In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

আমার প্রিয় আহ্‌মদীয়া জামাতের সদস্যবৃন্দ, আস্‌সালামু আলাইকুম ওয়া রহ্‌মাতুল্লাহে ওয়া বারাকাতুহু।

জ আহ্‌মদীয়া জামাতে খিলাফত প্রতিষ্ঠার এক’শ বছর পূর্ণ হচ্ছে। আজকের এই শুভক্ষণ একদিকে শত বছরের অধিক সময়ব্যাপী আহ্‌মদীয়া জামাতের ইতিহাস আমাদের স্মরণ করাচ্ছে; আবার সেই সময়ের কথাও মনে করিয়ে দিচ্ছে যখন মহানবী মুহাম্মদ মোস্তফা (সাঃ)-এর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী ১৮৮৯ সনের মার্চ মাসে আল্লাহ্‌ তা’লার মনোনীত এক ব্যক্তি তাঁর পক্ষ থেকে আদিষ্ট হয়ে একটি পবিত্র জামাত প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছিলেন। মহান স্রষ্টা ও মানুষের মাঝে জীবন- সম্পর্ক রচনা, মানবজাতিকে এক-অদ্বিতীয় খোদার সমীপে বিনত হবার শিক্ষা প্রদান, আর এ কাজের জন্য প্রচেষ্টা চালানো, বিশ্বের বিভিন্ন জাতিকে এক উম্মতে পরিণত করে বিশ্বনবী (সাঃ)-এর পতাকাতলে সমবেত করা এবং মানুষের প্রতি মানুষের যে অধিকার রয়েছে তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সবাইকে সচেতন করাই তাঁর আগমনের এবং এই ঐশী জামাত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। সেই মহান ব্যক্তি যাঁকে আল্লাহ্‌ তা’লা ‘যুগের ইমাম’ এবং ‘প্রতিশ্রুত মসীহ্‌’‘মাহ্‌দী’ উপাধিতে ভূষিত করে পাঠিয়েছিলেন; এই জামাত প্রতিষ্ঠা আর ১৮৮৯ সনে বয়াত গ্রহণের সূচনালগ্ন থেকে ১৯০৮ সন পর্যন্ত প্রায় ঊনিশ বছর আল্লাহ্‌ তা’লার পক্ষ থেকে বিশেষভাবে সাহায্য ও সমর্থনপুষ্ট হয়ে সমস্ত বাধা-বিপত্তি ও বিরোধিতা সত্ত্বেও এত দ্রুত গতিতে এগিয়েছেন যার কারণে আল্লাহ্‌র মনোনীত এই বীর পুরুষের বিরুদ্ধে যেই দাঁড়িয়েছে সেই অপমানিত ও লাঞ্ছিত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত, ‘জন্মিলে মরিতে হয়’ আল্লাহ্‌ তা’লার এই অমোঘ নিয়ম অনুযায়ী আল্লাহ্‌র এই মনোনীত ব্যক্তি যিনি বিশ্বনবী (সাঃ)-এর খাঁটি প্রেমিক ছিলেন, যিনি তাঁর নেতা মুহাম্মদ (সাঃ)-এর অনুকরণে সবচেয়ে বড় প্রেমাষ্পদের কাছে ফিরে যাবার জন্য সদা ব্যাকুল থাকতেন, যাঁকে আল্লাহ্‌ তা’লা শেষ যুগের ইমাম হিসেবে প্রত্যাদিষ্ট করেছিলেন, তাঁকে তাঁর মৃত্যুর সময় নিকটবর্তী বলে জানালেন। একই সাথে তাঁকে অভয় দিয়ে বললেন,

“তোমার সময় যদিও ঘনিয়ে এসেছে কিন্তু আমার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যেহেতু তোমাকে আমি শেষ যুগের ইমাম মনোনীত করেছি, তাই হে আমার প্রিয়! হে সেই ব্যক্তি যে জগতে আমার একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা আর আমার প্রিয় নবী (সাঃ)-এর আধ্যাত্মিক রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টায় মগ্ন, তোমার মৃত্যুর পর তোমার যাবতীয় কর্মকান্ডের পূর্ণতা কীভাবে অর্জিত হবে, এ বিষয়ে তুমি দুশ্চিন্তা করো না। মনে রেখো, বিশ্বনবী (সাঃ)-এর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী এখন ‘খিলাফত আলা মিনহাজিন নবুওত’ অর্থাৎ ‘নবুওতের পদাঙ্ক অনুসরণে খিলাফত’ কিয়ামতকাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত থকবে। তাই তোমার মৃত্যুর পর আমি এ খিলাফত ব্যবস্থার মাধ্যমেই সমগ্র বিশ্বে আমার মনোনীত শেষ শরিয়তের প্রতিষ্ঠা ও স্থায়িত্বের ব্যবস্থা করবো।”

তদনুযায়ী, আল্লাহ্‌ তা’লার পক্ষ থেকে এই সান্ত্বনা লাভ করার পর তিনি তাঁর জামাতকে সম্বোধন করে বলেন,

‘আর ইহা খোদা তা’লার সুন্নত (রীতি) এবং যখন হইতে তিনি পৃথিবীতে মানব সৃষ্টি করিয়াছেন, তখন হইতে সর্বদাই তিনি সুন্নত প্রকাশ করিয়া আসিতেছেন যে, তিনি তাঁহার নবী রসুলগণকে সাহায্য করিয়া থাকেন এবং তাঁহাদিগকে জয়যুক্ত করেন। এ সম্বন্ধে তিনি বলেন: “কাতাবাল্লাহু লা’আগলিবান্না আনা ওয়া রুসূলি” (সূরা মুজাদালা: ২২)। ‘গালাবা’ শব্দের অর্থ হইল, যেহেতু রসুল ও নবীগণও ইচ্ছা পোষণ করিয়া থাকেন যে, খোদার ‘হুজ্জত’ বা অকাট্য প্রমাণ পৃথিবীতে যেন পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং কেহই যেন ইহার মোকাবিলা করিতে সক্ষম না হয়, তদনুসারে খোদা তা’লা প্রবল ‘নিদর্শনসমূহ’ দ্বারা তাহাদের (অর্থাৎ নবীদের) সত্যতা প্রকাশ করেন এবং যে সাধুতা তাঁহারা পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করিতে চাহেন, খোদা তা’লা উহার বীজ তাঁহাদের হাতেই বপন করেন। কিন্তু তিনি তাঁহাদের হাতে উহার পূর্ণতা দান করেন না বরং এমন সময়ে তাঁহাদিগকে মৃত্যু দান করেন, যখন বাহ্যিকভাবে এক প্রকার অকৃতকার্যতাব্যঞ্জক ভীতি বিদ্যমান থাকে এবং তিনি বিরুদ্ধবাদীদিগকে হাসি ঠাট্টা-বিদ্রুপ ও উপহাস করিবার সুযোগ দেন। আর তাহারা যখন ঠাট্টা-বিদ্রুপ প্রদর্শন করিয়া নেয়, তখন তিনি আপন কুদরতের অপর হস্ত প্রদর্শন করেন এবং এমন উপকরণ সৃষ্টি করেন যদ্বারা সেই উদ্দেশ্যসমূহ, যাহা কতক অসম্পূর্ণ রহিয়াছিল, তাহাও পূর্ণতা লাভ করে।

সংক্ষেপে, খোদা তা’লা দুই প্রকারের কুদরত (শক্তি ও মহিমা) প্রকাশ করেন: প্রথমতঃ স্বয়ং নবীগণের দ্বারা তাঁহার শক্তির এক হস্ত প্রদর্শন করেন। দ্বিতীয়ত: অপর হস্ত এরূপ সময়ে প্রদর্শন করেন, যখন নবীর মৃত্যুর পর বিপদাবলী উপস্থিত হয় এবং শত্রুপক্ষ শক্তি লাভ করিয়া মনে করে এখন (নবীর) কার্য ব্যর্থ হইয়া গিয়াছে; তখন তাহাদের এই প্রত্যয়ও জন্মে যে, এখন এই জামা’ত (ধরাপৃষ্ঠ হইতে) বিলুপ্ত হইয়া যাইবে; এমনকি জামাতের লোকজনও উৎকন্ঠিত হইয়া পড়ে, তাহাদের কোমর ভাঙ্গিয়া যায় এবং কোন কোন দুর্ভাগা মুরতাদ হইয়া যায়। তখন খোদা তা’লা দ্বিতীয়বার আপন মহাকুদরত প্রকাশ করেন এবং পতনোন্মুখ জামাতকে রক্ষা করেন। সুতরাং যাহারা শেষ পর্যন্ত ধৈর্য অবলম্বন করে, তাহারা খোদা তা’লার এই ‘মোজেযা’ প্রত্যক্ষ করে। যেমন হযরত আবুবকর সিদ্দীক (রাঃ)-এর সময়ে হইয়াছিল। যখন মহানবী (সাঃ)-এর মৃত্যুকে এক প্রকার অকালমৃত্যু মনে করা হইয়াছিল; বহু মরুবাসী অজ্ঞ লোক মুরতাদ হইয়া গিয়াছিল এবং সাহাবাগণও শোকাভিভূত হইয়া উন্মাদের ন্যায় হইয়া পড়িয়াছিলেন, তখন খোদা তা’লা হযরত আবুবকর সিদ্দীক (রাঃ)-কে দাঁড় করাইয়া পুনর্বার তাঁহার শক্তি ও কুদরতের দৃশ্য প্রদর্শন করেন। এইরূপে তিনি ইসলামকে বিলুপ্তির পথ হইতে রক্ষা করেন এবং সেই প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেন যাহা তিনি করিয়াছিলেন। আল্লাহ্‌ বলিয়াছেন:

“ওয়ালা ইউমাক্কিনান্নালাহুম দীনাহুমুল্লাযির তাযালাহুম ওয়ালা ইউবাদ্দিলান্নাহুম মিম বা’দে খাওফিহিম আমনা”।

অর্থাৎ, “ভয়ের পর আমি তাহাদিগকে আবার সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করিব (সূরা নূরঃ ৫৬)”।

হযরত মসীহ্‌ মাউদ (আঃ) আরও বলেছেন:

“অতএব হে বন্ধুগণ! যেহেতু আদিকাল হইতে আল্লাহ্‌ তা’লার বিধান ইহাই যে, তিনি দুইটি শক্তি প্���দর্শন করেন যেন বিরুদ্ধবাদীদের দুইটি বৃথা আস্ফালনকে ব্যর্থতায় পর্যবসিত করিয়া দেখান। সুতরাং এখন ইহা সম্ভবপর নহে যে, খোদা তা’লা তাঁহার চিরন্তন নিয়ম পরিহার করিব�����। এজন্য আমি তোমাদিগকে যে কথা বলিয়াছি তাহাতে তোমরা দুঃখিত ও চিন্তিত হইও না। তোমাদের চিত্ত যেন উৎকন্ঠিত না হয়। কারণ তোমাদের জন্য দ্বিতীয় কুদরত দেখাও প্রয়োজন এবং ইহার আগমন তোমাদের জন্য শ্রেয়ঃ। কেননা, ইহা স্থায়ী, যাহার ধারাবাহিকতা কিয়ামত পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন হইবে না। সেই দ্বিতীয় কুদরত আমি না যাওয়া পর্যন্ত আসিতে পারে না। কিন্তু যখন আমি চলিয়া যাইব, খোদা তখন তোমাদের জন্য সেই ‘দ্বিতীয় কুদরত’ প্রেরণ করিবেন যাহা চিরকাল তোমাদের সঙ্গে থাকিবে; যেহেতু বারাহীনে আহ্‌মদীয়া গ্রন্থে খোদার প্রতিশ্রুতি রহিয়াছে এবং সেই প্রতিশ্রুতি আমার নিজের সম্বন্ধে নহে বরং উহা তোমাদের সম্বন্ধে। খোদা তা’লা বলিয়াছেন:

“ম্যায় ইস জামাতকো জো তেরে প্যারাও হ্যায় কিয়ামত তাক দুসরোঁ পার গালাবা দুঙ্গা”।

{অর্থাৎ ‘আমি তোমার অনুবর্তী এই জামাতকে কিয়ামত পর্যন্ত অন্যদের উপর প্রাধান্য দিব’।(অনুবাদক)}

সুতরাং তোমাদের জন্য আমার বিচ্ছেদ দিবস উপস্থিত হওয়া অবশ্যম্ভাবী, যেন ইহার পর সেই যুগ আগমন করে যাহা চিরস্থায়ী প্রতিশ্রুতির যুগ। আমাদের খোদা প্রতিশ্রুতি পালনকারী, বিশ্বস্ত এবং সত্যবাদী খোদা। তিনি তোমাদিগকে সব কিছুই দেখাইবেন , যাহা তিনি অঙ্গীকার করিয়াছেন। যদিও বর্তমান যুগ পৃথিবীর শেষ যুগ এবং বহু বিপদাপদ রহিয়াছে যাহা এখন অবতীর্ণ হইবার সময়, তথাপি সেই সমুদয় বিষয় পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই দুনিয়া অবশ্যই কায়েম থাকিবে, যাহার সম্বন্ধে খোদা সংবাদ দিয়াছেন। আমি খোদার পক্ষ হইতে এক প্রকার কুদরত হিসাবে আবির্ভুত হইয়াছি। আমি খোদার এক মূর্তিমান কুদরত। আমার পর আরও কতিপয় ব্যক্তি আসিবেন যাঁহারা দ্বিতীয় কুদরতের বিকাশ হইবেন। অতএব তোমরা খোদার কুদরতে সানীয়ার (দ্বিতীয় কুদরতের) অপেক্ষায় সমবেতভাবে দোয়া করিতে থাক।” (আল্‌ ওসীয়্যত পুস্তক, রূহানী খাযায়েন ২০শ খন্ড, পৃঃ ৩০৫-৩০৬)

পরবর্তীতে, তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী সেই সময়ও এসে গেল যখন তিনি তাঁর আল্লাহ্‌ তা’লার কাছে ফেরত চলে গেলেন আর ভীতি ও যাতনায় প্রত্যেক আহ্‌মদীর অন্তর ছেয়ে গেল। কিন্তু বিশ্বাসী মু’মিনদের দোয়ার ফলশ্রুতিতে ইসলামের প্রাথমিক যুগের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিশ্ব জগত আরেকবার ‘ওয়ালা ইউবাদ্দিলান্নালাহুম মিম বা’দি খাওফিহীম আমনা’ (অর্থাৎ আমি তাদের ভয়ভীতি ও আশঙ্কার অবস্থার পর তা শান্তি ও নিরাপত্তায় বদলে দিব)-র দৃশ্য প্রত্যক্ষ করলো। সেই মহান বিপ্লব যা তিনি আবির্ভূত হয়ে ঘটিয়েছিলেন, আল্লাহ্‌ তা’লা সেটাকে খিলাফতের মহান ব্যবস্থার মাধ্যমে অব্যাহত রাখলেন। হযরত মসীহ্‌ মাওউদ (আঃ)-এর মৃত্যুতে ‘উকিল’ পত্রিকায় মাওলানা আবুল কালাম আযাদ এভাবে তাঁর অভিব্যক্তি তুলে ধরেছিলেন:

“...তিনি ছিলেন সেই সুমহান ব্যক্তি যাঁর লেখনী এক মুর্তিমান বিস্ময় ছিল, আর যাঁর ভাষা ছিল যাদু, যে ব্যক্তি মস্তিস্কের অলৌকিক ক্ষমতাবলীর এক মুর্তিমান রূপ ছিলেন, যাঁর দৃষ্টি ছিল প্রলয়ঙ্করী আর কন্ঠস্বর ছিল কিয়ামত সদৃশ, যাঁর হাতের প্রতিটি আঙ্গুলে যেন বিপ্লব ঘটানোর কলকাঠি ছিল আর যার দু’টি মুষ্ঠি যেন বৈদ্যুতিক ব্যাটারির মত শক্তিশালী ছিল, যে ব্যক্তি ধর্ম-জগতে ত্রিশ বছর ধরে এক ভূমিকম্প ও ঝড়ের মত বিরাজ করেছে, যে ব্যক্তি কিয়ামত সদৃশ রব তুলে ঘুমন্ত মানুষদের জাগ্রত করে তুলেছিল ..মির্যা গোলাম আহমদের মৃত্যু এমন সাধারণ কোন বিষয় নয় যার কাছে শিক্ষনীয় কিছু নেই আর যাঁর স্মৃতি কেবল কালের আবর্তনে ও মানুষের ধৈর্য ধারণের দরুন ম্লান হয়ে যাবে। যাঁদের মাধ্যমে ধর্ম ও জ্ঞানের জগতে বিপ্লব সাধিত হয় এমন মানুষ পৃথিবীতে অহরহ জন্মগ্রহণ করেন না। এ ধরণের ক্ষণজন্মা পুরুষের জগতে আগমন অতি বিরল আর এঁরা যখনই আসেন বিশ্বে এক বিপ্লব সাধন করে দেখান।” [‘উকিল’ পত্রিকা, অমৃতশর থেকে প্রকাশিত, তারিখে আহ্‌মদীয়াত, ২য় খন্ড থেকে উদ্ধৃত, পৃঃ ৫৬০]

এই বিপ্লব সাধনের স্বীকারোক্তি অন্যের মুখে ও লেখনীর মাধ্যমে প্রকাশ করে আল্লাহ্‌ তা’লা একথা বলে দিচ্ছেন, সেই মহান ব্যক্তি খোদা তা’লার বিশেষ সাহায্যপ্রাপ্ত ছিলেন। কিন্তু সেই ঐশী সমর্থন লাভকারী ব্যক্তি যে বিপ্লব সাধন করে গেছেন,তাদের দৃষ্টি সেদিকে যায়নি।

সেই বিপ্লবকে তাঁর অনুসারীদের মাঝে খিলাফতের ঐশী নিয়ামতের মাধ্যমে বজায় রাখার বিষয়ে আশ্চর্য ক্ষমতার অধিকারী ও শক্তিধর খোদার পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি ছিল। এরই সত্যায়ন জগদ্বাসী খলীফাতুল মসীহ্‌ আউয়াল হযরত মওলানা নুরুদ্দীন (রাঃ)-এর খলীফা নির্বাচনের সময় প্রত্যক্ষ করে। বিরোধীরা যদিও হযরত মসীহ্‌ মাওউদ (আঃ)-এর প্রতিষ্ঠিত একটি সুসংগঠিত জামাত প্রত্যক্ষ করছিল, যদিও খিলাফত প্রতিষ্ঠার দৃশ্য অবলোকন করেছিল কিন্তু তবুও তারা এই জামাতকে যা আল্লাহ্‌ তা’লার নিজ হাতে প্রতিষ্ঠিত একটি জামাত- যার সম্বন্ধে আল্লাহ্‌ তা’লার অঙ্গীকার হলো:

“উযকুরু নি’মাতী গারাসতু লাকা বিয়াদি রাহমাতি ওয়া কুদরাতি”।

অনুবাদঃ আমার অনুগ্রহ স্মরণ কর। আমি তোমার জন্য নিজ হাতে আমার কৃপা ও শক্তি প্রদর্শনের এক বৃক্ষ রোপন করেছি। (তাযকেরা: পৃ: ৪২৮)

তবুও তারা একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এটাকে ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টা করে। কিন্তু স্থায়ী ঐশী রীতি অনুযায়ী তারা সবাই ব্যর্থ হয়। তারা এত তীব্রভাবে এর বিরোধিতা করেছিল, যার প্রতিফলন একটি পত্রিকায় এভাবে দেখতে পাওয়া যায়:

“আমাদের কেউ জিজ্ঞেস করলে আমরা খোদার নামে শপথ করে বলতে পারি, মুসলমানরা পারলে মির্যার সমস্ত বই-পুস্তক সমুদ্রে না ফেলে জ্বলন্ত চুলায় নিক্ষেপ করবে। শুধু এটুকুই নয়, বরং ভবিষ্যতে কোন মুসলমান অথবা অমুসলমান ইতিহাসবিদ হিন্দুস্থানের কিংবা ইসলামের ইতিহাসে যেন তার নামও উল্ল্যেখ না করে।” (উকিল পত্রিকা, অমৃতশর, ১৩ই জুন ১৯০৮, তারিখে আহ্‌মদীয়াত, ৩য় খন্ডের পৃ: ২০৫-২০৬)

কিন্তু আজ আহ্‌মদীয়াতের ইতিহাস সাক্ষী, জগতও জানে, তাদের নাম স্মরণ করার মানুষ না থাকলেও খিলাফতের কল্যাণে আহ্‌মদীয়াত জগতে বিস্তৃত ও প্রসারিত হচ্ছে এবং এর নাম নেয়ার মত কোটি কোটি মানুষ জগতে আজ বিদ্যমান।

তাদের বাজে ও অনর্থক কথাবার্তায় তারা এতদূর অগ্রসর হয়েছিল যে, ‘কার্জন গেজেট’ পত্রিকা একবার এমন কথা লিখেছিল যেটা হযরত খলীফাতুল মসীহ্‌ আউয়াল (রাঃ) তাঁর খিলাফতকালের প্রথম জলসার বক্তৃতায় উল্ল্যেখ করেছেন। পত্রিকাটি লিখেছিল:

“এখন মির্যাইদের কাছে কি-ই বা আছে! তাদের মাথা কাটা পড়েছে। এখন এক ব্যক্তি যে তাদের ইমাম হয়েছে তার দ্বারা কোন কাজ না হলেও সে তোমাদের কোন মসজিদের ভেতর কুরআন শিক্ষা দিতে পারবে।” (তারিখে আহ্‌মদীয়াত, ৩য় খন্ড, পৃ: ২২১)

হযরত খলীফাতুল মসীহ্‌ আউয়াল (রাঃ) বলেছিলেন,

“সুবহানাল্লাহ! এটাই হচ্ছে প্রকৃত কাজ। আল্লাহ্‌ আমাকে এ কাজের সৌভাগ্য দান করুন।”

দুর্ভাগ্যবশতঃ জামাতের কয়েকজন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিও খিলাফতের মর্যাদা ও অবস্থান বুঝতে পারেন নি। ষড়যন্ত্র চলতে থাকে কিন্তু পাশাপাশি আল্লাহ্‌র স্বহস্তে রোপিত বৃক্ষ বৃদ্ধি পেতে থাকে। হযরত মসীহে মাওউদ (আঃ)-এর সাথে কৃত আল্লাহ্‌র অঙ্গীকার অনুযায়ী নিষ্ঠাবান প্রেমিকদের জামাত বৃদ্ধিলাভ করতে থাকে আর এর ক্ষতিসাধনের সকল অপচেষ্টাই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।

রপর দ্বি��ীয় খিলাফতের যুগ এলো। এ সময় সদর আঞ্জুমানের কয়েকজন নেতৃস্থানীয় সদস্য প্রকাশ্যভাবে বিরোধিতায় নেমে পড়লেন। কিন্তু তবুও জ্ঞানী হবার দাবীদার এসব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষি��� নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা সেই পঁচিশ বছর বয়সী যুবকের কাছে টিকতে পারেননি। তিনি জামাতকে সুসংগঠিত করে, জামাতকে তবলীগের ক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়ে, এর আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষণের বিষয়ে ও কুরআন শরীফের জ্ঞান ও তত্ত্ব চর্চার ক্ষেত্রে নিজের এমন এক মর্যাদা ও অবস্থান সৃষ্টি করেন, যার সম্মুখে কেউই দাঁড়াতে পারেনি। জামাতের যাত্রাপথে বড় বড় বিরোধিতা ও বিপদের যুগ দেখা দিয়েছে। কিন্তু খিলাফতের কল্যাণে জামাত এর সবকিছুই সফলতার সাথে অতিক্রম করেছে। হযরত খলীফাতুল মসীহ্‌ সানী (রাঃ)-এর বায়ান্ন বছরব্যাপী খিলাফতকালের ইতিবৃত্ত পড়লে জানা যায়, আল্লাহ্‌র প্রত্যাদিষ্ট ‘জারিউল্লাহ’ (বা আল্লাহ্‌র মনোনীত বীর) হযরত মসীহে মাওউদ (আঃ)-এর এই প্রতিশ্রুত পুত্র কি কি মহান কাজ সম্পাদন করে গেছেন।

হ্‌মদীয়াতের ভুবনে হযরত মুসলেহ মাওউদ (রাঃ)-এর মৃত্যুর পর আরেকবার ভীতিপ্রদ অবস্থার সৃষ্টি হয়। কিন্তু আল্লাহ্‌ তা’লা তাঁর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কয়েক ঘন্টার মধ্যেই একে শান্তি ও নিরাপত্তায় বদলে দেন আর দ্বিতীয় কুদরতের তৃতীয় বিকাশের উজ্জ্বল চন্দ্র জামাতকে দান করেন। বিভিন্ন রাষ্ট্রশক্তির বিরোধিতা সত্ত্বেও, জামাতের বিরুদ্ধে অবৈধ আইন প্রয়োগ এবং সমস্ত মুসলমান ফির্কার সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এই ঐশী কাফেলা উন্নতির বিভিন্ন স্তর অতিক্রম করে এগিয়ে চলে। এ জামাত প্রেম ও ভালবাসার জয়ধ্বনি দিতে দিতে, দরিদ্র জাতিগুলোর দারিদ্রপীড়িত জনগোষ্ঠীর সেবায় নিয়োজিত থেকে, তাদের কাছে মহানবী (সাঃ)-এর বানী পৌঁছে দিয়ে মানুষকে তাঁর (সাঃ) পতাকার ছায়াতলে সমবেত করতে থাকে।

বার সেই মুহূর্তও এসে উপস্থিত হয় যখন ঐশী তকদীর অনুযায়ী হযরত খলীফাতুল মসীহ্‌ সালেস (রাহেঃ) তাঁর স্রষ্টার কাছে প্রত্যাবর্তন করেন। পুনরায় ভেতর ও বাইরে থেকে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা হয় কিন্তু ঐশী অঙ্গীকার অনুযায়ী আহ্‌মদীয়া জামাত চতুর্থ খিলাফতের মাধ্যমে দৃঢ়তা লাভ করে। এসব নৈরাজ্য আপনা আপনিই নিঃশেষ হয়ে যায়। অমানবিক আইনের মাধ্যমে ঐশী জামাতের হাত পা বেঁধে ফেলার এবং ‘আহ্‌মদীয়াত নামক ক্যান্সার’-কে নির্মূল করার দাবীদারদের আল্লাহ্‌ তা’লা সমূলে উৎপাটন করেন। পাকিস্তানে পাশবিক আইন প্রণয়নের কারণে যুগ-খলীফাকে দেশত্যাগ করতে হয়, তবে এই হিজরত জামাতের জন্য নিত্য নতুন উন্নতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমরা আরও একবার “গারাসতু লাকা বিইয়াদি” (আমি নিজ হাতে তোমার জন্য কুদরত ও রহমতের চারা গাছ রোপন করেছি)-র অঙ্গীকার পূর্ণ হতে দেখি। প্রচার ও প্রসারের এমন সব দিগন্ত উন্মোচিত হয় যা তখনও কল্পনা বলে মনে হতো। হযরত আকদাস মসীহে মাওউদ (আঃ)-এর সাথে কৃত আল্লাহ্‌ তা’লা তাঁর অঙ্গীকার: ‘আমি তোমার প্রচারকে পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে পৌঁছাবো’ চতুর্থ খিলাফতের যুগে এমনভাবে পূর্ণ করে দেখিয়েছেন যা অবলোকন করে মানুষ আশ্চর্য না হয়ে পারে না। একদিকে যদি আমরা আমাদের সীমাবদ্ধতাকে লক্ষ্য করি, অপরদিকে এই ভূ-উপগ্রহ ভিত্তিক টিভি চ্যানেল চালু করার দৃশ্যটির দিকে তাকাই তাহলে ঈমানদারদের অন্তর অবলীলাক্রমে আল্লাহ্‌র পবিত্রতা ও মহিমা কীর্তন না করে পারে না। এই টিভি চ্যানেলটি আজ পূর্ব থেকে পশ্চিমে আর উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রত্যেক আহ্‌মদীয়া-বিরোধীকে হতবাক করে দিয়েছে। যারা যুগ-খলীফাকে এক পক্ষাঘাতগ্রস্থ অকেজো অঙ্গের মত করে দিতে চেয়েছিল, MTA চ্যানেল সেই সংগ্রামী পুরুষটির কন্ঠ তাদেরই বাড়ী-বাড়ী পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। হযরত মসীহে মাওউদ (আঃ)-এর গভীর জ্ঞান-ভান্ডার আর মহান আল্লাহ্‌র শেষ শরিয়ত গ্রন্থ কুরআন শরীফের ঐশী ভান্ডার আজ প্রতিটি বাড়িতে আল্লাহ্‌র সাহায্যে পৌঁছে যাচ্ছে।

রিশেষে “কুল্লু মান আ’লায়হা ফান”-এর নিয়মানুযায়ী হযরত খলীফাতুল মসীহ্‌ রাবে (রাহেঃ)-এর মৃত্যুর পর গোটা জগত প্রত্যক্ষ করলো আর MTA-র ক্যামেরার মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাড়ী বাড়ী এমন এক দৃশ্য দেখা গেল, যে দৃশ্য আপন-পর সবার জন্য আশ্চর্যজনক ছিল। আপনরা আনন্দিত হলো, কেননা আল্লাহ্‌ তা’লা ভীতিপ্রদ ও আশঙ্কাজনক অবস্থাকে শান্তি ও নিরাপত্তায় বদলে দিলেন। আর বিরোধীরা একথা ভেবে হতবাক হলো, এ কেমন এক জামাত, আমরা এক’শ বছর ধরে এদের নিঃশেষ করতে সচেষ্ট অথচ এরা কেবল এগিয়েই চলছে!! একজন বিরোধী অবলীলায় বলেছেন, আমি তোমাদের সত্য বলে মনে না করলেও এই দৃশ্য দেখে খোদা তা’লার সমর্থনের বাস্তব সাক্ষ্য তোমাদের সপক্ষে রয়েছে বলেই মনে হয়।

আমার মত এক দুর্বল ও সীমাবদ্ধ জ্ঞানসম্পন্ন মানুষের হাতেও আল্লাহ্‌ তা’লা এই জামাতকে একত্র করে দিয়েছেন আর দিন দিন এই পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়ে চলেছে। জগতের মানুষ মনে করতো, এই ব্যক্তি হয়তো এই সংঘবদ্ধ জামাতকে সামাল দিতে পারবে না, আর তারা হয়তো এবার সেই দৃশ্য দেখার সুযোগ পাবে যা দেখার জন্য তারা এক’শ বছর ধরে অপেক্ষমান। কিন্তু তারা ভুলে গেছে, এই গাছ স্বয়ং খোদা তা’লার হস্তে রোপিত। এক্ষেত্রে কোন মানুষের কিছুই করার নেই। বরং ঐশী প্রতিশ্রুতি আর সমর্থনে এর সমস্ত কার্যক্রম চলছে। আল্লাহ্‌ তা’লা তাঁর প্রেরিত মসীহ্‌র প্রতি নাযেলকৃত এই ইলহাম পূর্ণ করে চলেছেন:

“আমি তোমার সাথে আর তোমার প্রিয়জনদের সাথে আছি”।

অতএব, এসব ঐশী পরিকল্পনা অনুযায়ী হচ্ছে। এটা সেই খোদার অঙ্গীকার যিনি কখনও মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেন না। এ অঙ্গীকার অনুযায়ী হযরত মসীহ্‌ মাওউদ (আঃ)-এর সেই সব প্রিয়ভাজন অনুসারী যারা তাঁর আদেশানুযায়ী ‘দ্বিতীয় কুদরত’-কে আকড়ে ধরে আছেন, তাঁরা জগতে বিজয়লাভ করবেন কেননা খোদা তাঁদের সাথে আছেন। খোদা আমাদের সাথে আছেন। আজ সেই কুদরত প্রকাশের শতবার্ষিকী পূর্তি হচ্ছে। যেভাবে আমি জামাতের ইতিহাস সংক্ষিপ্ত আকারে উল্ল্যেখ করে বলেছি, তদনুযায়ী আমরা প্রতিনিয়ত নতুন আঙ্গিকে ও মহিমায় এই ঐশী প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হতে দেখছি। তাই প্রত্যেক আহ্‌মদীর আবশ্যিক দায়িত্ব হলো, ‘দ্বিতীয় কুদরতের’ সাথে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত থেকে হযরত মসীহে মাওউদ (আঃ)-এর আবির্ভাবের উদ্দেশ্যকে নিজ সাধ্যানুযায়ী পূর্ণ করতে সচেষ্ট হওয়া। আজ বিশ্বের খৃষ্টানদেরও মহানবী (সাঃ)-এর পতাকাতলে সমবেত করতে হবে, ইহুদীদেরও মহানবী (সাঃ)-এর ছায়াতলে একত্রিত করতে হবে, হিন্দুদেরও এবং প্রত্যেক ধর্মের অনুসারীদের মহানবী (সাঃ)-এর পতাকাতলে জড়ো করতে হবে। ‘আহ্‌মদীয়া খিলাফত’ হলো সেই ব্যবস্থা যার সাথে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত থেকে আমরা ভূ-পৃষ্ঠে বসবাসরত সকল মুসলমানকে প্রতিশ্রুত মসীহ্‌ ও ইমাম মাহ্‌দী (আঃ)-এর হাতে একত্রিত করবো।

তএব বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ও দেশে বসবাসরত হে আহ্‌মদীরা! এই মূল বা শেকড়কে ভালোভাবে আঁকড়ে ধর, আর যে দায়িত্ব যুগ-ইমাম প্রতিশ্রুত মসীহ্‌ ও মাহ্‌দী (আঃ) আল্লাহ্‌ তা’লার পক্ষ থেকে আদিষ্ট হয়ে তোমাদের স্কন্ধে অর্পন করেছেন, তা সম্পাদন কর। ‘বরং উহা তোমাদের সম্বন্ধে’ (আল্‌ ওসিয়ত পুস্তিকা দ্রষ্টব্য) - একথা বলে তিনি এই মহান দায়িত্ব আমাদের উপর অর্পন করেছেন। অঙ্গীকারসমূহ কেবল তখনই পূর্ণ হয়, যখন এগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট শর্তাবলী পূর্ণ করা হয়।

অতএব, হে মুহাম্মদী মসীহ্‌র অনুসারীরা! হে যারা প্রতিশ্রুত মসীহ্‌ (আঃ)-এর প্রিয়জন এবং তাঁর বৃক্ষরূপ অস্তিত্বের সবুজ-সতেজ শাখা-প্রশাখা! তোমরা সজাগ হও আর আহ্‌মদীয়া খিলাফতের দৃঢ়তা ও স���থায়ীত্বের জন্য সব ধরণের ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত থাকো, যেন তোমরা সেই বাণী যা নিয়ে মুহাম্মদী মসীহ্‌ তাঁর নেতা ও প্রেমাষ্পদ মুহাম্মদ (সাঃ)-এর প্রতিনিধিস্বরূপ আল��লাহ্‌ তা’লার পক্ষ থেকে প্রত্যাদিষ্ট হয়ে আবির্ভূত হয়েছেন। তোমরা আল্লাহ্‌র রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে তা পৃথিবীর প্রান্তে-প্রান্তে ছড়িয়ে দাও। জগতের সকল মানুষকে একথা বলে দাও, তোমাদের স্থায়ীত্ব ও প্রকৃত জীবন এক-অদ্বিতীয় খোদার সাথে সম্পর্ক স্থাপনের মাঝে নিহিত। বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তা এখন এই জামাতের সাথে সংযুক্ত হবার মাঝে নিহিত, যা প্রতিশ্রুত মাহ্‌দী ও মসীহ্‌র দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কেননা এটিই হলো খাঁটি ইসলামী শিক্ষা ও আদর্শের পতাকাবাহী জামাত। জগতে এর কোন তুলনা পাওয়া যায় না। পৃথিবীতে মুহাম্মদী মসীহ্‌র আগমনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বাস্তবায়ন করার এবং মানবতাকে এক ও ঐক্যবদ্ধ করার একমাত্র উপায় আহ্‌মদীয়া খিলাফতের সাথে সবাইকে সম্পৃক্ত করা। এরই মাধ্যমে খোদা-প্রেমিকরা জগতে এক বিপ্লব সাধন করবে। আল্লাহ্‌ তা’লা প্রত্যেক আহ্‌মদীকে ঈমানের দৃঢ়তার পাশাপাশি জগতের প্রতিটি মানুষের কাছে এ বাণী পৌঁছে দেয়ার সৌভাগ্য দান করুন। আমীন।

ওয়াস্‌সালাম
খাকসার

মির্যা মসরূর আহমদ
খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

উপরে চলুন