In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবা

আধ্যাত্মিক উন্নতি এবং সত্যিকার ইসলামের প্রচার

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

নুনস্পিট, হল্যান্ড

৫ই জানুয়ারী, ২০০৭ইং

“প্রত্যেক আহ্‌মদী বয়’আত করার পর, হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-কে মসীহ্‌ ও মাহ্‌দী হিসেবে গ্রহণের পর তখনই বয়াতের অঙ্গীকার রক্ষাকারী হওয়ার দাবী করতে পারে, যদি একত্ববাদ (তৌহিদ) প্রতিষ্ঠার পুরোপুরি চেষ্টা করে। কেননা বর্তমান যুগে হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর আবির্ভাবের এটিই মূল উদ্দেশ্য।”

“তবলীগের পাশাপাশি মসজিদ নির্মাণের প্রতিও মনযোগ দিন। বিশ্বের সর্বত্র এর প্রতি মনযোগ নিবদ্ধ হয়েছে, তাই হল্যান্ড জামাতেরও এখন পিছিয়ে থাকা উচিৎ নয়।”

“আপনারা যারা এখানকার আহ্‌মদী, পু্রনো হোন বা নতুন এমন সমন্বিত প্রোগ্রাম প্রণয়ন করুন যদ্বারা আপনাদের পরবর্তী প্রজন্মেরও তরবীয়ত হবে আর প্রত্যেক আহ্‌মদী বালক এই তরবীয়তের ফলে সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত হবার স্বীকৃতি লাভ করুক।”

“বিভিন্ন সস্থানে কেবল বয়’আত করানোর প্রবণতা দেখা যায়। এটি নিশ্চিৎ করা উচিৎ যে ত্বাকওয়ার মান বর্ধণকারী লোক আহ্‌মদী হচ্ছে কিনা।”

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

كُنتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللّهِ وَلَوْ آمَنَ أَهْلُ الْكِتَابِ لَكَانَ خَيْرًا لَّهُم مِّنْهُمُ الْمُؤْمِنُونَ وَأَكْثَرُهُمُ الْفَاسِقُونَ

(সূরা আলে ইমরানঃ ১১১)

পাশ্চাত্যের অধিকাংশ দেশের ন্যায় হল্যান্ডেও তিন ধরণের আহ্‌মদীর বাস। প্রথমত তারা যারা পাকিস্তান থেকে এসেছেন অথবা দু’একজন ভারত থেকেও এসেছেন, এখানে এসে বসতি স্থাপন করছেন; আর এদের মাঝে অধিকাংশ তারা যাদের মধ্যে আহ্‌মদীয়াত তিন চার প্রজন্ম ধরে চলে আসছে। তাদের পিতৃপুরুষ, বাপ-দাদা আহ্‌মদীয়াত গ্রহণ করেছেন। দ্বিতীয়তঃ কয়েকজন এমন লোক আছেন যারা বিভিন্ন মুসলমান দেশের সাথে সম্পর্ক রাখেন, যাদের মধ্যে আরব বিশ্বের মানুষও আছেন। যারা সত্যকে চিনেছেন। আল্লাহ্‌ তা’আলা তাদেরকে মহানবী (সাঃ)-এর ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ হতে দেখে মসীহ্‌ ও মাহ্‌দীকে তাঁর (সাঃ) সালাম পৌঁছানোর ও তাঁর জামাতে অন্তর্ভূক্ত হবার সৌভাগ্য দান করেছেন। তৃতীয় শ্রেণী এমন লোকদের যারা এদেশের আসল বাসিন্দা, আল্লাহ্‌ তা’আলা যাদেরকে অন্তদৃষ্টির জ্যোতি দিয়েছেন আর তারা মুহাম্মদী মসীহ্‌কে গ্রহণের তৌফিক পেয়েছেন। এরাও হাতে গোনা কয়েকজন মাত্র। এরা ঐ সকল লোক যারা হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর স্বপ্নের পরিপূরণ স্থল হয়ে সে সকল সাদা পাখির মধ্যে অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন যাদেরকে মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) ধরেছিলেন। এটি আরম্ভ মাত্র, আমরা সেই দৃশ্য দেখবো ইনশাআল্লাহ্‌ যখন এই পাখিরা ঝাঁকে ঝাঁকে হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর কোলে আশ্রয় নেবে।

যে প্রথম শ্রেণীর আহ্‌মদীদের কথা আমি উল্ল্যেখ করেছি, যাদের মাঝে পাকিস্তানী আহ্‌মদীও রয়েছে আর সম্ভবতঃ ভারতীয় আহ্‌মদীরাও অন্তর্ভূক্ত। তাদের দায়িত্ব বর্তায় এই পাখিদের ধরার জন্য হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর হাতকে শক্তিশালী করা এবং তাদেরকে পোষ মানিয়ে নিজেদের সাথে চালানোর জন্য যথাসম্ভব সহায়তা করা। নতুবা পুরনো আহ্‌মদী হবার দাবী, সাহাবীর বংশধর হবার কথা, কেবল বুলি সর্বস্ব হবে। সেই সকল সাহাবা এবং আপনাদের প্রবীণদের যে সকল নেক-কর্ম ছিল তার প্রতিদান তাঁরা লাভ করবেন আর আপনারা আপনাদের কর্মের প্রতিফল পাবেন। যদি পূণ্যের উপর পরিচালিত হয়ে হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর মিশনে আপনারা সাহায্য করেন তাহলে নিজ কর্মের উত্তম প্রতিদান লাভের পাশাপাশি সে সকল বুযুর্গদের পদমর্যাদা বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবেন। তাঁরা একটি পবিত্র বংশ রেখে গেছেন এবং আপনারা সেই পূণ্যের কারণে ঐ সকল বুযুর্গের জন্য দোয়াও করবেন যে, আল্লাহ্‌ তা’আলা তাদের সম্মান বৃদ্ধি করুন যাঁরা আমাদেরকে এই পূণ্যের উপর প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আপনাদের পূণ্যসমূহ্‌ ঐ সকল বুযূর্গদের জন্য প্রশান্তির কারণ হবে। তাই এটি অনেক বড় পূণ্যের সুযোগ যা আল্লাহ্‌ তাআ’লা আপনাদেরকে প্রদান করেছেন। একে নষ্ট হতে দিবেন না। নিজেদের অতীতের উপর দৃষ্টি রাখবেন, আল্লাহ্‌ তাআ’লা তাঁর ‘রহ্‌মানিয়্যাতের’ বদৌলতে, তাঁর রহমানিয়্যাত বৈশিষ্ট্যের সুবাদে আপনাদের জন্য এই দেশে আসার সুযোগ সৃষ্টি করেছেন; যে কারণে প্রত্যেক আহ্‌মদীকে আল্লাহ্‌ তাআ’লার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার চেষ্টা করা উচিৎ। এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কিভাবে হতে পারে? পূণ্যের উপর প্রতিষ্ঠিত হলে এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ সম্ভব। এই দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে আহ্‌মদীয়াতের বার্তা পৌঁছানোর মাধ্যমে এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ সম্ভব। আল্লাহ্‌ তাআ’লার গৃহ নির্মাণের মাধ্যমে এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ সম্ভব, যাকে মসজিদ বলা হয়। পরষ্পরের অধিকার প্রদানের মাধ্যমে এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ সম্ভব। নেযামে জামাতের আনুগত্যের মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ হবে, আর সবচেয়ে বেশি আপনাদের ইবাদতের মান উন্নত হওয়ার ফলে এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ সম্ভব হবে। তাই এ বিষয়টিকে উপলদ্ধি করুন আর যখন হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর জামাতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, তাঁর আবির্ভাবের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নকারী হোন। হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর আবির্ভাবের উদ্দেশ্য কি?

তিনি (আঃ) বলেন,

“আমি ঈমানকে দৃঢ় করা আর খোদার সত্ত্বাকে মানুষের সম্মুখে প্রমাণ করে দেখানোর জন্য প্রেরিত হয়েছি। কেননা, সকল জাতির ঈমানী অবস্থা একান্তই দূর্বল হয়ে গেছে এবং পরকালকে কেবল কাহিনী মনে করা হয় এবং প্রত্যেক মানুষ তার ব্যবহারিক আচরণের মাধ্যমে একথাই প্রকাশ করছে যে, সে ইহকাল এবং জাগতিক সম্মাণ ও মর্যাদার উপর যেমন বিশ্ব���স রাখে, আর যেভ��বে জা����তিক উপকরণের উপর ভরসা করে, খোদাতা’লা এবং পরকালের উপর কখনই তার সেরূপ ভরসা নেই। মুখে অনেক কথাই বলে।” মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) বলেন, “মুখে অনেক কথাই বলে কিন্তু হৃদয়ে জাগতিকতার ভালবাসা ছেঁয়ে আছে। মুখ অনেক কিছুই বলে কিন্তু হৃদয় তা বলে না।”........তিনি আরও বলেন যে, “আমি এজন্য প্রেরিত হয়েছি যেন সত্য ও ঈমানের যুগ আবার ফিরে আসে আর হৃদয়ে ত্বাক্‌ওয়া সৃষ্টি হয়।” (কিতাবুল বারিয়্যাহ্‌, রুহানী খাযায়েন-১৩তম খন্ড ২৯১-২৯৩ পৃষ্ঠার পাদটিকা)

সুতরাং হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর এই উদ্দেশ্যকে সর্বদা দৃষ্টিতে রাখুন। নিজেদের হৃদয়ে পবিত্র পরিবর্তন সৃষ্টি করতঃ ত্বাকওয়ার পথে পরিচালিত হয়ে যে সত্যকে মানার তৌফিক আপনারা লাভ করেছেন তা নিজেরাও শিরোধার্য করুন, আল্লাহ্‌ তাআ’লার ভালবাসায় হৃদয়কে সমৃদ্ধ করুন আর সেই প্রেমসুধা অন্যদেরকেও পান করান যেন সেই তৌহিদের স্বাদ সম্পর্কে অন্যরাও অবহিত হয়। তারাও যেন জানতে পারে এর স্বাদ কেমন।

দ্বিতীয় প্রকারের আহ্‌মদী যাদেরকে আল্লাহ্‌ তাআ’লা আহ্‌মদীয়াতে প্রবিষ্ট হবার তৌফিক দিয়েছেন, আমি যার উল্ল্যেখ করেছি; অর্থাৎ মুসলমানদের মধ্য থেকে আহ্‌মদীয়াত তথা প্রকৃত ইসলামে অন্তর্ভূক্ত হয়ে মহানবী (সাঃ)-এর নির্দেশ পালনকারী। তৃতীয়তঃ এখানকার স্থানীয় মানুষ যাদের কথা আমি উল্ল্যেখ করেছি, যারা খৃষ্ট মতবাদ পরিত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেছেন আর মুহাম্মদী মসীহ্‌র জামাতে অন্তর্ভূক্ত হয়ে নিজেদের মাঝে পবিত্র পরিবর্তন সাধন করেছেন যেন আল্লাহ্‌ তাআ’লার সন্তষ্টির উপর পরিচালিত হয়ে তাঁর সাথে জীবন্ত সম্পর্ক সৃষ্টি হয় এবং যেন সেই দৃষ্টিভঙ্গি খন্ডনকারী হোন যা এক বান্দাকে খোদার প্রতিদ্বন্দিতায় দাঁড় করিয়ে শির্‌কের শিক্ষা দেয়।

তাই আপনাদেরকে খোদার কৃতজ্ঞ বান্দা হয়ে নিজেদের মাঝে পবিত্র পরিবর্তন সৃষ্টি করতঃ পূণ্যের মান উন্নত করে আহ্‌মদীয়াতের পয়গাম পৌঁছানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করা প্রয়োজন। প্রত্যেক নাগরিকের কাছে যাতে এই বার্তা পৌছিয়ে দেয়া যায় সে উদ্দেশ্যে জামা'তকে সম্মিলিতভাবে একটি ব্যাপক কর্মসূচী প্রণয়ন করা উচিৎ যাতে বর্হিবিশ্ব থেকে আগত আহ্‌মদীরা আর স্থানীয় আহ্‌মদীরাও অন্তর্ভূক্ত থাকবে। আল্লাহ্‌ তাআ’লার এই পাহ্‌লোয়ানকে সাহায্য করুন যাঁকে আল্লাহ্‌ তাআ’লা ‘জরীউল্লাহ্‌’ উপাধী প্রদান করেছেন। আল্লাহ্‌ তাআ’লা হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-কে সকল ধর্মের অনুসারীদের এক উম্মত বানিয়ে একহাতে সমবেত করার জন্য নিযুক্ত করেছেন। আল্লাহ্‌ তাআ’লার কৃপায় যে পূণ্যকে আপনারা, আমরা অর্জন করেছি তার উন্নত মান অর্জনের জন্য পূর্বের তুলনায় অনেক বেশী চেষ্টা করা আবশ্যক। অনেক সময় নবাগতরা এটিও দেখেন যে, যার মাধ্যমে বয়’আত করেছে তার ব্যবহারিক অবস্থা কিরূপ? এটি দেখবেন না। যিনি আহ্‌মদী বানিয়েছেন তার কর্ম দেখবেন না যে, তিনি কি করছে। যদি কারো মাঝে দূর্বলতা থাকে তাহলে এজন্য আল্লাহ্‌ তাআ’লার সমীপে সে-ই কৈফিয়ত দিবে। অনেকেই এমন আছেন যারা পূণ্যে অগ্রগামী এবং নেকী প্রতিষ্ঠাকারী আর মন্দ কর্মে বাঁধা দানকারী। মোট কথা ইসলামে প্রত্যেক ব্যক্তি স্বীয় কর্মের জন্য নিজেই দায়ী। কারো ব্যক্তিগত দূর্বলতা অন্য কারো জন্য পরীক্ষার কারণ হওয়া উচিৎ নয়। পুরনো আহ্‌মদীদের মধ্যে যদি কাউকে পদস্খলিত হতে দেখেন তাহলে তার জন্য দোয়া করুন যেন আল্লাহ্‌ তাআ’লা তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন আর ইস্তেগফার করতঃ নিজ সংশোধনেরও চেষ্টা করুন, আর যত বেশি ইস্তেগফার করবেন, যত বেশি চেষ্টা করবেন ততই আল্লাহ্‌ তাআ’লার অনুগ্রহের উত্তরাধিকারী হবেন।

যে জন্য হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) আবির্ভূত হয়েছেন প্রত্যেক নতুন এবং পুরনো আহ্‌মদী সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে যদি কোমর বেঁধে লেগে যান, তাহলে আপনারা দেখবেন যে, আল্লাহ্‌ তাআ’লার সাথে সম্পর্কের মান উন্নত হওয়া আরম্ভ হবে। যদি এমন হয় তাহলে ডাচ জাতিতে আহ্‌মদীয়াত এবং ইসলামের বার্তা পৌঁছানোর প্রতি এবং তারা যাতে হেদায়েত প্রাপ্ত লোকদের অন্তর্ভূক্ত হয় সে দিকে স্বয়ং আপনাদের অতিরিক্ত মনযোগ নিবদ্ধ হবে। এরা জানেই না যে, ইসলামের শিক্ষা কত সুন্দর ও মহান, না জানার কারণে এরা ইসলামের উপর আক্রমণ করে। ইসলামের শিক্ষা নিয়ে হাসি-ঠাট্টা ও উপহাস করে এবং এই মহান শিক্ষার বিরুদ্ধে আপত্তি করে। অনেক ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, উদাহরণস্বরূপ পর্দার বিরুদ্ধে এখানে অনেক উচ্চবাচ্য হয়ে থাকে আর একে নিষিদ্ধ করার নিমেত্তে আইন করারও চিন্তা-ভাবনা চলছে। কেন? কারণ তাদেরকে ইসলামের ভয়ানক চিত্র দেখানো হয়েছে। ইসলামের মহান শিক্ষা তাদের সম্মুখে সেভাবে উপস্থাপনই করা হয়নি যেভাবে করা উচিৎ। যদি আহ্‌মদী নারী-পুরুষ যারা এখানে এসে বসবাস করছেন ছোট-বড় সবাই গোড়াতেই এদিকে মনযোগ দিতেন, অনেক আগে থেকে এদিকে দৃষ্টি থাকত, নিজেদের দায়িত্ব অনুধাবন করতেন এবং আহ্‌মদীয়াত তথা সত্যিকার ইসলামের সাথে মানুষকে পরিচিত করাতেন তাহলে এরূপ অবস্থা সৃষ্টি হতো বলে আমার মনে হয় না। যাই হোক; এখনও সময় আছে। প্রত্যেক আহ্‌মদীকে এ বিষয়ের গুরুত্ব অনুধাবন করতে হবে। ইসলামের সঠিক শিক্ষা মানুষকে অবহিত করার জন্য একটি বিশেষ অভিযান মূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। আমার মনে হয় এখানে পূর্বেও দু’বার একথা বলেছি, এদিকে মনযোগ আকর্ষণ করেছি কিন্তু যেরূপ চেষ্টা করা প্রয়োজন ছিল সেরূপ চেষ্টা করা হয়নি। আল্লাহ্‌ তাআ’লা আমাদেরকে সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত আখ্যা দিয়েছেন, যাদেরকে বিশ্বের কল্যাণের জন্য সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং আমাদেরকে সর্বদা এটি স্মৃতিপটে রাখতে হবে যে, সর্বদা পৃথিবীর মঙ্গল আর কল্যাণই আমাদের লক্ষ্য, এবং সবচেয়ে বড় কল্যাণ আর মঙ্গল কি? তা হচ্ছে ইসলামের মহান শিক্ষা। বিশ্বের কল্যাণ সাধনের পদ্ধতি আল্লাহ্‌ তাআ’লা বলে দিয়েছেন যে, পূণ্যের পথ প্রদর্শন করো আর ইসলামী শিক্ষা পূণ্যের সকল পথও স্পষ্ট করে দিয়েছে। তাই যখন আপনি নেকীর আদেশ দিবেন, পূণ্যের শিক্ষা বিস্তার করবেন তখন সর্বপ্রথম নিজের মধ্যে পবিত্র পরিবর্তন সৃষ্টি করতঃ পূণ্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নিজের মধ্যে ও নিজ সন্তান-সন্ততির মাঝে ইসলাম বর্ণিত পূণ্যগুলোকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। যেভাবে আমি পূর্বে বলেছি এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আল্লাহ্‌ তাআ’লার সাথে সম্পর্ক এবং ইবাদতের মানকে উন্নত করতে হবে। যখন প্রকৃতার্থে ইবাদতের মান বৃদ্ধি পাবে তখন পরস্পরের অধিকার প্রদানের প্রতিও মনযোগ নিবদ্ধ হবে আর ব্যক্তিগত আত্মীয়তা বা সম্পর্কের কারণে পূণ্যের মান প্রত্যেকের জন্য ভিন্ন ভিন্ন হবে না বরং ইনসাফের দাবী পূরণ করতঃ পূণ্য প্রতিষ্ঠাকারী আর মন্দ থেকে বাঁধা দানকারী হবেন। আমরা এই যে পূণ্য প্রতিষ্ঠা করছি এবং মন্দ কর্মে বাঁধা প্রদান করি তার কারণ হলো, আল্লাহ্‌ তাআ’লার উপর আমাদের পরিপূর্ণ ঈমান রয়েছে। হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-কে মানার ফলে আমরা আল্লাহ্‌ তাআ’লার সত্ত্বার সঠিক জ্ঞান ও উপলদ্ধি লাভ করেছি। তাই যদি আমরা নিজেদের মাঝে এই পবিত্র পরিবর্তন সৃষ্টি করতঃ পূণ্যের বিস্তারকারী আর মন্দ-কর্ম থেকে প্রতিহতকারী হই তাহলে অন্যদেরও আমাদের প্রতি মনযোগ আকর্ষিত হবে এবং বলবে যে, এরা আল্লাহ্‌র উপর ঈমানের কারণে পূণ্য করে আর আল্লাহ্‌র খাতিরেই এরা সকল কাজ করছে। প্রত্যেক আহ্‌মদী যেখানেই কাজ করুক বা বসবাস করুক না কেন নিজ সমাজে তার কিছু না কিছু পরিচিতি আছে। যদি আপনার চেহারা ও উঠাবসা থেকে এটি প্রকাশিত হয় যে, আপনি মন্দকে প্রচন্ডভাবে ঘৃণা করেন আর অনিষ্টকর বৈঠক থেকে ভদ্রতার সাথে উঠে পড়েন তখন তাদের মনযোগ আকৃষ্ট হবে আর বলবে যে, খোঁজ নেই এরা কারা! এভাবে আপনাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিত্ব থেকে এটি প্রতিফলিত হব�� ���ে, এ������ পূণ্য প্র��ারকারী আর মন্দ কর্মে বাঁধা দানকারী এবং আল্লাহ্‌ তাআ’লার সাথে সম্পর্ক স্থাপনকারী। যখন মানুষ কাছ থেকে দেখবে তখন পবিত্র স্বভাব লোকদের হৃদয় আল্লাহ্‌ তাআ’লা অবশ্যই উম্মুক্ত করে দিবেন। প্রত্যেক জাতিতেই নেক স্বভাবের লোক হয়ে থাকে আর অনেক বড় সংখ্যায় বিদ্যমান রয়েছে।

সুতরাং তবলীগের জন্য নিজের আদর্শও দেখাতে হবে। কেবল এ পরিবেশেই হারিয়ে যাবেন না। তাদের গুণাবলী গ্রহণ করুন কিন্তু তাদের নোংরামির প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রেখে বাঁচার চেষ্টা করুন। আপনাদেরকে প্রমাণ করতে হবে যে, আমরা সর্বশ্রেষ্ট উম্মত। আমাদের কথা ও কর্মে কোন বৈপরিত্য নেই। আমরা সেই উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবহিত যে জন্য মানব সৃষ্টি করা হয়েছে, অর্থাৎ আল্লাহ্‌ তাআ’লার ইবাদত করা। এমন ইবাদতকারীরা যে ফল লাভ করবে তা ইবাদতের প্রতি মনযোগী এবং ত্বাকওয়ার উপর বিচরণকারী। নতুবা স্মরণ রেখ! সাময়িক পরিবর্তন অথবা দু’মুখি ভাব বা ঈমানের উন্নতিতে ভাটা পড়বে এরূপ লোকেরা ‘ফল’ যদি লাভও করে, তারা যদি বয়’আতও করায় তা সাময়িক হবে, কিছু সময়ের জন্য আসবে আবার ফিরে যাবে, অথবা সেই মানের হবে না যা একজন আহ্‌মদীর হওয়া উচিৎ। একথা শুনে কেবল সংখ্যার পিছনে ছুটবেন না। কোন কোন স্থানে কেবল বয়’আত করানোর প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়। এটি দেখা উচিৎ আর এটি নিশ্চিৎ করা উচিত যে, ত্বাকওয়ার মান বর্ধনকারী আহ্‌মদী আসছে কিনা।

তাই স্মরণ রাখবেন আপনারা বর্তমান আহ্‌মদী হোন বা আপনাদের পরবর্তি প্রজন্ম হোক অথবা নবাগত আহ্‌মদীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাক; যদি তারা পূণ্যের মান বর্ধণকারী না হয়, ত্বাকওয়ার উপর বিচরণশীল আর ইবাদতের প্রতি মনযোগী না হয় তাহলে হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর উদ্দেশ্য বাস্তবায়নকারী নয় এরূপ সংখ্যা লক্ষ হলেও তা মূল্যহীন। তাই আপনারা যারা এখানকার আহ্‌মদী, পুরনো হোন বা নতুন, এমন সম্মিলিত কর্মসূচী প্রণয়ন করুন যদ্বারা আপনাদের পরবর্তী প্রজন্মের তরবীয়তও হবে। অনেকে উদ্বিগ্নতার সাথে আমাকে লিখেন, কিন্তু বংশধরদের তরবীয়তের জন্য নিজেদেরকেও কিছু চেষ্টা করতে হবে। প্রত্যেক আহ্‌মদী বালক যেন এই তরবীয়তের ফলে সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত হবার স্বীকৃতি লাভ করে।

তবলীগের ক্ষেত্রে পূণ্যের বিস্তার এবং মন্দ থেকে বিরত রেখে মহানবী (সাঃ)-এর বাণী পৌঁছিয়ে এমনভাবে এদেরকে নিজের মাঝে সম্পৃক্ত করুন যাতে তারাও সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মতের প্রতি কর্তব্য পালনকারী হতে পারে।

স্মরণ রাখুন! মসজিদও নিজের প্রতি অন্যের মনোযোগ আকৃষ্ট করার অনেক বড় মাধ্যম। এদিকেও আমি মনযোগ আকর্ষণ করতে চাই। এখন পর্যন্ত হল্যান্ডে মসজিদের আদলে জামাতে আহ্‌মদীয়ার পক্ষ থেকে হেগ’এ অবস্থিত কেবল একটি মসজিদই রয়েছে যা সম্ভবত প্রায় পঞ্চাশ বছর পূর্বে নির্মিত হয়েছে। সে সময়ও এই মসজিদের ব্যয় আহ্‌মদী বোনেরা বহন করেছিলেন যাদের অধিকাংশই ছিলেন পাকিস্তানী। তারপরে নুনস্পিটের এই কেন্দ্র ক্রয় করা হয় যেখানে এখন জুমুআ আদায় করা হচ্ছে, এটিও কেন্দ্র ক্রয় করে দিয়েছে। হল্যান্ড জামা'ত এখন পর্যন্ত একটি মসজিদও নির্মাণ করেনি। এখন আপনাদের সংখ্যা এখানে এমন যে যদি ইচ্ছা করেন আর ত্যাগের মন-মানসিকতা সৃষ্টি হয় তাহলে এক এক করে মসজিদ নির্মাণ করতে পারেন। কাজ আরম্ভ করলে আল্লাহ্‌ তাআ’লা সাহায্যও করবেন, ইনশাআল্লাহ্‌। সর্বশ্রেষ্ট উম্মত হবার একটি সবচেয়ে বড় চি‎হ্ন হচ্ছে, খোদাতা’লার উপর পরিপূর্ণ ঈমান। আল্লাহ্‌ তাআ’লার প্রতি যেখানে ঈমান আছে তাঁর উপর ভরসাও করুন। এই কাজ আরম্ভ করুন তাহলে আল্লাহ্‌ তাআ’লা ইনশাআল্লাহ্‌ সাহায্যও করবেন যেভাবে আমি বলেছি।

গতকাল মোবাল্লেগীনদের মিটিং এ আমি আমীর সাহেব এবং মুরব্বী সাহেবদেরকে বলছিলাম যে, কাজ আরম্ভ করলে ইনশাআল্লাহ্‌ মসজিদ নির্মাণও হয়ে যাবে। পয়সা কোথেকে আসবে এই ভয়ে যদি কাজে হাত দিতে কুন্ঠিত হন বা অর্থ সংগৃহীত হলেই মসজিদ নির্মাণ করবো; এভাবে মসজিদ নির্মিত হয় না। সংকল্প দৃঢ় করুন আল্লাহ্‌ সাহায্য করবেন। যখন আহ্‌মদী আল্লাহ্‌ তাআ’লার কৃপায় সংকল্প দৃঢ় করেন তখন আল্লাহ্‌ তাআ’লার তৌফিকে কাজ সম্পাদিতও হয়, উৎসাহ-উদ্দীপনাও সৃষ্টি হয় তাই চিন্তিত হবেন না। নিজেদের সামর্থকে খাট করে দেখবেন না, নিজেদের সম্পর্কে ভুল ধারণা রাখবেন না। (এমন করে আপনারা) নিজেদের সম্পর্কে ভুল ধারণায় পতিত হচ্ছেন না বরং আল্লাহ্‌ তাআ’লার ফযল সমূহ্‌ সম্বন্ধে ভুল ধারণা করছেন। যদি ঈমান থাকে তাহলে আল্লাহ্‌ তাআ’লার অনুগ্রহে বিশ্বাস রাখুন। যদি লক্ষ্য নির্ধারণ করেন যে, প্রতি দু’বছরে কমপক্ষে একটি শহরে যেখানে আহ্‌মদীদের সংখ্যা যথেষ্ট সেখানে মসজিদ বানাবো (এখানে শহরই আছে মাত্র দু-তিনটি) তাহলে জামা'ত আরো বিস্তার লাভ করবে, ইনশাআল্লাহ্‌। যেভাবে আমি বলেছি, তবলীগও করুন আর এর পাশাপাশি মসজিদও নির্মাণ করতে থাকুন, এটি ছোট্ট একটি দেশ এখানে যদি মসজিদ নির্মাণ করতে থাকেন, আর এর সুউচ্চ মিনারসমূহ্‌ থেকে আল্লাহ্‌ তাআ’লার তৌহিদের যে ধ্বনি উচ্চারিত হবে একইসাথে আপনাদের মাঝে যদি ইবাদত ও কর্মের মান উন্নত হয় তাহলে নিশ্চয় এদের ভুল ধারণা দূরীভূত হবে এবং আপনারা তাদের ভুল বুঝাবুঝি নিরসনকারী হবেন। আল্লাহ্‌ তাআ’লার কৃপার উত্তরাধিকারী হবেন। তারাও সত্যের জ্ঞান লাভ করবে। তারাও বুঝতে পারবে যে, আমরা ইসলামকে যা মনে করি বা করতাম প্রকৃতপক্ষে তা নয় বরং এ’তো সৌন্দর্য ও শান্তির বিস্তারকারী মানুষের ধর্ম। তাই তবলীগের পাশাপাশী মসজিদ নির্মাণের প্রতিও দৃষ্টি দিন। বিশ্বের সর্বত্র এর প্রতি মনযোগ নিবদ্ধ হয়েছে তাই হল্যান্ড জামাতেরও এক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকা উচিৎ নয় অতএব নির্মাণের দিকে মনোনিবেশ আবশ্যক। এখন এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করুন তাহলে যেভাবে আমি বলেছি, তবলীগের নিত্য-নতুন পথ খুলবে।

হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-ও বলেছেন,

জামা'তকে পরিচিত করতে হলে, ইসলামকে পরিচয় করাতে হলে মসজিদ নির্মাণ করুন। তাহলে তবলীগের মাধ্যমে ত্রিত্ববাদের শির্‌ক এ লিপ্ত এসকল মানুষ জানতে পারবে যে, একত্ববাদ কী আর সঠিক ধর্ম কোনটি। প্রত্যেক আহ্‌মদী বয়’আত করার পর হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-কে মসীহ্‌ ও মাহ্‌দী হিসেবে মান্য করার পরে তখনই বয়াতের এই অঙ্গীকার পূর্ণকারী হওয়ার দাবী করতে পারবে যখন তিনি তৌহিদ প্রতিষ্ঠার জন্য পুরোপুরি আত্মনিয়োগ করবেন। কেননা বর্তমান যুগে হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর আগমনের এটিই মূল উদ্দেশ্য।

হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) বলেন,

ঐশী নিদর্শনাবলীর মাধ্যমে খোদাতা’লার তৌহিদ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই আমার কাজ।

আল্লাহ্‌ তাআ’লা প্রত্যেক আহ্‌মদীকে তৌফিক দিন। যদি আপনারা নেক নিয়তের সাথে এই উদ্দেশ্য অনুধাবন করতঃ তৌহিদ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন তাহলে কেবল হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর জীবদ্দশায়ই নিদর্শনের প্রতিশ্রুতি ছিল না। তার পুরো যুগ বা কালের জন্য নিদর্শনের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তাঁর তৌহিদ প্রতিষ্ঠার জন্য আপনারা যা কিছুই করবেন এর সুবাদে আপনারা আল্লাহ্‌ তাআ’লার সাহায্য আর নিদর্শন দেখতে থাকবেন।

আল্লাহ্‌ তাআ’লা প্রত্যেক আহ্‌মদীকে ত্বাকওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর আগমনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের তৌফিক দিন। আর আমরা যদি প্রকৃতপক্ষে হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর আগমনের উদ্দেশ্যকে অনুধাবন করি তাহলে আল্লাহ্‌ তাআ’লার অনুগ্রহ লাভ করব, ইনশাআল্লাহ্‌ এবং আল্লাহ্‌ তাআ’লার নেয়ামতরাজির উত্তরাধিকারী হবো। আল্লাহ্‌ তাআ’লা আমাদেরকে এই নেয়ামত ও কল্যাণমালা লাভ করার জন্য হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর শিক্ষানুযায়ী জীবন অতিবাহিত করার তৌফিক দিন।

তিনি (আঃ) বলেন,

এখন তোমাদের কাজ হ��য়া ��চিৎ দোয়া, ইস��তেগ��ার, ইবা��তে ইলাহী এবং আ��্মশুদ্ধি ও নফসের পবিত্রকরণে নিয়োজিত থাকা। এভাবে নিজেকে খোদাতা’লার দান ও কৃপাসমূহের যোগ্য করো যার প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছেন (স্বয়ং নিজেকে এর যোগ্য করো)।

এই হলো আল্লাহ্‌ তাআ’লার প্রতিশ্রুতি যা নিজ মান্যকারীদের জন্য হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-কে তিনি প্রদান করেছেন। এসব অবলম্বন করলেই এর উপযুক্ত বিবেচিত হবেন। চেষ্টা করুন আর একটি নবোদ্যম ও নতুন প্রেরণার সাথে এদিকে মনযোগ নিবদ্ধ করে তবলীগের ক্ষেত্রে এবং ইবাদতের মান সমুন্নত করার ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে থাকুন।

আল্লাহ্‌ তাআ’লা সবাইকে নিজের জীবনে পবিত্র পরিবর্তন সৃষ্টি করতঃ প্রকৃত ইবাদতকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন আর স্বীয় নিয়ামতরাজির উত্তরাধিকারী করুন, আমীন।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে