জামাতের কর্মকর্তাদের দায়-দায়িত্ব এবং করণীয় - জুমুআর খুতবা । Duties and Resposnibilities of the Office bearers - Friday Sermon

জামাতের কর্মকর্তাদের দায়-দায়িত্ব এবং করণীয়

রোজ শুক্রবার, ১৫ই জুলাই, ২০১৬ইং

يٰۤاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْۤا اِذَا نُوْدِىَ لِلصَّلٰوةِ مِنْ يَّوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا اِلٰى ذِكْرِ اللّٰهِ وَذَرُوْا الْبَيْعَ‌ؕ ذٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّـكُمْ اِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ‏

হে যাহারা ইমান আনিয়াছ ! যখন তোমাদিগকে জুমুআর দিনে নামাযের জন্য আহ্বান করা হয় তখন আল্লাহ্‌র স্মরণের জন্য দ্রুত আস এবং ক্রয়-বিক্রয় পরিত্যাগ কর। ইহা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে।

(আল্‌ জুমুআ: ১০)

জুমুআর খুতবার সারমর্ম

নিখিল বিশ্ব আহমদীয়া মুসলিম জামাতের বর্তমান ইমাম হযরত মির্যা মসরূর আহমদ খলীফাতুল মসীহ্ আল্ খামেস (আই.) গত ১৫ই জুলাই, ২০১৬ইং রোজ শুক্রবার লন্ডনের বাইতুল ফুতুহ্ মসজিদে “জামাতের কর্মকর্তাদের দায়-দায়িত্ব এবং করণীয়”- সম্পর্কে জুমুআর খুতবা প্রদান করেন।

হুযূর বলেন, সম্প্রতি বিশ্বের সব দেশের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় জামাতের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। অনেকেই পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন আবার অনেক নতুন মুখও এবার দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন। আল্লাহ্ তা’লা সবাইকে অর্পিত এই দায়িত্বের গুরুত্ব অনুধাবন করে তা যথাযথভাবে পালনের তৌফিক দান করুন।

এরপর হুযূর জামাতের কর্মকর্তাদের আদর্শ এবং বৈশিষ্ট্য কীরূপ হওয়া উচিত তা বর্ণনা করতে গিয়ে কুরআন ও হদীসের আলোকে বলেন, আল্লাহ্ তা’লা অঙ্গীকার পালন ও আমানত রক্ষা করার প্রতি সবিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।

মহানবী বলেন, জাতীর নেতা মূলত জাতীর সেবক হয়ে থাকে। আর পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ বলেন, যারা নিজেদের ধর্মীয় ভাইদেরকে নিজেদের প্রাণের ওপর প্রাধান্য প্রদান করেন তারাই সত্যিকার মু’মিন।

মু’মিনের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হল, তারা বিনয় ও নম্রতার সাথে পৃথিবীতে জীবন যাপন করে। তারা অধিকার নেওয়ার পবিবর্তে অন্যের অধিকার প্রদানে সদা সোচ্চার। আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টিকে অগ্রগণ্য রেখে মু’মিনরা অন্যের অধিকার প্রদানে সচেষ্ট থাকে। আর যথাযথভাবে খোদার ইবাদতেও তারা মশগুল থাকে।

মহানবী (সা.) বলেন, মানুষ যতবেশি বিনয় অবলম্বন করে আল্লাহ্ ততবেশি তার সম্মান বৃদ্ধি করেন। পদাধিকারীদের কাজে-কর্মে বিনয় প্রকাশ না পেলে তারা খোদার কৃপারাজি থেকে বঞ্চিত হবে। তাদের কাজে কোন বরকত হবে না আর তারা সাফল্যের মুখও দেখবে না।

হুযূর আরো বলেন, সাধারণ মানুষের সাথে সদা হাসিমুখে কথা বলা, তাদের সাথে কোমল ও দয়ার্দ্র আচরণ প্রদর্শন করাও জামাতের পদাধিকারীদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত।

হুযূর বলেন, জামাতের সব কর্মকর্তার উচিত জামাতের রুলস ও রেগুলেশন বই পড়া এবং নিজের কর্মগণ্ডি সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখা তাহলে সবার জন্য দায়িত্ব পালন সহজ হয়ে যাবে।

হুযূর সেক্রেটারী তরবীয়তের কাজের গুরুত্ব সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন, যদি জামাতের তরবীয়ত বিভাগ সক্রিয় হয় তাহলে অন্যান্য বিভাগের কাজও সহজ হয়ে যায়। নিজের ঘর ও পরিবার থেকে তরবীয়ত আরম্ভ করতে হবে। প্রত্যেক আমীর, প্রেসিডেন্ট ও পদাধীকারীকে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে আদর্শ স্থানীয় হতে হবে। তাদের কথা ও কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকতে হবে আর সর্বোপরি মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও ভালোবাসা থাকতে হবে তাহলে জামাতের সাধারণ সদস্যদের ওপর এর সুপ্রভাব পড়বে এবং জামাতী দায়িত্ব পালন তাদের জন্য সহজতর হবে। কর্মকর্তাদের মধ্যে ত্যাগের মন-মানসিকতা থাকলে সাধারণ সদস্যদের ওপর এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে আর মানুষের মধ্যে ধর্মসেবার আগ্রহ জন্মে।

হুযূর বলেন, জামাতের কর্মকর্তা হিসেবে আপনি অন্যকে যা বলছেন তা যদি নিজে করে দেখান তাহলে তা আপনার ও জামাতের জন্য কোনভাবেই কল্যাণ বয়ে আনবে।

হুযূর বলেন, যতবড় পদ ততবেশি বিনয় ও নম্রতা অবলম্বন আবশ্যক যাতে জামাতের সদস্যরা আপনার আচার-ব্যবহার ও বিনয় দেখে ধর্ম সেবায় অনুপ্রাণিত হয়। এভাবে জামাতের মধ্যে কর্মীবাহীনি সৃষ্টি হবে। জামাতেই কখনোই কর্মীর ঘাটতি দেখা দেবে না।

তবে মনে রাখবেন, ধর্মসেবার সুযোগ দিয়ে আল্লাহ্ আমাদেরকে ধন্য করেছেন নতুবা জামাতের কাজের জন্য আল্লাহ্ কারো সাহায্যের মুখাপেক্ষী নন। কারো মাথায় যেন একথার উদ্রেগ না ঘটে যে, আমি ছাড়া জামাতের কাজ হবে না।

হুযূর জামাতের মুরব্বী এবং মুবাল্লিগদেরও স্ব স্ব দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের প্রতি আহ্বান জানান এবং জামাতের কোন কর্মকর্তা যদি কেন্দ্রের নির্দেশ পালনে দুর্বলতা দেখায় তাহলে তাকে তা স্মরণ করাতে বলেন। মনে রাখতে হবে, আমাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ অঙ্গীকার ও আমানত সম্পর্কে জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে।

আল্লাহ্ আমাদের অতীতের সব দুর্বলতা ও আলস্য ক্ষমা করুন। এবং আমাদের সবাইকে নবোদ্যমে অর্পিত দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে কর্মক্ষেত্রে ঝাঁপিয়ে পড়ার তৌফিক দিন, আমীন।

Top