In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবা

ওয়াক্‌ফে জাদীদ এর নববর্ষের ঘোষণা এবং মসজিদ তৈরীর গুরুত্ব

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

বাইতুল ফুতুহ্‌ মস্‌জিদ, লন্ডন, ইউকে

১২ই জানুয়ারী, ২০০৭ইং

“ওয়াক্‌ফে জাদীদ এর আশিসপূর্ণ তাহরীক এর প্রেক্ষাপট এবং এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য আর বর্ধিত প্রয়োজনের প্রতি দৃষ্টি রেখে পূর্বের তুলনায় আরো বেশি আর্থিক কুরবাণী করার প্রতি জোরালো নসীহত।”

“গত বছর ওয়াক্‌ফে জাদীদ খাতে আর্থিক কুরবাণীর ক্ষেত্রে প্রথম সস্থানে রয়েছে পাকিস্তান, দ্বিতীয় আমেরিকা এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে ইংল্যান্ড।”

“পাকিস্তানে ত্যাগের মান অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে, দরিদ্রদের ত্যাগের স্পৃহা সফলকাম হয়েছে।”

“আল্লাহ্‌ তা’আলার অপার করুণায় সম্মিলিতভাবে জামা'ত ২২লক্ষ ২৫ হাজার পাউন্ড কুরবাণী করেছে।”

“ওয়াক্‌ফে জাদীদ খাতে আর্থিক কুরবানীতে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশ এবং জামাতের পরিসংখ্যান এবং ত্যাগের ক্ষেত্রে আরো এগিয়ে আসার আহবান।”

“বর্হিবিশ্বও ওয়াক্‌ফে জাদীদ এর তাহরীক নিজ সন্তানদের উপর ন্যস্ত করুন এবং তাদেরকে এতে অভ্যস্ত করুন।”

“বার্লিনে মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান এবং আল্লাহ্‌ তা’আলার সাহায্য ও সমর্থনের ঈমান উদ্দীপক বিবরণ।”

“এই মসজিদের নামকরণ করা হয়েছে খাদীজা মসজিদ। তাই যেখানে এই মসজিদ আহ্‌মদী নারীকে কুরবাণীর মানের প্রতি মনযোগ আকর্ষণ করছে সেখানে জাগতিকতার প্রতি উদাসীনতা এবং ত্বাকওয়ার উন্নত মান প্রতিষ্ঠার প্রতিও প্রত্যেক আহ্‌মদীকে মনযোগ নিবদ্ধকারী হতে হবে।”

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

الَّذِينَ يُنفِقُونَ أَمْوَالَهُم بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ سِرًّا وَعَلاَنِيَةً فَلَهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ وَلاَ خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلاَ هُمْ يَحْزَنُونَ

(সূরা আল্‌ বাকারাঃ ২৭৫)

আজ আমি ওয়াক্‌ফে জাদীদের নব বর্ষের ঘোষণা দিতে যাচ্ছি। সাধারণতঃ জানুয়ারীর প্রথম সপ্তাহের জুমুআ’য় এর ঘোষণা দেয়া হয় বা কখনো কখনো ডিসেম্বরের শেষের দিকেও এর ঘোষণা দেয়া হয়ে থাকে। আমি সফরে থাকার কারণে সিদ্ধান্ত করেছিলাম যে, ইনশাআল্লাহ্‌ ফিরে গিয়ে ঘোষণা করব। আল্লাহ্‌ তা’আলা আজ সুযোগ দিচ্ছেন।

আমাদের জানা আছে যে, হযরত খলীফাতুল মসীহ্‌ সানী (রাঃ) ১৯৫৭ সনে ওয়াক্‌ফে জাদীদের তাহরীক করেছিলেন। আর তা শুধু পাকিস্তানী আহ্‌মদীদের জন্য ছিল। আর পাকিস্তানের বাইরের কোন আহ্‌মদী এ তাহরীকে স্বেচ্ছায় অংশ গ্রহণ করতে চাইলে করতে পারতেন কিন্তু ওয়াক্‌ফে জাদীদের চাঁদার জন্য বিশেষ কোন তাহরীক করা হত না। যখন এর প্রবর্তন করা হয় তখন হযরত মুসলেহ্‌ মওউদ (রাঃ)-এর সামনে দু’টি উদ্দেশ্য ছিল। ওয়াক্‌ফে জাদীদ আঞ্জুমান গঠনের পর তিনি হযরত খলীফাতুল মসীহ্‌ রাবে (রাহেঃ)-কে এর সদস্য নিযুক্ত করেন। আর তাঁকে বিশেষভাবে দু’টি বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করার নির্দেশ দেওয়া হয়, একটি হচ্ছে পাকিস্তানের গ্রাম্য জামা'তগুলোর তরবিয়তের দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেয়া যাদের মধ্যে যথেষ্ট দুর্বলতা রয়েছে। আর দ্বিতীয়টি হিন্দুদের মাঝে ইসলাম প্রচারের কাজ। বিশেষ করে সিন্ধু প্রদেশে হিন্দুদের ব্যপক জনবসতি রয়েছে। গ্রাম্য জামা'তগুলোর তরবিয়তের ক্ষেত্রে দুর্বলতা নিয়ে হযরত মুসলেহ্‌ মওউদ একান্ত উৎকন্ঠিত ছিলেন। বিশেষ করে শিশুদের তরবিয়তের ব্যাপারে তাঁর বিশেষ চিন্তা ছিল তাছাড়া জামাতের অধিকাংশ সদস্যই গ্রামে বসবাস করেন; যদি তাদের তরবিয়তে ঘাটতি থাকে তাহলে ভবিষ্যতে অনেক বিপত্তি দেখা দেবে।

হযরত খলীফাতুল মসীহ্‌ রাবে (রাহেঃ) বর্ণনা করেন,

হযরত খলীফাতুল মসীহ্‌ সানী (রাঃ) যখন আমাকে ওয়াক্‌ফে জাদীদের সদস্য নিযুক্ত করে বললেন যে, সামগ্রিকভাবে খোঁজ-খবর নাও তরবিয়তের অবস্থা কেমন। যখন আমি খবর নিলাম! তরবিয়ত ও ধর্মীয় জ্ঞানের ভয়ানক চিত্র আমার সামনে আসল, বাচ্চারা সাধারণ নামাযও পড়তে জানে না। আর উচ্চারণ এত অশুদ্ধ ছিল যে, কলেমাও তারা সঠিকভাবে পড়তে পারত না। অথচ কলেমা একটি মৌলিক স্তম্ভ যা ব্যতিরেকে একজন মুসলমান, মুসলমান থাকতে পারে না। বস্তুত সে সময় পাকিস্তানে মোয়াল্লেমদেরকে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দিয়েই কর্মক্ষেত্রে পাঠানো হতো আর ওয়াক্‌ফে জাদীদ এই দু’টি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার লক্ষ্যে সকল দায়-দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এবং আল্লাহ্‌র ফযলে অনেক পরিশ্রম ও ত্যাগের প্রেরণায় একার্য সম্পাদন করেছে।

সিন্ধুতে হিন্দু অধ্যুষিত অঞ্চলে তবলীগের কাজ হয়েছে। এটি খুব দুরূহ কাজ ছিল। সেখানে ‘থার’ অঞ্চলে বসবাসকারী হিন্দুরা অনাবৃষ্টির কারণে শ্রমিকের কাজ করার জন্য সিন্ধুর আবাদ অঞ্চলে আসত। এখানে মুসলমান জমিদারদের অসদাচরণের কারণে তারা ইসলামের নাম শুনেই ভয় পেত। তাদের দারিদ্র চরম সীমায় উপনীত ছিল। চাষাবাদের বিশাল ভূমি ছিল কিন্তু পানি ছিল না বিধায় আবাদ করতে পারত না। তাদের আয় ছিলনা আর এ দারিদ্রের সুযোগ নিয়ে মুসলমান জমিদার তাদের কষ্ট দিত এবং বেগার খাটাতো। তাদের পারিশ্রমিক এতোই কম দিত যা বেগার খাটানোরই নামান্তর। আর খৃষ্টান মিশন যখন দেখলো যে, এসব হিন্দুদের সাথে এরূপ দুর্ব্যবহার হচ্ছে তখন তারাও তাদের দারিদ্রতার সুযোগ নিয়ে তাদেরকে সাহায্য করা আরম্ভ করল পাশাপাশি তবলীগ করে এবং বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে সেসব হিন্দুদের খৃষ্ট ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট করতে আরম্ভ করে, সে সময় ওয়াক্‌ফে জাদীদের জন্য তা অনেক বড় কাজ ছিল যা আজও ��ব্যাহত আছে। যাইহোক আল্লাহ্‌ তা’আলা সাহায্য করেছেন এবং বেশ কয়েক বছর চেষ্টা-প্রচেষ্টার ফলে সেখানে আহ্‌মদীয়াতের বীজ রোপিত হয়েছে।

হযরত খলীফাতুল মসীহ্‌ রাব��� (রাহেঃ) তখন ওয়াক্��ফে জাদ��দের নাযেম ইরশাদ ছিলেন। তিনি বলেন,

যখন আমরা সফলতা লাভ করছিলাম তখন মৌলভীরা হিন্দুদের কাছে গিয়ে বলা আরম্ভ করল, তোমরা একি করছ! তোমাদের আহ্‌মদী হবার চেয়ে হিন্দু থাকাই শ্রেয়। এক খোদাকে ডাকার চেয়ে উত্তম যে, মুশরেকই থাক। এই হলো মুসলমানদের অবস্থা। যা হোক, এ সকল সমস্যা সত্বেও আল্লাহ্‌ তা’আলা সাহায্য করেছেন এবং অপার করুণা করেছেন। ‘থার’ এর ‘মিঠি’ ও ‘নগরপারকর’ প্রভৃতি এলাকায় বরং এর পরের এলাকাতেও জামা'ত প্রতিষ্ঠিত হওয়া শুরু হলো। মাশাআল্লাহ্‌ তারা নিষ্ঠায়ও অগ্রগামী ছিল। তাদের মধ্যে থেকে ওয়াক্‌ফে যিন্দেগীও সৃষ্টি হয়েছে। স্বজাতির মাঝে তবলীগ এর মাধ্যমে আহ্‌মদীয়াত তথা প্রকৃত ইসলামকে পরিচিত করিয়েছে, এর পয়গাম পৌঁছাতে থাকে। রাবওয়াতে যখন জলসা হতো তখন তারা জলসায় যোগদান করত। আমি দেখেছি তারা একান্ত নিষ্ঠাবান, অশেষ আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও বিশ্বস্থতায় পরিপূর্ণ। এখনতো মাশাআল্লাহ তাদের পরবর্তী বংশধররাও আহ্‌মদীয়াতের ক্রোড়ে লালিত পালিত হচ্ছে এবং যথেষ্ট আন্তরিক ও নিষ্ঠাবান। প্রাথমিক যুগে ওয়াক্‌ফে জাদীদ মোয়াল্লেমগণ সুযোগ-সুবিধার অভাবে কর্মক্ষেত্রে বহু কষ্টে দিন কাটাতেন। এই এলাকাগুলোতে চিকিৎসা সাহায্য ও মেডিকেল এইড এর সুযোগ-সুবিধাও ছিল অপ্রতুল। তাই নিজেদের এবং সেখানকার অধিবাসীদের উপকারার্থে কিছু হোমীও আর এলোপ্যাথী ঔষধ সাথে রাখতেন। এখন আল্লাহ্‌ তা’আলার ফযলে সেখানে ‘মোবাইল ডিসপেনসারী’ রয়েছে। বিভিন্ন গ্রাম্য এলাকায় যায়। মেডিকেল ক্যাম্প করা হয়, রীতিমত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডাক্তারগণ সেখানে যান। ‘মিঠি’তে ইতোমধ্যে জামা'ত এক বড় হাসপাতালও নির্মাণ করেছে। সেখানে চক্ষু বিভাগও আছে।

সে যুগে ওয়াক্‌ফে জাদীদের এই ঘোষণায় পাকিস্তানী আহ্‌মদীরা নিজেদের তরবিয়ত ও তবলীগের জন্য উৎসাহ- উদ্দীপনার সাথে ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং আল্লাহ্‌র ফযলে এখনো করছেন আর কর্মক্ষেত্রও অনেক বিস্তৃত হয়েছে আর কাজও অনেক এগিয়েছে। আল্লাহ্‌ তা’আলা জামাতের উপর যেভাবে অনুগ্রহ করছেন তাতে একাজ এগোতেই থাকবে।

আমি এই খুতবার মাধ্যমে সিন্ধু এলাকার আহ্‌মদী জমিদারদের একটি কথা বলতে চাই আর এ কথার উপর স্বয়ং হযরত খলীফাতুল মসীহ্‌ রাবে (রাহেঃ)-ও মনোযোগ আকর্ষণ করেছিলেন যে, সে এলাকায় যে সকল হিন্দুরা আছেন বা তাদের মধ্যে যারা মুসলমান হয়েছেন তারা অত্যন্ত দরিদ্র। তারা দারিদ্রতার কারণে সিন্ধুর যে অঞ্চলে চাষাবাদ হয়, যেখানে পানি সহজলভ্য সেখানে কাজের জন্য আসে আর কঠোর পরিশ্রমের সাথে কাজ করে থাকে। আহ্‌মদী জামিদারদের উচিত তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করা। ভালবাসাই তাদের আরো কাছে টেনে আনবে আর আল্লাহ্‌ তা’আলা সেখানকার আহ্‌মদীদের ত্যাগের উত্তম ফলাফল দান করবেন, ইনশাআল্লাহ্‌। আর তাই এদিকে বিশেষ মনোযোগ দেয়া দরকার। মোটকথা আমার এ সংক্ষিপ্ত প্রেক্ষাপট তুলে ধরার কারণ হচ্ছে, নতুন প্রজন্ম ও নবাগতরা যেন এ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত পরিচয় লাভ করতে পারে। কেননা ওয়াকফে জাদীদের তাহরীক এখন সমগ্র বিশ্বে বিস্তৃত হয়েছে আর মানুষ এ খাতে চাঁদা দিয়ে থাকেন।

পাকিস্তানের যতটুকু সম্পর্ক আছে; আল্লাহ্‌ তা’আলার অনুগ্রহে তারা স্বয়ং সম্পূর্ণ। আল্লাহ্‌ তা’আলার ফযলে বহির্বিশ্বের কোন সাহায্যের তাদের প্রয়োজন নেই। কিন্তু ১৯৮৫ সালে হযরত খলীফাতুল মসীহ্‌ রাবে (রাহেঃ) ওয়াক্‌ফে জাদীদের তাহরীককে অর্থাৎ আর্থিক কুরবাণীর তাহরীককে বিশ্ব তাহরীকে রূপান্তরিত করেছেন যাতে সারা পৃথিবীতে যত আহ্‌মদী বসবাস করছে, বিশেষ করে ইউরোপ আমেরিকায় যারা রয়েছেন তাদের চাঁদার মাধ্যমে ভারতের ওয়াক্‌ফে জাদীদ ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করা যায়। আর যে সমস্ত এলাকায় দ্বিতীয় খিলাফতের আমলে শুদ্ধি আন্দোলন করা হচ্ছিল আর তা প্রতিহত করার জন্য জামা'ত একটি মহান কাজ করেছিল ও বড়-বড় কুরবানী পেশ করেছিল। ঐ এলাকায় অবস্থান করে তবলীগের কাজ করেছিল। খলীফাতুল মসীহ্‌ রাবে (রাহেঃ) ১৯৮৫ সনে বলেছিলেন, ঐ এলাকায় পুনরায় আশংকা জনক পরিস্থিতি বিরাজ করছে এজন্য ভারতের জামা'তগুলোকে এ দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেয়া উচিত আর ব্যপক পরিকল্পনা গ্রহণ আবশ্যক। খরচ-পত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন যে, বাহির থেকে অর্থ যোগান দেয়া হবে। এজন্যই বাইরের জামা'তগুলোতেও এ তাহরীক প্রবর্তন করা হয়েছে। যাতে এ পুণ্য কাজে ভারতের জামা'তগুলোকে বাইরের বিভিন্ন জামা'ত সাহায্য করতে পারে। আল্লাহ্‌র ফযলে বাইরের জামা'তগুলোও এ তাহরীকে মালী কুরবাণীর ক্ষেত্রে স্বানন্দে অংশ গ্রহণকারী হয়েছে। প্রত্যেক বছর আল্লাহ্‌ তা’আলার কৃপায় অন্যান্য চাঁদার পাশাপাশি ওয়াক্‌ফে জাদীদের চাঁদায়ও প্রবৃদ্ধি ঘটেছে। আল্লাহ্‌ তা’আলা কাজে অগ্রগতি দান করছেন আর কাজ বৃদ্ধি পাচ্ছে এর সাথে খরচও বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আল্লাহ্‌ তা’আলা উপকরণও সরবরাহ করছে। কিন্তু আমরা যতদুর জানি জামা'ত খুব দ্রুততার সাথে উন্নতির লক্ষ্যে ধাবিত হচ্ছে আর এদিক থেকে বিভিন্ন জিনিষের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেভাবে আমি বলেছি, আল্লাহ্‌ তা’আলা করুণা করে থাকেন আর চাহিদাও পূরণ হতে থাকে। কিন্তু আমাদেরও এদিকে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন যাতে আমরা এ আর্থিক কুরবানীতে অংশগ্রহণ করে আল্লাহ্‌ তা’আলার ফযলের অংশীদার হতে পারি।

আল্লাহ্‌ তা’আলার অশেষ কৃপায় জামাতের সদস্যদের উপরও ব্যক্তিগতভাবে করুণারাজি অবতীর্ণ হচ্ছে, এজন্য সর্বদা নিজ কুরবাণীর প্রতি গভীর মনোযোগ দিন যাতে করে বিভিন্ন দরিদ্র জামা'তকে আমরা সাহায্য করতে পারি। হিন্দুস্তানে অনেক নতুন জামা'তও হয়েছে আর আফ্রিকাতেও বিভিন্ন জামা'ত রয়েছে যারা খুব সামান্য আর্থিক সামর্থ রাখে। তারা যদিও কুরবানীর চেষ্টা করে কিন্তু তা তাদের সাধ্য ও সামর্থ অনুযায়ী। সুতরাং তাদের সাহায্যের লক্ষ্যে, তবলীগ ও তরবিয়তের জন্য তাদের আর্থিক কুরবানীর ক্ষেত্রে যে ঘাটতি রয়েছে আমাদেরকে তা পুরো করার চেষ্টা করা উচিত। এজন্য বহির্বিশ্বের জামা'তগুলোকে বিশেষ করে আমি বলব পশ্চিমা দেশের জামা'তসমূহ যাদের মূদ্রার মূল্য বেশি তাদের ধর্মের খিদমত ও ধর্ম সেবার প্রেরণায় সর্বদা অগ্রগামী থাকা দরকার।

আল্লাহ্‌ তা’আলা আর্থিক কুরবানীকারীদেরকে নিজ করুণা অর্জনকারী আখ্যা দিয়েছেন। যে আয়াতটি আমি তেলাওয়াত করেছি তাতেও আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেছেন যে, রাত্রি ও দিবসে আল্লাহ্‌ তা’আলার রাস্তায় খরচকারীদের পুরস্কার আমার সন্নিধানে রয়েছে। আর যাদেরকে আমি প্রতিদান দেই তাদের এ বিষয়ে ভয় পাওয়া উচিত নয় যে, চাঁদা দেয়ার পর আমাদের অবস্থা কি হবে! আমাদেরতো অন্যান্য আর্থিক প্রয়োজনও রয়েছে। এ ধারণাও তোমাদের মনে আসা উচিৎ নয় যে, মালি কুরবানীর ফলে তোমাদের সম্পদে ঘাটতি হয়েছে।

অন্যত্র আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেছেন, যারা প্রয়োজনের সময় আল্লাহ্‌র রাস্তায় ব্যয় করে তাদেরকে আমি শত শতগুণ বরং এরও বেশি প্রতিদান দিয়ে থাকি। সুতরাং কোন দুশ্চিন্তা ও ভীতিরতো প্রশ্নই উঠেনা। প্রত্যেক আহ্‌মদীকে সর্বদা আর্থিক কুরবানীর ক্ষেত্রে ক্রমান্বয়ে সম্মুখে অগ্রসর হতে হবে।

হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) বলেন যে, “চাঁদা দেয়ার ফলে ঈমান উন্নত হয় আর এটি ভালবাসা ও আন্তরিকতার কাজ।” সুতরাং আল্লাহ্‌ তা’আলা এবং রসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ)-কে ভালবাসার দাবী হচ্ছে, কুরবানীর ক্ষেত্রে আমাদের পদক্ষেপ অগ্রসরমান হতে হবে। স্বীয় ঈমানকে দৃঢ় করা আর আল্লাহ্‌ তা’আলার নির্দেশের উপর অনুশীলন করার জন্য আমরা মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর জাম���তে অন্তর্ভুক্ত হয়েছি তাই এই ভালবাসা ও নিষ্ঠার দাবী হচ্ছে, সংশোধন ও তরবিয়তের জন্য যখন আর্থিক কুরবানীর প্রয়োজন পড়ে তখন প্রত্যেক আহ্‌মদী সর্বদা স্বীয় রীতি ধরে র�����ে কুরবানীর ক্ষেত্��ে অগ্��সর হতে থাকুন। এমনিভাবে যারা নওমুবাঈন আছেন তাদের এটা মনে করা উচিৎ নয় যে, আমাদের প্রয়োজনও বাইরের জামা'তগুলো পূর্ণ করবে। প্রত্যেক জামা'তকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে যাতে তবলীগ ও তরবিয়ত ছাড়া অন্যান্য উদ্দেশ্যের দিকেও দৃষ্টি দেয়া যায় সেজন্য অনেক অর্থের প্রয়োজন হয়।

বর্তমান এই উন্নয়ণশীল যুগে যখন একদিকে নিত্য নতুন উদ্ভাবন হচ্ছে অপরদিকে চারিত্রিক চরম অধঃপতন হয়েছে। নিজ বংশধরদের এত্থেকে বাঁচানোর জন্য এবং দুনিয়াকে সঠিক পথ প্রদর্শনের লক্ষ্যে খুব বেশি প্রচেষ্টার দরকার। আর এটা পরিস্কার যে এ উদ্দেশ্য সফলতার জন্য ফান্ডের প্রয়োজন, অর্থ দরকার।

যেভাবে হযরত মুসলেহ্‌ মওউদ (রাঃ) সে সময় অনুভব করেছিলেন যে, তরবিয়তের খুবই প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমানেও অসংখ্য লোকের তরবিয়তের জন্য এবং নওমুবাঈন যারা আসছে তাদের ব্যাপারে যে বিষয়ের দিকে আমাদের মনোযোগ দেয়া দরকার তা আমরা করতে পারছি না। এর অনেক কারণ রয়েছে আর এর অন্যতম কারণ আর্থিক অসচ্ছলতা। তথাপি আমরা যে কাজ হাতে নেই আল্লাহ্‌ তা’আলা তা সম্পাদন করেন। কিন্তু যখন তা শেষ পর্যায়ে পৌঁছে তখন বুঝা যায় যে, এর চেয়েও বেশি কাজ করা সম্ভব ছিল। যদি প্রত্যেক স্থানে মোয়াল্লেম নিয়োগ করা হয়, আফ্রিকার অনেক দেশ রয়েছে আর হিন্দুস্তানেও বিভিন্ন জামা'ত রয়েছে যেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ নেই, সেখানে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করে MTA এর সংযোগ প্রদান করুন। এটি তরবিয়তের একটি বড় মাধ্যম। আর এভাবে যদি অন্যান্য বিষয়েও পরিকল্পনা করেন তাহলে সেজন্য অনেক অর্থের প্রয়োজন।

জামা'ত আল্লাহ্‌ তা’আলার ফযলে চেষ্টা করে, স্বল্প অর্থ ব্যয় করে যতদূর সম্ভব বেশি কাজ যেন করা যায়। এটাই অর্থনীতির সাধারণ নীতি। আর অন্যরা এর উপর আমল করে কিনা তা জানি না কিন্তু জামা'ত এর উপর আমল করার চেষ্টা করে আর করাও উচিত। জামাতের পরিকল্পনা প্রনয়ণকারী কর্মকর্তা, কর্মী বা যারা অর্থ খরচকারী নিযুক্ত হয়েছে তাদের সর্বদা এ অনুযায়ী চিন্তা ভাবনা করে পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত। অনেক সময় অসাবধানতাও পরিলক্ষিত হয়। সেজন্য আমি যেভাবে বলেছি, যারা দায়িত্বে রয়েছেন তারা এ বিষয়ে সর্বদা দৃষ্টি রাখুন কেননা, জামাতের এক একটি পয়সা সঠিক উদ্দেশ্যে ব্যয় হওয়া উচিত। জামাতের অধিকাংশ সদস্যই দরিদ্র যারা অনেক ত্যাগ স্বীকার করে চাঁদা দিয়ে থাকেন তাই সর্বস্তরে অর্থ ব্যয় করার ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনাকে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। প্রত্যেক পয়সা যা খরচ হয় তা যেন আল্লাহ্‌ তা’আলার সন্তষ্টির উদ্দেশ্যে খরচ হয়। আল্লাহ্‌ তা’আলার সৃষ্টির সেবায় যেন ব্যয় করা হয়। ইনশাআল্লাহ্‌ তা’আলা যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা এই প্রেরণা নিয়ে অর্থ খরচ করতে থাকব, আমাদের কাজে আল্লাহ্‌ তা’আলা অশেষ বরকত দিবেন। আর যে কাজ অন্যরা হাজার টাকা খরচ করে সম্পাদন করে থাকে সেক্ষেত্রে জামাতের সাথে এখন পর্যন্ত আল্লাহ্‌ তা’আলার আচরণ এরূপ যে, জামা'ত একশত টাকা খরচ করেই সেই লক্ষ্য অর্জন করে। সুতরাং যতদিন পর্যন্ত জামা'ত এভাবে সতর্কতার সাথে খরচ করতে থাকবে, কাজে বরকতও হতে থাকবে। যেখানে ত্যাগী ব্যক্তিরা আল্লাহ্‌ তা’আলার সন্তষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে সকল প্রকার কুধারণার উর্দ্ধে থেকে কুরবানী পেশ করবে এবং এ প্রেরণা নিয়েই জামাতের সদস্যরা কাজ করে থাকেন। তারা জানেন যে, খরচকারীরা সাবধানে ব্যয় করেন ফলশ্রুতিতে আল্লাহ্‌ তা’আলা এতে বরকত দিয়ে থাকেন।

গুটি কতক এমনও আছেন যারা আর্থিক সঙ্গতি থাকা সত্বেও সামর্থ অনুযায়ী চাঁদা দেয় না। আর এ কথাও বলতে শুনা গেছে যে, জামাতের কাছে অনেক অর্থ রয়েছে তাই জামাতের চাঁদার প্রয়োজন নেই। আমরা যা দিচ্ছি তাই যথেষ্ঠ। জামাতের কাছে পর্যাপ্ত অর্থ থাকুক বা না থাকুক, যেভাবে আমি বলেছি জামাতের অর্থে অশেষ বরকত রয়েছে। এজন্য আপত্তিকারী ও বিরোধীদের দৃষ্টিতে এটি অনেক বড় বলে মনে হয়। আপত্তিকারীরা সম্ভবত পয়সা বাচাঁনোর জন্য এরূপ করেন আর বিরোধীদের আল্লাহ্‌ তা’আলা এমনিতেই যা আছে তার তুলনায় কয়েকগুণ বর্ধিত করে দেখিয়ে থাকেন। এটি আল্লাহ্‌ তা’আলার অনুগ্রহ যার প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছেন। তিনি বরকত দিয়ে থাকেন আর অশেষ বরকত দেন। আমি এখানে কিছু আপন লোকের কথা বলেছ; যারা বলে যে জামাতের অনেক অর্থ রয়েছে, তাই এটাও হওয়া উচিৎ আর ওটাও হওয়া উচিৎ অথচ তাদের নিজেদের চাঁদার মান তেমন একটা উল্ল্যেখযোগ্য নয়। সাধারণত জামা'ত আল্লাহ্‌ তা’আলার ফযলে পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যয় করে থাকে। তাই যারা এ ধরণের কথাবার্তা বলেন তারা নিশ্চিন্ত থাকুন আর চাঁদা না দেয়ার অজুহাত খোঁজার পরিবর্তে নিজেদের দায়িত্বসমূহ পালন করুন। চাঁদার তাহরীকতো সর্বদাই জামাতে করা হবে, হয়েছে এবং হতে থাকবে। যেভাবে হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) পবিত্র কুরআনের শিক্ষার আলোকে আমাদেরকে বলেছেন, পৃথিবীর সকল পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অর্থের প্রয়োজন হয়, আর এর যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। অধিকন্ত সেই পরিকল্পনা যার আওতায় ধর্মের দৃঢ়তার জন্য অর্থ ব্যয় হয়, আর যে ব্যয়কারীদের আল্লাহ্‌ তা’আলা এ নিশ্চয়তা দিচ্ছেন যে, তোমাদের ভয়-ভীতি ও দুঃখ-কষ্ট দূরীভূত হবে এবং আল্লাহ্‌ তা’আলার সন্নিধানে পুরস্কারও রয়েছে, আর এত প্রতিদান রয়েছে যার কোন সীমা নেই। সুতরাং অর্থের এর চেয়ে উত্তম ব্যবহার আর কি হতে পারে। যখন কোন দাতা ধর্মের উদ্দেশ্যে দেয় তাহলে সে নিজের প্রতিদান পেয়ে যায়। কিভাবে খরচ করা হচ্ছে? প্রথম কথা হলো যথাযথ ভাবে খরচ হচ্ছে, আর যদি কোথাও ছোট-খাট দুর্বলতা থেকেও থাকে তবুও চাঁদা দাতা তার পূণ্য পেয়ে যায়। এজন্য সর্বদা প্রত্যেক আহ্‌মদী যখনই তার হৃদয়ে সন্দেহের অবতারণা হয় সে যেন এই সন্দেহ দূরীভূত পূর্বক আল্লাহ্‌ তা’আলার সন্তষ্টি অর্জনের চেষ্টা করে।

হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) বলেছেন, বড়-বড় সাম্রাজ্যও প্রকৃতপক্ষে চাঁদা’র মাধ্যমেই পরিচালিত হয়, পার্থক্য শুধু এতোটুকুই যে জাগতিক রাজত্ব বলপ্রয়োগে কর আদায় করে থাকে আর এখানে আমরা মানুষের পছন্দ ও ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেই। সুতরাং আল্লাহ্‌ তা’আলা বান্দার ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেন এবং এর অশেষ প্রতিদানও দিয়ে থাকেন। আল্লাহ্‌ তা’আলা বাধ্য করছেন না যে এতটাই দিতে হবে। বান্দার ইচ্ছার উপর ছেড়ে দিচ্ছেন আর বলছেন যে, তুমি যা কিছু খরচ করবে আমি তার প্রতিদান দেব। ব্যয়কারীর নিয়্যত পবিত্র কিনা কেবল এটি নিশ্চিৎ করতে হবে। এর চেয়ে সস্তা ও উত্তম ব্যবসা আর কি হতে পারে।

ভারতের জামা'তসমূহকে আমি বলতে চাই যে, আপনাদেরকে অর্থ প্রদান করা হয়ে থাকে; যেভাবে আমি পূর্বেই বলেছি যে, তবলীগ ও তরবিয়তী কর্মকান্ডের ক্ষেত্রে অনেক অবকাশ রয়েছে এক্ষেত্রে সেখানে যতটা কাজ হওয়া উচিত ছিল ততটা হচ্ছেনা। তাই এক নব প্রেরণা ও উদ্দীপনার সাথে এদিকে মনযোগ দিন। গত বছর আমি কাদিয়ান যাওয়ার পর এ বিষয়ে মনযোগ আকর্ষণ করাতে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। আর্থিক কুরবানীর যে পরিসংখ্যান তারা প্রেরণ করেছে তা থেকেও বুঝা যায় যে, তরবিয়তের প্রতি মনোযোগ নিবদ্ধ হচ্ছে ফলে মালী কুরবানীর প্রতিও মানুষের মনযোগ আকর্ষিত হয়েছে। ওয়াক্‌ফে জাদীদের আর্থিক কুরবানী খাতে তারা এ বছর চাঁদা দাতার সংখ্যা চার হাজার বাড়িয়েছে। কিন্তু সম্ভবতঃ এবারই প্রথম দেখা গেল যে, তাদের প্রস্তুতকৃত বাজেট গত বছরের তুলনায় বর্ধিত ছিল তা সত্বেও তারা নওমোবাইন অঞ্চল থেকে দুই লক্ষ ত্রিশ হাজার রুপি বেশি আদায় করেছে আর মাথাপিছু আদায়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি সামান্য হলেও তাদের অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে যথেষ্��। যদিও (জনপ্রতি) ৫ থেকে সাড়ে ৫ রুপির মত বৃদ্ধি পেয়েছে কিন্তু যেভাবে আমি পূর্বেই বলেছি অধিকাংশ চাঁদা দাতা নওমোমাইন বা কয়েক বছর পূর্বের বয়’আতকারী। সুতরাং এদিকে বিশেষ���াবে দৃষ্টি দ��ন��

ভ���র���ের ��ামা'তগুলো এখন পর্যন্ত তাদের ওয়াক্‌ফে জাদীদ খাতে ব্যয়ের প্রায় শতকরা তিন ভাগ নিজেদের উৎস থেকে পূর্ণ করছে। এই সংক্ষিপ্ত তথ্য যা আমি প্রদান করেছি তা ভারতের জামা'তসমূহের মনযোগ আকর্ষণের কারণ হওয়া উচিত। অনুরূপভাবে বয়াতের সংখ্যার নিরিখেও চাঁদা দাতার সংখ্যা বৃদ্ধির যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী বছর ভারতের পাঁচ লক্ষ সদস্যকে এ তাহরীকে অংশগ্রহণ করানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। আমি আশা রাখি ইনশাআল্লাহ্‌, দোয়া ও মনযোগের সাথে যদি এ কাজে লেগে পড়েন তাহলে কোন সমস্যাই হবে না।

যেভাবে আমি পূর্বেই বলেছি, হযরত খলীফাতুল মসীহ্‌ রাবে (রাহেঃ) ১৯৮৫ সনে এই তাহরীককে সমগ্র পৃথিবীর জন্য বিস্তৃত করেছিলেন আর উদ্দেশ্য ছিল হিন্দুস্তানের জামা'তগুলোর সাহায্য করা। পরিসংখ্যান থেকে আপনারা দেখেছেন যে, ভারত বর্তমানে নিজেদের আয় থেকে শতকরা ৩% খরচ বহন করছে আর অবশিষ্ট ৯৭% খরচ বহিঃর্বিশ্ব বহন করছে, এতে ইউরোপ ও আমেরিকার বড়-বড় দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত। এ বছর ওয়াক্‌ফে জাদীদ খাতে ইউরোপ ও আমেরিকার দেশসমূহ থেকে মোট আদায়কৃত অর্থ দিয়ে কোনমতে ভারতের ব্যয় নির্বাহ হচ্ছে। আর আফ্রিকার জামা'তগুলোর বিভিন্ন খরচ অন্যান্য খাত থেকে পূর্ণ করা হচ্ছে। পশ্চিমা দেশগুলোর, ভারত ও আফ্রিকার ওয়াক্‌ফে জাদীদ খাতে ব্যয়ের অর্থ যোগান দেয়ার দিকেও দৃষ্টি দেয়া উচিত। এই চেতনা নিয়ে কুরবানী করা উচিত। আমি খতিয়ে দেখেছি যে, এক্ষেত্রে এখনও যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। আমি পূর্বেও একবার বলেছি, বিভিন্ন খরচ ও প্রকল্পের অজুহাত দেখানো হয় যে, অমুক কাজে বেশি খরচ হয়ে গেছে, অমুক জায়গায় কাজ বাকী আছে এজন্য এখানে ঘাটতি রয়ে গেছে।

সুতরাং এই যে প্রকল্প বা অন্যান্য খরচ যা পাকিস্তানেও রয়েছে। কিন্তু সেখানে কুরবানীর মান সমুন্নত হচ্ছে। স্প্রিংকে যত বেশি দাবানো হয় সেটি তত জোরে লাফিয়ে উঠে এবং এর উপরে যে জিনিস থাকে তাকে ততটাই দূরে নিক্ষেপ করে। সুতরাং (পাকিস্তানে) আহ্‌মদীদের বিরোধীতা যতই বাড়ছে তাদের কুরবানীর মান ততই উন্নত হচ্ছে। আর পৃথিবীর অন্যান্য স্থানেও যেখানে জামা'ত কিছুটা কঠোরতার সম্মুখীন হয়েছে সেখানে ত্যাগের মানও উন্নত হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোকে বলছি আপনারা এই প্রত্যাশা করবেন না যে, আমাদের অবস্থা খারাপ হোক তখন আমরা কুরবানীর মান বৃদ্ধি করবো বরং নিজেদের ঐ ভাইদের জন্য কুরবানীর প্রতি অধিক দৃষ্টি দিন।

আমি এখানে পশ্চিমা বিশ্বের সামর্থের কথা বলছিলাম। সর্বপ্রথম আমি কানাডা সম্পর্কে বলছি। এখানেও সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রেণী হচ্ছে পাকিস্তানী আহ্‌মদীদের এবং সম্ভবতঃ এর সংখ্যা বিশ-পঁচিশ হাজারের চেয়ে অধিক হবে। সেখানকার পাকিস্তানী আহ্‌মদীদেরকে বলছি, আপনাদের উপর হিন্দুস্তানের আহ্‌মদীদের অধিকার আছে। আপনাদের অধিকাংশের মূল সেখান থেকেই। কানাডাতে ওয়াক্‌ফে জাদীদে অন্তর্ভূক্ত সদস্য সংখ্যা মাত্র ১২,৮৬২ জন। মাথাপিছু চল্লিশ কানাডিয়ান ডলার দেয়া হচ্ছে। চাঁদা দাতার সংখ্যা, আদায় এবং সামর্থের ক্ষেত্রে যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে; এদিকে মনযোগ দেয়া দরকার।

এরপর জার্মানীর উল্ল্যেখ করছি, যাদের জনপ্রতি চাঁদা প্রদানের হার ১৫ ইউরো। মাশাআল্লাহ্‌, এখানে চাঁদা প্রদানকারীদের সংখ্যা বেশ ভাল, প্রায় বাইশ হাজার পাঁচশ’র কিছু অধিক। যাই হোক জার্মানীতেও অধিকাংশ আহ্‌মদী পাকিস্তানী। আমার মনে হয় ১৫ ইউরো তারপরও কম। এদিকে তাদের দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।

এরপর আমেরিকা, যাদের আদায় মাশাআল্লাহ্‌, যথেষ্ট ভালো; জনপ্রতি ১৩৭ ডলার। কিন্তু ওয়াক্‌ফে জাদীদ খাতে চাঁদাদাতা সদস্যদের সংখ্যা বৃদ্ধির অবকাশ আছে।

যুক্তরাজ্যের অধিবাসীরা এটা মনে করবেন না যে আপনাদেরকে ভুলে গেছি, এবার তাদের পরিসংখ্যান উল্ল্যেখ করছি। তাহরীকে জাদীদের যে পরিসংখ্যান আমি পেশ করেছিলাম তাতে জামাতীভাবে এবং কেন্দ্রীয়ভাবেও কিছুটা গতি সৃষ্টি হয়েছিল। এখানে ওয়াক্‌ফে জাদীদের চাঁদাও জনপ্রতি আদায় চৌত্রিশ পাউন্ড। যদি এভাবে দেখা যায় তাহলে মাস প্রতি পৌনে তিন পাউন্ড দাঁড়ায়। আমার মনে হয় আপনারা যারা বাইরে যান তখন এক বেলায় এর চেয়ে বেশি পয়সার চিপ্স এবং অন্যান্য জিনিষ বাচ্চাদের খাইয়ে থাকেন। তাদের বর্তমান চাঁদাদাতার সংখ্যা ১২,০২৪ জন এ ক্ষেত্রেও যথেষ্ট অবকাশ আছে। আর এই সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। আমি এখানকার আঞ্চলিক যে হিসাব নিয়েছি সে অনুযায়ী স্কটল্যান্ডে চাঁদাদাতার সংখ্যা মাশাআল্লাহ্‌ সবচেয়ে ভাল যা প্রায় ৮১%। এরপরে আছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল যাতে কর্নওয়েল ইত্যাদি অন্তর্ভূক্ত এদের অংশ গ্রহণকারীর সংখ্যা ৮০%। উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের অংশ গ্রহণকারীর সংখ্যা আঠাত্তর শতাংশের উপরে। এখানে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সব ঠিক আছে কিন্তু স্কোনথ্রুপের অধিবাসী যাদের অধিকাংশই ডাক্তার অথচ তাদের অংশ গ্রহণ খুবই কম। আর সবচাইতে কম অংশগ্রহণ দক্ষিণাঞ্চলে যাদের শতকরা চুয়ান্ন জন অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তাই অংশ গ্রহণের দিক থেকে চেষ্টা করা উচিৎ, যথাসম্ভব বেশী সংখ্যায় যেন ওয়াকফে জাদীদে অংশগ্রহণ করে আর শিশুদেরকেও এতে অন্তর্ভূক্ত করুন। বাকী পরিসংখ্যান আমি পরে বর্ণনা করব বরং এখানেই বলে দিচ্ছি কেননা এর সাথেই সম্পর্ক যুক্ত।

তাহরীকে জাদীদের ব্যাপারে আমি ব্রাডফোর্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম। তাদের কাছ থেকে অনেক চিঠি এসেছিল যে, ওয়াকফে জাদীদের ক্ষেত্রে এবার আমরা হেন করবো, তেন করবো। একেতো আল্লাহ্‌ তা’আলার ফযলে ওয়াকফে জাদীদ খাতে মাথা পিছু আদায়ের ক্ষেত্রে লন্ডন মসজিদ এলাকা এখনো এক নম্বরেই আছে, যা জন প্রতি ৬২ পাউন্ডের উপরে প্রায় ৬৩ পাউন্ড এর মত। আর ব্রাডফোর্ডে যারা বড় বড় দাবী করেছিল তাদের আদায় জনপ্রতি আটত্রিশ পাউন্ড। এভাবে বার্মিংহাম! যারা খুবই স্বচ্ছল, ভাল খায়-দায়, অনেক এগিয়ে যেতে পারত অথচ তাদের অবস্থান যথেষ্ট নীচে। ম্যানচেষ্টারে চাঁদা বৃদ্ধি পেতে পারে। অন্য যে জামা'ত স্বীয় সামর্থ অনুযায়ী ভাল কুরবানী করে তা হলো উষ্টার পার্ক।

এটি এবং ভারতের পরিসংখ্যান আমি এজন্যই বলেছি যেন চাহিদা এবং কুরবানীর ব্যাপারে আপনাদের ধারণা সৃষ্টি হয়। আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেছেন, এমন বোঝা অর্পণ করোনা যা সাধ্যাতীত, ভারসাম্য রক্ষা করো অর্থাৎ নিজ স্ত্রী-সন্তানদের প্রয়োজনের প্রতিও খেয়াল রাখো এবং পূর্ণ করো। কিন্তু চাহিদারও একটি সীমা থাকা প্রয়োজন তারও একটা মান থাকা প্রয়োজন নতুবা এযুগে জাগতিক উপকরণের যতই আকাংখা করবেন, চাহিদা ততই বাড়তে থাকবে। আর বিভিন্ন ধরনের জিনিস যা বাজারে দেখেন তা পাওয়ার বাসনাকে আরো বাড়িয়ে দেয়। সুতরাং এদিক থেকেও দেখা উচিত যে, আফফ্‌ বা সাশ্রয় বলতে কি বুঝায়।

যেভাবে হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) বলেছেন, ঈমানী অবস্থার উন্নতির জন্য কুরবানীর প্রয়োজন। আর নিজ সন্তানদের মাঝেও এই কুরবানীর অভ্যাস সৃষ্টি করুন। যাতে তারা বড় হলে তাদের পছন্দের তালিকায় আল্লাহ্‌র রাস্তায় আর্থিক কুরবানীর বিষয়টি যেন সর্বাগ্রে থাকে। এর দ্বারা একেতো অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে, আর চাহিদার যে মান তা চাহিদা পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তিত হবে। যারা বাচ্চাদেরকে হাত খরচ দিয়ে থাকেন, তাদেরকে সেই হাত খরচ থেকে চাঁদা দেয়ার অভ্যাস সৃষ্টি করান। ঈদী প্রভৃতি থেকে চাঁদা দেয়ার অভ্যাস করান।

আমি হিসাব করেছি এই পশ্চিমা বিশ্বে যেভাবে আমি পূর্বেও উল্ল্যেখ করেছি যে, বাজারের খাবার বার্গার ইত্যাদি যা স্বানন্দে খাওয়া হয়, প্রয়োজন নেই শুধু মজার জন্য খাওয়া হয়। মাসে কেবল দু’বার এ অর্থ বাঁচিয়ে যদি শিশুদের নামে ওয়াক্‌ফে জাদীদ খাতে চাঁদা দেয়া হয় তাহলে এতে আদায় শতকরা পঁচিশ থেকে ত্রিশ ভাগ চাঁদা বৃদ্ধি পেতে পারে।

ওয়াক্‌ফে জ��দীদে�� বিষয়টি হযরত খলীফাতুল মসীহ্‌ সালেস (রাহেঃ) পাকিস্তানে বাচ্চাদের উপর ন্যস্ত করেছিলেন। সম্ভবতঃ আমিও একবার বলেছি, আর যদি বলা না হয়ে থাকে, তাহলে এখন বলছি, বর্হিবিশ্ব যেন ওয়াক্‌ফে জাদীদের দায়িত্ব বাচ্চাদের উপর অর্পন করতে আর তাদেরকে এতে অভ্যস্ত করতে। তাহলে বাচ্চাদের একটা বিরাট সংখ্যা খরচের বড় অংশ বহন করতে সক্ষম হবে ইনশাআল্লাহ্‌ আর এটি কোন বোঝা হবেনা। যখন ছোট-খাট জিনিস থেকে তাদের মধ্যে সঞ্চয়ের অভ্যাস সৃষ্টি করবেন আর একই ভাবে যদি বড়রাও করে, এবং এ পরিকল্পনা যদি বাস্তব রূপ নেয় তাহলে ভারতের খরচাদি বহনের পরও আফ্রিকার কিছু ব্যয় বহন সম্ভব হবে।

যাই হোক ওয়াক্‌ফে জাদীদের এ সংক্ষিপ্ত ইতিহাস এবং পরিসংখ্যান প্রদানের পর আমি সার্বিক চিত্রও তুলে ধরছি এতে বিভিন্ন দেশের অবস্থান এবং পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরের অবস্থানও জানা যাবে।

আল্লাহ্‌র ফযলে জামা'ত এবার সর্বমোট বাইশ লাখ পঁচিশ হাজার পাউন্ড চাঁদা দিয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় তিরিশ হাজার পাউন্ড বেশী। এতে যদিও দেশ ভিত্তিক কুরবানীর মান উন্নত হয়েছে, কিন্তু পাউন্ডের মোকাবেলায় আমেরিকা এবং পাকিস্তানেও মুদ্রা মান কমে গেছে অর্থাৎ এ সকল মুদ্রার দাম কমে গেছে।

মুদ্রা মান হ্রাস পাওয়া সত্ত্বেও বিশ্বের জামা'তসমূহের মধ্যে পাকিস্তান প্রথম স্থানে রয়েছে। পূর্বে আমেরিকা এক নম্বরে থাকত। হয়ত তারা মনে করছেন যে, আমাদের মুদ্রা মান কমে গেছে তাই আমরা দ্বিতীয় স্থানে এসে গেছি, কিন্তু আমি পূর্বেই বলেছি পাকিস্তানে কুরবানীর মান অনেক বেড়ে গেছে, দরিদ্রদের ত্যাগের স্পৃহা সফলকাম হয়েছে। সুতরাং পাকিস্তানী আহ্‌মদীদের উদ্দেশ্যে বলছি, এই স্পৃহা যা আপনাদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে তা কখনো মরতে দিবেন না। আর বিরোধীতার প্রত্যেক ঝড় এই স্পৃহাকে আরো বৃদ্ধিকারী হোক যাতে আপনাদের কুরবানীর মান সমুন্নত হতে থাকে।

সার্বিক অবস্থানের দিক থেকে পাকিস্তানের অবস্থান এক নম্বরে, আমেরিকা দ্বিতীয়, ইংল্যান্ড তৃতীয়, এই মান তারা ধরে রেখেছে। জার্মানী চতুর্থ, কানাডা পঞ্চম, ভারত ষষ্ঠ, ইন্দোনেশিয়া সপ্তম, বেলজিয়াম অষ্টম, অষ্ট্রেলিয়া নবম, আর দশম স্থানে রয়েছে সুইজারল্যান্ড। কিন্তু ফ্রান্সও তাদের খুবই নিকটে, পার্থক্য অতি সামান্য। ইউরোপীয়ান দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্সে দাওয়াতে ইলাল্লাহ্‌র কাজ খুব ভাল হচ্ছে, তারা দূরবর্তী বিভিন্ন ফরাসী দ্বীপে গিয়ে তবলীগ করেছে আর ভাল ফলাফল লাভ করেছে। ফ্রান্সের উচিত তবলীগের পাশাপাশি নওমোবাইনদেরকেও চাঁদায় অন্তর্ভূক্ত করা। তাদের মাঝে মালী কুরবানীর অভ্যাস সৃষ্টি করুন। বেলজিয়ামেরও চাঁদার দিকে মনোযোগ নিবদ্ধ হচ্ছে।

ওয়াক্‌ফে জাদীদের চাঁদায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা চার লাখ বিরানব্বই হাজারের কিছু উপরে। আর এ বছর ছাব্বিশ হাজার সাতশত জন বৃদ্ধি পেয়েছে, এক্ষেত্রে এখনও শুন্যতা রয়েছে। জামা'তগুলো যদি চেষ্টা করে তাহলে অনেক বৃদ্ধি পেতে পারে।

পাকিস্তানে আতফালদের মাঝে এবং প্রাপ্ত বয়স্কদের মাঝে দুটো সমান্তরাল প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে। প্রথমে বড়দের পরিসংখ্যান জানাচ্ছি। প্রথম স্থানে আছে লাহোর, করাচী দ্বিতীয়, রাবওয়া তৃতীয়। এরপর জেলা পর্যায়ে রাওয়ালপিন্ডি প্রথম, তারপর যথাক্রমে শিয়াকোর্ট, ইসলামাবদ, ফয়সালাবাদ, গুজারানওয়ালা, শেখুপুরা, মিরপুর খাস, সারগোদা, গুজরাট আর বাহাওয়ালনগর। আর আতফাল বিভাগে প্রথম হয়েছে লাহোর, তারপর করাচী, এবং তৃতীয় স্থান লাভ করেছে রাবওয়া। এরপর জেলা পর্যায়ে যথাক্রমে ইসলামাবাদ, শিয়ালকোট, গুজারানওয়ালা, রাওয়ালপিন্ডি, শেখুপুরা, ফয়সালাবাদ, মিরপুর খাস, সারগোদা, গুজরাট আর বাহাওয়ালনগর রয়েছে। মোটমুটি একই ধরণের অবস্থান।

আল্লাহ্‌ তা’আলা সকল আহ্‌মদীকে উত্তম প্রতিদান দিন যারা তাঁর ধর্মের খাতিরে নিজেদের প্রয়োজনকে উপেক্ষা করে আর্থিক ত্যাগ স্বীকার করেছেন তাদেরকে উত্তম পুরস্কার দিন এবং তাদের প্রাণ ও সম্পদে বরকত দিন।

ধর্মীয় কাজে অর্থের চাহিদা বাড়তেই থাকবে আর ইনশাআল্লাহ্‌ আল্লাহ্‌ তা’আলা স্বীয় অনুগ্রহে চাহিদা পূরণও করতে থাকবেন, কিন্তু প্রত্যেক আহ্‌মদীর স্মরণ রাখা উচিত যে, খোদার অনুগ্রহ আকর্ষণের জন্য সে যেন আর্থিক কুরবানীর ক্ষেত্রে অগ্রগামী হতে সচেষ্ট থাকে। জামাতে বিভিন্ন পরিকল্পনার কাজ সবসময় চলতে থাকে। এমন যেন না হয় যে, একদিকে কুরবানী করলাম আর অন্যদিকে কুরবানী করার পরিবর্তে ক্লান্ত হয়ে বসে থাকলাম। স্মরণ রাখবেন যেখানে থেমে থাকবেন সেখানেই উপর্যুপরি দুর্বলতা সৃষ্টি হতে থাকবে। এজন্য কখনো এরূপ চিন্তা মস্তিষ্কে স্থান দিবেন না যে, অমুক সালে কুরবানী করেছি আর তাই যথেষ্ট। পরকালে কাজে লাগার মত সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ সে-টি যা আল্লাহ্‌র রাস্তায় কুরবানী করা হয়। বর্তমানে পৃথিবীর সর্বত্র বিভিন্ন জামাতে মসজিদ নির্মাণের দিকে অনেক মনোযোগ নিবদ্ধ হচ্ছে। কোন এক চাঁদা বা কোন তাহরীকের প্রতি মনোযোগ যেন মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রে অন্তরায় না হয় বরং এদিকে মনোযোগ অটুট রাখা উচিত। ইংল্যান্ডেও এদিকে মনযোগ নিবদ্ধ হয়েছে। ইংল্যান্ড প্রতি বছর পাঁচটি মসজিদ নির্মাণের ওয়াদা করেছে। ব্রাডফোর্ডে মসজিদ নির্মাণ হচ্ছে, অন্য দুটি স্থানে পরিকল্পনা চলছে, সেখানেও ইনশাআল্লাহ্‌ কাজ আরম্ভ হবে। সুতরাং এ কাজ পাশাপাশি চলতে থাকা উচিত। কেননা মসজিদ নিজের আর স্বীয় সন্তান-সন্ততির তরবিয়ত ও তবলীগের একটি বড় মাধ্যম।

লাজনাদের একটি সভায় এ বিষয়ে জোরালো আবেদন এসেছে যে, আমাদের বাচ্চাদের অমুক অমুক স্থানে তরবীয়তের ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। (ইংল্যান্ডের শূরা বা অন্য কোন মিটিংয়ে এ আলোচনা হয়েছে) তাই আমাদেরকে মসজিদ তৈরী করে দেয়া হোক, এটি একান্ত প্রয়োজন। তাদেরকে আমি এই উত্তর দিয়েছিলাম, মসজিদ তো আবশ্যক এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। কিন্তু আপনাদের নিজেদেরকেই তৈরী করতে হবে। বাইরের কেউ এসে বানিয়ে দেবে না।

অতঃপর যখন ন্যাশনাল শূরা অনুষ্ঠিত হলো তখন আমি মনযোগ আকর্ষণ করেছিলাম, আমি পূর্বেই বলেছি যে আল্লাহ্‌ তা’আলার ফযলে জামা'ত বছরে পাঁচটি মসজিদ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আল্লাহ্‌ তা’আলা আপনাদেরকে কাজ সম্পূর্ণ করার সামর্থ দান করুন।

সম্প্রতি আমি যখন জার্মানী গিয়েছিলাম, সেখানেও আল্লাহ্‌ তা’আলার ফযলে মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন বা মসজিদ উদ্বোধনের জন্য যাওয়া হয়েছিল। তিনটি’র উদ্বোধনও হয়েছে আর ভিত্তি প্রস্তরও রাখা হয়েছে। একটি মসজিদ রয়েছে হল্যান্ড-জার্মানীর সীমান্তে ফেরার পথে তার উদ্ধোধন করা হয়েছে। সেটির নির্মাণ এখনও সম্পন্ন হয়নি, কিন্তু তাদের ইচ্ছা ছিল যে, সেখানে নামায পড়া হলে তাকেই আমরা উদ্বোধন বলে গণ্য করবো। এর সামান্য ফিনিশিংয়ের কাজ বাকী আছে, ইনশাআল্লাহ্‌ তারা দ্রুত সম্পন্ন করে ফেলবেন।

জার্মানীর মজলিসে আনসারুল্লাহ্‌ সেখানে অনেক বড় একটি মসজিদ বানিয়েছে। এতে প্রায় সাত আট’শ মুসল্লি নামায আদায় করতে পারবে আর মসজিদ হিসেবে এটি জার্মানীর সবচেয়ে বড় মসজিদ যা বিশেষভাবে এই উদ্দেশ্যেই নির্মাণ করা হয়েছে। হল প্রভৃতি নয় বরং জার্মানীতে নির্মিত এটিই সবচেয়ে বড় আকারের মসজিদ। এর সাথে গেষ্ট হাউজ, মোবাল্লেগের বাসা আর অফিস প্রভৃতিও রয়েছে।

যেভাবে আপনারা সবাই জানেন যে, সবচেয়ে বড় Break through বা বড় সফলতা হচ্ছে বার্লিন মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন। সেখানে চরম বিরোধিতা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত বিরোধীরা বলছে য��, আমরা এই মসজিদ তৈরী করতে দেব না আর এর বিরুদ্ধে আইনের আশ্রয় নিব। যদিও প্রশাসন মনে করে যে, ইনশাআল্লাহ্‌ এরকম কিছুই হবে না। কেননা আইনের সকল দাবী পূরণ হচ্ছে। আল্লাহ্‌ তা’আলা সার্বিক ভাবে সাহায্য করেন ত�����র দৃষ্টান্ত আমরা দেখেছি। আমীর সাহেবের ইচ্ছা ছিল আমি, যেন এক মাস পূর্বেই সেখানে যাই যাতে মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করা যেতে পারে। কিন্তু যখন আমি ডিসেম্বরে যাবার সিদ্ধান্ত নিলাম, তখন পর্যন্ত তারা মসজিদ নির্মাণের লিখিত অনুমতি পান নি। আমার যাবার পরই তারা লিখিত অনুমতি পেয়েছেন ফলে আর আইনগত কোন বাঁধা ছিলনা। এটি ছাড়া যদি আমরা সেখানে যেতাম তাহলে অনেক অনভিপ্রেত ঘটনার আশংকা ছিল আর ভিত্তি রাখাও সম্ভব হতো না।

এছাড়া সেখানকার মেয়র এবং এমপি সাহেবরা এসেছেন, তারাও জামাতের শিক্ষাকে সাধুবাদ জানিয়ে আশা ব্যক্ত করেছেন যে, আমাদের লোকদের সকল দুঃশ্চিন্তা দূর হয়ে যাবে। উদ্বোধনের দিন যখন আমরা সেখানে গেলাম, তখন সেখানে প্রায় চল্লিশ-পঞ্চাশ জন বিরোধীও ছিল এবং তারা বিভিন্ন ধ্বনি উত্তোলন করছিল। কিন্তু জার্মানীতে আমরা অন্য আরেকটি দলও দেখেছি। যখন আমরা সেখানে গেলাম তখন তারাও ব্যানার বহন করছিল যা জামাতে আহ্‌মদীয়ার পক্ষে লেখা ছিল যে, এখানে যেন জামা'ত অবশ্যই মসজিদ নির্মাণ করে আর কোন প্রতিবন্ধকতা যেন সৃষ্টি না করা হয়। জামা'ত তাদেরকে বলে নি আর জামা'ত তাদেরকে জানতোও না। তারা স্বয়ং দন্ডায়মান হয়েছে; বিরুদ্ধবাদীদের ব্যর্থ করার জন্য আল্লাহ্‌ তা’আলা নিজেই এই ব্যবস্থা করেছেন। তাদের এই যে, ছোট্ট মিছিল ছিল এতদসত্বেও শহরের তিন-চার জন মানুষ তাদের ব্যানার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল যে, কেন তোমরা এমন করছ। আল্লাহ্‌ স্বয়ং এমন ব্যবস্থা করেছেন যাতে বিরুদ্ধবাদীদেরকে আমাদের কিছুই বলার প্রয়োজনই পরেনি, তাদের আপনজনই তাদেরকে বাঁধা দিয়েছে।

বিরোধীরা (যাদের সংখ্যা তেমন একটা ছিলনা) একটি টেপ রেকর্ডারে তাদের বক্তব্য রেকর্ড করে রেখেছিল। যাতে সুড়ঙ্গ পথ দিয়ে যাওয়া কোন মিছিলের প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছিল, এমন মনে হচ্ছিল যেন অনেক বড় মিছিলের আওয়াজ। মনে হয় যেন এরাও মোল্লাদের মত টেপ রেকর্ডার ব্যবহারের প্রশিক্ষন প্রাপ্ত ছিল। সেখানে যে এমপি এসেছিলেন তিনি খুব আক্ষেপের সাথে একথা বললেন,

“আমি দীর্ঘদিন যাবত এ জামা'তকে জানি, আমি ভাবতেও পারতাম না যে, জামাতে আহ্‌মদীয়ার মসজিদের বিরোধীতা হতে পারে। এরা তো বড় শান্তি প্রিয়, স্নেহপরায়ন এবং ভালবাসা বিস্তারকারী জামা'ত। পত্র-পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলও ফলাও করে সংবাদ প্রচার করেছে।”

আমি পূর্বেও জার্মানীর এক খুতবায় বলেছিলাম যে, হযরত মুসলেহ্‌ মওউদ (রাঃ) বার্লিনে মসজিদ নির্মাণের ইচ্ছা ব্যক্ত করেছিলেন এবং তাঁর প্রবল আকাংখা ছিল। তখন এক একর জমির মূল্যও নির্ধারণ করা হয়েছিল বরং আমার মনে হয় ক্রয়ও করা হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে এতবড় প্লট পাওয়া বড় কঠিন বরং অসম্ভব কেননা জমির দাম অনেক বেশী। জার্মানীতে মসজিদের জন্য সাধারণতঃ যে সকল প্লট ক্রয় করা হচ্ছে তা খুবই ছোট ধরণের হয়ে থাকে। কিন্তু আল্লাহ্‌ তা’আলা অনুগ্রহ করেছেন ফলে এখানে বার্লিন মসজিদের জন্য প্রায় এক একরের অধিক জায়গা পাওয়া গেছে, আর আল্লাহ্‌ তা’আলা খুব স্বল্প মূল্যে তার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। অথচ সেখানে অন্যান্য যে সকল মসজিদ নির্মিত হচ্ছে তা এর চেয়ে এক চতুর্থাংশ বা এক পঞ্চমাংশ জায়গার উপরে তৈরী হচ্ছে।

সর্বপ্রথম আমি একথা বলতে চাই যে, সে সময় হযরত মুসলেহ্‌ মওউদ (রাঃ)-এর যে পরিকল্পনা ছিল তা দেখে মানুষ অবাক হতো; ছয়শ নামাযীর জন্য হল তৈরীর পরিকল্পনা ছিল। মিশন হাউজ, গেষ্ট হাউজ ছাড়াও এতে তের’টি কক্ষ ছিল যা ছাত্রদের জন্য বরাদ্দ ছিল। এখন যে মসজিদ নির্মিত হচ্ছে তাতেও পাঁচ’শ মুসল্লির সংকুলান হবে পাশাপাশি অন্যান্য সুযোগ সুবিধাও থাকবে। এখন যদি সম্ভব নাও হয় পরবর্তীতে যখনই সুযোগ হবে এটিকে আরও প্রশস্ত করা সম্ভব হবে, ইনশাআল্লাহ্‌। ১৯২৩ সালে যখন তাহরীক করা হয় তখন লাজনা ইমাইল্লাহ্‌ এর নির্মাণের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছিল। হযরত মুসলেহ্‌ মওউদ (রাঃ) বলেছিলেন, যেহেতু ইউরোপে নারীদের সম্পর্কে এই ধারণা বিদ্যমান যে, আমাদের মধ্যে নারী’কে পশুর তুল্য জ্ঞান করা হয়। ইউরোপ যখন জানতে পারবে যে, বর্তমানে এ শহরে ধর্মের যে কেন্দ্র গড়ে উঠছে তাতে মুসলিম নারীরা জার্মানীর নবদীক্ষিত মুসলমান ভাইদের জন্য মসজিদ নির্মাণ করিয়েছে, তখন তারা কতই না লজ্জিত ও বিস্মিত হবে। জার্মানীর লাজনারা যখন অবগত হলো যে, প্রথমবার মসজিদ নির্মাণের যে পরিকল্পনা ছিল তা মহিলাদের কুরবানীর মাধ্যমে নির্মিত হওয়ার কথা ছিল, তখন জার্মানীর মহিলারা বললেন যে, এ মসজিদ নির্মাণের ব্যয়ভার আমরাই বহন করব, যা প্রায় দেড় থেকে দুই মিলিয়ন ইউরোর কাছাকাছি। আল্লাহ্‌ তা’আলা তাঁদেরকে এর উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাদের প্রাণ ও সম্পদে বরকত দান করুন। অতি শীঘ্রই যেন তারা স্বীয় এই অঙ্গীকার পূর্ণ করতে সক্ষম হয় যাতে নিজ প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করে অন্যান্য পরিকল্পনা ও ত্যাগের জন্য প্রস্তুত হতে পারে।

এই মসজিদের নামকরণ করা হয়েছে খাদিজা মসজিদ। সুতরাং লাজনা ইমাইল্লাহ্‌ সর্বদা স্মরণ রাখবেন, এই বরকতময় নাম সেই পবিত্র নারীর যিনি সর্বপ্রথম আঁ হযরত (সাঃ)-এর প্রতি ঈমান এনেছিলেন। তিনি নিজের সকল ধন-সম্পদ উৎসর্গ করেছিলেন। সুতরাং তাই যেখানে এই মসজিদ আহ্‌মদী নারীকে কুরবাণীর মানের প্রতি মনযোগ আকর্ষণ করছে সেখানে জাগতিকতার প্রতি উদাসীনতা এবং ত্বাকওয়ার উন্নত মান প্রতিষ্ঠার প্রতিও প্রত্যেক আহ্‌মদীকে মনযোগ নিবদ্ধকারী হয় যেন আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মও ত্বাকওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত হয়ে সকল প্রকার ত্যাগের উন্নত মান প্রতিষ্ঠাকারী হয়, যারা মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর এই মিশনকে ক্রমশঃ এগিয়ে নিয়ে যাবে। পূর্ব জার্মানীর বার্লিনে এই যে মসজিদ নির্মিত হচ্ছে তা শুধু একটি মসজিদই নয় বরং আগামী প্রজন্ম যেন আরো মসজিদ নির্মাণকারী হয় এবং এ ধারা যেন অব্যাহত থাকে আর এগুলোকে আবাদকারী হয়। একত্ববাদী আল্লাহ্‌ তা’আলার নামকে পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে বিস্তারকারী হয়। হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর উদ্দেশ্যকে যেন পূর্ণকারী হয় আর এর সাহায্যকারী হয়।

আল্লাহ্‌ তা’আলা আমাদেরকে শীঘ্রই সেই দিন দেখাবেন যেদিন আমরা বিশ্বকে রসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ)-এর পতাকা তলে সমবেত করে এক খোদার সামনে সমর্পিত দেখতে পাব, আমীন।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে