অধিকার: ইসলামে স্ত্রীর অধিকার - জুমুআর খুতবা । Rights: Wife's right in Islam - Friday Sermon

অধিকার: ইসলামে স্ত্রীর অধিকার

রোজ শুক্রবার, ১লা এপ্রিল, ২০১৬ইং

يٰۤاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْۤا اِذَا نُوْدِىَ لِلصَّلٰوةِ مِنْ يَّوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا اِلٰى ذِكْرِ اللّٰهِ وَذَرُوْا الْبَيْعَ‌ؕ ذٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّـكُمْ اِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُوْنَ‏

হে যাহারা ইমান আনিয়াছ ! যখন তোমাদিগকে জুমুআর দিনে নামাযের জন্য আহ্বান করা হয় তখন আল্লাহ্‌র স্মরণের জন্য দ্রুত আস এবং ক্রয়-বিক্রয় পরিত্যাগ কর। ইহা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে।

(আল্‌ জুমুআ: ১০)

জুমুআর খুতবার সারমর্ম

নিখিল বিশ্ব আহমদীয়া মুসলিম জামাতের বর্তমান ইমাম হযরত মির্যা মসরূর আহমদ খলীফাতুল মসীহ্ আল্ খামেস (আই.) গত ১লা এপ্রিল, ২০১৬ইং রোজ শুক্রবার লন্ডনের বাইতুল ফুতুহ্ মসজিদে “অধিকার: ইসলামে স্ত্রীর অধিকার”- সম্পর্কে জুমুআর খুতবা প্রদান করেন।

হুযূর আনোয়ার (আই.) বলেন, হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) বলেছেন, “তোমরা যারা আমার যুগে জন্ম গ্রহণ করেছ তারা আনন্দিত হও এবং আনন্দের বহিঃপ্রকাশ কর কারণ আল্লাহ্ তা’লা তোমাদের এযুগে সৃষ্টি করে সেসব সৌভাগ্যবানের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যারা যুগ মসীহ্‌র যুগ দেখার সুযোগ পেয়েছে, যার আগমনের প্রতীক্ষা করতে করতে বহু প্রজন্ম এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছে।”

হুযূর বলেন, আমরা আহমদীরা নিঃসন্দেহে সেসব সৌভাগ্যবান মানুষের অন্তর্ভুক্ত যারা আল্লাহ্র নির্দেশে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর হাতে বয়আত করেছে। আমরা সেসব দুর্ভাগাদের দলভুক্ত নই যারা হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর যুগ পাওয়া সত্ত্বেও তাঁর হাতে বয়আতের সৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত ছিল। বরং কতক এমন দুর্ভাগাও ছিল যারা বিরোধিতায় সকল সীমা লঙ্ঘন করেছে আর এভাবে খোদার প্রেরিত মহাপুরুষের দিক-নির্দেশনা থেকে বঞ্চিত হয়ে অন্ধাকরে হাবুডুবু খাচ্ছে এবং তারা বিশৃঙ্খলার শিকার।

কাজেই এজন্য আমরা খোদার দরবারে যতই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি না কেন তা অপ্রতুল। আল্লাহ্ আমাদেরকে সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন আর জীবনের বিভিন্ন মোড়ে যেসব প্রশ্ন উঠে বা দেখা দেয় তার সমাধানও সঠিক ইসলামী শিক্ষা অনুসারে তাঁর প্রেরিত মহাপুরুষের মাধ্যমে অবহিত করেছেন। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) স্বীয় রচনাবলী, বক্তৃতা এবং বৈঠকাদিতে বিভিন্ন বিষয় উপমা দিয়ে বর্ণনা করতেন যা তাঁর সাহাবীদের বর্ণিত বিভিন্ন ঘটনার আলোকে আমরা জানতে পারি কিন্তু এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অনুগ্রহ করেছেন আমাদের ওপর হযরত মুসলেহ্ মওউদ (রা.)।

যেমন হযরত মুসলেহ্ মওউদ (রা.) বলেন, হরতাল বা অবরোধ করা বৈধ কিনা এ সম্পর্কে নীতিগতভাবে ভেবে দেখা উচিত, হরতাল বা অবরোধের ডাক কেন দেয় হয়? এর মূল কারণ কি? কারণ হলো, অধিকার প্রদান না করা, প্রাপ্য প্রদান না করা। জাগতিক ব্যবস্থাপনায় কখনও মালিক শ্রমিকের প্রাপ্য অধিকার দেয় না আর সুযোগ পেলে শ্রমিকও মালিকের অধিকার প্রদান করে না। ফলে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অশান্তি দেখা দেয়। কখনও সরকার প্রজার অধিকার প্রদান করে না আর কখনও প্রজা সরকারের প্রাপ্য দেয় না বা প্রদান করে না। মালিক এবং সরকার যদি অধিকার বা প্রাপ্য প্রদান না করে তাহলে স্পষ্টতঃই প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কিন্তু শ্রমিক বা প্রজা যদি প্রাপ্য এবং অধিকার প্রদান না করে তখন তাদের প্রতি কঠোর আচরণ প্রদর্শন করা হয়। তাই এক্ষেত্রে ইসলামী শিক্ষা হলো, তোমরা পরষ্পরের শত্রু না হয়ে বরং ভাই ভাই হিসেবে পরষ্পরের প্রতি যে দায়িত্ব আছে তা পালনের চেষ্টা কর। অধিকার বা প্রাপ্য প্রদানের চেষ্টা কর তাহলে জাগতিক ব্যবস্থাপনায় কোন বিশৃঙ্খলা দেখা দিবে না। এটি শুধু ইসলামী সরকার পর্যন্তই সীমাবদ্ধ নয় বরং যেখানে ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র রয়েছে সেখানেও অধিকার প্রদানের ভিত্তিতে কাজ করা উচিত। আর যেখানে অধিকার আদায়ের প্রশ্ন আসে সেখানে হরতাল বা ধর্মঘটের পরিবর্তে, আইন হাতে তুলে নেওয়ার পরিবর্তে আইনানুগ পদক্ষেপ নেয়া উচিত।

এ কারণে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর যুগে যখনই ধর্মঘট হতো আর কোন আহমদী এতে অংশ নিলে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) তাকে কঠোর শাস্তি প্রদান করতেন এবং অসন্তুষ্টি প্রকাশ করতেন।

হুযূর (আই.) বলেন, আজকাল বিভিন্ন মুসলমান দেশে যেসব হরতাল ও অবরোধের ডাক দেওয়া হয় এর পেছনে শয়তানী অপশক্তির কাজ ছাড়াও সচরাচর সরকার এবং জনসাধারণের মাঝে পরষ্পরের প্রাপ্য অধিকার প্রদান না করার কারণে অশান্তি এবং টানাপোড়ন দেখা দেয়। সরকার যদি সুবিচার ভিত্তিক শাসন করে তাহলে যেসব শয়তানী অপশক্তি রয়েছে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বা বহিরাগত শক্তি যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তারাও সুযোগ পাবে না। কেননা জনসাধারণের প্রাপ্য অধিকার যদি প্রদান করা হয় তাহলে কোন কোন মৌলভী বা কোন নৈরাজ্যবাদী বা কোন দুস্কৃতকারী বা কোন বিদ্রোহী আর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীর পেছনে চলবে না। আল্লাহ্ তা’লা মুসলমান দেশগুলোকে বিশেষ করে পাকিস্তান সরকরাকে জনসাধারণের প্রাপ্য অধিকার প্রদানের তৌফিক দিন। অনুরূপভাবে সব আহমদীর দোয়া করা উচিত। যদি কোন ক্ষেত্রে কোন আহমদীকে জোর পূর্বক ধর্মঘটে টেনেও নেয়া হয় সেক্ষেত্রেও বাধ্য-বাধকতার কারণে তাদের এমন কোন কাজ করা উচিত নয় যা সরকারী ধন-সম্পদের ক্ষতি হতে পারে।

এরপর হুযূর একাধের আরো কতিপয় ঘটনা বর্ণনা করেন যা সামাজের বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষের সাথে সম্পর্ক রাখে। এসব কাজ সবার চেয়ে বেশি করতে দেখা যায় মহানবী (সা.)-কে। তিনি বিচারকও ছিলেন, শিক্ষকও ছিলেন, রাষ্ট্রীয় অন্যান্য দায়িত্বও পালন করতেন। কেননা তিনি রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন, আইন প্রণয়ন করতেন। একই সাথে তিনি সংসারিক কাজকর্মও করতেন, স্ত্রীদের সাহায্য করতেন। অথচ কখনও তিনি বলেন নি, আমি এত ব্যস্ত মানুষ তোমাদের ঘরের কাজে সাহায্য করতে পারব না। এ সম্পর্কে আলোকপাত করতে গিয়ে মুসলেহ্ মওউদ (রা.) বলেন, দেখ! মহানবী (সা.) তাঁর স্ত্রীদের প্রাপ্য অধিকারও প্রদান করতেন। আর এত গভীর মনোযোগ সহ প্রদান করতেন যে, প্রত্যেক স্ত্রী মনে করতেন, সবচেয়ে বেশি মনোযোগ রয়েছে তাঁর আমার প্রতি। মহানবী (সা.)-এর রীতি ছিল তিনি আসরের নামাযের পর একবার করে সব স্ত্রীর ঘরে যেতেন এবং তাদের প্রয়োজনের কথা জিজ্ঞেস করতেন। অনেক সময় এছাড়া ঘরের কাজেও তিনি তাদের সাহয্য করতেন। আরও অনেক কাজ মহানবী (সা.) করতেন। তাঁর জীবনের কোন একটি মুহূর্তও অবসর ছিল না।

হযরত মুসলেহ্ মওউদ (রা.) বলেন, হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-কে আমরা দেখেছি; যিনি মহানবী (সা.)-এর প্রতিচ্ছবি ছিলেন। আমার মনে পড়ে হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর কাজের ধরণ যা ছিল তাহলো, আমরা ঘুমানোর সময়ও তাঁকে কাজে রত দেখতাম আর ঘুম থেকে উঠেও তাঁকে কাজে ব্যস্ত দেখতাম। এত পরিশ্রম আর এত কষ্ট সত্যেও যেসব বন্ধু তার বইয়ের প্রুফ পড়ার কাজ করতো তিনি তাদের অনেক সাহায্য করতেন। ইশার সময়ও যদি কেউ ডাকত যে, হুযূর আমি প্রুফ নিয়ে এসেছি তিনি বিছানা থেকে উঠে দরজা পর্যন্ত যেতে গিয়ে রাস্তায় বেশ কয়েকবার বলতেন, জাযাকুমুল্লাহ্ আপনার বড় কষ্ট হয়েছে অথচ প্রুফ রিডারে কাজ তিনি যে কাজ করতেন তার মোকাবিলায় কিছুই নয়। এরূপ কাজের অভ্যাস আমরা হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর মাঝে দেখেছি আর এমনটি দেখে আমরা আশ্চর্য হতাম, অসুস্থতার কারণে অনেক সময় তাঁকে পায়চারি করতে হতো আর সেই অবস্থায়ও তিনি কাজ করতেন। ভ্রমণের জন্য গেলে রাস্তায় বিভিন্ন মাসলা মাসায়েলের কথা বলতেন, প্রশ্নের উত্তর দিতেন অথচ হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)ও এই ম্যালেরিয়া কবলিত এশিয়াতেই বসবাস করতেন।

হযরত মুসলেহ্ মওউদ (রা.) বলেন, আমাদের আলস্যের জন্য কোন রোগকে দায়ী করা উচিত নয়। তাই যারা অলস আর আলস্যের কারণে আবশ্যকীয় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ঔদাসীন্য প্রদর্শন করে তাদের দৈহিক ম্যালেরিয়া নয় বরং তাদের হৃদয় ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত। যদি তারা পরিশ্রম করার নিয়্যত করে তাহলে এসব আলস্য দূরীভূত হতে পারে। ম্যালেরিয়া কবলিত অঞ্চল তো একটি অজুহাত মাত্র, সেসব অঞ্চল থেকে যারা ইউরোপে এসে বসতি গেড়েছে তাদের মাঝেও অনেকে এমন আছে যারা সারাদিন ঘরে বসে থাকে। হয়তো টেলিভিশন দেখে বা স্ত্রী’র সাথে ঝগড়া বিবাদে রত থাকে বা ছেলেমেয়েদের সাথে এমন ব্যবহার করে যে, তারাও বিরক্ত হয়ে যায়। এটি কোন রোগ নয় বরং আলস্য এবং ঔদাসীন্য কেননা; এখানে জীবন-জীবিকার যেহেতু কোন চিন্তা নেই তাই একটি অজুহাত দেখিয়ে, কোন কাজ না করে মানুষ বেকার ভাতা নিয়ে থাকে। অতএব বসবাসকারী লোকদেরও এই আলস্য ও ঔদাসীন্য পরিহার করতে হবে।

এছাড়া ইসলামে মহিলাদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করার একটি রীতি হলো, বিয়ের সময় তার জন্য মোহরানা নির্ধারণ করা হয় তাই সেই মোহরানা অবশ্যই পরিশোধ করা উচিত। অনেকেই মনে করে যে, কেবল খোলা বা তালাকের ক্ষেত্রেই মোহরানা দিতে হয়। এটি ঠিক নয় বরং আমাদের মোহরানার উদ্দেশ্য কি তা বুঝতে হবে। এটি সেই অর্থ যা মহিলার কাছে থাকা উচিত যাতে একান্ত প্রয়োজনে সে তা খরচ করতে পারে।

হযরত মুসলেহ্ মওউদ (রা.) মোহরানা মাফ করা সংক্রান্ত একটি ঘটনা শুনিয়েছেন যা মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর একজন সাহাবীর ঘটনা। হাকীম ফযল দ্বীন সাহেব আমাদের জামাতের প্রাথমিক যুগের সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত। তার দুই স্ত্রী ছিলেন। একদিন হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) বলেন, মোহরানা প্রদান করা শরীয়তের নির্দেশ। স্ত্রীদের অবশ্যই তা দেয়া উচিত। তখন হাকীম সাহেব বলেন, আমার স্ত্রীরা আমাকে ক্ষমা করেছেন। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) বলেন, আপনি কি তাদের হাতে টাকা দিয়ে এরপর ক্ষমা করিয়েছিলেন। তিনি বলেন, না হুযূর! আমি এমনিতেই বলেছিলাম তারা ছেড়ে দিয়েছে। হুযূর বলেন, প্রথমে তাদের হাতে মোহরানার টাকা দিন এরপর যদি তারা ক্ষমা করে তাহলে ভিন্ন কথা। আসল কথা হলো, টাকা অন্ততঃপক্ষে এক বছর মহিলার কাছে থাকা উচিত এই সময়ের ভেতর যদি ক্ষমা করেন তাহলে যথার্থ হবে। তার দু’জন স্ত্রী ছিলেন, মোহরানা ছিল পাঁচশত রুপি করে। হাকীম সাহেব কোন জায়গা থেকে ঋণ করে তাদের হাতে পাঁচ শত রুপি করে তুলে দেন এবং বলেন, তোমাদের মনে থাকবে তোমরা মোহরানা মাফ করে দিয়েছ এখন এই রুপি আমাকে ফেরত দাও। তখন তার স্ত্রীরা বলেন, আমরা তো জানতাম না যে, আপনি এই রুপি আমাদেরকে দিবেন। এ কারণে আমরা মওকুফ করেছিলাম কিন্তু এখন আমরা আর ফেরত দিচ্ছি না।

এরপর রয়েছে যাকাত। যাকাত প্রদান আবশ্যকীয় দায়িত্বাবলীর অন্তর্ভুক্ত। প্রত্যেক ব্যক্তি যার ক্ষেত্রে যাকাতের শর্ত পূরণ হয় তার জন্য যাকাত প্রদান আবশ্যক। কিন্তু এমন বুযুর্গরা রয়েছেন যাদের যত সম্পদই আসুক আয় যতই হোক না কেন তারা খোদার পথে তা ব্যয় করেন। হযরত মুসলেহ্ মওউদ (রা.) বলেন, আমি স্বয়ং হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর কাছে শুনেছি, কেউ একজন পুণ্যবান ব্যক্তিকে প্রশ্ন করেছে, যাকাত কত টাকার ওপর আবশ্যক হয়। তিনি বলেন, তোমার জন্য বিষয় হলো, চল্লিশ টাকায় এক টাকা যাকাত দাও। চল্লিশ টাকায় এক টাকা যাকাত দাও। সে ব্যক্তি প্রশ্ন করে, আপনি যে বললেন তোমার জন্য, তোমার জন্য শব্দের অর্থ কি, যাকাতের বিষয় কি ব্যক্তি ক্ষেত্রে পরিবর্তন হতে থাকে? তিনি বলেন যে, হ্যাঁ, তোমার কাছে যদি চল্লিশ রুপি গচ্ছিত থাকে তাহলে তা থেকে এক রুপি যাকাত দেয়া আবশ্যক কিন্তু আমার কাছে যদি চল্লিশ রুপি থাকে তাহলে আমার জন্য ৪১ টাকা যাকাত হিসেবে দেয়া আবশ্যক কেননা তোমার পদমর্যাদা এমন যে, আল্লাহ্ তা’লা বলেন, তুমি উপার্জন কর এবং খাও কিন্তু আমাকে সেই মর্যাদা দিয়েছেন অর্থাৎ আমার ব্যয়ভার তিনি স্বয়ং বহন করেন; যদি নির্বুদ্ধিতা বশতঃ আমি চল্লিশ টাকা জমা করি তাহলে সেই চল্লিশ টাকার পাশপাশি এক রুপি জরিমানাও দিতে হবে। কাজেই এ হলো পুণ্যবানদের অবস্থা।

এরপর হযরত মুসলেহ্ মওউদ (রা.)-তাঁর নিজস্ব একটি ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, আমার মনে আছে, মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর জীবনের শেষ বছর বা তাঁর তিরোধানের পর প্রথম খিলাফতের প্রথম রমযান ছিল গরম কালে। সেহরীর সময় আমি পানি পান করতে পারি নাই তাই সেদিন আমার প্রচন্ড পিপাসা লাগে এমনকি আমার বেহুশ হওয়ার আশঙ্কা হয় অথচ সূর্য অস্ত যেতে তখনও এক ঘন্টা বাকী ছিল। আমি স্রান্ত এবং অবসন্ন হয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ি এবং আমি দিব্য দর্শনে দেখি যে কেউ আমার মুখে পান পুড়ে দিয়েছে আর সেই পান চোষার পর আমার সব পিপাসা দূর হয়ে যায়। সেই কাশফের ঘোর কাটার পর আমি দেখি যে, পিপাসার নাম চিহৃও নেই। আল্লাহ্ তা’লা এভাবেই আমার পিপাসার নিবারণ করেছেন।

এরপর হুযূর আরো কপিতয় শিক্ষামূলক ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, সব সময় স্মরণ রাখা উচিত, কোন কাজের যখন ভালো ফলাফল প্রকাশ পায় তখন সত্যিকার মু’মিনের বলা উচিত, আলহামদুলিল্লাহ্, আল্লাহ্ তা’লা আমাকে সফল করেছেন আর কুফল ফলাফল প্রকাশ পেলে ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন পড়া উচিত। আর বলা উচিত, আমি আমার অপূর্ণতা আর অক্ষমতার কারণে ব্যর্থ হয়েছি, আল্লাহ্ তা’লার পক্ষ থেকে বরকত এবং আশিস লাভ করে যে অক্ষমতা এবং অপূর্ণতাকে নিজের প্রতি আরোপ করে এবং সাফল্য পেলে আলহামদুলিল্লাহ বলে এমন লোকদের প্রতি খোদা তা’লা করুণা প্রদর্শন করতে গিয়ে বলেন, আমার বান্দা সাফল্য আমার প্রতি আরোপ করেছে তাই আমি তাকে অধিক সাফল্যে ভূষিত করব।

এরপর হযরত মুসলেহ্ মওউদ বলেন, দোয়া কবুল হওয়ার ক্ষেত্রে অনেকেই মনে করে ছোট ছোট কথা বলা হয় অথচ এসব আমরা পূর্ব থেকেই জানি। দোয়া গৃহীত হওয়ার জন্য দু’টো মৌলিক শর্ত আছে। আল্লাহ্ তা’লা যা বলেন তা স্মরণ রাখা উচিত। “ফাল ইয়াসতাজিবুলী ওয়াল ইউমিনুবি” অর্থাৎ আমার কথা মান এবং আমার ওপর ঈমান আন। এ ছাড়াও আরো অনেক বিষয় আছে দরুদ পড়, সদকা দাও, পবিত্র কুরআনে এই দু’টি মৌলিক বিষয় উল্লেখ আছে। মানুষ বলে যে, আমরা জানি কিন্তু এর ওপর আমল নেই। অনেকে আমাকে একথাও লিখে যে, আমরা অনেক দোয়া করেছি কিন্তু আল্লাহ্ তা’লা আমাদের দোয়া গ্রহণ করেন নি। এটি খোদার ওপর অপবাদ, সত্যিকার অর্থে এটি ঈমানের দুর্বলতাও বটে। আল্লাহ্ তা’লা আমাদেরকে তাঁর নির্দেশাবলী মেনে চলার তৌফিক দিন, আমাদের ঈমান দৃঢ় করুন। আর আমাদের দোয়াকে গ্রহণ যোগ্যতার মর্যাদা দিন।

জুমআর নামাযের পর হুযূর (আই.) স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো নিবাসী সৈয়দ নঈম শাহ্ সাহেবের পুত্র জনাব সৈয়দ আসাদুল ইসলাম শাহ্ সাহেবের গায়েবানা জানাযা পড়ান। গত ২৪ মার্চ, ২০১৬ তারিখে ৪০ বছর বয়সে একজন আততায়ীর নৃশংস আক্রমনে তিনি শাহাদত বরণ করেন, ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন। হুযূর মরহুম শহীদের স্মুতিচারণ করেন এবং বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন। আল্লাহ্ তার শোকসন্তপ্ত পরিবরাকে ধৈর্য এবং দৃঢ় মনোবল দান করুন।

Top