In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবা

আধ্যাত্মিক কল্যাণ লাভের জন্য ‘রহ্‌মান’ খোদার প্রতি মনযোগ নিবদ্ধ করা এবং তাঁকে ভয় করা আবশ্যক

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

বাইতুল ফুতুহ্‌ মস্‌জিদ, লন্ডন, ইউকে

১৯শে জানুয়ারী, ২০০৭ইং

“বিশ্বকে ধ্বংস থেকে রক্ষার একমাত্র মাধ্যম হলো মানুষের ‘রহ্‌মান’ খোদাকে চেনা, অন্যথায় রহ্‌মান খোদার অনুগ্রহরাজির মূল্যায়ন না করে এমন শাস্তিতে নিপতিত হবে, যা কখনও রোগ-ব্যাধির আকারে এসে থাকে কখনও খুনাখুনি’র আকারে হয়ে থাকে, আবার কখনও এক জাতির অন্য জাতির উপর অন্যায় আগ্রাসন এবং তাদের সাথে নিস্পেষণমূলক আচরণ আযাবকে আমন্ত্রণ জানিয়ে থাকে। আল্লাহ্‌র শাস্তি কখনও আকাশ থেকে আবার কখনও ভূমি থেকে এসে থাকে।”

“জার্মানীর বাহিরের মহিলাদের আকাংখা অনুযায়ী তাদেরকেও বার্লিন মসজিদ নির্মাণের জন্য চাঁদা দেয়ার অনুমতি প্রদান।”

“দোয়া করুন যেন আল্লাহ্‌ তা’আলা সফলতার সাথে মসজিদের এই নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার তৌফিক দান করেন।”

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

إِنَّمَا تُنذِرُ مَنِ اتَّبَعَ الذِّكْرَ وَخَشِيَ الرَّحْمَنَ بِالْغَيْبِ فَبَشِّرْهُ بِمَغْفِرَةٍ وَأَجْرٍ كَرِيمٍ

(সূরাতুল ইয়াসীনঃ১২)

আল্লাহ্‌ তা’আলা পবিত্র কুরআনের বিবিধ স্থানে, বিভিন্ন আঙ্গিকে স্বীয় ‘রহ্‌মানিয়্যাত’ বৈশিষ্ট্যের মাহাত্ব্য ও গুরুত্ব বর্ণনা করেছেন। রহ্‌মানের অর্থ কী তা আমি পূর্বের একটি খুতবায় বর্ণনা করেছি, যেহেতু চার-পাঁচ সপ্তাহ কেটে গেছে তাই সংক্ষেপে পুনরায় বলছি। আল্লাহ্‌ তা’আলার রহ্‌মান বৈশিষ্ট্যের অর্থ এমন দয়া-করুণা ও দান যা সর্বদা অনুগ্রহের আকারে প্রকাশিত হয়। আল্লাহ্‌ তা’আলা স্বীয় বৈশিষ্ট্যের সুবাদে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষকে তাঁর এই অনুকম্পা দ্বারা কল্যাণমন্ডিত করছেন বরং সকল প্রাণী তাঁর এই কল্যাণ থেকে লাভবান হচ্ছে।

হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) বলেন,

“খোদা তা’আলা স্বয়ং প্রত্যেক প্রাণীর প্রকৃতিগত চাহিদা পূরণের ব্যবস্থা করেন আর কোন চেষ্টা ছাড়াই অযাচিত দান করেন।”

তিনি আরো স্পষ্ট করে বলেন,

“প্রাণীকূলের প্রকৃতি অনুসারে যা কিছুই প্রয়োজন তা তিনি সরবরাহ করেন; এই ব্যাখ্যার ফলে আল্লাহ্‌ তা’আলার এই অনুগ্রহের বিষয়টি আর ও স্পষ্ট হয়ে গেল।”

হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) অন্যত্র বলেন,

“খোদা তা’আলার দ্বিতীয় গুণ যা দ্বিতীয় পর্যায়ের অনুগ্রহ ‘রহ্‌মানিয়্যাত’ যাকে সাধারণ কল্যাণ আখ্যায়িত করা যেতে পারে, যা সূরা ফাতিহায় ‘আর রহ্‌মান’ বাক্যে বর্ণিত হয়েছে। পবিত্র কুরআনের পরিভাষার দৃষ্টিকোণ থেকে খোদা তা’আলার নাম ‘রহ্‌মান’ কারণ তিনি মানুষসহ সকল প্রাণীকে যথাযথ আকৃতি ও প্রকৃতি প্রদান করেছেন; অর্থাৎ, তার জন্য যে ধরণের জীবনের পরিকল্পনা করা হয়েছে সেরূপ জীবনের জন্য যে সকল শক্তি ও সামর্থ আবশ্যকীয় ছিল বা যেরূপ গঠন, শরীর ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের প্রয়োজন ছিল তা সবই তাদেরকে প্রদান করেছেন তারপর তাদের জীবন ধারণের লক্ষ্যে যে সকল উপকরণ আবশ্যক ছিল তা তাদেরকে সরবরাহ করেছেন। পাখিদের জন্য তাদের প্রয়োজনানুযায়ী, পশুদের জন্য তাদের প্রয়োজন মোতাবেক আর মানুষের জন্য মানব চাহিদার নিরিখে শক্তি-সামর্থ দান করেছেন, কেবল এটিই নয় বরং অস্তিত্ব লাভের সহস্র সহস্র বছর পূর্বে তাঁর রহ্‌মানিয়্যাতের গুণে আকাশ ও পৃথিবীর সকল বস্তু সৃষ্টি করেছেন যেন তারা এদের অস্তিত্বের রক্ষণাবেক্ষণকারী হয়। সুতরাং এই প্রতিষ্ঠিত সত্য দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, খোদা তা’আলার ‘রহ্‌মানিয়্যাতে’ কারো কোন কর্মের ভূমিকা নেই বরং তা কেবলই দান; এ সব কিছু সৃষ্টির পূর্বেই যার ভিত্তি রাখা হয়েছিল। মানুষ অবশ্য, খোদা তা’আলার ‘রহ্‌মানিয়্যাত’ থেকে সবচেয়ে বেশী অংশ লাভ করেছে কেননা সব কিছুই তার সেবায় নিবেদিত। তাই মানুষকে স্মরণ করানো হয়েছে যে, তোমাদের খোদা ‘রহ্‌মান’।

এটি এত বড় অনুগ্রহ যে, মানুষ যাকে আল্লাহ্‌ তা’আলা বিবেক-বুদ্ধি এবং চেতনা শক্তি দান করেছেন, সৃষ্টির সেরা জীব আখ্যায়িত হয়েছে, তাকে আল্লাহ্‌ তা’আলার এই ‘রহ্‌মানিয়্যাত’ বৈশিষ্ট্যের জন্য তাঁর সম্মুখে সমর্পিত হওয়া উচিৎ। কিন্তু কার্যতঃ মানুষ এর পুরোপুরি বিপরীত দিকে ধাবিত হচ্ছে। মানুষের অধিকাংশ নিজ খোদাকে চেনে না। কল্যাণ লাভ করে অথচ ভুলে যায়। তাঁর অযাচিত দানের সুবাদে আল্লাহ্‌ তা’আলা পৃথিবীতে নবী-রসূল প্রেরণ করেন যাঁরা মানুষকে শুভসংবাদও প্রদান করেন আবার সতর্কও করেন। আল্লাহ্‌ তা’আলার কাছ থেকে নির্দেশনা লাভ করে পূণ্যকর্মের প্রতি পথ-প্রদর্শন করেন। তাঁর ইবাদতের রীতিও বর্ণনা করেন। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ স্বীয় সংশোধনের প্রতি ধাবিত হয় না। এ কারণে নবী তাঁর হৃদয়ে কষ্ট অনুভব করেন যে, জাতির কি হয়েছে? আর আমাদের নেতা ও অভিভাবক হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সাঃ) সবচেয়ে বেশী কষ্ট অনুভব করেছেন। যে কারণে আল্লাহ্‌ তা’আলাকে বলতে হয়েছে,

“লায়াল্লাকা বাখিউন্‌ নাফসাকা আল্লা ইয়াকুনু মু’মিনিন” (সূরা আশ্‌ শো’আরাঃ৪)
অর্থাৎ সম্ভবতঃ তুমি নিজের প্রাণ বিনাশ করে ফেলবে এই জন্য যে, তারা মু’মেন হচ্ছে না।

সুতরাং, আল্লাহ্‌ তা’আলা যেহেতু তাঁকে ‘রহ্‌মাতুল্লিল আলামীন’ হিসেবে প্রেরণ করেছেন, তাই তাঁর মাঝে এই অনুভূতি ছিল। আর এটি তাঁর (সাঃ) প্রকৃতির বিশেষত্ব ছিল। যাই হোক, এটি রহ্‌মান খোদার তাঁর বান্দাদের উপর অ��ুগ্রহ যে, তিনি না চাইতেই জাগতিক চাহিদাও পূরণ করেন আর আধ্যাত্মিক প্রয়োজনাদীও। তারপরও যদি কেউ এর মূল্যায়ন না করে, একে না চেনে, এথেকে লাভবান না হয় তাহলে এরূপ লোক�����া স্বয়ং নিজেদের��ে ধ�����ংসের মুখে ঠেলে দেয়। নবীর শিক্ষা আর নবীর ব্যথা এদের কোন কাজে আসে না। তাই আধ্যাত্মিক কল্যাণ লাভের জন্য রহ্‌মান খোদার প্রতি মনযোগ নিবদ্ধ করা আর তাঁকে ভয় করা আবশ্যক। এজন্য তাঁর (সাঃ) অবস্থা দেখে আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেছিলেন,

ইন্নামা তুনযিরু মানিত্তবায়ায্‌ যিকরা ওয়া খাশিয়ার্‌ রহ্‌মানু বিলগাইবি ফাবাশ্‌শিরহু বিমাগ্‌ফিরাতিওঁ ওয়া আজরিন কারীম (সূরাতুল ইয়াসীনঃ১২)
তুমি শুধু সেই ব্যক্তিকে সতর্ক করতে পারো যে উপদেশের অনুসরণ করে, এবং অদৃশ্যেও রহ্‌মান আল্লাহ্‌কে ভয় করে চলে। অতএব তুমি তাকে ক্ষমা এবং সম্মানজনক পুরষ্কারের শুভসংবাদ দাও।

সুতরাং আল্লাহ্‌ তা’আলা যিনি রহ্‌মান, নিজ বান্দাদের পুরষ্কৃত করা এবং অনুগ্রহ করার লক্ষ্যে সর্বদা প্রস্তুত। তিনি স্বীয় নেয়ামতরাজির পাশাপশি অনুপম শিক্ষা এবং অনুগ্রহও মানুষের সামনে রেখে বলেছেন যে, তোমাদের বিরুদ্ধে কোন বলপ্রয়োগ নেই যদি তোমাদের প্রতি কৃত আমার এই অনুগ্রহকে স্মরণ করে আমার নসিহতের উপর আমল কর, নিভৃতেও যদি আমার প্রতি পূর্ণ ঈমান থাকে তাহলে এই অনুগ্রহরাজি আরো বৃদ্ধি পাবে। তোমাদের জন্য ইহকাল ও পরকালে নেয়ামতরাজি আরো বর্ধিত হবে, আরো এমন শুভসংবাদ লাভ করবে! তোমরা যার ধারণাও করতে পারো না। তোমাদেরকে আল্লাহ্‌ তা’আলার রহমতের চাঁদর ঢেকে রাখবে এর ফলে তোমরা আল্লাহ্‌ তা’আলার আরো নিকটবর্তী হবে।

এজন্য কি পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে তা পরবর্তীতে আল্লাহ্‌ তা’আলার রহ্‌মানিয়্যাত বৈশিষ্ট্যের অধীনে বর্ণিত হবে। যাই হোক, এখানে মহানবী (সাঃ)-এর মাধ্যমে আমাদেরও এদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে যে, খোদা তা’আলার বাণীর প্রচারও আল্লাহ্‌ তা’আলার অনুগ্রহরাজির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের নামান্তর। তোমাদের কাজ হচ্ছে, যে পয়গাম আঁ-হযরত (সাঃ) নিয়ে এসেছেন আর আজ তাঁর (সাঃ) নিষ্ঠাবান দাস হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) যা নিয়ে দন্ডায়মান হয়েছেন, সে বাণী প্রচার করতে থাকা এবং মানুষের হৃদয়ে প্রভাব সৃষ্টি না হবার কারণে নিরাশ হবেন না। এমনও অনেক হবে যাদের হৃদয় এদিকে আকৃষ্ট হবে। তারা সংখ্যায় যত কমই হোক না কেন ‘রহ্‌মান’ খোদাকে ভয় করে এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হয়। তাই এই পয়গাম পৌঁছাতে থাকা উচিৎ। এই বাণী অন্যদের জন্যও আর আমাদের জন্যও, এ সকল মান্যকারীদের জন্যও আর বার্তাবাহকদের জন্যও ক্ষমা এবং বর্ধিত নিয়ামতের কারণ হবে। সুতরাং আমাদের অদৃশ্যের প্রতি ঈমানও তখন আল্লাহ্‌ তা’আলার অনুগ্রহরাজির প্রতি কৃতজ্ঞ বলে গণ্য হবে যখন আমরা নিজেদের মধ্যে খোদা তা’আলার ভীতি সৃষ্টি করবো, নিজেদের মাঝে পবিত্র পরিবর্তন সৃষ্টি করে নিষ্ঠার সাথে খোদার বাণী পৌঁছাতে থাকবো। কোন প্রতিবন্ধকতা আমাদের এই কাজের ক্ষেত্রে যেন অন্তরায় না নয়, বন্ধকারী না হয়, এটিই একজন মু’মেনের বিশেষত্ব হওয়া উচিৎ।

বিশ্বকে ধ্বংস থেকে রক্ষার একমাত্র মাধ্যম হলো মানুষের ‘রহ্‌মান’ খোদাকে চিনা, নতুবা রহ্‌মান খোদার অনুগ্রহরাজির মূল্যায়ন না করার কারণে এমন শাস্তিতে পতিত হবে যা কখনও রোগ-ব্যাধির আকারে এসে থাকে কখনও খুনাখুনি’র আকারে হয়ে থাকে আবার কখনও এক জাতি অন্য জাতির উপর অন্যায় আগ্রাসন, তাদের সাথে নিস্পেষণমূলক আচরণ আযাবকে আমন্ত্রণ জানিয়ে থাকে, যা কখনও আকাশ থেকে অথবা কখনও ভূমি থেকে এসে থাকে।

তাই বিশ্বকে এই শাস্তির হাত থেকে রক্ষার চেষ্টা করা আমাদের কাজ, যার সর্বোত্তম মাধ্যম যেভাবে আমি বলেছি, আল্লাহ্‌ তা’আলার পয়গাম পৌঁছানো। তারপর আল্লাহ্‌ তা’আলার হাতে ছেড়ে দিতে হবে কেননা মৃতকে জীবন দান করা খোদার কাজ। সুতরাং এটি অনেক বড় এক দায়িত্ব যা জামাতে আহ্‌মদীয়াতে অন্তর্ভূক্ত হবার পরে আমাদের উপর ন্যস্ত হয়। নিজ সমাজে স্বীয় কর্মদ্বারা এবং অন্যান্য মাধ্যমেও খোদা তা’আলার এই পয়গাম পৌঁছান। অন্যদের কাছেও এই নেয়ামতের প্রকাশ করুন যা আল্লাহ্‌ তা’আলা আমাদের দান করেছেন আর এরূপ করার ফলেই আমরা রহ্‌মান খোদাকে ভয় করে এমন লোকদের মাঝে গণ্য হবো। কেননা আল্লাহ্‌ তা’আলার ভয়েই, আল্লাহ্‌ তা’আলার ভালবাসা লাভের জন্য যেরূপ ভয়ের প্রয়োজন তার মাধ্যমেই তাঁর পয়গাম পৌঁছাবে।

হযরত ইব্রাহীম (আঃ) তাঁর পিতার কাছে পয়গাম পৌঁছিয়েছিলেন আর কিরূপে উপদেশ দিয়েছিলেন সেকথা পবিত্র কুরআনে রহ্‌মানের বরাতেই উল্ল্যেখ রয়েছে। তিনি বলেন,

ইয়া আবাতি লা তা’বুদিশ্‌ শাইত্বনা, ইন্নাশ্‌ শাইত্বনা কানা লির্‌রহ্‌মানি আছিয়্যা, ইয়া আবাতি ইন্নী আখাফু আইয়্যামাস্‌সাকা আযাবুম মিনার্‌রহ্‌মানি ফাতাকুনা লিশ্‌শাইত্বনি ওয়ালিয়্যা (সূরা মরিয়মঃ ৪৫-৪৬)
‘হে আমার পিতা! তুমি শয়তানের ইবাদত করো না, নিশ্চয় শয়তান রহ্‌মান আল্লাহ্‌র অবাধ্য। হে আমার পিতা! নিশ্চয় আমি ভয় করি যেন রহ্‌মান আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে কোন আযাব তোমাকে স্পর্শ না করে, যার ফলে তুমি শয়তানের বন্ধু হয়ে যাও।’

আজ বিশ্বে বিভিন্ন ধরণের প্রতিমা পূজা হচ্ছে। এই মূর্তি পূজায় মত্ত হয়ে মানুষ শয়তানের উপাসনা করছে। সবাই রহ্‌মান খোদাকে ভুলে বসেছে অথবা বলা যেতে পারে, অধিকাংশ ভুলে বসেছে। রহ্‌মান খোদার কৃতজ্ঞতা প্রকাশের প্রতি কেউ দৃষ্টি দিতেও প্রস্তুত নয়। পাশ্চাত্য এবং ইউরোপের দেখাদেখি মুসলমান হওয়ার দাবীদারেরাও কার্যতঃ রহ্‌মানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। অবশ্য এর পরিণামও আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি। ইহজগৎ এবং ইহজাগতিক কামনা-বাসনা তাদের মূখ্য উদ্দেশ্যে পরিণত হয়েছে।

আল্লাহ্‌ তা’আলা আখারীনদের এই চিত্র এভাবে অঙ্কন করেছেন যে,

“ওয়া ইযা রাআও তিজারাতান আও লাহ্‌ওয়ানিন ফায্‌যু ইলাইহা ওয়া তারাকুকা ক্বইমান” (সুরাতুল্‌ জুমআঃ ১২)
অর্থাৎ ‘এবং যখন তারা কোন ব্যবসা-বাণিজ্য অথবা আমোদ-প্রমোদ দেখতে পায়, তখন তোমাকে একাকী দন্ডায়মান ছেড়ে সেদিকে ছুটে যায়।’

এটি বর্তমান যুগের লোকদের চিত্র যা মসীহ্‌ মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর যুগ। যখন খোদার মসীহ্‌ ডেকে ডেকে বলছেন, রহ্‌মান খোদার দোহাই দিয়ে বলছেন যে, অযাচিত-অসীম দাতা খোদার দিকে আস। যে জিনিষকে তোমরা উত্তম মনে করছ তা উত্তম নয় তা তোমাদেরকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে। আল্লাহ্‌ তা’আলার এই নির্দেশের প্রতি দৃষ্টি রাখো যা আল্লাহ্‌ তা’আলা স্বীয় নবী এবং পরবর্তীতে তাঁর দাসত্বে হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর মাধ্যমে, মুহাম্মদী মসীহ্‌র মাধ্যমে পৌঁছিয়েছেন,

“ক্বুল মা ইনদাল্লাহি খইরুম মিনাল্‌ লাহবী ওয়া মিনাত্‌ তিজারাতি”(সুরাতুল্‌ জুমআঃ ১২)
‘তুমি বল, যা আল্লাহ্‌র কাছে আছে তা আমোদ-প্রমোদ এবং ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে উৎকৃষ্টতর।’

আজও পৃথিবী স্বীয় মিথ্যা ঐতিহ্য বা রীতি-নীতি, আমিত্ব ও স্বার্থের কারণে রহ্‌মান খোদাকে ভুলে সে সকল উপাস্যের প্রার্থনা করছে যা শয়তান তাদের হৃদয়ে মা’বুদ হিসেবে উপস্থাপন করে। যুগ ইমামকে অস্বীকার মূলতঃ শয়তানের কোলে নিজেকে ঠেলে দেয়ার নামান্তর আর শয়তানের প্রলোভনে নিপতিত প্রতিটি মানুষ পরিশেষে শয়তানের স্বভাবই অবলম্বন করে। শয়তানের প্রলোভনে পতিত মানুষ পরিশেষে আল্লাহ্‌র সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে, তার সাথে রহ্‌মান খোদার কোন সম্পর্ক থাকে না। যেভাবে হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-ও বলেছেন,

রহ্‌মানের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করলে অবশ্যই এর ফলাফল দাঁড়াবে শয়তানের সাথে সম্পর্ক যুক্ত হওয়া আর শয়তানের সাথে সম্পর্ক রক্ষাই মূলতঃ শয়তানের ইবাদত। এগুলোই হৃদয়ের প্রতিমা যা রহ্‌মান খোদা থেকে দূরে সরিয়ে দেয় আর তাদের মধ্যে জগতের ভয় বেশি আর রহ্‌মানের ভয় কম অথবা একেবারেই নেই।

তাই এ দৃষ্টিকোণ থেকেও অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে আমাদেরকে নিজেদের বিশ্লেষণ করার প্রয়ো���ন ���য়েছে। যেখানে ��মরা অ���্���দের বলি সেখানে আমাদেরকে নিজেদের অবস্থার উপরও দৃষ্টি রাখতে হবে। অত্যন্ত ভয়ের ব্যাপার, পাছে এমন কোন কাজ না হয়ে যায়, আমাদের মুখ থেকে কোন কথা না বেরিয়ে যায় বা আমাদের কর্মে এমন কিছু প্রকাশ না পায় যা রহ্‌মান খোদাকে অসন্তষ্ট করতে পারে। বড় বড় বিষয় নয় অনেক ছোট-খাট বিষয়ও অসন্তষ্ট করে থাকে। আমরা যদি নিজেদের অবস্থার উপর দৃষ্টি রাখি আর নিজেদের কাজকে সংশোধন করি তাহলেই সঠিকভাবে পয়গাম পৌঁছাতে পারবো। উদাহরণ স্বরূপ বাহ্যতঃ ছোট বিষয়, হাদীসে কুদসীতে এর উল্ল্যেখ পাওয়া যায়;

মহানবী (সাঃ)-কে আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেছেন, “তুমি কি এটি পছন্দ করবেনা যে, আমি তার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করি যে তোমার সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে আর তার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করি যে তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে? তিনি বল্লেন, হে আমার প্রতিপালক! কেন নয়; আল্লাহ্‌ তা’আলা বল্লেন, সুতরাং এভাবেই হবে।

রেহেম কি? রেহেম হচ্ছে রক্ত সম্পর্ক। আজ আমরা পরস্পরের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করি না, আত্মীয়তা রক্ষা করি না, এগুলো রক্ষা না করে রহ্‌মান খোদার অবাধ্যতা করছি। রহ্‌মান খোদা বলেন, যে এই রক্ত সম্পর্ক ছিন্ন করবে আমিও তার সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করবো। খোদা তা’আলার অবাধ্যতা অবশ্যই পরিণতিতে শয়তানের দিকে ধাবিত করে। যদি মানুষ ছোট-খাট বিষয়ের প্রতিও দৃষ্টি দেয় আর এসকল পাপের কথা চিন্তা করে আর তা দূরীভূত করার চেষ্টা করে তাহলেই রহ্‌মান খোদার নৈকট্য লাভকারী হতে পারে নতুবা এগুলো বৃদ্ধি পেতে পেতে হৃদয়কে কলুষিত করে ফেলে। রহ্‌মানের জ্যোতি শূন্য করে শয়তানের পঙ্কিলতাকে হৃদয়ে স্থান দেয়। এভাবে বাহ্যত খোদার ইবাদতকারী রহ্‌মানের ইবাদতকারী হয় না বরং শয়তানের খপ্পরে পতিত হয়। শয়তানের ঝুলিতে আশ্রয় গ্রহণকারীদের জন্য সতর্কবাণী রয়েছে, যেভাবে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) তাঁর পিতাকে সতর্ক করেছিলেন। যে বাক্য আল্লাহ্‌ তা’আলা পবিত্র কুরআনে সংরক্ষণ করেছেন, তা আমি বর্ণনা করেছি। খোদা রহ্‌মান হওয়া সত্বেও যতদিন পৃথিবী থাকবে ততদিন রহ্‌মান খোদা থেকে বিচ্যূত লোকদের জন্য এটি সাবধানবাণী, আর রহ্‌মান এর সংজ্ঞা আমরা জেনেছি যে, বান্দাদের প্রতি অনুগ্রহশীল, কোন কারণ ছাড়াই অনুকম্পাকারী। কোন প্রতিদান গ্রহণ করেন না বরং অনুগ্রহ করছেন। তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য নিয়ামত আর অনুগ্রহের বারী অব্যাহত রেখেছেন কিন্তু তাঁর আদেশ অমান্য করে তোমরা তাঁর অবাধ্যতায় দুষ্ট হচ্ছ। আযাব আকারেও এর ফলাফল পরিদৃষ্ট হতে পারে যেভাবে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) তাঁর পিতাকে সতর্ক করেছিলেন।

যদি একজন সচেতন আর বিবেকবান মানুষ মনযোগ নিবদ্ধ করে তাহলে দেখবে যে, বর্তমানে বিভিন্নভাবে মানব জাতির উপর যে আযাব আসছে এর কারণ কী? সর্বদা এটি স্মরণ রাখা উচিৎ যে, আল্লাহ্‌ তা’আলার রহ্‌মান গুণ এর পাশাপাশি অন্যান্য গুণাবলীও রয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন, “আমি শির্‌ক ক্ষমা করবো না।”

হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) একস্থানে এভাবে এর ব্যাখ্যা করেছেন,

“শুধু বাহ্যিক প্রতিমার পূজা নয় বরং বিভিন্ন ধরণের গোপন শির্‌কও রয়েছে যা মানুষ নিজের হৃদয়ে লালন করে। তাই যখন এ দৃষ্টিকোণ থেকেও আমরা চিন্তা করি শরীরের লোম দাঁড়িয়ে যায়, জানি না কোন কথা খোদাতা’লাকে অসন্তষ্ট করার কারণ হতে পারে।”

খোদার বরাত দিয়ে হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর তাঁর পিতাকে ভয় দেখানো বাহ্যত আশ্চর্জজনক মনে হয়। যেভাবে আমি বলেছি, আল্লাহ্‌ তা’আলার অন্যান্য বৈশিষ্ট্যও রয়েছে। আল্লাহ্‌ তা’আলার অশেষ দানকারী ও পুরস্কার দাতা হওয়া অযাচিত দানকারী হওয়া সত্বেও যখন একজন মানুষ তাঁর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে তাহলে এর ফলাফল যা দাঁড়ায় তাহলো সে আল্লাহ্‌ তা’আলার অন্যান্য বৈশিষ্ট্যর আয়ত্তে এসে যায় যাতে শাস্তি প্রদানও রয়েছে। এটি মানুষের চরম দূর্ভাগ্য, যারা এরূপ খোদার শাস্তির লক্ষ্যে পরিণত হয় যিনি আমাদেরকে জীবন ধারণের জন্য জাগতিক উপকরণাদিও সরবরাহ করেছেন আর আধ্যাত্মিক কল্যাণের জন্যও স্বীয় নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদেরকে বিশ্বে আবির্ভূত করছেন। আমরা স্বাক্ষী যে, হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-কে আবির্ভূত করে বর্তমান আমলে আমাদের উপর এ অনুগ্রহ করেছেন। আমি বলছিলাম যে আল্লাহ্‌ তা’আলার অন্যান্য বৈশিষ্ট্যও রয়েছে, আর যখন মানুষ ‘রহ্‌মানিয়্যাত’ বৈশিষ্ট্যের সীমাতিক্রম করার চেষ্টা করে তখন এরূপ বৈশিষ্টাবলী আপন মহিমা প্রকাশ করে যাতে কঠোরতাও অন্তর্ভূক্ত। উদাহরণ স্বরূপ আল্লাহ্‌ তা’আলার ‘জব্বার’, ‘কাহ্‌হার’ বৈশিষ্ট্যও রয়েছে। মানুষ যখন আল্লাহ্‌ তা’আলার নিয়ামত ও অনুগ্রহরাজি সত্বেও অকৃতজ্ঞ হবে তখন অনেক ক্ষেত্রে আল্লাহ্‌ তা’আলার সে সকল বিধি-নিষেধ লঙ্ঘন করবে যেথায় যেতে খোদা তা’আলা বারণ করেছেন সেক্ষেত্রে তখন আল্লাহ্‌ তা’আলা কহরী নিদর্শন দেখান। পূর্বেই আমি উল্ল্যেখ করে এসেছি যে, কোন কোন সময় তা ভূমিকম্প বা অন্যান্য বিপদের আকারেও হয়ে থাকে। এতে ‘রহ্‌মানিয়্যাত’ বৈশিষ্ট্যের উপর কোন আপত্তি আসে না বরং এটি মানুষের স্বীয় কর্মফল। যখন সে দুষ্কৃতির ক্ষেত্রে হঠধর্মীতা অব্যাহত রাখবে আর তা থেকে নিবৃত হবে না তখন আল্লাহ্‌ তা’আলা শাস্তিও দিয়ে থাকেন।

হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) বলেন,

“সুতরাং মানুষের তওবাহ্‌ এবং ইস্তেগফারে রত থাকা আবশ্যক এবং সজাগ দৃষ্টি রাখা উচিত পাছে এমন যেন না হয় যে, অপকর্ম সীমা ছাড়িয়ে যায় আর খোদা তা’আলার ক্রোধকে আমন্ত্রণ জানায়”।

তিনি আরও বলেন যে,

“ওয়া মাইঁইয়ামাল মিস্‌কালা যার্‌রাতিন শার্‌রাইয়্যারাহ্‌ (সূরা যিলযালঃ ৯)
অর্থাৎ, যে ব্যক্তি সামান্য পরিমাণও অন্যায় করবে সে তার শাস্তি ভোগ করবে।”

একথা লিখে তিনি (আঃ) বলেন,

“স্মরণ রাখুন এই আয়াত এবং অন্য আয়াতে কোন বৈপরিত্য নেই কেননা এই দুষ্কৃতি বলতে সেই দুষ্কৃতি বুঝায় যে ক্ষেত্রে মানুষ নাছোড় বান্দার মত আচরণ করে।” আল্লাহ্‌ তা’আলা অন্যত্র বলেছেন; “আমি রহ্‌মান! আমি ক্ষমা করবো আর এখানে অন্যায়ের শাস্তি দিচ্ছেন! বিষয়টি এরূপ নয় বরং তিনি বলেন এখানে দুষ্কৃতির অর্থ এরূপ দুষ্কৃতি যেক্ষেত্রে মানুষ হঠকারিতার আশ্রয় নিয়ে থাকে এবং বিরত হয় না আর তওবা করে না, এ কারণে এস্থলে দুষ্কৃতি শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে ‘যান্‌ব’ বা পাপ শব্দ নয়, উদ্দেশ্য হলো এটি স্পষ্ট করা যে, এখানে এমন অপকর্মের কথা বলা হচ্ছে যা থেকে দুষ্কৃতি পরায়ণ নিবৃত হতে চায় না অপরদিকে পুরো কুরআন শরীফে বর্ণিত হয়েছে যে, অনুতাপ, তওবা, হঠকারিতা পরিত্যাগ এবং ইস্তেগফারের ফলে পাপ ক্ষমা করা হয় বরং খোদা তা’আলা তওবাকারীকে ভালবাসেন।” (চশমায়ে মা’রেফাত, হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর তফসীর ৪র্থ খন্ড ৬৮৯ পৃষ্ঠা)

আল্লাহ্‌ তা’আলাতো অযাচিত দানকারী। যাঞ্চনাকারীদের অগনিত দান করেন।

একটি রেওয়ায়েতে এসেছে যে,

“একদা মহানবী (সাঃ) ‘বিসমিল্লাহির রহ্‌মানির রহীম’ পড়তে আরম্ভ করেন যখন রহ্‌মান শব্দ তাঁর পবিত্র মুখ থেকে নিসৃত হতো তখন তিনি ডাঙ্গায় তোলা মাছের ন্যায় ছটফট করতে থাকেন এবং চোখ থেকে অশ্রু ঝরতে থাকে। অনেকবার এমন হয়েছে, অবশেষে সেখানে উপস্থিত সাহাবীদের মাঝ থেকে একজন জিজ্ঞেস করেন হুযূর! এভাবে অস্থির হবার কারণ কী? তিনি (সাঃ) বলেন, যখন আমি রহ্‌মান শব্দে পৌঁছি তখন এই শব্দে পৌঁছে আল্লাহ্‌ তা’আলার স্বীয় সৃষ্টির প্রতি অগনিত নিয়ামত আর অনুগ্রহরাজিকে স্মরণ করে অস্থির হয়ে পড়ি যে, এরপরেও মানুষ সেই রহ্‌মান খোদার শাস্তির শিকার হয়, এটি তাদের কত বড় দূর্ভাগ্য”।

আরেকটি হাদীসে উল্ল্যেখ আছে, আবু রাফে’ হযরত আবু হুরায়রাহ্‌ (রাঃ) কর্তৃক শুনেছেন,

���বী ক���ীম (সাঃ) বলেছেন, “আ���্লাহ্‌ তা’আলা সৃষ্ট���র সৃজনের পূর্বেই লিখে রেখেছেন, নিশ্চয় আমার রহ্‌মত আমার ক্রোধের উপর প্রাধান্য লাভ করেছে। একথা তাঁর কাছে আরশে লিখিত আছে।” (বুখারী কিতাবুত্‌ তওহীদ বাবু ক্বওলুল্লাহিতা’লা, বাল হুয়া কুরআনুম্‌ মজীদ)

আরেকটি রেওয়ায়েতে আছে

“নবী করীম (সাঃ)-এর কাছে কতক বন্দী নিয়ে আসা হলে তাদের মধ্যে একজন বন্দী নারী শিশুকে দুধ পান করাচ্ছিল, যখন সে বন্দীদের মধ্য থেকে কোন শিশুকে দেখতো তাকে আপন বুকে জড়িয়ে ধরতো (সম্ভবত তার বাচ্চা হারিয়ে গিয়েছিল) আর তাকে দুধ পান করাতো। নবী করীম (সাঃ) তাকে জিজ্ঞেস করেন, তোমরা কি ভাবতে পারো যে, এই মহিলা তার সন্তানকে আগুনে নিক্ষেপ করবে? আমরা বললাম না। সে কখনই তাকে আগুনে নিক্ষেপ করবে না; তিনি (সাঃ) বলেন, এই মহিলা তার সন্তানের প্রতি যতটা স্নেহশীল নিশ্চয় আল্লাহ্‌ তা’আলা তাঁর বান্দাদের উপর এর চেয়ে বেশী দয়ালু। (বুখারী কিতাবুল আদাব বাবু রহ্‌মাতিল্‌ ওয়ালাদি ওয়া তাক্ববিলুহু ওয়া মুয়ানাকাতিহ্‌)

তাই রহ্‌মান খোদা শাস্তি দিচ্ছেন না বা তিনি বান্দাদের শাস্তি দেন না বা রহ্‌মান খোদা শাস্তি অবতীর্ণ করবেন না অথবা করেন না বরং মানুষ নিজ দুষ্কৃতি ও খোদার অবাধ্য হয়ে প্রকৃতির নিয়মের অধীনে বা অনন্য বৈশিষ্ট্য যেমন ‘শাস্তি ও আযাব দেয়া’র আওতায় এসে শাস্তি ও আযাবের লক্ষ্যে পরিণত হয়, এই শাস্তি এবং আযাবের কারণ স্বয়ং হয়ে থাকে। আল্লাহ্‌ তা’আলা আমাদেরকে এই অনুগ্রহরাজির কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারী করুন, আমরা তাঁর অনুগ্রহমালার কোন প্রকারে অকৃতজ্ঞ হয়ে রহ্‌মান খোদা থেকে দূরে সরে না যাই, আর এই বার্তা আমাদেরকে অন্যদের কাছেও পৌঁছাতে হবে। আল্লাহ্‌ তা’আলা আমাদেরকে এই বাণী সঠিকভাবে পৌঁছানোর যোগ্য করুন যাতে আমরা বর্তমান বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ যে শির্‌ক এর কারণে শাস্তির সম্মুখীন সে সম্পর্কে সতর্ক করতঃ তাথেকে রক্ষাকারী হতে পারি। বিশ্বের সংখ্যা গরিষ্ঠ মানুষ হলো খৃষ্টান! যারা রহ্‌মান খোদার অস্বীকারকারী। খোদা তা’আলার এই বৈশিষ্ট্যের জ্ঞানই নেই যে, তিনি রহ্‌মান খোদা। কর্ম এবং খোদার সমীপে সমর্পনই আল্লাহ্‌ তা’আলার কল্যাণকে আকর্ষণ করতে পারে। অন্য কারো ত্যাগ কাজে আসবে না, পরিত্রাণের জন্য রহ্‌মান খোদার প্রতিদ্বন্দিতায় কোন বান্দাকে দাঁড় করানোর প্রয়োজন নেই। এটিতো সুস্পষ্ট শির্‌ক যে সম্বন্ধে আমরা দেখেছি যে, হযরত ইব্রাহীম (আঃ) তাঁর পিতাকে সতর্ক করেছিলেন। সূরা মরিয়মেই খৃষ্টানদের সম্পর্কে এই উল্ল্যেখ রয়েছে, হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর এই সতর্কবাণীও সূরা মরিয়মেই রয়েছে। খৃষ্টানদের সম্পর্কে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, রহ্‌মান খোদার প্রতি পুত্র আরোপ করে তারা এতবড় শির্‌ক করেছে যার কোন সীমা নেই। পৃথিবী এবং আকাশ ফেটে যাবার উপক্রম হয় (অর্থাৎ সব কাজের জন্য খোদার স্বীয় পুত্রের সাহায্য প্রয়োজন) এটি এত ভয়াবহ বিশ্বাস যা আল্লাহ্‌ তা’আলার আযাবকে আমন্ত্রণ জানায়। আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন,

“ওয়া ক্বালুত্‌ তাখাযার র‏হ্‌মানু ওয়ালাদান। লাক্বাদ জি’তুম শাইয়্যান ইদ্দা, তাকাদুস সামাওয়াতু ইয়াতাফাত্‌ত্বারনা মিনহু ওয়া তানশাক্কুল আরযু ওয়া তাখির্‌রুল্‌ জিবালু হাদ্দা, আন দায়াও লির্‌রহ্‌মানি ওয়ালাদা। ওয়ামা ইয়ামবাগী লির্‌রহ্‌মানী আইয়্যাত্‌ তাখিযা ওয়ালাদা। ইন কুল্লু মান ফিস্‌সামাওয়াতি ওয়াল আরযি ইল্লা আতির্‌ র‏হ্‌মানি আবদান” (সূরা মরিয়মঃ ৮৯-৯৪)
অর্থাৎ, ‘তারা বলে, রহ্‌মান আল্লাহ্‌ নিজের জন্য পুত্র গ্রহণ করেছেন। নিশ্চয় তোমরা এক অতি গুরুতর কথা বলছ। আকাশসমূহ ফেটে যেতে এবং পৃথিবী বিদীর্ণ হবার আর পর্বতমালা খন্ডবিখন্ড হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে, কারণ তারা রহ্‌মান আল্লাহ্‌র প্রতি পুত্র আরোপ করেছে। অথচ এটি রহ্‌মান আল্লাহ্‌র পক্ষে সমীচীন নয় যে তিনি কোন পুত্র গ্রহণ করবেন। আকাশসমূহ এবং পৃথিবীতে এমন কেউ নেই যে রহ্‌মান আল্লাহ্‌র সম্মুখে বান্দারূপে হাজির হবে না।’ যারাই এ পৃথিবীতে এসেছেন তারা আল্লাহ্‌ তা’আলার সৃষ্টি, বান্দা।

বর্তমানে এই শির্‌ক চরমে পৌঁছেছে আর এ যুগেই যখন এই শির্‌ক প্রকাশের পর খোদা তা’আলার আত্মাভিমান এ মহা অন্যায় দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে মুহাম্মদী মসীহ্‌কে দাঁড় করানোর ছিল, সুতরাং তিনি দন্ডায়মান হয়েছেন আর এই দৃষ্টিভঙ্গিকে খন্ডবিখন্ড করেছেন। হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর আবির্ভাবও আমাদের উপর রহ্‌মান খোদার অনুগ্রহ, সেজন্য আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতঃ যেভাবে আমি পূর্বেও বলেছি, এই বার্তা বিশ্বে পৌঁছানোর লক্ষ্যে পূর্বের তুলনায় অধিক চেষ্টা করতে হবে।

হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) বলেন,

“এই যে আয়াত ‘তাকাদুস সামাওয়াতু ইয়াতাফাত্‌ত্বারনা মিনহু....এর অন্য অর্থ হচ্ছে, মহা প্রলয়ের সন্নিকটে পৃথিবীতে খৃষ্টধর্মের প্রাধান্য হবে, যেভাবে বর্তমানে দেখা যাচ্ছে। এই আয়াতে করীমার প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে, যদি এরূপ ফিৎনার সময়ে খোদা তা’আলা স্বীয় মসীহ্‌কে প্রেরণ করে এই ফিৎনার সংশোধন না করেন তাহলে তৎক্ষণাৎ কিয়ামত এসে যাবে এবং আকাশ বিদীর্ণ হবে। কিন্তু খৃষ্টানদের এতবেশি প্রাধান্য এবং এতবড় মিথ্যা সত্বেও যেহেতু কিয়ামত আসেনি তাই এটি একথার প্রমাণ যে, খোদা তাঁর বান্দাদের প্রতি দয়াপরবশ হয়ে মসীহ্‌কে প্রেরণ করেছেন কেননা খোদার প্রতিশ্রুতি মিথ্যা হওয়া অসম্ভব।” (তোহফা গোলড়াবীয়াহ্‌ ১ম সংস্করণ ১১৩-১১৪ পৃষ্টা, হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর তফসীরের ৩য় খন্ড ২০৬ পৃষ্টার বরাতে)

সুতরাং এখন যুগ মসীহ্‌র দাসদের কাজ হচ্ছে এই বাণী পৌঁছানোর লক্ষ্যে পূর্বের তুলনায় আরো অধিক চেষ্টা করা আর খোদার প্রতিশ্রুতি মোতাবেক তাঁর পুরষ্কারের উত্তরাধিকারী হওয়া। আল্লাহ্‌ তা’আলা এর তৌফিক দিন।

সানী খুতবার সময় হুযূর আনোয়ার (আই:) বলেনঃ গত জুমুআয় আমি বার্লিন মসজিদের কথা উল্ল্যেখ করেছিলাম যে, লাজনা ইমাইল্লাহ্‌ জার্মানী এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এর ফলে জার্মানীর বাহিরের মহিলাদের ধারণা সে যুগে যেহেতু হযরত মুসলেহ্‌ মওউদ (রাঃ) এই দায়িত্ব কাদিয়ান এবং ভারতের উপর ন্যস্ত করেছিলেন যাদের মধ্যে থেকে বর্তমানে বেশিরভাগের সন্তান-সন্ততি পাকিস্তানে এবং পৃথিবীর অন্যান্য দেশে বসবাস করছেন, তাই তাদেরকে পূণ্যের ভাগী করার জন্য আমাদেরকে অনুমতি দেয়া হোক আমরাও যেন পূণ্য অর্জনের লক্ষ্যে এতে অংশ নিতে পারি। যাই হোক গণ তাহরীক আমি করছি না কিন্তু এই অনুমতি আছে, যদি কোন আহ্‌মদী মহিলা বা মেয়ে এই কাজে স্বেচ্ছায় চাঁদা দিতে চায় তাহলে দিতে পারেন কোন বাঁধা নেই। আমি আশা করি লাজনা ইমাইল্লাহ্‌ জার্মানীও এতে কোন আপত্তি করবেন না। দোয়া করুন যেন আল্লাহ্‌ তা’আলা নিরাপদে এই মসজীদের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করিয়ে দেন কেননা এখনও বিরোধীতা তুঙ্গে রয়েছে।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে