খোদা তা’লার কৃপারাজি - জুমুআর খুতবা । Blessings of Allah - Friday Sermon

খোদা তা’লার কৃপারাজি

রোজ শুক্রবার, ২৬শে আগস্ট, ২০১৬ইং

يٰۤاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْۤا اِذَا نُوْدِىَ لِلصَّلٰوةِ مِنْ يَّوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا اِلٰى ذِكْرِ اللّٰهِ وَذَرُوْا الْبَيْعَ‌ؕ ذٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّـكُمْ اِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ‏

হে যাহারা ইমান আনিয়াছ ! যখন তোমাদিগকে জুমুআর দিনে নামাযের জন্য আহ্বান করা হয় তখন আল্লাহ্‌র স্মরণের জন্য দ্রুত আস এবং ক্রয়-বিক্রয় পরিত্যাগ কর। ইহা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে।

(আল্‌ জুমুআ: ১০)

জুমুআর খুতবার সারমর্ম

নিখিল বিশ্ব আহমদীয়া মুসলিম জামাতের বর্তমান ইমাম হযরত মির্যা মসরূর আহমদ খলীফাতুল মসীহ্ আল্ খামেস (আই.) গত ২৬শে আগস্ট, ২০১৬ইং রোজ শুক্রবার লন্ডনের বাইতুল ফুতুহ্ মসজিদে “খোদা তা’লার কৃপারাজি”- করে জুমুআর খুতবা প্রদান করেন।

হুযূর বলেন, যুক্তরাজ্যের বার্ষিক জলসার দ্বিতীয় দিনে গোটা বছরে জামাতের ওপর বর্ষিত আল্লাহ্‌র কৃপারাজির সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। আমার কাছে যে নোটস থাকে তার মধ্য হতে দেড়-দু’ঘন্টায় সামান্য কিছু পরিসংখ্যানই তুলে ধরা সম্ভব। যদিও জামাতের ওপর আল্লাহ্‌র অসীম কৃপাবারি বর্ষিত হয়। জলসা ছাড়াও বিভিন্ন সময় আমি এসব ঈমান উদ্দীপক ঘটনা আপনাদের সামনে বর্ণনা করে থাকি আর আজও এ বছরে খোদা কীভাবে জামাতকে সঙ্গ দিয়েছেন এবং কীভাবে মানুষের হৃদয়কে জামাতের প্রতি আকৃষ্ট করছেন তার মধ্য হতে কতিপয় ঘটনা তুলে ধরবো।

হুযূর বলেন, জামাতের প্রচার ও প্রসারে আমাদের কোন হাত নেই বরং খোদা তা’লা স্বয়ং এর ব্যবস্থা করছেন। কারণ তিনি তাঁর প্রিয় মসীহ্‌কে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, আমি তোমার প্রচারকে পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে পৌঁছাব। প্রতিশ্রুতি পূরণের লক্ষ্যে আল্লাহ্ স্বয়ং মানুষের হৃদয়ে আহমদীয়াতের প্রতি আকর্ষণ ও ভালোবাসা সৃষ্টি করেছেন। এবং জামাতের জন্য তবলীগের নিত্য নতুন পথ উম্মুক্ত করছেন।

আল্লাহ্ মানুষকে স্বপ্নের মাধ্যমে আহমদীয়াতের পানে দিশা দিচ্ছেন। কাউকে এমটিএ’র মাধ্যমে জামাতের সাথে পরিচিত করাচ্ছেন আর এই এমটিএ’র অনুষ্ঠানাদিই তাদের ঈমান আনার কারণ হয়েছে। আর এসব ঘটনা শুধুমাত্র আফ্রিকার প্রত্যন্ত অঞ্চলেই নয় বরং পাশ্চাত্বের বিভিন্ন দেশেও এমন ঘটনা অহরহ ঘটতে দেখা যায়।

হুযূর বলেন, এমটিএ’র পাশাপাশি আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে আমাদের রেডিও ষ্টেশনের অনুষ্ঠানাদিও মানুষকে সত্যের পানে আকৃষ্ট করছে। আমাদের মুরব্বীয়ান ও মুয়াল্লিমদের রিপোর্ট এবং তাদের তালীম-তরবীয়তের ফলে দূর-দূরান্তের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী শিশু-কিশোররা ধর্মীয় শিক্ষা লাভে ধন্য হচ্ছে। শুধু আহমদীরাই নয় বরং অ-আহমদীরা শিশুরাও আমাদের মসজিদে আয়োজিত ক্লাশ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করছে এবং তাদের মাধ্যমে তাদের পিতামাতা আহমদীয়াতের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন।

আল্লাহ্ তা’লা মানুষকে স্বপ্নযোগে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর ছবি দেখাচ্ছেন। এমন এমন সদাত্মাকেও এই স্বপ্ন দেখাচ্ছেন যারা আহমদীয়া জামাত সম্পর্কে আদৌ জানতো না এবং তাদের আশে-পাশে কোথাও আহমদীয়া জামাতও ছিল না কিন্তু তাদেরকেও আল্লাহ্ তা’লা স্বপ্নে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-কে দেখাচ্ছেন এবং ঘটনাক্রমে যখন জামাতের সাথে তাদের যোগাযোগ হয় তখন মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর ছবি দেখে তারা অভিভূত হয় যে, হ্যাঁ ওনাকেই আমরা স্বপ্নে দেখেছি এরপর তারা বয়আত করে জামাতভুক্ত হন। এবং তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে আহমদীয়াতের চারা রোপিত হচ্ছে এবং নতুন নতুন জামাত প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

আল্লাহ্ তা’লা অনেককে স্বপ্নের মাধ্যমে আহমদীয়াতের সত্যতা জ্ঞাত করেন। অনেকে আবার আহমদী সন্তানদের তালীম-তরবীয়তের মান এবং আহমদীদের সাহচর্য লাভের মাধ্যমে জামাতের সত্যতা উপলব্ধি করেন। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে এসবই খোদার কৃপা আর তিনিই এসব করছেন বা করাচ্ছেন।

এরপর হুযূর জামাতের বিরোধিতা সম্পর্কে বলেন যে, ভারত ও পাকিস্তানে জামাতের চরম বিরোধিতা হচ্ছে। এমনকি আফ্রিকার প্রত্যন্ত অঞ্চলেও যখন আহমদীয়া জামাতের আদর্শ ও শিক্ষা দেখে মানুষ অনুপ্রাণিত হয় তখন স্থানীয় মসজিদের ইমামরা জামাতের বিরোধিতা করে। নবাগত আহমদীদের বিভিন্ন প্রকার লোভ-লালসা বা প্রলোভন দেখানোর চেষ্টা করে কিন্তু সেসব দরিদ্র মানুষের ঈমান ও বিশ্বাসে তারা সামান্যতম চিরও ধরাতে পারেনি। কোন লোভ-লালসা তাদেরকে সত্যের ওপর অবিচলতা থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।

হুযূর বলেন, খোদার অগণিত কৃপারাজির মধ্য হতে মাত্র সামান্য কিছু কথা তুলে ধরা সম্ভব। আল্লাহ্ আমাদেরকে সর্বদা তাঁর কৃপাভাজন হওয়ার তৌফিক দিন। আমরা যেন খোদার প্রাপ্য অধিকার প্রদানকারী হই। আল্লাহ্ তা’লা আপন অনুগ্রহে আমাদেরকে আহমদীয়াত গ্রহণের যে সৌভাগ্য দিয়েছেন আমাদেরকে এর ওপর অবিচল থাকারও তৌফিক দিন আর ঈমান ও বিশ্বাসে উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ করুন। আমীন।

Top