তবলীগ বা প্রচারের অপরীসীম গুরুত্ব - জুমুআর খুতবা । Importance of Tabligh or Preaching - Friday Sermon

তবলীগ বা প্রচারের অপরীসীম গুরুত্ব

রোজ শুক্রবার, ৮ই জুলাই, ২০১৬ইং

يٰۤاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْۤا اِذَا نُوْدِىَ لِلصَّلٰوةِ مِنْ يَّوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا اِلٰى ذِكْرِ اللّٰهِ وَذَرُوْا الْبَيْعَ‌ؕ ذٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّـكُمْ اِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ‏

হে যাহারা ইমান আনিয়াছ ! যখন তোমাদিগকে জুমুআর দিনে নামাযের জন্য আহ্বান করা হয় তখন আল্লাহ্‌র স্মরণের জন্য দ্রুত আস এবং ক্রয়-বিক্রয় পরিত্যাগ কর। ইহা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে।

(আল্‌ জুমুআ: ১০)

জুমুআর খুতবার সারমর্ম

নিখিল বিশ্ব আহমদীয়া মুসলিম জামাতের বর্তমান ইমাম হযরত মির্যা মসরূর আহমদ খলীফাতুল মসীহ্ আল্ খামেস (আই.) গত ৮ই জুলাই, ২০১৬ইং রোজ শুক্রবার লন্ডনের বাইতুল ফুতুহ্ মসজিদে “তবলীগ বা প্রচারের অপরীসীম গুরুত্ব”- সম্পর্কে জুমুআর খুতবা প্রদান করেন।

হুযূর বলেন, হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-কে আল্লাহ্ ইলহামের মাধ্যমে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, আমি তোমার প্রচারকে পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে পৌঁছে দেব। এরপর এই ইলহাম রয়েছে, পৃথিবীর ধ্বংসের দিন পর্যন্ত খোদা তোমার নামকে সম্মানের সাথে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত রাখবেন আর তোমার বাণী পৃথিবীর কোনায় কোনায় পৌঁছে দিবেন। এসব অঙ্গীকার অনুযায়ী আল্লাহ্ নিজের কাজ করছেন। কিন্তু জামাতের সদস্যদের দায়িত্ব হচ্ছে, এ লক্ষ্যে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে সক্রিয় হওয়া এবং এ বিষয়ে সর্বাত্মক চেষ্টা করা আমাদের কর্তব্য। তাহলে আমরা আল্লাহ্‌র নিয়ামতরাজির উত্তরাধিকারী হতে সক্ষম হব।

দেশ বিভাগের পর হযরত মুসলেহ্ মওউদ (রা.) কাদিয়ানে অবস্থানরত দরবেশদের উদ্দেশ্যে প্রেরিত এক বার্তায় বলেন, এতে কোন সন্দেহ নেই যে, আপনাদের সংখ্যা মাত্র ৩১৩, কিন্তু হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) যখন জামাতের কাজ শুরু করেন তখন কাদিয়ানে আহমদীদের সংখ্যা ২-৩ জনের বেশি ছিল না। আর ৩ জনের তুলনায় ৩০০ জন সন্দেহাতিত ভাবে বেশি। বর্তমানে আপনাদের জনবল সে সময়ে কাদিয়ানে যে বসতি ছিল তার তুলনায় ১১ গুণ বেশি। সে সময় কাদিয়ান ছাড়া ভারতের অন্য কোথাও জামাতও ছিল না। বর্তমানে বহু স্থানে জামাত প্রতিষ্ঠিত এবং জনবল ও সম্পদও আগের তুলনায় অনেক বেশি। এছাড়া আল্লাহ্‌র ফযলে তবলীগের জন্য নিত্যনতুন মাধ্যমও এখন সহজলভ্য।

এরপর হুযূর (আই.) জামাতকে নসীহত করতে গিয়ে বলেন, তবলীগের গুরুত্বটি দৃষ্টিতে এ বিষয়ে আমাদের সর্বত্র সর্বাত্মক প্রচেষ্টার প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়া তবলীগের মাধ্যমে বয়আত গ্রহণের পর নবাগত আহমদীদের সামলানো এবং তাদের পরিচর্যা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এ লক্ষ্যে ভারত এবং আফ্রিকার প্রত্যন্ত অঞ্চলের আহমদীদের প্রতি ব্যবস্থাপকদের দৃষ্টি দেওয়া উচিত। বয়আতের কারণে কোথাও বিরোধিতা দেখা দিলে জামাতের কর্মকর্তা ও মুবাল্লিগদের উচিত তৎক্ষণাৎ সে অঞলে যাওয়া এবং আহমদীদের মাঝে মনোবল সৃষ্টি করা।

এরপর হুযূর (আই.) তবলীগ সংক্রান্ত আর একটি বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, তবলীগের জন্য হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর বই-পুস্তক পড়ে বক্তৃতা তৈরি করা উচিত। পুরো প্রস্ততি নিয়ে বক্তৃতা ও লেকচার দেয়া হলে এর ভাল প্রভাব পড়ে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্য জামাতের উদ্যোগে আয়োজিত তবলীগি সভায় আমাদের এক যুবক মুবাল্লিগ প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমতার সাথে যে উত্তর প্রদান করেন তাতে ইজরাইল থেকে আগত এক অধ্যাপকও গভীরভাবে প্রভাবিত হন।

হুযূর মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর পুস্তকাদি পাঠের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মুবাল্লিগদেরকে স্ব স্ব দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান এবং জামাতের সদস্যদেরকে মুবাল্লিগদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান।

এরপর হুযূর (আই.) দোয়া কবুল হওয়ার বিষয় উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সব দোয়া গৃহীত হয় না, আবার সব দোয়া বিফলেও যায় না। তবে, আল্লাহ্ যেসব দোয়া কবুলের সিদ্ধান্ত নেন সে দোয়া গ্রহণের ক্ষেত্রে কেউ বাধা দিতে পারে না।

সবশেষে হুযূর (আই.) খেলাধুলার সময় হাসি - ঠাট্টা বিষয় বলেন, হাস্যরস করা অবৈধ কিছু নয়। কিন্তু হাসি - ঠাট্টা এমন প্রকৃতির হওয়া উচিত নয় যাতে অন্যের অবমাননা হয়। হাসির ছলে যদি কখনও মুখ থেকে এমন কোন বাক্য বের হয় যাতে অন্যের মানহানির আশঙ্কা থাকে, তবে তার ইস্তেগফার করা উচিত। মনে রাখবেন ক্রিড়া-কৌতুক বৈধ হলেও বাপের দাঁড়ি নিয়ে ঠাট্টা করা বৈধ নয়।

এরপর হুযূর (আই.) বলেন, এখন (আগামী ১-২ মাস) জামা’তের বিভিন্ন খেলাধুলার অনুষ্ঠান হবে। এসব অনুষ্ঠানে অন্যান্যরাও উপস্থিত থাকবেন। সব আহমদীদের উচিত জামাতের সম্মানের প্রতি দৃষ্টি রাখা। জামাতের মান-সম্মান যেন কোনভাবেই পদদলিত না হয় তার প্রতি সবাইকে যত্নবান থাকার আহ্বান জানান।

Top