপর চলা উচিত অথবা এ যুগে হযরত মসীহ্ মাওউদ (আ.) আমাদেরকে যে আদর্শ দেখিয়ে গেছেন সেভাবে চলা উচিত। হযরত মসীহ্ মাওউদ (আ.) কি ধরনের মেহমান ছিলেন, তারও একটা উদাহরণ দেখে নিন, যা আমি একটি রেওয়ায়াত থেকে নিয়েছি। একজন আমন্ত্রক হিসেবে হযরত মসীহ্ মাওউদ (আ.)-এর আদর্শ তো আমি গত খোতবায় উপস্থাপন করেছি কিন্তু দেখেন তিনি (আ.) যখন মেহমান হতেন, তখন কেমন মেহমান হতেন। হযরত শেখ ইয়াকুব আলী ইরফানী সাহেব (রা.) লিখেছেন,

জঙ্গে মুকাদ্দাসের (একটি ধর্মীয় বিতর্ক অনুষ্ঠানকে জঙ্গে মুকাদ্দাস বল হয়), যেটি হযরত মসীহ্ মাওউদ (আ.) ও খৃষ্টানদের মাঝে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, এতে আব্দুল্লাহ্ আথম খৃষ্টানদের প্রতিনিধিত্ব করেছিল। তিনি (আ.) সফরে ছিলেন এবং সেখানে মেহমান হয়েছিলেন) অনুষ্ঠানে অনেক অতিথি একত্রিত হয়েছিলেন। একদিন বাড়ির লোকেরা হযরত মসীহ্ মাওউদ (আ.) এর জন্য খাবার রাখতে বা সঠিক সময়ে খবার দেয়ার কথা ভুলে গিয়েছিল। তিনি (অর্থাৎ বর্ণনাকারী) বলেন, আমি আমার স্ত্রীকে তাগিদ দিয়ে রেখেছিলাম কিন্তু সে অনেক কাজের ব্যস্ততায় ভুলে গিয়েছিল। এমনকি রাতের একটা বড় অংশ অতিবাহিত হয়ে গিয়েছিল হযরত মসীহ্ মাওউদ (আ.) অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর যখন খোজ নিলেন তখন সবার টনক নড়ল, বাজারও বন্ধ হয়ে গিয়েছিল তাই খাবার পাওয়া গেল না। হুযূর (আ.)-কে অবস্থা বর্ণনা করা হল। তিনি (আ.) বললেন, এতটা ভীত হওয়ার বা লৌকিকতা দেখানোর কি দরকার, দস্তর খান (যে কাপড়ের উপর রেখে খাবার খাওয়া হয়)-এ দেখ, সেখানে বাড়তি কিছু পড়ে থাকতে পারে, সেটুকু আমার জন্য যথেষ্ট। দস্তর খানে কয়েক টুকরা রুটি পাওয়া গেল। হুযূর (আ.) বললেন, এতটুকুই যথেষ্ট এবং সেখান থেকে দু-এক টুকরো খেয়ে নিলেন আর সব ঠিক। (বর্ণনাকারী) লিখেন, বাহ্যিকভাবে এ ঘটনাটিকে একটি সাধারণ ঘটনা মনে হবে কিন্ত এর মাধ্যমে হযরত মসীহ্ মাওউদ (আ.)-এর সাদা-মাটা ও অনাড়ম্বর জীবনযাপনের এক আশ্চর্যজনক মুযেজা ফুটে উঠছে, খাওয়ার জন্য ঐ সময় নতুন ভাবে আয়োজন করা যেত এবং এতে সবার ভালও লাগত। হযরত মসীহ্ মাওউদ (আ.)-এর জন্য যদি সারা রাত জেগে থেকেও রান্না করতে হতো তবুও এটি তেমন কোন কঠিন বিষয় ছিল না বরং ভালই লাগত কিন্তু অসময়ে কাউকে কষ্ট দেয়া হোক। তিনি (আ.) এটা পছন্দ করেন নি, তিনি (আ.) এবারও পরওয়া করেননি যে, তাঁর জন্য উন্নত মানের খাবার আনা হয়নি, এবং এ গাফেলতি ও বেপরওয়াই এর জন্য কাউকে জবাবদিহিও করেননি আর অসন্তুষ্টির বহিঃপ্রকাশও করেননি বরং একান্ত সন্তুষ্ট ও হাস্য বদনে অন্যদের থেকে কুন্ঠাবোধ দূর করে দিয়েছেন।

অতএব, কোন ভুলত্রুটি বা হাঙ্গামী অবস্থার কারণে কারো আতিথেয়তায় যদি কিছুটা ঘাটতিও পরে, তারপরও কেউ রাগান্বিত হওয়ার পরিবর্তে সর্বদা এটা স্মরণ রাখুন যে, আমাদের এখানে আসার কী উদ্দেশ্যে? শত শত, হাজার হাজার মাইল পারি দিয়ে আসার পরও যদি এ উদ্দেশ্যের খেয়াল না রাখেন, নিজেদের আধ্যাত্মিক, চারিত্রিক ও জ্ঞানগত অবস্থার উন্নতি সাধনের প্রতি যদি মনোযোগী না হন তবে আপনি আপনার জলসায় আগমনের উদ্দেশ্য পুর্ণ করতে পারেন নি।

গত দৌরার (পরিভ্রমণের) সময় যখন আমি আফ্রিকা ভ্রমণ করেছি এটা তখনকার ঘটনা, আমি আমার এক খুতবায় এ ঘটনাটির উল্লেখ করেছিলাম যে, বেনিন এবং আইভোরিকোষ্ট হতে আগত কিছু লোক কয়েকটি কারণে এক বেলার খাবার পায়নি। কিন্তু যখন তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়েছে। তাদের জন্য নতুন ভাবে ব্যবস্থা করার পর তারা বলেছে, দু:খ প্রকাশের কোন নেই। আমরা যে উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছি, সে উদ্দেশ্য তো পূর্ণ হয়েছে, আমরা জলসায় অংশগ্রহণ করেছি খলীফায়ে ওয়াক্তের উপস্থিতিতে জলসা হচ্ছে আর সেখানে আমরা উপস্থিত হতে পেরেছি। তো এরাই হচ্ছে সেই সব লোক যাদের সম্বন্ধে আমরা বলে থাকি, (এরা) আফ্রিকায় নব আগমনকারী। এসব নব আগমনকারীরাই ঈমানের দিক থেকে উন্নতি করে যাচ্ছে। ছোট-খাট বিষয় নিয়ে অনেক সময় মহিলাদের পক্ষ থেকে বেশি অভিযোগ উঠে থাকে যেভাবে আমি ���লে এ���েছি, সকল মেহমান স্মরণ রাখুন, হোন পুরুষ বা মহিলা, আমন্ত্রণকারীদের যদি দায়িত্ব ও কর্তব্য থেকে থাকে তবে মেহমানরা শুধু অধিকারই রাখেনা বরং মু’মিনদেরও অনুরূপভাবে কিছু দায় দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে।

আঁ হযরত (সা.) তো মেহমানদেরকে তিনদিন পর্যন্ত আতিথেয়তা গ্রহণের অধিকার দিয়েছেন এরপর শেষ, পরবর্তীতে আমন্ত্রণকারী মেহমানের জন্য যা কিছু করে থাকে তা তো অনুগ্রহ। একজন আহ্‌মদী যখন মেহমান হিসেবে সালানা জলসায় যোগ দেয় তখন তাদের উদ্দেশ্য আতিথেয়তা গ্রহণ করা নয় বরং তাদের উদ্দেশ্য থাকে ঐসব পদ্ধতি ও রীতিনীতি শেখা, যার মাধ্যমে আল্লাহ্ তাআলার হক আদায় করতে পারা যায় এবং যার মাধ্যমে তাঁর বান্দার থেকে হক আদায় করতে পারা যায় এ বিষয়গুলোর জ্ঞান যদি পূর্ব থেকেই থেকে থাকে, শুধু জ্ঞান রাখলেই হক আদায়কারী হওয়া যায় না বরং জানার সাথে সাথে পালনও করতে হয়, কাজেই জলসার বরকত ও কল্যাণের মাধ্যমে এক্ষেত্রটিকে আরো উজ্জলতর ও জ্যোতির্ময় করতে পারেন। এ থেকেও অগ্রগামী হয়ে জামাতিভাবে দোয়ায় শামিল হয়ে পূর্বাপেক্ষা অধিক হারে আল্লাহ্ তাআলার ফযলের অধিকারী হতে পারেন।

সুতরাং এ দিনগুলোতে নামায ও দোয়ার প্রতি বিশেষভাবে মনযোগী হউন, নফল নামায আদায়ের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করুন। জলসার পরিবেশে এবং বাইরে আপনাদের নিজস্ব পরিবেশেও সালাম বিনিময়ের প্রচলন করুন। প্রেম, ভালবাসা ও ভ্রাতৃত্ব বন্ধনের পরিবেশ সৃষ্টি করুন, জলসায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য হযরত মসীহ্ মাওউদ (আ.) যে দোয়া করেছেন সেগুলোরও যেন অংশিদার হতে পারেন। একে পাওয়ার জন্য যারাই নেক নিয়্যতের সাথে প্রত্যাশা করবে এবং এর জন্য প্রচেষ্ট করবে, তবে সকল দেশের জলসায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য যেভাবে এ দোয়াসমূহ সর্বদাই কল্যাণের কারণ হয়ে থাকে অনুরূপভাবে এখানেও সমৃদ্ধি দান করবে।

আল্লাহ্ তাআলা যখন হযরত মসীহ্ মাওউদ (আ.)-কে জামাআতের উন্নতির জামানত বা নিশ্চয়তা দান করেছেন তখন তো হযরত মসীহ্ মাওউদ (আ.) তার জামাআতের জন্য যে সব দোয়া করেছেন সেগুলোর কবুলিয়্যতের জামানতও দান করেছেন। প্রকৃতপক্ষে হযরত মসীহ্ মাওউদ (আ.)-এর এসব দোয়ার পিছনে তো ঐ সকল দোয়াও কাজ করছে বরং বলা উচিত, সেই দোয়াগুলোই কাজ করছে, যেগুলো আঁ হযরত (সা.) তাঁর উম্মতের ঐ সকল লোকদের জন্য করেছেন, যারা আঁ হযরত (সা.)-এর সত্যিকার প্রেমিকের জামাআতে শামিল হয়েছে। সুতরাং ঐ সমস্ত দোয়ার অংশীদার হওয়ার বিষয়টি এখন, আমাদের আমলের উপর নির্ভর করছে। আল্লাহ্ তাআলা আমাদেরকে সেই তৌফীক দান করুন।

আমি এখন ব্যবস্থাপকদের পক্ষ থেকেও কিছু বলতে চাই। সর্বপ্রথম এ কথা স্মরণ রাখবেন যে, আপনারা প্রত্যেকে আপনাদের চার পাশের পরিবেশের দিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি রাখুন, জলসায় অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা যেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে আর এ বছর তো বিশেষ অবস্থার জন্য পরিস্থিতি আরো অন্য রকম, তাই নিজের চার পাশে সজাগ দৃষ্টি রাখ খুব প্রয়োজনীয়। আপনারা যদি কোন সন্দেহজনক আগুন্তককে দেখতে পান তবে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থাপনা কমিটিকে অবগত করুন। জলসা গায়ে বসা অবস্থায় আপনাদের চার পাশে দৃষ্টি রাখুন, কেউ যদি তার কোন জিনিস রেখে উঠে যায়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার মনযোগ আকর্ষণ করুন। যদি কোন ব্যাগ বা খাম প্রভৃতি ও অন্যান্য কোন জিনিস পড়ে থাকতে দেখেন তবে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থাপনা কমিটির লোকদের অবগত করুন। যারা নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন তারা এ বিষয়টির প্রতি বিশেষভাবে দৃষ্টি রাখুন, বিশেষ করে মহিলাদের জলসাগায়ে তাদের তাবুতে অনেক বেশি সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার এবং গভীর দৃষ্টি রাখাও দরকার। কোন মহিলা যেন জলসা গায়ে মুখ ঢেকে না রাখে। যদি কেউ এভাবে বসে তখন নিরাপত্তাকর্মী ও পাশে বসা ব্যক্তির দায়িত্ব তার মুখ দেখার ব্যবস্থা করা।

এরপর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ খেয়াল রাখুন, আপনাদের কাছে ছাপা যে প্রোগ্রাম রয়েছে তাতে যেসব হেদায়াত বা দিক-নির্দেশনা রয়েছে সেগুলো গভীর মনোযোগের সাথে পড়ুন, এতে ঐ সমস্ত বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে। সাধারণত উপদেশাবলীকে উপেক্ষা করা হয় আর এটাই সাধারণ অবস্থা। আমরা যখন উড়োজাহাজে যাত্রা করি তখন দেখি যাত্রাকালিন বিভিন্ন (Announcement) ঘোষণা হয়। আর ঘোষণা সমূহে এমন দিক নির্দেশনা থাকে যে, যদি এমন হাঙ্গামী অবস্থার সৃষ্টি হয় তখন এই এই করতে হবে। সাধারণত সাধারণত যারা বেশি বেশি ভ্রমণ করে তারা এটাকে একটা প্রথা মনে করে উপেক্ষা করে কিন্তু এগুলো গভীর মনোযোগের সাথে শোনা উচিত। আমি তো প্রতিবার ভ্রমণের সময়ই মনোযোগের সাথে শুনে থাকি, প্রত্যেকবারই কোন না কোন কথা নতুন দৃষ্টি কোন থেকে সামনে আসে, বরং আমি তো এরপর তাদের কার্ডটিও পড়ে থাকি। কোন কোন যাত্রী হয়তো এজন্য শুনতে চান না যে, ভাবনার ফলে তারা শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করতে পারেন। এজন্য কল্পনা করার পরিবর্তে এবং ভীত হওয়ার পরিবর্তে, এ সব দিকনির্দেশনা শোনার পর নিজের জন্য এবং অন্য যাত্রীদের জন্য দোয়া করা উচিত আর একজন ভ্রমণকারীকে তো এমনিতেই দোয়া করতে থাকা উচিত, বরং এ অবস্থায় তো তারা দোয়া করার সুযোগ পান।

কিছুদিন পূর্বে আমার কয়েক আত্মীয় স্বজন আমেরিকায় সমুদ্র পরিভ্রমণের জন্য গিয়েছিলেন। সেখানকার সমুদ্রে পাথর ও প্রচন্ড স্রোতও রয়েছে। ঐ সব দেশে হাঙ্গামী প্রয়োজনে তারা খুব ভালভাবে দিক নির্দেশনা দিয়ে থাকে। আমার এক আত্মীয়া আমাকে বলেছেন, তারা যখন দিক নির্দেশনা দিচ্ছিল তখন আমরা তা ভাসাভাসাভাবে শুনছিলাম, ঐ দিক নির্দেশের প্রতি ভালভাবে দৃষ্টি দেইনি এবং আর আমাদের নৌকা আকস্মিকভাবে দুর্ঘটনা কবলিত হয় উল্টে যায়। আল্লাহ্ তাআলার ফযলে কারো প্রাণহানি ঘটেনি। নৌকা উল্টে যাওয়ার পর পর প্রতিটি দিকনির্দেশনা স্মরণ হতে শুরু করে। তাদের দিকনির্দেশনা হতে যার যা মনেছিল সে সে অনুযায়ী কাজ করা শরু করে। কাজেই দিক নির্দেশনা উপকারের জন্যই হয়ে থাকেই প্রতিটি পরিস্থিতিতেই যে সব দিকনির্দেশনা দেয়া হয় তা ঐ পরিস্থিতি হতে উপকৃত হওয়ার জন্যই হয়ে থাকে, এ কারণে এগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত নয়। এটা মনে করা যে, আমরা তো প্রতি বছরই জলসায় এসে থাকি। তাই কেউ কেউ দিকনির্দেশনাসমূহকে ভাসাভাসাভাবে দেখে থাকে, তারা ভাবে আমরা তো গত ২৪/২৫ বছর বা শত বছর হতে এসব দিক নির্দেশনা শুনে আসছি, এখন শুনলেই কি আর না শুনলেই কি? পার্থক্য কেবল এতটুকু যে, ধীরে ধীরে অসতর্কতার প্রবণতা সৃষ্টি হয় আর অসতর্কতার ফলে মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়। সুতরাং দিক নির্দেশনা তা যেখানকারই হোক, সর্বদা মনোযোগের সাথে শোনা উচিত এবং সেগুলো পালনে সচেষ্ট হওয়া উচিত।

সুতরাং এই মহতি জলসার দিকনির্দেশনা সমূহকেও গুরুত্বের সাথে দেখুন, বিশেষ করে নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা, যানবাহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থাপনা, ছালামের প্রচলন করা এবং বাজামাত নামায আদায় করার প্রতি বিশেষভাবে মনোযোগী হউন।

আল্লাহ্ তাআলা এই জলসায় যোগদান করি প্রত্যেককে তার নিজ হেফাযতে রাখুন। এই জলসায় যোগদান করা তাদের জন্য সবদিক থেকে কল্যাণের কারণ হউক, যেন দোয়া করার সুযোগ সৃষ্টি হতে থাকে। ব্যবস্থাপনা পরিষদের সাথেও সব ধরনের সহযোগিতার চেষ্টা অব্যাহত রাখুন। আল্লাহ্ তাআলা আমাদের সবাইকে তৌফিক দান করুন।

অনুবাদঃ মুহাম্মদ আকরামুল ইসলাম, মুরব্বী সিলসিলাহ্

প্রাপ্ত সুত্রঃ পাক্ষিক আহ্‌মদী - সংখ্যাঃ ৩০শে নভেম্বর, ২০০৮ইং