In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

]بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ[ (آمين)

ল্লাহ্‌তা’লার কৃপায় আহ্‌মদীয়া খিলাফতের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষ্যে তাঁর সমীপে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অনুপ্রেরণায় আমরা আজ এখানে সমবেত হয়েছি, একই সাথে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের আহ্‌মদীরাও MTA-র মাধ্যমে এ অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ মূহুর্তে আপনাদের এবং পৃথিবীর সকল আহ্‌মদীদের আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। মহানবী (সাঃ)-এর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী তাঁর নিষ্ঠাবান দাস তথা মসীহ্ ও মাহদীর জামা’তে অন্তর্ভূক্ত হওয়ার কল্যাণে আমরা আজ এক ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ। হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-কে প্রদত্ত স্বীয় প্রতিশ্রুতি অনুসারে আল্লাহ্‌তা’লা যে অনুগ্রহবারি বর্ষণ করেছেন এবং করছেন তারই সুবাদে সেই জনপদকেও আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি, অবশ্য সামনের কয়েকজন ছাড়া বাকীরা টিভি না থাকার কারণে দেখছেন না। যে জনপদ ছিল একটি ছোট্ট গ্রাম মাত্র, যাকে কেউ চিনতো না, এখন তা আমাদের চোখের সামনে রয়েছে। সারা বিশ্ব আজ, মুহাম্মদী মসীহ্‌র এই গ্রামকেই কেবল চিনেনা বরং এই জনপদের অলিগলি আর সেই শুভ্র মিনারকেও চিনে যা মুহাম্মদী মসীহ্‌র আগমনবার্তা ও আবির্ভূত হওয়ার প্রতীক স্বরূপ নির্মাণ করা হয়েছে। নিজ প্রিয় মসীহ্‌কে প্রদত্ত খোদাতা’লার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, দৃঢ় প্রত্যয়ী ও প্রতিশ্রুত সেই পুত্রের অবদান হিসেবে তৃণলতাহীন এক প্রান্তরকে সবুজ-শ্যামল, ফুলে ফলে সুশোভিত ও গাছপালায় ছায়াময় নগরীতে (রাবোয়া) রূপান্তরিত হওয়ার দৃশ্যও এই মহতী অনুষ্ঠানে আজ আমরা অবলোকন করছি। এখন রাবওয়ার ছবিও আমাদের সামনেই রয়েছে। সুতরাং, আজ আপনারা পূর্ব থেকে পশ্চিমে ভেসে আসা এই দৃশ্য এবং ঐশী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পাশ্চাত্য থেকে স্থায়ী কুদরত প্রত্যক্ষ করার পাশাপাশি, ঐশী কৃপাবারীর বর্ষণ ধারা, পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ, ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়া এবং আফ্রিকাতেও যুগ খলীফাকে সবাকচিত্র দেখছেন ও শুনছেন। এ সবকিছু প্রত্যেক আহ্‌মদীর দৃষ্টি সুনিশ্চিতভাবে এদিকে নিবদ্ধ করে যে, আল্লাহ্‌তা’লা আপন প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন এবং করছেন, হযরত মসীহ্ মওউদ (আঃ)-এর প্রচারকে পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে পৌঁছে দিয়েছেন এবং আজও পৌঁছাচ্ছেন। আহ্‌মদীয়া খিলাফত প্রতিষ্ঠা এবং তাঁর প্রতি সমর্থনের নিদর্শনস্বরূপ খিলাফতের উন্নতির দৃশ্য অতীতেও আমরা দেখেছি এবং আজও দেখছি। আহ্‌মদীয়া খিলাফতের সাথে খোদাতা’লার ব্যবহারের শতবর্ষের ইতিহাস আমাদের ঈমানকে দৃঢ় ও উজ্জীবিত করছে। এ সব কারণে খোদার কৃতজ্ঞতাপরায়ন দাস হিসেবে তাঁর সামনে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা কি আমাদের জন্য আবশ্যক নয়? অতএব আজকের এই অনুষ্ঠানও কৃতজ্ঞতার নিদর্শন স্বরূপই হচ্ছে। ইসলামের ইতিহাসে এক নব ও সোনালী অধ্যায় রচনা করছে এই দিন যা খোদাতা’লা আমাদেরকে মহানবী (সাঃ)-এর নিষ্ঠাবান সেবকের হাতে প্রতিষ্ঠিত জামাতের মাধ্যমে দেখাচ্ছেন। অতএব এই মানসে তথা এই নিয়ামতের প্রকাশ ও কৃতজ্ঞতার নিদর্শন স্বরূপ এ অনুষ্ঠান আর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ উপলক্ষ্যে যেসব অনুষ্ঠানাদি আমরা পালন করছি তা কেবল বৈধই নয় বরং তা একান্তভাবে খোদাতা’লার নির্দেশ অনুযায়ী হচ্ছে। আল্লাহ্‌তা’লা বলেন,

وَأَمَّا بِنِعْمَةِ رَبِّكَ فَحَدِّثْ

অর্থাৎ, তুমি তোমার প্রভুর নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে থাক। (সূরা আয্ যোহা: ১২)

হযরত মসীহ্ মওউদ (আঃ) বলেন,

‘খোদার দাসত্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, বিনয় এবং নম্রতা। কিন্তু وَأَمَّا بِنِعْمَةِ رَبِّكَ فَحَدِّثْ আয়াতে উল্লেখিত নির্দেশ অনুযায়ী ঐশী নিয়ামত লাভের কথা প্রকাশ করাও অত্যাবশ্যক। তিনি আরও বলেন, وَأَمَّا بِنِعْمَةِ رَبِّكَ فَحَدِّثْ নির্দেশ অনুসারে একথা প্রকাশে এই অধম কোন ক্ষতি দেখেনা যে, দয়ালু ও কৃপালু খোদা শুধুমাত্র নিজ অনুগ্রহে এই অধমকে সমস্ত কল্যাণরাজির এক বিরাট অংশ প্রদান করেছেন এবং এই অকর্মণ্যকে রিক্তহস্তে পাঠান নি বা নিদর্শনাবলী ছাড়া প্রত্যাদিষ্ট করেন নি বরং এতসব নিদর্শনাবলী দান করেছেন যার কতক প্রকাশিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও হবে। খোদাতা’লা সত্য যতক্ষণ সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ না করছেন ততক্ষণ পর্যন্ত এ সমস্ত নিদর্শনাবলী প্রকাশ করতেই থাকবেন।’ এরপর তিনি (আঃ) বলেন, ‘স্মরণ রেখো! মানুষের সর্বদা ও সর্বাবস্থায় দোয়ার ভিখারী হওয়া এবং وَأَمَّا بِنِعْمَةِ رَبِّكَ فَحَدِّثْ ’র উপর প্রতিষ্ঠিত থাকা উচিত, খোদা প্রদত্ত দানের কথা প্রকাশ করা উচিত; এতে খোদাতা’লার প্রতি ভালবাসা বৃদ্ধি পায় এবং তাঁর এতায়াত ও আনুগত্যের জন্য হৃদয়ে প্রবল প্রেরণা সৃষ্টি হয়। তাহ্দীস কেবল মৌখিক প্রকাশকেই বলা হয়না বরং মানুষের জীবনে তা প্রকাশিত হওয়াও বাঞ্ছনীয়।

অতএব আল্লাহ্‌তা’লা তাঁর অবারিত যে দানে আমাদেরকে সমৃদ্ধ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও জারী রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, এ দানের জন্য খোদার কৃতজ্ঞ পরায়ন বান্দা হয়ে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করুন যেন এই নিয়ামতের প্রবাহে কখনও ঘাটতি না আসে বরং প্রত্যেক নতুন দিন যেন নতুন মহিমা নিয়ে প্রকাশ পেতে থাকে। হযরত মসীহ্ মওউদ (আঃ)-এর উক্তি অনুসারে, বিনয় ও নম্রতা হলো এর শর্ত। প্রত্যেক আহ্‌মদীকে এই গুরুত্বপূর্ণ শর্তের প্রতি সপ্রতিভ দৃষ্টি রাখা উচিত। আমরা আল্লাহ্‌তা’লার সম্মুখে যতটা বিনত হবো, শুধু বাহ্যিকভাবেই নয় বরং অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে ত্বাকওয়ার ওপর যতটা প্রতিষ্ঠিত থেকে বিনয় প্রদর্শন করবো, ততটাই আল্লাহ্‌তা’লার নিয়ামতের অংশ আমরা পেতে থাকবো। আজকের এই দিবসটি সাধারণভাবে প্রতিবছরই যা পালিত হয়ে থাকে, আহ্‌মদীয়া খিলাফতের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষ্যে তা আমরা আজ বিশেষভাবে পালন করছি। এই দিবসটি আমাদের মাঝে যেন এ প্রেরণা সৃষ্টি করে যে, ত্বাকওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত হয়ে বিনীত পন্থা অবলম্বনের মাধ্যমে আল্লাহ্‌তা’লার শিক্ষা ও সকল আদেশ নিষেধ সম্পূর্ণভাবে মেনে চলার ব্যাপারে আমরা সচেষ্ট হই। আজ শুধু নযম পড়া, বেলুন উড়ানো ইত্যাদি, এবং বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করা বা এই আনন্দে ভাল খাবার খাওয়া, মিষ্টি খাওয়া আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য নয়। এখানে যে অনুষ্ঠান এখন হচ্ছে এবং বিভিন্ন জামা’তেও যা হবে, তা নিছক আনন্দ কর����� জন্য নয়। হ্যাঁ এটিও একটি উদ্দেশ্য, যেমন আমি বলেছি, এটি আল্লাহ্‌তা’লার নিয়ামত প্রাপ্তির বহিপ্রকাশ; কিন্তু এর ফলে আমাদের মনোযোগ ত্বাকওয়ার প্রতি নিবদ্ধ হওয়া উচিত। প্রতিযোগিতা যদি শুধু বাহ্যিক হৈ-চৈ, কৃত্রিমতা এবং লৌকিকতার উদ্দেশ্যে হয়ে থাকে তাহলে এটি ঠিক তেমনই ঘৃণ্য বিষয় যেমন সালানা জলসা হতে পবিত্র পরিবর্তন ছাড়া রিক্ত হস্তে ফিরে যাওয়া বা যে কোন অসুষ্ঠু কাজ হতে নির্বিকারে নির্লিপ্তভাবে ফিরে থাকা, যা খোদার সন্তুষ্টি বহির্ভূত হয়ে থাকে। সুতরাং আজকের এই দিন নতুনভাবে অঙ্গীকার করার দিন। আজকের এই দিন ইতিহাস সম্পর্কে আমাদের অবগত হবার দিন। আজকের দিনটি সেদিন সম্পর্কে অবহিত হবার দিন, যেদিন জামাতের সদস্যদের জীবনে এক ভূমিকম্প নেমে এসেছিল। একশত বছর পূর্বে আজকের এই দিনটির ঠিক একদিন পূর্বে এক ঘটনা ঘটেছিল যা জামাতকে প্রকম্পিত করেছিল। ১৯০৮ সনের ২৬শে মে’ যখন খোদার প্রিয় মসীহ্ মওউদ (আ:) নিজ প্রভুর নিকট প্রত্যাবর্তণ করেন আর যে সংবাদ আল্লাহ্‌তা’লা কিছু কাল ধরে তাঁকে দিয়ে আসছিলেন, তিনি (আ:) তা জামাতকে অবগত করে আসছিলেন এবং আল্ ওসীয়্যত পুস্তিকায় স্পষ্টভাবে এ দিকে জামাতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ঈমান ও ত্বাকওয়ায় উন্নতি করার জন্য বিশেষভাবে নসীহতও করেছেন; পাশাপাশি জামাতকে সান্তনাবাণী দেন যে, একথা মনে করো না যে আমার বিদায়ের পর খোদার সমর্থনের হাত তোমাদের উপর থেকে প্রত্যাহৃত হবে বরং খোদার প্রতিশ্রুতি আমার মৃত্যুর পরও পূর্ণ হতে থাকবে। চিরসত্য কথা হলো, প্রত্যেক ব্যক্তি এ দুনিয়াতে যে আসে তাকে চলে যেতে হয়। সকল নবীও এ বিধান অনুযায়ী গত হয়েছেন এবং নিজ প্রভুর চিরস্থায়ী জান্নাতের উত্তরাধিকারী হয়েছেন যার জন্য তাঁরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন। হযরত মসীহ্ মওউদ (আঃ)-এর জীবনের প্রতিটি মূহুর্তও আমরা এই চিরস্থায়ী জীবনের আকাঙ্খায় কাটতে দেখি। তাঁর মৃত্যুর পর জামাতের সদস্যদের বিশ্বাসই হচ্ছিলনা যে তিনি এই ধরাধাম থেকে বিদায় নিতে পারেন। যাহোক, তাঁরা নিশ্চিত হলেন যে, এটিই সেই প্রকৃত ঘটনা যার জন্য হযরত মসীহ্ মওউদ (আঃ) স্বয়ং কিছুকাল থেকে জামাতকে প্রস্তুত করছিলেন আর এ বিষয়ে ইলহামও হচ্ছিল। ১৯০৮ সনের ২০শে মে’ তাঁর উপর ইলহাম হয় ‘আর্‌ রাহীলু সুম্মার রাহীল ওয়াল মওতো করীব’ অর্থাৎ পরপারে যাত্রার সময় এসে গেছে, হ্যাঁ! যাত্রার সময় এসে গেছে আর মৃত্যু সন্নিকটবর্তী। জামাতের সদস্যরা যখন নিশ্চিৎ হলেন যে, একথা সত্য, বর্ণনাকারী বলেন, মাগরিব নামাযের সময় কাদিয়ানের মসজিদে মোবারকের ছাদে আহাজারি ও ক্রন্দনের রোল পড়ে যায় কিন্তু একই সময়ে বিরুদ্ধবাদীদের নির্লজ্জ আচরণও ছিল চরম পর্যায়ে। লাহোরে আহ্‌মদীয়া বিল্ডিং এর পাশে যেখানে তাঁর পবিত্র মরদেহ রাখা হয়েছিল বিরুদ্ধবাদীরা শহরের উশৃংখল লোকদের সেখানে সমবেত করে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে আর গান গায়; বাজে আচরণ ও নির্লজ্জ ব্যবহারে তারা ভদ্রতার সকল সীমা ছাড়িয়ে যায়; উশৃংখল লোকদের দ্বারা এমনটি হওয়া সম্ভব কিন্তু সংকীর্ণমনা ও নাম সর্বস্ব পত্র-পত্রিকাও তাঁর মৃত্যুতে আনন্দ উল্লাস করে নিজেদের হীনতার পরিচয় দিয়েছে এবং এ মনোভাব ব্যক্ত করেছে যে, মির্যা সাহেবের মৃত্যুর পর এখন এ জামা‘ত (নাউযুবিল্লাহ্) ধ্বংস হয়ে যাবে। কিন্তু সে সকল অপলাপকারীদের জানা ছিলনা যে, এটি তাদের ভ্রান্তি, দুনিয়ার কীটদের এটি নোংরা বাসনা। এটি ছিল তাদের ভ্রান্তি, খোদাতা’লা যে নিজ প্রেরিতদের জন্য আত্মাভিমান রাখেন সে বিষয়ে তারা অনবহিত। তাদের বিবেকের উপর পর্দা পড়েছিল, তাদের চোখও ছিল অন্ধ; যারা জানত না যে, এ ব্যক্তি! যিনি আজ এ পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন, যিনি নিজ মনিব ও অনুসরণীয় নেতা হযরত মুহাম্মদ মুস্তাফা (সাঃ)-এর চৌদ্দশ’ বছর পূর্বের ভবিষ্যদ্বাণীর পরিপূরণস্থল, তিনি মু’মিনদের সেই জামাত প্রতিষ্ঠা করেছেন যাদের সম্পর্কে আল্লাহ্‌তা’লা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, আমি এমন লোকদের ভীতিপূর্ণ অবস্থাকে শান্তি ও নিরাপত্তায় বদলে দিই এবং স্বীয় সাহায্য ও সমর্থনে তাদের ভূষিত করি। আল্লাহ্‌তা’লা মহানবী (সাঃ)-এর মাধ্যমে প্রকৃত মু’মিনদের এই সুসংবাদ দিয়েছিলেন যে, ‘মসীহ্ ও মাহ্দীর পৃথিবী থেকে বিদায়ের পর শত্রুদের আনন্দ-উল্লাস হবে ক্ষণস্থায়ী এবং আল্লাহ্‌তা’লা তাঁর কৃপা ও অনুগ্রহের চাদরে এই মসীহ্ ও মাহ্দীর ভক্তদের আচ্ছাদিত করবেন। হযরত হোযায়ফা হতে বর্র্ণিত এক হাদীসে মহানবী (সাঃ) নিজ যুগ হতে আরম্ভ করে আখারীন পর্যন্ত যুগের চিত্র অংকন করে বলেন,

“তিনি {হযরত হোযায়ফা (রা:)} বলেন, ‘হযরত রসূলে করীম (সাঃ) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে নবুয়্যত ততদিন পর্যন্ত বর্তমান থাকবে যতদিন তা আল্লাহ্‌তা’লা চাইবেন। এরপর আল্লাহ্ তা উঠিয়ে নিবেন। এরপর নবুয়্যতের পদ্ধতিতে খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হবে এবং তা ততদিন বিদ্যমান থাকবে যতদিন আল্লাহ্ চাইবেন। এরপর আল্লাহ্ তা উঠিয়ে নিবেন। এরপর উৎপীড়নের রাজত্ব কায়েম হবে। এটি ততদিন থাকবে যতদিন আল্লাহ্ চাইবেন। এরপর আল্লাহ্ তা উঠিয়ে নিবেন। এরপর জরবদস্তিমূলক সাম্রাজ্য কায়েম হবে এবং এটি ততদিন থাকবে যতদিন আল্লাহ্ চাইবেন। এরপর আল্লাহ্ তা উঠিয়ে নিবেন। এরপর নবুয়্যতের পদ্ধতিতে পুনরায় খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হবে। এরপর তিনি (সাঃ) নীরব হয়ে গেলেন।”

সুতরাং মু’মিনদের উদ্দেশ্যে এটি তাঁর সান্তনাবাণী ছিল, সেই সমস্ত মু’মিনদের জন্য, যাঁরা মহানবী (সাঃ)-এর প্রেমিকের জামাতে অন্তর্ভূক্ত হবার ছিল। মসীহ্ ও মাহদীর অনুসারীদের জন্য আল্লাহ্‌তা’লার দয়া উতলে উঠবে আর শত্রু যতই ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করুক, যতই আনন্দের বাদ্য বাজাক, ঢোল পিটাক, এই চিরস্থায়ী ‘খিলাফত আলা মিনহাজিন নবুয়ত’ মসীহ্‌র অনুসারীদের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে গেছে যা প্রত্যেক ভীতির সময়ে তাদেরকে নিরাপত্তার শুভসংবাদ দিতে থাকবে। আর এটি আল্লাহ্‌তা’লার তকদীর এবং এমন তকদীর যা অটল যা প্রকৃত মু’মিনদের নিয়তি। নীচমনা কিছু লোক, কতক বখাটে যারা নিজেদেরকে বড় জ্ঞানী ভাবে, তারা এই তকদীরকে পরিবর্তন করতে পারবে না।

হযরত মসীহ্ মওউদ (আঃ) অত্যন্ত স্পষ্টভাষায় আল্ ওসীয়্যত পুস্তিকায় এ বিষয় ব্যাখ্যা করেছেন এবং জামাতকে সান্তনা দিয়েছেন। তিনি (আঃ) জানতেন, যেভাবে নবীদের বিরুদ্ধবাদীদের চলমান রীতি এটি যে, তাঁদের (নবীগণের) মৃত্যুর পর বিরোধীরা মনে করে যে, এরা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত। বিরুদ্ধবাদীরা ও মুনাফিকরা এই জামাত কিভাবে টুকরো টুকরো হয় সে দৃশ্য দেখার জন্য উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষারত থাকে। কিন্তু সেই খোদা যিনি স্বীয় নবীদের পৃথিবীতে পাঠিয়ে থাকেন তিনি আপন শক্তি প্রদর্শন করেন। আর সেই খোদা যিনি সর্বশ্রেষ্ঠ রসূল এবং খাতামুল আম্বিয়া (সাঃ)-কে বিশ্বে পাঠিয়েছিলেন, এ ঘোষণাও করিয়েছিলেন যে, তাঁর (সাঃ) শরিয়ত চিরস্থায়ী শরিয়ত। তাঁর মৃত্যুর পর উম্মতের উপর কতক বিপদ অবশ্যই আসবে কিন্তু উল্লেখিত হাদীসের আলোকেও স্পষ্ট যে, মুহাম্মদী মসীহ্‌র আগমনের পর অবশেষে ইসলামের বিজয়ের এক নতুন অধ্যায়ের সুচনা হবে এবং তা কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। বিরোধিতা যদিও হবে কিন্তু পথের ধুলার মতই দেখতে দেখতে তা অদৃশ্য হয়ে যাবে। সুতরাং হযরত মসীহ্ মওউদ (আঃ) খোদা প্রদত্ত জ্ঞানের আলোকে সান্তনা দিয়েছেন যে, বিরুদ্ধবাদীরা যখন হাসি-ঠাট্টা করে তখন চিন্তিত হবেনা। আল্ ওসীয়্যত পুস্তিকায় জামাতকে সান্তনা দিয়ে তিনি (আ:) বলেন,

‘আর এটা খোদাতা’লার সুন্নত এবং য���ন থেকে তিনি পৃথিবীতে মানব সৃষ্টি করেছেন, তখন থেকে সর্বদাই তিনি এ সুন্নত প্রকাশ করে আসছেন যে, তিনি তাঁর নবী রসুলগণকে সাহায্য করে থাকেন এবং তাঁদের জয়যুক্ত করেন। এ সম্ব���্ধে তিনি বলেন: كَتَبَ اللَّهُ لَأَغْلِبَنَّ أَنَا وَرُسُلِي (সূরা মুজাদালা: ২২)। ‘গালাবা’ শব্দের অর্থ হলো-, খোদার ‘হুজ্জত’ বা অকাট্য প্রমাণ পৃথিবীতে পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া যা রসুল ও নবীগণের লক্ষ্য হয়ে থাকে এবং কেউ যেন এর মোকাবিলা করতে সক্ষম না হয়, তদনুসারে খোদাতা’লা প্রবল ‘নিদর্শনসমূহ’ দ্বারা তাদের (অর্থাৎ নবীদের) সত্যতা প্রকাশ করেন এবং যে সাধুতা তাঁরা পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করতে চান, খোদাতা’লা তার বীজ তাঁদের হাতেই বপন করেন। কিন্তু তিনি তাঁদের হাতে এর পূর্ণতা দান করেন না বরং এমনই সময়ে তাঁদেরকে মৃত্যু দেন, যা বাহ্যত এক প্রকার ব্যর্থতার আশংকা নিজের ভেতর রাখে এবং তিনি বিরুদ্ধবাদীদেরকে হাসি ঠাট্টা-বিদ্রুপ ও উপহাস করার সুযোগ দেন। আর তারা ঠাট্টা-বিদ্রুপ প্রদর্শন করে নিলে পর, তিনি আপন কুদরতের অপর হস্ত প্রদর্শন করেন এবং এমন উপকরণ সৃষ্টি করেন যদ্বারা সেই উদ্দেশ্যসমূহ, যার কতক অসম্পূর্ণ রয়ে গিয়েছিল, তা-ও পূর্ণতা লাভ করে।

সংক্ষেপে, খোদাতা’লা দুই প্রকারের কুদরত (শক্তি ও মহিমা) প্রকাশ করেন। প্রথমতঃ স্বয়ং নবীগণের দ্বারা তাঁর শক্তির এক হস্ত প্রদর্শন করেন। দ্বিতীয়তঃ অপর শক্তি বা মহিমা এরূপ সময়ে প্রদর্শন করেন, যখন নবীর মৃত্যুর পর বিপদাবলী উপস্থিত হয় এবং শত্রুপক্ষ শক্তিশালী হয়ে উঠে এবং মনে করে নবীর মিশন এখন ব্যর্থ হয়ে গিয়েছে; তখন তাদের এই প্রত্যয়ও জন্মে যে, এ জামা’ত ধরাপৃষ্ঠ থেকে এখন বিলুপ্ত হয়ে যাবে; জামা’তের লোকজনও উৎকন্ঠিত হয়ে উঠে, এমনকি তাদের কোমর ভেঙ্গে পড়ে আর কোন কোন দুর্ভাগা মুরতাদ হয়ে যায়। খোদাতা’লা তখন দ্বিতীয়বার আপন মহাশক্তি প্রদর্শন করেন এবং পতনোন্মুখ জামা’তকে রক্ষা করেন। সুতরাং যারা শেষ পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করেন, খোদাতা’লার এই নিদর্শন তারা প্রত্যক্ষ করেন। যেমনটি হযরত আবুবকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর সময় হয়েছিল। মহানবী (সাঃ)-এর মৃত্যুকে যখন এক প্রকার অকালমৃত্যু মনে করা হয়েছিল; বহু মরুবাসী অজ্ঞ মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল এবং সাহাবাগণও শোকে উম্মাদপ্রায় হয়ে পড়েছিলেন, তখন খোদাতা’লা হযরত আবুবকর সিদ্দীক (রাঃ)-কে দাঁড় করিয়ে পুনর্বার তাঁর শক্তি ও কুদরতের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। এভাবে তিনি ইসলামকে বিলুপ্তির পথ হতে রক্ষা করেন এবং وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَى لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُمْ مِنْ بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْناً প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেন যা তিনি পূর্বেই দিয়েছিলেন; অর্থাৎ- “ভয়ভীতির পর আমি তাদেরকে আবার সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করব (সূরা নূর: ৫৬) ”।

তিনি (আ:) তাঁর জামাতকে উদ্দেশ্য করে বলেন,

“অতএব হে বন্ধুগণ! যেহেতু আদিকাল হতে আল্লাহ্‌তা’লার বিধান এটিই যে, তিনি দু’টি শক্তি প্রদর্শন করেন, যেন বিরুদ্ধবাদীদের দু’টি বৃথা আস্ফালনকে ব্যর্থতায় পর্যবসিত করে দেখান। সুতরাং এখন এটা সম্ভবপর নয় যে, খোদাতা’লা তাঁর চিরন্তন নিয়ম পরিহার করবেন। এজন্য তোমাদেরকে আমি যে কথা বলেছি তাতে তোমরা দুঃখিত ও চিন্তিত হয়ো না। তোমাদের চিত্ত যেন উৎকন্ঠিত না হয়। কারণ তোমাদের জন্য দ্বিতীয় কুদরতও দেখা প্রয়োজন এবং এর আগমন তোমাদের জন্য শ্রেয়। কেননা, তা স্থায়ী, যার ধারাবাহিকতা কিয়ামত পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন হবে না। সেই দ্বিতীয় কুদরত আমি না যাওয়া পর্যন্ত আসতে পারে না। কিন্তু আমি যখন চলে যাব, তখন তোমাদের জন্য খোদা সেই ‘দ্বিতীয় কুদরত’ প্রেরণ করবেন যা চিরকাল তোমাদের সঙ্গে থাকবে; যেহেতু বারাহীনে আহ্‌মদীয়া গ্রন্থে খোদার প্রতিশ্রুতি রয়েছে এবং সেই প্রতিশ্রুতি আমার নিজের সম্বন্ধে নয় বরং তা তোমাদের সম্বন্ধে। খোদাতা’লা বলেছেনঃ

میں اس جماعت کو جو تیرے پیروں ہیں قیامت تک دوسروں پر غلبہ دونگا۔

{অর্থাৎ ‘আমি তোমার অনুসারী এ জামাতকে কিয়ামত পর্যন্ত অন্যদের উপর প্রাধান্য দিব’ -অনুবাদক।}

সুতরাং তোমাদের জন্য আমার বিচ্ছেদ দিবস উপস্থিত হওয়া অবশ্যম্ভাবী, যেন এরপর সেই যুগ আসতে পারে যা চিরস্থায়ী প্রতিশ্রুতির যুগ। আমাদের খোদা প্রতিশ্রুতি পালনকারী, বিশ্বস্ত এবং সত্যবাদী খোদা। যা কিছু তিনি অঙ্গীকার করেছেন, তা সবই তিনি তোমাদের দেখাবেন। বর্তমান যুগ যদিও পৃথিবীর শেষ যুগ আর বহু বিপদাপদও রয়েছে যা এখন অবতীর্ণ হওয়ার সময়, তথাপি সে সমস্ত বিষয় পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এ দুনিয়া অবশ্যই কায়েম থাকবে, যার সম্পর্কে খোদা সংবাদ দিয়েছেন। আমি খোদার পক্ষ হতে এক প্রকার কুদরত স্বরূপ আবির্ভূত হয়েছি। আমি খোদার এক মূর্তিমান কুদরত। আমার পর আরও কতিপয় ব্যক্তি আসবেন যাঁরা দ্বিতীয় কুদরতের বিকাশ হবেন।” (আল ওসীয়্যত পুস্তিকা, রূহানী খাযায়েন ২০তম খন্ড, পৃ: ৩০৫-৩০৬)

আয়াতের একটি অংশ আমি উদ্ধৃতিতে পড়েছি পুরো আয়াত যাকে আয়াতে ইস্তেখলাফ বলা হয়ে থাকে তা এরূপ:

وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ وَلَيُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِينَهُمُ الَّذِي ارْتَضَى لَهُمْ وَلَيُبَدِّلَنَّهُمْ مِنْ بَعْدِ خَوْفِهِمْ أَمْناً يَعْبُدُونَنِي لا يُشْرِكُونَ بِي شَيْئاً وَمَنْ كَفَرَ بَعْدَ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ

অর্থাৎ, তোমাদের মাঝে যারা ঈমান আনে ও সৎকাজ করে আল্লাহ্ তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তিনি অবশ্যই পৃথিবীতে তাদের খলীফা বানাবেন, যেভাবে তিনি তাদের পূর্ববর্তীদের খলীফা বানিয়েছিলেন; এবং অবশ্যই তিনি তাদের জন্য তাদের ধর্মকে সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করবেন যা তিনি তাদের জন্য মনোনীত করেছেন, এবং তাদের ভয়-ভীতির অবস্থার পর একে তিনি তাদের জন্য নিরাপত্তায় পরিবর্তন করবেন; তারা আমার ইবাদত করবে, আমার সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না। এরপর যারা অস্বীকার করবে, তারাই হবে দুষ্কৃতকারী। (সূরা আন-নূর: ৫৬)

এ আয়াত মু’মিনদের জন্য একটি মহান শুভ সংবাদ এবং হৃদয়ের প্রশান্তির জন্য এমনই এক মহৌষধ যার জন্য খোদাতা’লার কৃতজ্ঞতা যতটাই প্রকাশ করা হোক না কেন তা যথেষ্ট হবেনা কিন্তু এটি চিন্তার কারণও বটে। আল্লাহ্‌তা’লা বলেন, আমার এ প্রতিশ্রুতি মু’মিনদের সাথে, এমন লোকদের সাথে যারা ঈমানে দৃঢ়, নামায কায়েম করে, এবং যাকাত প্রদান করে; অর্থাৎ খোদার সকল অধিকার তাঁকে প্রদানকারী। বিভিন্ন স্থানে খোদাতা’লা ঈমানের যে ব্যাখ্যা করেছেন সেগুলোর প্রথমটি হলো অদৃশ্যের উপর ঈমান।

এই ঈমান যদি পরিপূর্ণ হয় তবেই মানুষ খোদাতা’লার বান্দা আখ্যায়িত হতে পারবে। তবেই এমন ব্যক্তির ভালবাসা খোদার সন্তুষ্টির খাতিরে হবে। খোদার ভয়ে এমন মু’মিনদের হৃদয় ভীত ও ত্রস্ত থাকবে আর তারা খোদাভীতির পথে বিচরণকারী হবে আর পুরো আনুগত্যের সাথে আল্লাহ্ ও তাঁর আদেশ মান্যকারী হবে। আল্লাহ্‌তা’লা আবারো বলেন, তারা ঈমানের সাথে সৎকর্ম সম্পাদনকারী হবে। কেবল নামায পড়াই যথেষ্ট নয়, শুধু রোযা রাখাও যথেষ্ট নয়, নিছক যাকাত দেয়াই যথেষ্ট নয়, হজ্জ্ব করাই সবকিছু নয় বরং আল্লাহ্‌তা’লা যেসব সৎকর্মের প্রতি পবিত্র কুরআনে দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়েছেন তা সম্পাদনও আবশ্যক। ঈমান ও সৎকর্ম একটি অপরটির পরিপূরক। ঈমান ছাড়া কর্ম কোন কাজের নয় একই ভাবে সৎকর্ম ছাড়া ঈমান অসম্পূর্ণ। অতএব আল্লাহ্‌তা’লা খিলাফতের সাথে সম্পৃক্ত করে এমন এক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চান যা আল্লাহ্‌র অধিকার এবং একই সাথে মানুষের অধিকারও প্রদানকারী হবে।

হযরত মসীহ্ মওউদ (আঃ) ঈমান ও সৎকর্ম সম্পর্কে বলেন:

‘কুরআন শরীফে আল্লাহ্‌তা’লা ঈমানের সাথে সৎকর্মকে সংযুক্ত করেছেন। আমলে সালেহ্ বলতে সে কর্মকে বুঝায় যাতে অনু পরিমানও ত্রুটি থাকবে না। স্মরণ রাখবে! মানুষের কর্মের উপর চোর সদা হামলা করে; এর অর্থ কি? এর অর্থ হলো লোক দেখানো, মানুষ প্রদর্শনের জন্য যখন কোন কাজ করে, আত্মশ্লাঘা অর্থাৎ কাজ করে মনে মনে খুশী হয় ফলে বিভিন্ন প্রকারের অপকর্ম ও পাপ তার দ্বারা সাধিত হতে থাকে, যার ফলে তার কর্ম ভেস্তে যায়। এমন কর্মকেই সৎকর্ম বলা হয় যাতে অন্যায় অহংকার ও লোক দেখানো মনোভাব থাকবেনা আর মানবাধিকার লেশমাত্রও খর্ব হবে না। সৎকর্মের ফলে পরকালে যেভাবে মুক্তি লাভ হবে এ পৃথিবীতেও তেমনিভাবে সৎকর্মের ফলে রক্ষা পাবে। গৃহে যদি সৎকর্মশীল একজন ব্যক্তিও থাকেন তাহলে পুরো পরিবার রক্ষা পায়। ভালভাবে বুঝে নাও, তোমাদের মাঝে সৎকর্ম যতক্ষণ না থাকবে শুধু ঈমান আনা কোন উপকারে আসবে না। এরপর বলেন, আমাদের নিজেদের বানানো বা মনগড়া কাজের নাম সৎকর্ম নয়। ব্যক্তি স্বয়ং আমলে সালেহ্ বা সৎকর্মের ব্যাখ্যা করার অধিকার রাখে না। সৎকর্ম মানুষের ব্যক্তিগত পছন্দ বা সিদ্ধান্তের নাম নয়। প্রকৃতপক্ষে আমলে সালেহ্ এমন কর্মকে বলা হয় যার মাঝে কোন ধরনের ত্রুটি থাকে না। কেননা সালেহ্ শব্দটি ফাসাদের বিপরীত অর্থে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণ স্বরূপ যে খাবার কাঁচা বা পঁচা ও নিকৃষ্ট মানের নয় বরং তাৎক্ষণিকভাবে দেহের অংশ হয়ে যাওয়ার মত; এমন খাবারই তৈয়্যব আখ্যায়িত হয়। তেমনিভাবে আমলে সালেহ্’র মাঝেও কোন প্রকার ত্রুটি থাকা উচিত নয় অর্থাৎ আল্লাহ্‌তা’লার হুকুম ও মুহাম্মদ (সাঃ)-এর সুন্নত অনুযায়ী যেন হয় আর এতে যেন কোন প্রকারের শৈথিল্য, আত্মশ্লাঘা, লোক দেখানো মনোভাব না থাকে আবার যেন তা নিজের মনগড়াও না হয়। কর্ম যখন এমন হয় তখন একে আমলে সালেহ্ বলা হয় আর এটি একটি অমূল্য রত্ন অর্থাৎ দূর্লভ এক জিনিস এবং অত্যন্ত মূল্যবান বস্তু অর্থাৎ প্রত্যেক মু’মিনের এ কর্মপন্থা অবলম্বন করা উচিত।’

সুতরাং এমন পরিবর্তন যারা আনয়ন করবেন তাদের সাথে আল্লাহ্‌তা’লার প্রতিশ্রুতি হলো, এরা খিলাফতের কল্যাণ পেতে থাকবেন। এমন সব লোকই খিলাফতের সুরক্ষাকারী হবেন এবং খিলাফত তাদের সুরক্ষাকারী হবে। আর আল্লাহ্‌র দ্বীনকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরলেই এই কল্যাণ ও সুরক্ষার দৃষ্টান্ত পরিদৃষ্ট হবে অর্থাৎ যারা মনগড়া পথে চলতে চায় এই প্রতিশ্রুতি তাদের জন্য নয়। আজ উম্মতে মুসলিমায় খিলাফত প্রতিষ্ঠার কতইনা চেষ্টা চলছে কিন্তু তা ফলপ্রদ হতে পারে না এবং কখনই হতে পারে না। কেননা এরা আল্লাহ্‌র পছন্দকে বাদ দিয়ে নিজেদের মনগড়া ধর্ম প্রবর্তন করতে চায়। আল্লাহ্‌র প্রেরিত খিলাফতের আনুগত্য না করে মানুষের বানানো খিলাফত প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তারা জানে যে, তারা ভুল করছে তথাপি আল্লাহ্‌তা’লার সিদ্ধান্ত মানার জন্য তারা প্রস্তুত নয়। কিন্তু খোদাতা’লা আয়াতে ইস্তেখলাফে জামা‘তকে যে সান্তনা দিয়েছেন তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা হযরত মসীহ্ মওউদ (আঃ) করেছেন। আজ আহ্‌মদীয়া জামা’তের ইতিহাস বিশেষ করে আহ্‌মদীয়া খিলাফতের শতবর্ষের ইতিহাস প্রত্যেক আহ্‌মদীকে আয়াতে ইস্তেখলাফের প্রকৃত জ্ঞান ও তাৎপর্য শিখিয়েছে এবং প্রত্যেক আহ্‌মদীকে বাস্তবে আল্লাহ্‌তা’লার নিয়ামতবারির পরিপূরণস্থল বানিয়েছে। সুতরাং আজ এটি প্রত্যেক আহ্‌মদীর কাছে স্পষ্ট আর সুস্পষ্ট হওয়া উচিত যে, এর প্রত্যক্ষকারী শুধু তারাই হতে পারে যারা পরিপূর্ণ ঈমানের অধিকারী হবার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে এবং সৎকর্মশীল। বাইরের লোকেরাও এখন আমাদের অবস্থা দেখে নির্দ্বিধায় এ অভিব্যক্তি প্রকাশে বাধ্য হচ্ছে যে, ভীতিপূর্ণ অবস্থা শান্তি ও নিরাপত্তায় পরিবর্তনের দৃশ্য যদি এ যুগে দেখতে হয় তাহলে আহ্‌মদীয়া জামা’তকে দেখে নাও। অতএব, কত সৌভাগ্যবান আমরা যারা হযরত মসীহ্ মওউদ (আঃ)-এর জামাতে অন্তর্ভূক্ত হয়ে এই নিয়ামত লাভের যোগ্য হয়েছি। সুতরাং এই আয়াত যাকে আয়াতে ইস্তেখলাফ বলা হয় আর যার কিছু অংশের উল্ল্যেখ আমরা হযরত মসীহ্ মওউদ (আঃ)-এর উদ্ধৃতি থেকে শুনেছি, যা আমাদের মনোযোগ এ দিকে আকর্ষণ করে যে, নিজ ঈমান ও কর্মের প্রতি দৃষ্টি দাও। আমি বলছিলাম- এরা বা অ-আহ্‌মদীরাও চায় যে, তাদের মাঝে খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হোক, তারা এর আবশ্যকতা উপলব্ধি করে; কিন্তু এদের মাঝে এটি প্রতিষ্ঠিত হতেই পারে না কেননা, তারা মনগড়াভাবে এটিকে সংজ্ঞায়িত করে। আল্লাহ্‌র প্রতিষ্ঠিত খিলাফতকে গ্রহণ না করে এরা নিজেদের মনগড়া খিলাফত চাপিয়ে দিতে চায়। অতএব তাদের ভীতির অবস্থা শান্তি ও নিরাপত্তায় পরিবর্তন হওয়া এবং তাদের মাঝে খিলাফত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হওয়া কি করে সম্ভব? এটি আল্লাহ্‌তা’লার পুরস্কার। আল্লাহ্‌তা’লা এই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মু’মিনদের ভীতিপূর্ণ অবস্থাকে যেভাবে শান্তি ও নিরাপত্তায় বদলে দেন তেমনিভাবে তাঁর মনোনীত খলীফার হৃদয় থেকে সব ধরনের জাগতিক ভীতি দূর করে ভয়ের মোকাবিলা করার শক্তি প্রদান করেন। প্রত্যেক কঠিন মূহুর্তে তিনি স্বীয় অনুগ্রহে আশ্বাসবাণী শুনান, যেন যুগ খলীফা জামা‘তকে সান্তনা দিতে পারেন। সুতরাং জাগতিক পরিকল্পনা কি ঐশী পরিকল্পনার মোকাবিলা করতে পারে? আল্লাহ্‌তা’লা এই আয়াতে পুনরায় নিশ্চয়তা দিচ্ছেন যে, আল্লাহ্‌তা’লা তোমাদের ভীতির অবস্থা শান্তিতে পরিবর্তন করবেন। যুগ খলীফাকে অবশ্যই পথ প্রদর্শন করবেন, তাঁর ইবাদতের দিকে অবশ্যই মনোযোগ নিবদ্ধ হতে থাকবে এবং কখনই তিনি জাগতিক ভয়-ভীতি ও চাওয়া-পাওয়াকে আল্লাহ্‌র অংশীদার হিসাবে দাঁড় করাবেন না। তিনি কখনই অকৃতজ্ঞতা দেখাবেন না আর আল্লাহ্‌তা’লার সাহায্য ও সমর্থন এ বিষয়ের সাক্ষী হবে। মানবিক দুর্বলতাবশতঃ যুগ খলীফার দ্বারা এমন কোন কাজ যদি হয়েও যায় তাহলে আল্লাহ্‌তা’লা স্বয়ং যুগ খলীফাকে সঠিক পথে পরিচালিত করবেন। খোদাতা’লা স্বীয় কৃপা ও নিজ মনোনয়নের কারণে এমতাবস্থায়ও উত্তম ফলাফল প্রকাশ করবেন তবে জামাতের সদস্যদের ইবাদতের প্রতি মনোযোগী হতে হবে আর শির্কের সূক্ষাতিসূক্ষ্ম রূপকেও এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে এবং আল্লাহ্‌তা’লার এই নিয়ামতের মূল্যায়ন করে সর্বদা তাঁর কৃতজ্ঞ বান্দা হবার চেষ্টা করতে হবে। আমি বলছিলাম জামাতের সদস্যদেরও এই নিয়ামতের মূল্যায়ন করে তাঁর কৃতজ্ঞ বান্দা হবার চেষ্টা করা উচিত। এমনটি যদি হয় তাহলে নিশ্চিত থাকতে পারেন যে, খোদা এমন লোকদের সামনেও থাকবেন আর পিছনেও, ডানেও থাকবেন আর বামেও এবং এমন কেউ নেই যে তাদের কোন ক্ষতি সাধন করতে পারে। সুতরাং এই অবস্থা আমরা, খোদার প্রতিষ্ঠিত জামা’তে তখনও দেখেছি, যখন হযরত মসীহ্ মওউদ (আঃ)-এর মৃত্যুর পর জামাতের উপর এমন এক অবস্থা ছেয়ে যায় যা সকল হৃদয়কে প্রচন্ডভাবে প্রকম্পিত করে। প্রত্যেক আহ্‌মদীকে বিচলিত করে তোলে। যেমন আমি পূর্বেই বলেছি, শত্রুরা আনন্দে ঢোল পিটিয়েছে যে, হযরত মসীহ্ মওউদ (আঃ)-এর মৃত্যুর পর এই জামাত এখন নিঃশেষ হতে চললো। বিরুদ্ধবাদীদের বেহুদা ও আজেবাজে সব কথাবার্তার কতক এখানে উপস্থাপন করছি যেন নতুন প্রজন্ম এবং নবাগতরাও বুঝতে পারে যে, বিরুদ্ধবাদীরা জামাতের মধ্যে বিশৃংখলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কিভাবে গুজব রটিয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ, পীর জামাত আলী শাহ’র অনুসারীরা এই অপপ্রচার করেছে যে, অগণিত মির্যায়ী তৌবা করে ফিরে আসছে অর্থাৎ আহ্‌মদীয়াত ছেড়ে তাদের তথাকথিত ইসলাম গ্রহণ করছে’ অথচ আহ্‌মদীয়াতই প্রকৃত ইসলাম। এগুলো ছিল তাদের অপপ্রচার। বর্তমানেও আমাদের বিরোধী, হতভাগা মৌলভীরা এ ধরনের কথাই বলে বেড়ায় কিন্তু এসব কেবল তাদের অলীক বাসনা; এটি না পূর্বে পূরণ হয়েছে আর না আজ হবে। এখন তো জামাতের উন্নতি দেখে বেচারা বিরুদ্ধবাদীরা এমনভাবে কান্ডজ্ঞান হারিয়ে বসেছে যে, একদিকে বিবৃতি দেয় ‘আমরা আহ্‌মদীয়াতকে শেষ করে দিয়��ছি’ ��পরদিকে ইসলামী রাষ্ট্রগুলোর উপর চাপ দেয় যে, কাদিয়ানিদের অগ্রযাত্রাকে প্রতিহত করুন, অন্যথায় এরা সমস্ত উম্মতে মুসলেমাকে বিপথগামী করবে।’ যাহোক, এ হলো তাদের মনোভাব। হযরত মসীহ্ মওউদ (আঃ)-এর মৃত্যুর পর কতভাবেই না তারা তাদের মনের জ্বালা মিটিয়েছে। এসম্পর্কেও দু’একটি ঘটনা শুনুন। মৌলভী সানাউল্লাহ্ লিখেছে,

মির্যার (হযরত গোলাম আহমদ কাদিয়ানী মসীহ্ মওউদ (আ:)-অনুবাদক) সমস্ত পুস্তক সমূদ্রে নয়, চুলোয় নিক্ষেপ করুন, শুধু এটিই যথেষ্ট নয় বরং মুসলিম বা অমুসলিম কোন ঐতিহাসিক, ভারত বা ইসলামের ইতিহাসে ভবিষ্যতে তার নামও যেন উল্ল্যেখ না করে।’

খাজা হাসান নিযামী সাহেব, বাহ্যত যিনি একজন সুস্থ্য চিন্তার অধিকারী ও আত্মমগ্ন বলে প্রতীয়মান হতেন, তিনি আহ্‌মদীদের পরামর্শ দিয়ে লিখেন,

‘তারা যেন মির্যা সাহেবের মসীহ্ ও মাহদী হবার দাবীকে স্পষ্টভাবে অস্বীকার করে, অন্যথায় মির্যা সাহেবের মত বুদ্ধিমান এবং সুশৃংখল ব্যক্তিত্বের অবর্তমানে আহ্‌মদী জামাত সম্ভবত বিরুদ্ধবাদীদের আন্দোলনকে সহ্য করতে পারবে না এবং তাদের ঐক্য হারিয়ে যাবে।’

অত্যন্ত নম্রভাষায় ও অতি সম্মানের সাথে নাম নিয়ে কথা বলেছেন কিন্তু কথা একই, আহ্‌মদীরা মসীহ্ মওউদ (আঃ)-এর হাতে কৃত বয়’আত থেকে যেন সরে আসে আর তাঁর দাবীকে যেন অস্বীকার করে। বস্তুত তখন অবস্থা এমনই ছিল। যাদের উদ্দেশ্য অসৎ তারাতো বাজে বকছিলই কিন্তু আপাতঃ সুস্থ্য চিন্তাধারার অধিকারীরাও হৃদয়ের সুপ্ত বিদ্বেষ প্রকাশ করে দেয়। কিন্তু তাদের চিন্তাধারা যেহেতু পার্থিব জীবন পর্যন্তই সীমিত ছিল তাই ঐশী প্রতিশ্রুতির দিকে তাদের দৃষ্টি যায়নি আর যাবার কথাও নয়। তাদের পক্ষে খোদার মসীহ্‌র এই ঘোষণার মর্ম বুঝা কখনও সম্ভব ছিলনা যে, ‘আমি যখন চলে যাবো খোদাতা’লা তোমাদেরকে দ্বিতীয় কুদরত প্রদর্শন করবেন।’ মুহাম্মদী মসীহ্‌র স্বপক্ষে কত মহিমার সাথে খোদাতা’লার প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হয়েছে এক বিশাল জনগোষ্ঠী তা প্রত্যক্ষ করেছে। তাদের ঔদ্ধত্য এবং নীচ কামনা-বাসনাকে তাদের মুখে ছুঁড়ে মারা হয়েছে। যেসব পুস্তকাদি জ্বালিয়ে দিতে প্ররোচনা দেয়া হচ্ছিল তা পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনুদিত হয়ে আজ পুণ্যবাণদের পথনির্দেশনার মাধ্যম হচ্ছে। ইতিহাস থেকে যে ব্যক্তির নাম মিটিয়ে দেবার কথা চলছিল আজ তাঁর জয়ধ্বনি ইউরোপ, আফ্রিকা, এশিয়া এবং আমেরিকায় প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। হযরত মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী (আ:)-এর নাম, ছবি ও লিখনী ইথারের মাধ্যমে আজ পৃথিবীর সকল অঞ্চলে, প্রতিটি ঘরে পৌঁছুচ্ছে। যারা বলতো, বিরুদ্ধবাদীদের হট্টগোল আহ্‌মদীয়া জামা‘ত সহ্য করতে পারবে না, আজ তারা বেঁচে থাকলে দেখতো যে, চাপ সহ্য করতে না পারার তো প্রশ্নই উঠে না বরং আহ্‌মদীয়াতের নাম পৃথিবীর প্রতিটি শহরে পৌঁছে গেছে। পৃথিবীর সকল দেশে বিরুদ্ধবাদীরা আহ্‌মদীয়াতের নাম শোনামাত্রই পাশ কাটিয়ে পলায়ন করে, অবশ্য নোংরা ও অশোভন কথা তাদের কাছে প্রচুর শুনতে পাবেন। সৎসাহস থাকলে প্রত্যেক দেশের টিভি ও রেডিও চ্যানেল ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে জাতীয় টেলিভিশনে আহ্‌মদীদেরকে তাদের মতাদর্শ ও বিশ্বাস উপস্থাপনের অনুমতি ও সুযোগ প্রদান করুক। সরকার ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে নিজ দায়িত্ব পালন করুক এবং আহ্‌মদীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুক। ধর্মীয় বিষয়ে জোর-জবরদস্তির কোন সুযোগ নেই। মাশাআল্লাহ, প্রত্যেক বিবেকবান সাবালক ব্যক্তি নিজের ভালমন্দ বুঝে। সুতরাং তাদের ভয় কিসের? জোর করে কেউ কাউকে আহ্‌মদী বানাতে পারবেনা। এই বিরুদ্ধবাদীরা এখন আমাদের চ্যানেল MTA-কে বন্ধ করে দেবার দাবী তুলছে এবং কয়েক জায়গায় চেষ্টাও করা হয়েছে, কিন্তু আল্লাহ্‌তা’লা এমন উপকরণ তৈরি করেন, এক স্থানে দমিয়ে রাখার যদি চেষ্টা করা হয় তাহলে তা নতুন মহিমায় অন্যত্র আত্মপ্রকাশ করে। তাদের হৈ-হুল্লা জামাতের কিই-বা ক্ষতি করতে পারে? বর্তমানে তো MTA তাদেরকে ভীত-ত্রস্ত করে রেখেছে। এটি ঐশী প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হবার দৃশ্য। কেউ খোদাতা’লার সাথে যদি যুদ্ধ করতে চায় তবে করে দেখুক। পূর্বেও ওরা নিজেদের পরিণাম দেখে এসেছে আজও দেখে নিক। হযরত মসীহ্ মওউদ (আঃ)-এর ইন্তেকালের পর শত্রুরা সর্বপ্রকারে এবং সর্বশক্তি নিয়োজিত করে আহ্‌মদীয়াতরূপী এই চারাগাছকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে আর এলক্ষ্যে যাবতীয় অপকৌশল অবলম্বন করেছে। কিন্তু সেই খোদা, যিনি হযরত মসীহ্ মওউদ (আঃ)-কে ইলহাম করেছেন,

‘গারাসতু লাকা বেইয়াদী রাহ্‌মাতী ওয়া কুদরাতী’

অর্থাৎ আমি নিজ হাতে তোমার জন্য স্বীয় রহমত ও কুদরতের বৃক্ষ রোপন করেছি।

সুতরাং এটি শত্রুদের ভ্রান্তি ছিল যারা মনে করতো যে আহ্‌মদীয়াতের চারাগাছটি প্রাথমিক অবস্থায় আছে এবং হযরত মসীহ্ মওউদ (আঃ)-এরপর এটি ধ্বংস হয়ে যাবে। আল্লাহ্‌তা’লা বলেছেন, আমিই এ বৃক্ষ রোপণ করেছি। আমার রহমত ও কুদরতের এমন গাছ বপন করেছি যার অদৃষ্ট হলো ফুলে ফলে সুশোভিত হওয়া ও বেড়ে উঠা, যার শিকড় মাটিতে দৃঢ়ভাবে প্রথিত এবং শাখা-প্রশাখা গগনচুম্বি। আল্লাহ্‌তা’লার কাছ থেকে খবর পেয়ে হযরত মসীহ্ মওউদ (আঃ) যে দ্বিতীয় কুদরতের সুসংবাদ দিয়েছিলেন এবং একই সাথে এই ঘোষণাও করেছিলেন যে, তা স্থায়ী; সত্যিকার অর্থে আল্লাহ্‌তা’লার রহমতে রোপিত সেই বৃক্ষের ফল বহন ও স্বীয় কান্ডের উপর দৃঢ়ভাবে দন্ডায়মান হওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী ছিল। সেই বৃক্ষ যা খোদাতা’লা নিজ হাতে রোপন করেছিলেন গোটা বিশ্বের পুণ্যাত্মাদের নিজ স্নেহের ছায়ায় যার আশ্রয় দেবার ছিল এবং দিচ্ছে তা এসকল বামনদের পদাঘাতে মোটেও দোদুল্যমান হবার নয়। আল্লাহ্‌তা’লা হযরত মসীহ্ মওউদ (আঃ)-কে বলেছিলেন, আমি তোমার ও তোমার প্রিয়দের সাথে আছি। প্রত্যেক দিন অত্যন্ত মহিমার সাথে এই ইলহাম পূর্ণ হচ্ছে। (এ পর্যায়ে হুযূর বলেন, আপনারা নির্দ্বিধায় ধ্বনি উচ্চকিত করে নিজেদের আবেগ প্রকাশ করুন কিন্তু এখনও আমি অনেক কিছু বলবো তাই কিছুটা বিরতি দিয়ে ‘নারা’ লাগান। বিশেষভাবে কাদিয়ানবাসীরা যথেষ্ট আবেগাপ্লুত হয়ে আছেন)।

যাহোক, আমি বলছিলাম যে, হযরত মসীহ্ মওউদ (আঃ)-এর প্রতি আল্লাহ্‌তা’লার এই ইলহাম, ‘আমি তোমার ও তোমার প্রিয়দের সাথে আছি’ তা প্রত্যেক দিন অত্যন্ত মহিমার সাথে পূর্ণ হচ্ছে। হযরত মসীহ্ মওউদ (আঃ)-এর মৃত্যুতে এর প্রথম বিকাশ ঘটেছে। মু’মিনদের নিরাপত্তাকে নিশ্চিত করতে গিয়ে যখন আল্লাহ্‌তা’লা হযরত খলীফাতুল মসীহ্ আউয়াল (রা:)-এর হাতে পুরো জামাতকে ঐক্যবদ্ধ করে দিয়েছেন তখন অ-আহ্‌মদীদের ধারণা ছিল, অশীতিপর এক বুড়ো জামাতকে কিইবা সামলাবে? কার্জন গেজেট নামক একটি পত্রিকা লিখেছে,

‘মির্যাইদের হাতে এখন কি-ই বা বাকী আছে! তাদের মাথা কাটা পড়েছে। এক ব্যক্তি যে, তাদের ইমাম নিযুক্ত হয়েছে তাকে দিয়ে কিচ্ছু হবেনা; হ্যাঁ, সে কোন মসজিদে কুরআন শুনাতে পারবে।’

কিন্তু সেই ব্যক্তি! যার সম্পর্কে বলতো যে, তাঁকে দিয়ে কিছুই হবে না, অথচ সে কাজ তিনি নিশ্চিতভাবে সম্পাদন করেছেন যা তাদের কাছে ছিল গুরুত্বহীন অর্থাৎ কুরআন করীমের সুক্ষ্ম মা’রেফত ও তত্ত্বজ্ঞান বর্ণনা করা। আর এটিই মূলত: সে-ই কাজ যেজন্য আল্লাহ্‌তা’লা হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর দোয়া কবুল করে মহানবী (সাঃ)-কে প্রেরণ করেছেন, আর এই কাজের জন্যই আল্লাহ্‌তা’লা আখারীনদের মাঝে হযরত মসীহ্ মওউদ (আঃ)-কে প্রেরণ করেছেন এবং একই কাজের জন্য আল্লাহ্‌তা’লা জামাতের মধ্যে খিলাফত ব্যবস্থা প্রবর্তণ করেছেন। কিন্তু বস্তুবাদী চোখ মহান এ উদ্দেশ্যের বুঝবেটা কী? যাহোক, হযরত খলীফাতুল মসীহ্ আউয়াল (রাঃ) প্রতিউত্তরে বলেছিলেন,

‘খোদা এমনটিই করুন, আমি যেন তোমাদেরকে কুরআন শুনাতে পারি’।

বিরুদ্ধবাদীরা এমনকি কতক আপনজন; যাদের মধ্যে কপটতা ছিল, তারা ভাবতো, হযরত খলীফাতুল মসীহ্ আউয়াল বৃদ্ধ ও দুর্বল, তিনি জামা’তকে কীভাবে পরিচালনা করবেন! শত্রুরা মনে করতো, দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে জামা‘ত ধীরে ধীরে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। আর ঐসব মুনাফেক প্রকৃতির লোকেরা আপন খেয়ালে যারা নিজেদেরকে জামাতের খুঁটি মনে করতো তাদের ধারণা অনুযায়ী আঞ্জুমানই মসীহ্ মওউদ (আঃ)-এর প্রকৃত স্থলাভিষিক্ত, তাই এদের হাতেই সকল দায়িত্ব ন্যস্ত হওয়া উচিৎ। দ্বিমুখী এই আক্রমণ ও ফিৎনাকে হযরত খলীফাতুল মসীহ্ আউয়াল (রা:) এত দৃঢ়তার সাথে দমন করেন যা কেবল ঐশী খিলাফতই করতে পারে। খিলাফতের আসনে সমাসীন হয়েই সর্বপ্রথম যে বক্তব্য প্রদান করেছিলেন তার শেষাংশে তিনি বলেন,

‘তোমাদের আকর্ষণ যে দিকেই হোকনা কেন, তোমাদেরকে এখন থেকে আমার নির্দেশাবলী মানতেই হবে। যদি আমার এ কথা মানতে তোমরা প্রস্তুত থাক তাহলে আমি স্বেচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় এ বোঝা বহন করবো। বয়’আতের সে দশটি শর্ত অর্থাৎ হযরত মসীহ্ মওউদ (আঃ) কর্তৃক নির্ধারিত বয়’আতের শর্তগুলো অপরিবর্তিত থাকবে এর সাথে আমি বিশেষ করে কুরআন শেখা এবং যাকাতের ব্যবস্থা করা, জামা‘তের মধ্যে বক্তা বা আলেম-উলামা সৃষ্টি করা আর ঐসব নির্দেশ যা বিভিন্ন সময় আল্লাহ্‌তা’লা আমার হৃদয়ে সঞ্চার করবেন তা অন্তর্ভূক্ত করছি। সেই সাথে আমার ইচ্ছা ও আকাংখানুযায়ী ধর্মীয় শিক্ষা ও মাদ্রাসার শিক্ষাদান-পদ্ধতি চলতে থাকাও বাঞ্ছনীয়। এ বোঝা আমি কেবল আল্লাহ্‌তা’লার খাতিরেই বহন করবো যিনি বলেছেন,

وَلْتَكُنْ مِنْكُمْ أُمَّةٌ يَدْعُونَ إِلَى الْخَيْرِ

স্মরণ রেখ! ঐক্যের মাঝেই সকল কল্যাণ নিহিত, যাদের কোন নেতা নেই তারা মৃত।’ (সূরা আল্ ইমরান: ১০৫)

জামা‘তকে খন্ড-বিখন্ড দেখার যে স্বপ্ন অ-আহ্‌মদীদের ছিল, সে মনোবাঞ্ছা না ছিল পূর্ণ হবার, আর না তা হয়েছে; অবশ্য কতিপয় মুনাফেক ও তাদের হাতের ক্রীড়ণকদের পক্ষ থেকে অভ্যন্তরীণ আশংকা দেখা দিতে থাকে। হযরত খলীফাতুল মসীহ্ আউয়াল (রা:) এ বিষয়টি অবগত হবার পর গভীর প্রজ্ঞা ও বলিষ্ঠতার সাথে তা দমন করেন। এহেন এক পরিস্থিতিতে তিনি মসজিদে মুবারকে অত্যন্ত জ্বালাময়ী একটি বক্তৃতা প্রদান করেন। (বিরুদ্ধবাদীদের কথা শুনে) তিনি বলেন,

তোমরা তোমাদের ব্যবহারে আমাকে এতটা কষ্ট দিয়েছো যে, মসজিদের ঐ অংশে আমি দাঁড়াই নি যে অংশ তোমরা বানিয়েছ।

মসজিদে মুবারকের কিছু অংশ পরবর্তীতে সম্প্রসারিত করা হয়েছিল আর প্রথম অংশটি ছিল হযরত মসীহ্ মওউদ (আঃ)-এর যুগের। তিনি সেই অংশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন যা হযরত মসীহ্ মওউদ (আঃ)-এর যুগে নির্মিত। পরবর্তীতে যে অংশ জামাতের চাঁদায় নির্মিত হয়েছে তা হলো সম্প্রসারিত অংশ। তিনি বলেন, তোমরা আমাকে এত কষ্ট দিয়েছ যে, আমি মসজিদের ঐ অংশে দাড়াইনি যে অংশ তোমাদের বানানো বরং আমি আমার মির্যার মসজিদে দাঁড়িয়েছি।

তিনি আরও বলেন,

আমার সিদ্ধান্ত হলো, জামা‘ত এবং আঞ্জুমান উভয়-ই খলীফার আজ্ঞাবহ এবং এতদুভয়ই সেবক বা অধিনস্থ। আঞ্জুমান হলো উপদেষ্টা, তাই তাকে কাজে লাগানো খলীফার জন্য আবশ্যক।

তিনি আরও বলেন,

যে ব্যক্তি লিখেছে যে, খলীফার কাজ হলো শুধু বয়’আত গ্রহণ করা আর প্রকৃত কর্তা হলো আঞ্জুমান, তার তৌবা করা উচিত। খোদা আমাকে জানিয়েছেন, এ জামাতের কেউ যদি তোমাকে পরিত্যাগ করে মুরতাদ হয়ে যায় তবে তার পরিবর্তে আমি তোমাকে একটি জামাত দান করব।

তিনি আরো বলেন,

বলা হয়ে থাকে- খলীফার কাজ কেবল নামায বা জানাযা পড়ানো বা বিয়ের এলান করা ও বয়’আত গ্রহণ করা। এ কাজতো এক মোল্লাও করতে পারে, এর জন্য খলীফার কোন প্রয়োজন নেই; আর আমি এ ধরনের বয়’আতের উপর থুথুও ফেলি না। বয়’আত হলো পূর্ণ আনুগত্যের নাম, যাতে খলীফার কোন একটি নির্দেশকেও অমান্য করার প্রশ্ন থাকবেনা।

তাঁর এ বক্তৃতা এত প্রভাব বিস্তার করে যে, বর্ণনাকারীরা বলেন, বিভিন্ন জামাতের উপস্থিত শত শত লোক যাদের উপর বিরোধীরা নিজেদের প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছিল তারা বেদনায় ব্যাকুল হয়ে এমনভাবে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন আর মসজিদের মেঝেতে সেভাবে ছটফট করেন যেভাবে জলের মাছ ডাঙ্গায় উঠলে ছটফট করে। সুতরাং আহ্‌মদীদের ভীতির অবস্থাকে নিরাপত্তায় পরিবর্তনের এটিই ছিল প্রথম বিকাশ যা জামাতের সদস্যদের মাঝে দৃশ্যমান হয় আর যুগ খলীফার সত্ত্বায়ও তা অত্যন্ত মহিমার সাথে উদ্ভাসিত হয়। হযরত খলীফা আউয়াল (রাঃ) সর্ব প্রকার ভয়-ভীতির উর্ধ্বে থেকে ঘোষণা করলেন, কেউ যদি মুরতাদ হতে চায় তবে হোক। খোদাতা’লা এর পরিবর্তে আমাকে একটি জামাত দান করবেন। এক ব্যক্তি ফিরে গেলে একটি দল আসবে। অতএব তাঁর এ ঘোষণার ফলে একদিকে যেমন বিরোধীরা দমে গেলো, তেমনিভাবে নিষ্ঠাবান আহ্‌মদীদের সংশোধন এবং ঈমানের উন্নতির কারণ হলো, আবার ঐসব কপটের দলও কিছু সময়ের জন্য অবদমিত হয়ে রইলো আর জামাত উন্নতির সোপান অতিক্রম করে চললো; অবশেষে كُلُّ مَنْ عَلَيْهَا فَانٍ (সূরা আর্‌ রহ্‌মান: ২৭) অনুযায়ী ১৩ই মার্চ ১৯১৪ সালে তিনি তাঁর পরম বন্ধুর সাথে মিলিত হলেন।

খন পুনরায় জামাতে ভূমিকম্পের এক পরিস্থিতি দেখা দেয়। আঞ্জুমানের সেই সকল কর্ণধার হযরত খলীফাতুল মসীহ্ আউয়ালের ভয়ে যারা চুপ ছিল তারা আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠে আর অপচেষ্টা চালায় যেন খিলাফতের পরিবর্তে আঞ্জুমানকে সমস্ত কর্তৃত্ব সোপর্দ করা হয় আর আঞ্জুমান যেন সব বিষয়ের হর্তাকর্তা সেজে বসে। হযরত খলীফাতুল মসীহ্ আউয়ালের মৃত্যুতে নিষ্ঠাবান আহ্‌মদীরা শোকে মুহ্যমান হয়ে ঐশী শক্তির নুতন বিকাশের অপেক্ষায় দোয়ারত ছিলেন; কিন্তু এ সকল হর্তাকর্তারা যারা নিজেদেরকে বড় জ্ঞানী মনে করতো তারা ছিল আপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। হযরত মির্যা বশিরউদ্দীন মাহমুদ আহমদ (রা:)-কে তারা বুঝানোর চেষ্টা করলো কিন্তু তিনি একথার উপরই জোর দিলেন যে, জামা‘তের একজন খলীফা থাকা অপরিহার্য্য, শুধুমাত্র আঞ্জুমানের উপর নির্ভর করা যেতে পারে না; তিনি আরো বলেন, হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-ও একথাই বলেছেন। হযরত মির্যা বশিরউদ্দীন মাহমুদ আহমদ (রা:) তাদেরকে বললেন,

আপনারা যাঁর হাতে বয়’আত করবেন আমি এবং আমার পরিবার পুরো আন্তরিকতার সাথে তাঁরই হাতে বয়’আত করবো। আপনারা আমাকে ভয় করবেন না। খলীফা হবার কোন সাধ আমার নেই।

কিন্তু তথাকথিত এমন আলেমরা যারা নিজেদের অধিকতর জ্ঞানী মনে করতো তারা এই হঠকারিতায় অনড় রইল যে আঞ্জুমানই এর ন্যায্য উত্তরাধিকারী । পরিশেষে তারা এ হঠকারিতা পরিত্যাগে অস্বীকৃতি জানালে জামা‘তের বড় এক অংশ ‘নূর’ মসজিদে সমবেত হয় এবং ১৯১৪ সনের ১৪ই মার্চ দ্বিতীয় খলীফার নির্বাচন হয়। উপস্থিত প্রায় দু’হাজার জনতার মুখে, চতুর্দিক থেকে হযরত মিয়াঁ সাহেব, [অর্থাৎ হযরত মির্যা বশিরউদ্দীন মাহমুদ আহমদ সাহেব (রা:)]-এর নাম ধ্বনিত হতে থাকে। মানুষ ব্যাকুল হয়ে, একে অপরকে ডিঙ্গিয়ে হযরত সাহেবযাদা মির্যা বশিরউদ্দীন মাহমুদ আহমদ সাহেবের হাতে বয়’আত করার চেষ্টা করে। এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী লিখেন: তখন এমন মনে হচ্ছিল যেন, ফিরিশতারা মানুষকে ধরে ধরে আল্লাহ্‌র মনোনীত ব্যক্তির কাছে (বয়াতের জন্য) নিয়ে আসছে। খিলাফতের অস্বীকারকারী যারা আঞ্জুমান এবং এর অর্থ-কড়��র সর্বেসর্বা ছিল এ দৃশ্য দেখে সেখান থেকে সটকে পড়ে। এভাবে আল্লাহ্‌তা’লা পুনরায় স্বীয় প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আহ্‌মদীয়া খিলাফতের মাধ্যমে জামা‘তকে সুদৃঢ় করে তাদের ভয়-ভ���তিকে ���িরাপত্তায় পরিবর্তন করলেন। হযরত মসীহ্ মওউদ (আঃ)-এর দৃঢ়প্রত্যয়ী এই সন্তান তথা মুসলেহ্ মওউদ (রা:)-এর ৫২ বছরব্যাপী খিলাফত কালে জামা‘ত উন্নতির এমন সব দৃশ্য দেখেছে আল্লাহ্‌তা’লার বিশেষ সমর্থন ব্যতীত তা সম্ভবপর ছিল না। অর্থভান্ডার শূণ্য রেখে যারা চলে যায় তাদের দাবী ছিল যে, কাদিয়ানে এখন খৃষ্টান রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে! জীবিত থাকলে তারা আজ প্রত্যক্ষ করতো যে, কাদিয়ানে খৃষ্টানদের রাজত্বের তো প্রশ্নই উঠেনা বরঞ্চ দৃঢ়প্রত্যয়ী এই প্রতিশ্রুত সন্তান সহস্র সহস্র খৃষ্টানকে মোহাম্মদী মসীহ্‌র পতাকাতলে সমবেত করেছেন। আহরারী নৈরাজ্য প্রবলভাবে যখন দেখা দেয়, তারা যারা ঘোষণা দিয়েছিল যে, কাদিয়ানের প্রতিটি ইট মাটিতে মিশিয়ে দেয়া হবে, হযরত মুসলেহ্ মওউদ (রা:) তখন তাহরীকে জাদীদের ব্যবস্থাপনা প্রবর্তন করে গোটা পৃথিবীতে তবলীগী মিশনের জাল বিস্তারের ভিত্তি স্থাপন করেন। তাঁর কুরআনের তফসীর এবং অন্যান্য বই-পুস্তক সারা পৃথিবীতে ব্যাপক প্রসার লাভ করেছে যা তাঁর বাহ্যিক ও আধ্যাত্মিক জ্ঞানে সমৃদ্ধশালী হবার ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণতা লাভ করার চির অম্লান সাক্ষ্য বহণ করবে। হিজরতের সময় এলে দৃঢ়চেতা এই মানব, জামা‘তকে এমনভাবে নেতৃত্ব দেন যার ছায়ায় ন্যুনতম ক্ষতি স্বীকারের মধ্য দিয়ে জামা‘তের সদস্যরা পাকিস্তানে এসে বসতি স্থাপন করে। সমূহ সমস্যাসঙ্কুল পরিস্থিতি সত্ত্বেও কাদিয়ানে নিজের ছেলেসহ আত্মত্যাগী এমন সদস্যদেরকে তিনি ছেড়ে এসেছেন যারা সর্বমূল্যে আল্লাহ্‌র নিদর্শনাবলীর (শায়ায়েরুল্লাহ্) রক্ষনাবেক্ষণ করছেন। পাকিস্তানে আহ্‌মদীয়া কেন্দ্রের প্রয়োজন অনুভব করে শুষ্ক ও পতিত এক ভূমিকে তিনি নিজ সুমহান নেতৃত্ব ও দূরদর্শিতায় সবুজ-শ্যামল একটি শহরে পরিণত করেছেন যা আজ আমরা স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করছি। সেই ২৫ বছর বয়স্ক যুবক যাঁর বিরুদ্ধে দৃশ্যত বড় বড় আলেম, জ্ঞানী এবং হর্তাকর্তারা দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন, যখন খোদাতা’লার পক্ষ থেকে সাহায্যপ্রাপ্ত হলেন, আর ঐশী মনোনয়নের কৃপাদৃষ্টি তাঁর উপর পড়লো এবং আল্লাহ্‌তা’লার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্বিতীয় কুদরতের বিকাশস্থল হয়ে সফল সেনাপতির ন্যায় একের পর এক দিগ্বিজয় করতে থাকেন। আর আল্লাহ্‌তা’লার সাহায্য ও সমর্থনে স্বীয় মান্যকারী এবং মুহাম্মদী মসীহ্‌র সেবকদের ভয়-ভীতিপূর্ণ অবস্থাকে নিরাপত্তায় পরিবর্তন করতে থাকলেন। অবশেষে ঐশী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৯৬৫ সালের নভেম্বরে তিনি যখন এ ধরা থেকে বিদায় নেন আল্লাহ্‌তা’লা আমাদেরকে দ্বিতীয় কুদরতের তৃতীয় বিকাশ দেখান।

দ্বিতীয় খিলাফতের বায়ান্ন বছর এত সুদীর্ঘ সময় ছিল যাতে কয়েকটি প্রজন্ম তাঁর কল্যাণে অভিষিক্ত হয়েছে। সে যুগে প্রত্যেক আহ্‌মদীর সাথে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল। এমন মনে হচ্ছিল জামা‘ত যেন তাঁর মৃত্যুর শোক সইতে পারবে না। কিন্তু স্বীয় প্রতিশ্রুতির কল্যাণে খোদা তাৎক্ষণিকভাবে ভীতিকে নিরাপত্তায় পরিবর্তন করে দেন; এ দৃশ্যই আমরা তৃতীয় খলীফার যুগে প্রত্যক্ষ করেছি। প্রতিটি পদক্ষেপে জামা‘তের উন্নতি পরিলক্ষিত হয়। আফ্রিকাতে স্কুল ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, তবলীগের ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়া, তারপর ১৯৭৪ সালের পরিস্থিতি যা পাকিস্তানের জামা‘তসমূহের জন্য খুবই ভয়াবহ ছিল; যুগ খলীফার পাকিস্তানে অবস্থান করা পৃথিবী জুড়ে গোটা জামা‘তের জন্য অত্যন্ত দুশ্চিন্তার কারণ ছিলো। কিন্তু খিলাফতরূপী ঢালের আড়ালে জামাত ভীতিপ্রদ এ সমস্ত পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সফলতার সাথে মোকাবিলা করেছে আর উন্নতির পথে এগিয়ে গেছে।

রপর ১৯৮২ সালে খলীফাতুল মসীহ্ সালেসও আমাদের মাঝ থেকে যখন বিদায় নিলেন তখন পুনরায় আল্লাহ্‌তা’লা স্বীয় জামাতকে আশ্রয় দেন এবং ৪র্থ খলীফার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর সময় জামাতে উন্নতির এক নব যুগ সূচিত হয়। শত্রু জামাতের উন্নতি দেখে হতবাক হয়ে যায় এবং খিলাফতের উপর আক্রমণ হানার অপচেষ্টা চালায়। আপন খেয়ালে জামাতকে ধ্বংস করার চেষ্টা করে। কিন্তু আল্লাহ্‌তা’লা নিজ প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করে হযরত মসীহ্ মওউদ (আঃ)-এর সাথী হন এবং শত্রুর সকল ষড়যন্ত্র নস্যাত করে খলীফাতুল মসীহ্ রাবে’কে এখানে (লন্ডনে) অলৌকিকভাবে পৌঁছে দেন। আর যে শত্রু খিলাফতকে ধ্বংস করতে উদ্যত হয়েছিল, আল্লাহ্‌তা’লা তাকে এমনভাবে নিশ্চিহ্ন করলেন যে, তাঁর দেহের কোন কিছুই অবশিষ্ট থাকেনি। তারপর এখানে এসে ইসলাম প্রচারের এক নব যুগের সুচনা হলো, MTA-র প্রবর্তন হলো, এতে করে হযরত মসীহ্ মওউদ (আঃ)-এর তবলীগ নতুন এক আঙ্গিকে পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে পৌঁছায়। মসীহ্ মওউদ (আঃ)-এর সাথে কৃত আমাদের খোদার অন্যতম প্রতিশ্রুতি অত্যন্ত মহিমার সাথে পূর্ণ হলো। শত্রু তো ‘খিলাফত’ এর ওপর আঘাত হেনে তাকে নিস্তেজ করার পাঁয়তারা করছিল কিন্তু ভিন্ন এক পদ্ধতিতে মানুষের ঘরে ঘরে তাকে পৌঁছানো ছিল আল্লাহ্‌তা’লার পরিকল্পনা, আর ভৌগলিক কোন সীমারেখা সে পথে বাঁধ সাধা সম্ভব ছিলনা। জামাতের এসব উন্নতি একে একে আমি যদি উল্ল্যেখ করতে থাকি তবে কয়েক ঘন্টায়ও তা শেষ হবে না। জলসার বক্তৃতাসমূহে এর উল্ল্যেখ হয়ে থাকে আর ভবিষ্যতেও ইনশাআল্লাহ্ অব্যাহত থাকবে।

মোটকথা, চতুর্থ খিলাফতের স্বর্ণ যুগ আল্লাহ্‌র ইচ্ছা অনুযায়ী ২০০৩ সালের এপ্রিল পর্যন্ত জামাতকে নিত্য নতুন পথের দিশা দিতে থাকে। তাঁর মৃত্যুতে জামাত আরেকবার ভীতিপ্রদ অবস্থায় আল্লাহ্‌র দরবারে সিজদাবনত হয়। কেননা, একজন মু’মিনের প্রতি এটি-ই নির্দেশ আর এটি-ই একজন মু’মিনকে শোভা পায় অর্থাৎ যখনই বিপদগ্রস্থ হয় তখনই আল্লাহ্‌র প্রতি বিনত হয়। যাহোক, ঐশী প্রতিশ্রুতি যে চিরকাল পূর্ণ হতে থাকবে সে সম্পর্কে আল্লাহ্‌তা’লা আমাদের পূর্বেই আশ্বস্ত করেছেন। আল্লাহ্‌তা’লা হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর মৃত্যুর পর ভয়-ভীতির অবস্থাকে যে নিরাপত্তায় রূপান্তরিত করেছিলেন আর হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:) বলেছিলেন যে, ‘ঐ প্রতিশ্রুতি আমার নিজের সম্বন্ধে নয় বরং সেটি তোমাদের সাথে সম্পৃক্ত; এবং তাঁর একথা বলা যে, বিরুদ্ধবাদীদের দু’টি বৃথা আস্ফালনকে ব্যর্থতায় পর্যবসিত করার লক্ষ্যে আল্লাহ্‌তা’লা দু’টি কুদরত (পরাক্রমশালী শক্তি) প্রদর্শন করেন, সে অনুসারে চতুর্থ খিলাফতের পর আল্লাহ্‌তা’লা পুনরায় জামাতের নিরাপত্তা বিধান করেছেন। যেভাবে হযরত মসীহ্ মওউদ (আঃ) বলেছিলেন, তা স্থায়ী অর্থাৎ দ্বিতীয় কুদরত চিরস্থায়ী, এ দৃশ্য MTA-র মাধ্যমে পুরো জগদ্বাসী পুনরায় দেখেছে। ইসলামের প্রাথমিক যুগে খিলাফতে রাশেদা স্বল্পকাল স্থায়ী হওয়া আর শুধু চারজন খলীফা হওয়াও উল্লিখিত হাদীস মোতাবেক মহানবী (সাঃ)-এর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী হয়েছে। কিন্তু হযরত মসীহ্ মওউদ (আঃ)-এর আবির্ভাবের পর ইসলামের ইতিহাসে প্রতিটি ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায় সংযোজিত হবার ছিল। সুতরাং আল্লাহ্‌তা’লার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কুদরতে সানিয়ার পঞ্চম যুগও একটি নতুন অধ্যায়; যা শত্রুদের মুখের উপর চরম কষাঘাত এবং শত্রুদের উল্লাসকে ধুলিস্যাৎ করে দেবার একটি মাধ্যম। জামাতের উন্নতিকে শত্রুরা আজ অধিকতর হিংসার দৃষ্টিতে দেখছে কেননা আক্ষেপের সাথে তারা লক্ষ্য করছে যে, সকল বিরোধিতা সত্ত্বেও আহ্‌মদীয়া জামা’ত খিলাফতের ছায়ায় অনবরত উন্নতি করে চলছে। (এ পর্যায়ে হুযূর বলেন, কাদিয়ানের তুলনায় রাবোয়াতে বেশ দেরীতে শব্দ পৌঁছাচ্ছে তাই আমারই অপেক্ষা ক��া উচিৎ মনে হয়) কেননা, বিরুদ্ধবাদীরা পরিতাপের সাথে স্বয়ং লক্ষ্য করছে, আহ্‌মদীয়া জামা’ত সব ধরনের বিরোধিতা সত্ত্বেও খিলাফতের নেতৃত্বে উন্নতি করে যাচ্ছে। আল্লাহ্‌তা’লার এই ঘোষ��ার উত্তরাধিকারী হয়ে চলছে যে, ‘আমি মু’মিনদের মধ্যে খিলাফত প্রতিষ্ঠা করব’ আল্লাহ্‌তা’লা জামাতকে দৃঢ়তা প্রদান করে যাচ্ছেন। প্রতিদিন এর শিকড় দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হচ্ছে।

আল্লাহ্‌তা’লা স্বীয় অনুগ্রহে তাদের অর্থাৎ মু’মিনদের সকল ভয়-ভীতিকে খিলাফতের তত্ত্বাবধানে নিরাপত্তায় পরিবর্তন করছেন। আল্লাহ্‌র রজ্জুকে আঁকড়ে ধরে রাখার কল্যাণে শত্রুদের সকল অপচেষ্টা সত্বেও আহ্‌মদীরা হযরত মসীহ্ মওউদ (আঃ)-এর বাণী পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে পৌঁছে দিচ্ছেন। আর বিভ্রান্ত ও পথভ্রষ্ট মানবতাকে মহানবী (সাঃ)-এর পতাকাতলে সমবেত করছেন, যাতে তারা নিজ স্রষ্টা খোদাকে চিনতে পারে। স্বয়ং বিরুদ্ধবাদীরাও স্বীকার করেন, খিলাফত ব্যতীত মুসলিম উম্মাহ্‌র ঐক্য অসম্ভব; ইসলামের উন্নতি হওয়াও সম্ভব নয় আর ঐক্যও অসম্ভব। কিন্তু চোখের উপর পর্দা থাকায় খোদাতা’লা যাঁকে ‘খাতামুল খোলাফা’ বানিয়ে প্রেরণ করেছেন তাঁকে এবং তাঁর পর প্রতিষ্ঠিত খিলাফতকে তারা অস্বীকার করে চলছে। খিলাফত সম্বন্ধে তাদের যে আক্ষেপ! তার দু’একটি উদাহরণ পেশ করছি। করাচির জামেয়া আশরাফিয়ার মোহতামীম, মাওলানা আব্দুর রহমান সাহেব বলেন,

“নবুওতের পদ্ধতিতে প্রতিষ্ঠিত ইসলামী খিলাফতের যতটা সম্পর্ক আছে, এর চেয়ে উত্তম আর কোন ব্যবস্থাপনা নেই। কেননা, আল্লাহ্‌তা’লা বলেছেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ্‌তা’লা জান্নাতের বিনিময়ে মু’মিনদের প্রাণ ও সম্পদ ক্রয় করে নিয়েছেন’ কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ মুসলমানদের পারস্পরিক মতবিরোধ চরমে পৌঁছেছে। খিলাফতের যতটুকু সম্পর্ক আছে, কাকে খলীফা হিসেবে মানবে! মক্কা মোকাররমা থেকে যদি খলীফা নির্বাচন করা হয় তাহলে বেরেলবীগণ সর্বাগ্রে বিতন্ডা সৃষ্টি করবে। খিলাফত সম্বন্ধে আমি আমার সঙ্গীদের সাথেও পরামর্শ করেছি, অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় পাকিস্তানে খিলাফত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।”

একজন বুদ্ধিজীবী হুমায়ুন গওহর ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে ‘সফর কা আগায হোতা হ্যায়’ শীর্ষক প্রবন্ধে লিখেছেন,

“আজ আমরা নিজেদেরকে সেকেলে চিন্তাধারা, গর্হিত সামাজিক রীতিনীতি ও অজ্ঞতার অতল গহবরে নিমজ্জিত দেখতে পাচ্ছি। আর পারিবারিক ও সামাজিক কদাচার আমাদেরকে ঘিরে রেখেছে। অন্যায় অবিচার চরম আকার ধারণ করেছে। পরিবেশ দূষণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাই আমাদের নির্মল বাযু প্রবাহের প্রয়োজন যা উম্মতের সংশোধন ঘটাতে পারবে। এ জন্য অনেক বেশী সাহস ও উদ্যমের প্রয়োজন, দৃঢ় ঈমান ও সংকল্পের বলিষ্ঠতা চাই। মুসলমানদের খিলাফতের ন্যায় প্রতিষ্ঠান দ্বারাই এটি সম্ভব।”

সুতরাং এসব হচ্ছে তাদের আক্ষেপ; খিলাফতের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে কিন্তু তা প্রতিষ্ঠা করতে পারছে না। পঞ্চম খিলাফতের নির্বাচন আর বয়’আত গ্রহণের দৃশ্য MTA সমগ্র বিশ্ববাসীকে দেখিয়েছে। যেসব বিষয় এরা আক্ষেপের সাথে উল্ল্যেখ করছে, পঞ্চম খিলাফতের নির্বাচনের সময় পৃথিবীবাসী দেখেছে, জামাত কিভাবে এক হাতে সমবেত হয়ে ঐক্য প্রদর্শন করেছে। এদের মধ্যে অনেকে নির্দ্বিধায় স্বীকারও করেছে যে, খোদাতা’লার বাস্তব সাক্ষ্য তোমাদের স্বপক্ষে রয়েছে বলে মনে হয়। এতদসত্ত্বেও এ কথা তাদেরকে সংশোধনের প্রতি আকৃষ্ট করার পরিবর্তে হিংসায় আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। জামাতের বিরুদ্ধে আজকাল পাকিস্তানে মোল্লাদের সভা-সমিতি করার কারণ হলো জামাতের ঐক্য ও উন্নতি তাদের চক্ষুশূল। এই আক্ষেপ আর হিংসাই এখন এদের নিয়তি। আল্লাহ্‌তা’লার সাহায্য ও সমর্থনের বাতাস প্রবলবেগে জামাতের অনুকূলে প্রবাহিত হচ্ছে।

ইনশাআল্লাহ্ এদের সকল মনোবাঞ্ছা ও অপচেষ্টা হাওয়ায় মিলিয়ে যাবে। হে আহ্‌মদীয়াতের শত্রুরা! আমি তোমাদেরকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলছি, খিলাফত প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যদি তোমরা আন্তরিক হয়ে থাকো তাহলে এসো মুহাম্মদী মসীহ্‌র দাসত্ব বরণ করে তাঁর প্রবর্তিত চিরস্থায়ী খিলাফত ব্যবস্থাপনার অংশ হয়ে যাও। নতুবা চেষ্টা করতে করতে তোমরা মরে গেলেও খিলাফত প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না। তোমাদের বংশধরেরাও যদি তোমাদেরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে, তারাও কোন খিলাফত প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না। প্রজন্ম পরম্পরায় তাদের বংশধরগণও যদি কিয়ামতকাল পর্যন্ত এ প্রচেষ্টা জারী রাখে, তারাও সফল হতে পারবে না। খোদাকে ভয় কর আর খোদার সাথে যুদ্ধ কর না। নিজেদের ও নিজ বংশধরদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা কর। অ-আহ্‌মদীদের সম্পর্কে যেসব কথা আমি বর্ণনা করেছি, তাদের আক্ষেপ মূলক এসব কথা আমাদের জন্য আনন্দের কারণ হওয়া উচিত নয় বা শুধুমাত্র কতক সহমর্মী হৃদয়ে তাদের জন্য কেবলমাত্র সহানুভূতি সৃষ্টি হলে চলবেনা। যে হিংসার অনলে শত্রুরা জ্বলছে, এমন শত্রু ক্ষতি করার চেষ্টাও করে আর দুর্বল আহ্‌মদীদের পেলে তাদের উপর হামলাও চালায়। এ কারণে আজ খিলাফতের সাথে সম্পৃক্ত আহ্‌মদীদের উচিত, খিলাফতের মজবুতি এবং দৃঢ়তার জন্য দোয়ার পাশাপাশি জামাতের সদস্যগণ একে অপরের জন্যও দোয়া করুন যেন আল্লাহ্‌তা’লা ঐ সকল হিংসুক এবং অনিষ্টকারীদের হিংসা ও অনিষ্ট থেকে নিরাপদ রাখেন। এই যুগ, যাতে আমরা পঞ্চম খিলাফতের ছায়ায় খিলাফতের নতুন শতাব্দীতে প্রবেশ করছি, ইনশাআল্লাহ্‌তা’লা এটি আহ্‌মদীয়াতের উন্নতি ও বিজয়ের যুগ। আপনাদেরকে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, আল্লাহ্‌তা’লার সাহায্য-সমর্থনের এমন সব অধ্যায় সূচিত হয়েছে এবং হচ্ছে যে আগত প্রতিটি দিনে জামাতের বিজয় নিকট থেকে নিকটতর দেখাচ্ছে। আমি যখন আত্মবিশ্লেষণ করি লজ্জায় মরে যাই, আমি তো এক অধম, অকর্মণ্য, অযোগ্য, পাপী মানুষ। জানিনা এ পদে আমাকে অধিষ্ঠিত করার মাঝে আল্লাহ্‌তা’লার কী প্রজ্ঞা নিহিত; তবে একথা অর্ন্তদৃষ্টির ভিত্তিতে আমি বলতে পারি যে, খোদাতা’লা এ যুগকে স্বীয় অফুরান সাহায্য ও সমর্থনে ধন্য করে উন্নতির রাজপথে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকবেন, ইনশাআল্লাহ্‌তা’লা। এমন কেউ নেই যে এ যুগে আহ্‌মদীয়াতের উন্নতিকে ঠেকাতে পারে আর এ উন্নতি ভবিষ্যতেও কোন সময় বাঁধাগ্রস্থ হবে না। খলীফাদের ধারা বহমান থাকবে এবং আহ্‌মদীয়াতের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে, ইনশাল্লাহ।

গত পাঁচ বছর ধরে রীতি এটিই চলে আসছে যে, জলসার বক্তৃতাসমূহে ঐশী কৃপাবারীর কথা উল্ল্যেখ করা হয়ে থাকে আর এবারও হবে ইনশাআল্লাহ্‌তা’লা তাই হবে। সুতরাং আহ্‌মদীয়া খিলাফতের সাথে যে উন্নতিকে সংশ্লিষ্ট করা হয়েছে আর যার উল্ল্যেখ হযরত মসীহ্ মওউদ (আঃ) আল্ ওসীয়্যত পুস্তিকায়ও করেছেন তা এক অনন্ত ধারা। প্রত্যেক সেই ব্যক্তি যে খিলাফতের সাথে জড়িয়ে থাকবে, নিজ ঈমান ও সৎকর্মে যে উন্নতি করবে, আল্লাহ্‌তা’লা তাকে সেসব নিয়ামতরাজি প্রত্যক্ষ করাবেন যা খিলাফতের সাথে জুড়ে থাকার ফলে জামাতের প্রত্যেকেই দেখতে পাবে। আল্লাহ্‌তা’লা আহ্‌মদীয়া খিলাফতকেও এমন সব সদস্য দান করবেন যারা নিষ্ঠা ও বিশ্বস্ততায় ক্রমশঃ উন্নতি করবে। জীবন বাজী রেখে খিলাফতের অস্তিত্ব ও দৃঢ়তার জন্য যারা কাজ করবেন, আল্লাহ্‌তা’লা স্বয়ং তাদের হৃদয়কে খিলাফতের প্রতি ভালবাসায় পূর্ণ করবেন, করেছেন বরং পরিপূর্ণ আছে। প্রতিনিয়তই আমি এমন দৃশ্য প্রত্যেক জাতি ও প্রতিটি দেশে প্রত্যক্ষ করছি। সম্প্রতি আফ্রিকা সফরের বিভিন্ন দৃশ্য আপনারা অবলোকন করেছেন, কিভাবে তারা ভালবাসায় বিভোর। আল্লাহ্‌তা’লা অনেক পূর্বেই আমাকে নিশ্চয়তা দিয়েছেন, এ যুগে তিনি স্বয়ং নিজ সন্নিধান থেকে বিশ্বস্তদেরকে প্রস্তুত করতে থ���কবেন। সুতরাং এগিয়ে চলুন, এবং নিজ ঈমান ও সৎকর্মের বিশ্লেষণ করে আপনাদের প্রত্যেকেই সেসব কল্যাণময় ব্যক্তিবর্গের অন্তর্ভূক্ত হোন যাদেরকে খোদাতা’লা খিলাফতের সুরক্ষার ���ন্য স্বয়��� নিজের পক্ষ থেকে উম্মুক্ত তরবারী হিসেবে দাঁড় করাবেন। কিছুদিন পূর্বে এক বন্ধু আমাকে লিখেছেন, খিলাফতের শত বর্ষ পূর্ণ হচ্ছে বলে আমরা যেমন আনন্দিত, তেমনি একটি বিষয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্থও বটে যে, আমরা হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর যুগ থেকে একশ বছর দূরে চলে এসেছি আর এ কারণে কোথায়ও আমাদের মাঝে দুর্বলতা না বেড়ে যায়। তার এ উৎকন্ঠা খুবই যৌক্তিক। কিন্তু খোদাতা’লার প্রতিশ্রুতি, মহানবী (সাঃ)-এর হাদীস এবং হযরত মসীহ্ মওউদ (আঃ)-এর বক্তব্য যদি আমরা সামনে রাখি তাহলে আল্লাহ্‌তা’লার কৃপায় খিলাফতের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার কারণে আমরা ঐশী পুরস্কারের উত্তোরাধীকারী হতে থাকবো, ইনশাআল্লাহ্। এই পত্রের সাথেই দৈবক্রমে আরো একটি পত্রে আমেরিকা নিবাসী আমাদের একজন মুবাল্লেগ হযরত মুসলেহ্ মওউদ (রা:) কর্তৃক গৃহীত একটি অঙ্গীকারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, হযরত মুসলেহ্ মওউদ (রা:) যা ১৯৫৯ সালে খোদ্দামুল আহ্‌মদীয়ার বার্ষিক ইজতেমায় উপস্থিত খোদ্দামের কাছ থেকে নিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, এটি এমন এক অঙ্গীকার যা আনসারুল্লাহ্‌র সদস্যরাও পড়ুন আর পুনঃ পুনঃ পড়তে থাকুন আর সকল জলসায় এর পুনরাবৃত্তি করুন এবং পৃথিবীর প্রতিটি স্থানে ইসলাম ও আহ্‌মদীয়াত যত দিন জয়যুক্ত না হয় প্রজন্ম পরম্পরায় এ অঙ্গীকার পুনরাবৃত্তি করতে থাকুন। প্রথমোক্ত বন্ধুর পত্রের কারণে আমার দৃষ্টি এদিকে যায় আর পরবর্তী পত্রটি পেয়ে এ বিষয়ের প্রতি অধিক মনোযোগ হয়। তার এ প্রস্তাব আমার ভাল লেগেছে যে, আহ্‌মদীয়া খিলাফতের শতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে পৃথিবীর সমস্ত আহ্‌মদীর এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা উচিত। অতএব সামান্য পরিবর্তনের সাথে আমি আজ শতবার্ষিকী জুবিলী উপলক্ষ্যে আপনাদের কাছ থেকেও এই অঙ্গীকার গ্রহণ করছি যেন আমাদের কর্মকাল যুগের দিক দিয়ে ব্যবধানে থাকা সত্ত্বেও হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর শিক্ষা এবং আল্লাহ্‌তালা ও রসূল (সা:)-এর আদর্শ থেকে আমাদেরকে দূরে সরিয়ে নিতে না পারে বরং খোদার প্রতিশ্রুতির গুরুত্ব যেন আমরা প্রতি দিন নুতনভাবে উপলব্ধি করি। অতএব এ প্রেক্ষাপটে আমি এখন এই অঙ্গীকার গ্রহণ করবো। আপনাদের অনুরোধ করছি, আমার সামনে জলসায় যারা উপস্থিত আছেন উঠে দাঁড়ান, মহিলারাও দাঁড়িয়ে যান, পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে যারা সমবেত হয়েছেন তারাও সবাই দাঁড়িয়ে এ অঙ্গীকার পাঠ করুন:

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله

আহ্‌মদীয়া খিলাফতের শত বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আজ আমরা আল্লাহ্‌র নামে শপথ করে এই অঙ্গীকার করছি যে, আমরা ইসলাম ও আহ্‌মদীয়াতের প্রসার আর হযরত মুহাম্মদ রসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর নাম পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে পৌঁছানোর জন্য আমরা জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবো। পবিত্র এই দায়িত্ব সম্পাদনের লক্ষ্যে আমরা আল্লাহ্ ও তাঁর রসূল (সাঃ)-এর জন্য আমাদের জীবন সর্বদা উৎসর্গ করে রাখবো এবং বৃহৎ থেকে বৃহত্তর সব ত্যাগ স্বীকার করে কিয়ামত পর্যন্ত ইসলামের পতাকাকে বিশ্বের প্রতিটি দেশে সমুন্নত রাখবো। আমরা আরও অঙ্গীকার করছি যে, খিলাফত ব্যবস্থার সুরক্ষা এবং এর দৃঢ়তার লক্ষ্যে জীবনের শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত আমরা অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাবো, অধিকন্তু বংশ পরম্পরায় নিজ সন্তান-সন্ততিদেরকে খিলাফতের সাথে সংবদ্ধ থাকা ও এর কল্যাণরাজি অর্জনে সচেষ্ট থাকার বিষয়ে নসীহত করে যাবো যেন কিয়ামত কাল পর্যন্ত আহ্‌মদীয়া খিলাফত সুরক্ষিত থাকে এবং আহ্‌মদীয়া জামাতের মাধ্যমে ইসলাম ধর্মের প্রচার ও প্রসার কিয়ামতকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। আর মুহাম্মদ রসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর পতাকা যেন অন্য সব পতাকার ঊর্ধ্বে উড্ডীন থাকে। হে খোদা! এই অঙ্গীকার পূর্ণ করার সামর্থ তুমি আমাদের দাও। আল্লাহুম্মা আমীন। আল্লাহুম্মা আমীন। আল্লাহুম্মা আমীন! (এ পর্যায়ে হুযূর বলেন, সবাই বসুন)

হেমুহাম্মদী মসীহ্‌র সেবকগণ! তাঁর বৃক্ষরূপ সত্ত্বার সবুজ সতেজ শাখা-প্রশাখা! আমি আশা করি, এ অঙ্গীকার আপনাদের মাঝে নতুন এক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঞ্চার ঘটিয়ে থাকবে। কৃতজ্ঞতা প্রকাশের আবেগ আগের চেয়ে আরো বেশি সৃষ্টি হয়ে থাকবে। অতএব এই আবেগ, উৎসাহ-উদ্দীপনা আর কৃতজ্ঞতাবোধ নিয়ে আহ্‌মদীয়া খিলাফতের নতুন শতাব্দীতে আপনারা প্রবেশ করুন। ২৭শে মে’র এই দিনটি যেন আমাদের ভেতর এক নব চেতনার উন্মেষ ঘটায় আর আমাদের জীবনে যেন এমন বৈপ্লবিক এক পরিবর্তন আনয়ন করে যা কিয়ামত পর্যন্ত আমাদের সন্তান-সন্ততিদের মাঝে বিপ্লব সৃষ্টি করতে থাকবে। মহান আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে আমাদেরকে এই যুগে প্রবিষ্ট করানো সাব্যস্ত করছে যে, হযরত মসীহ্ মওউদ (আ:)-এর বৃক্ষরূপ অস্তিত্বের সবুজ সতেজ ডালপালায় পরিণত হতে আমরা চেষ্টা করি এবং করছি। তিনি (আ:) নিজ জামাতকে কত যে স্নেহ করেন, এর সম্পর্কে কত না উচ্চ ধারণা পোষণ করেন! যেমন তিনি বলেছেন:

“যে সব উন্নতি ও পরিবর্তন আমাদের জামাতের মাঝে পরিদৃষ্ট হয় তা জগতে সমসাময়িক কালে অন্য কোথায়ও খুঁজে পাবে না”

হুযূর (আ:)-এর উচ্চ এ ধারণা আমাদের কাছে কি দাবী রাখে না যে, আমরা নিজেদের মাঝে আত্মিক বিপ্লব সৃষ্টির আরও বেশী চেষ্টা করি? নিজেদের অঙ্গীকার পূর্ণ করতে সব ধরনের ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকি? খিলাফতের আদলে আমাদের প্রতি আল্লাহ’তালা যে অনুগ্রহ করেছেন তার কৃতজ্ঞতা স্বরূপ নিজেদের আধ্যাত্মিক উন্নতির নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করি? এই অনুগ্রহের ফলশ্রুতিতে বয়’আতের অঙ্গীকার পূর্ণ করার ক্ষেত্রে আগের চেয়ে বেশি যত্নবান হই? আল্লাহ্‌তা’লার এই অনুগ্রহের কারণে খিলাফতের প্রতি নিষ্ঠা ও আনুগত্যের মানকে ক্রমশ উন্নত করতে থাকি। এই অনুগ্রহের ফলশ্রুতিতে প্রেম-প্রীতি ও ভালবাসার সুরমূর্ছনা আপন পর সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিই। এসব পুণ্য অবলম্বন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশই আমাদের জীবনের নিশ্চিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হওয়া বাঞ্ছনীয়। সম্প্রীতি ও ভালবাসার প্রস্রবণ আমাদের হৃদয় থেকে উৎসারিত হওয়া আবশ্যক। অঙ্গীকার পূর্ণ করার ও নিষ্ঠা প্রদর্শন করার নতুন নতুন পথ ও পন্থা অবলম্বন করাই আমাদের জীবনের লক্ষ্য হওয়া উচিত। এসব করতে পারলে আমরা এই ঐশী পুরস্কারের যথাযথ মূল্যায়নকারী সাব্যস্ত হবো। আর এটা যখন হবে আমরা স্থায়ী খিলাফতের কল্যাণ অবিরাম ধারায় তখন লাভ করতে সক্ষম হবো। আর আল্লাহ্‌তা’লার কৃপা ও অনুগ্রহের বিরামহীন বারিধারা আমাদের উপর বর্ষিত হতে থাকবে।

অতএব, হে আমার প্রিয়রা! আর আমার প্রিয়দের প্রিয়রা তোমরা জাগ্রত হও। এই পুরস্কার সুরক্ষার জন্য নতুন এক উদ্দীপনা ও চেতনা নিয়ে নিজেদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আল্লাহ্‌তা’লার সমীপে বিনত থেকে, তাঁর কাছে সাহায্য যাচনা করে কর্মক্ষেত্রে ঝাঁপিয়ে পড়; কেননা এরই মাঝে তোমাদের জীবন নিহিত। তোমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জীবনও এতেই। আর এরই মাঝে নিহিত মানবতার স্থায়ীত্ব। আল্লাহ্‌তা’লা আপনাদেরকেও সে সৌভাগ্য দান করুন আর আমাকেও, যাতে, আমরা স্বীয় অঙ্গীকার রক্ষা করতে পারি। আল্লাহুম্মা আমীন।

(কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক লন্ডন কর্তৃক অনুদিত ও সম্পাদিত)

উপরে চলুন