In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

بِسْمِ اللهِ الرَّحْمـٰنِ الرَّحِيمِ

জুমুআর খুতবা

জুমুআতুল বিদা ও জুমুআর নামাযের গুরুত্ব

সৈয়্যদনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মসীহ্‌ আল্‌ খামেস (আই:)

বাইতুল ফুতুহ্‌ মস্‌জিদ, লন্ডন, ইউকে

২০শে অক্টোবর, ২০০৬ইং

পবিত্র কুরআন এবং হাদীস থেকে জুমুআতুল বিদার কোন ধারণা পাওয়া যায়না। প্রত্যেক আহ্‌মদীকে সর্বদা জুমুআর গুরুত্বকে দৃষ্টিতে রাখা আবশ্যক, ছোট ছোট অজুহাত গড়ে বা অজুহাত দেখিয়ে খোদাতা’লার নির্দেশাবলীকে অবজ্ঞা করা উচিত নয়। জুমুআর দিনে দোয়া কবুলিয়াতের একটি বিশেষ মূহুর্ত এসে থাকে, এথেকে লাভবান হওয়া প্রয়োজন।

أشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك لـه، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله. أما بعد فأعوذ بالله من الشيطان الرجيم*

بسْم الله الرَّحْمَن الرَّحيم * الْحَمْدُ لله رَبِّ الْعَالَمينَ * الرَّحْمَن الرَّحيم * مَالك يَوْم الدِّين * إيَّاكَ نَعْبُدُ وَإيَّاكَ نَسْتَعينُ * اهْدنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقيمَ * صِرَاط الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْر الْمَغْضُوب عَلَيْهمْ وَلا الضَّالِّينَ (آمين)

উচ্চারণ: আশহাদু আন্‌ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকালাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু আম্মা বা’দু ফাউযু বিল্লাহি মিনাশ্‌ শাইতানির রাজীম। বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন আর্‌ রহমানির রাহীম মালিকি ইয়াওমিদ্দিন ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাসতাঈন ইহদিনাসসিরা তাল মুস্তাকীম সিরাতাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহীম গাইরিল মাগযুবে আলাইহীম ওয়ালায্‌ যোয়াল্লীন। (আমীন)

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِيَ لِلصَّلَاةِ مِن يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ

فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِن فَضْلِ اللَّهِ وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

وَإِذَا رَأَوْا تِجَارَةً أَوْ لَهْوًا انفَضُّوا إِلَيْهَا وَتَرَكُوكَ قَائِمًا قُلْ مَا عِندَ اللَّهِ خَيْرٌ مِّنَ اللَّهْوِ وَمِنَ التِّجَارَةِ وَاللَّهُ خَيْرُ الرَّازِقِينَ

(আল্-জুমুআ: ১০-১২)

আজ এই রমযানের শেষ জুমুআ এবং ইনশাআল্লাহ্‌ দু তিন দিনের মধ্যে এ রমযান মাসও শেষ হয়ে যাবে। সৌভাগ্যবান তারা যারা এই মাসে নিজেদের শক্তি ও সামর্থ অনুযায়ী আল্লাহ্‌ তা’আলার নির্দেশাবলী অনুসারে চলার এবং তাঁর স্নেহ, ভালবাসা এবং সন্তুষ্টি অর্জনকারীদের মাঝে অন্তর্ভূক্ত হবার চেষ্টা করেছেন। যাই হোক ইতিমধ্যে আমি বলেছি, এখনও দু তিন দিন হাতে আছে, যারা এ রমযান থেকে পুরোপুরি লাভবান হতে পারেননি তারা এই অবশিষ্ঠ দিনগুলোতেই যদি আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেন তাহলে আল্লাহ্‌ তা’আলার অনুগ্রহরাজি অর্জনকারী হতে পারেন। কেননা নিষ্ঠার সাথে তাঁর পথে অতিবাহিত একটি মূহুর্তও মানবের অবস্থা পরিবর্তনে সক্ষম আর খোদাতা’লা তাঁর প্রতি অগ্রসরমানকে পিতা-মাতার চেয়েও বেশী ভালবাসেন। তিনি যখন তাঁর বান্দাকে নিজের কাছে টেনে নেন তখন সেই বান্দা আর তদ্রূপ থাকে না যেরূপে পূর্বে ছিল। সেই সত্য ও আন্তরিকতাপূর্ণ এক মূহুর্তের দোয়া মানুষকে পাপ থেকে এত দূরে নিয়ে যায় আর তার স্বভাবে এতটাই পার্থক্য সৃষ্টি করে যা পূর্ব ও পশ্চিমের দূরত্বের ন্যায়। সুতরাং আল্লাহ্‌ তা’আলার সত্বা সম্পর্কে নৈরাশ্যের কোন প্রশ্নই নেই কেবল ঐ পথে পরিচালিত হওয়া আবশ্যক যা আল্লাহ্‌ তা’আলাকে লাভ করার পথ।

আল্লাহ্‌ তা’আলাকে লাভ করার সেই পন্থা শেখা প্রয়োজন যা আঁ-হযরত (সাঃ)-এর মাধ্যমে আল্লাহ্‌ তা’আলা আমাদেরকে শিখিয়েছেন। যা দীর্ঘ কাল থেকে বিস্মৃত অতিতে পরিণত হয়েছে যাকে পূণরায় হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) আমাদের সম্মুখে উপস্থাপন করেছেন। সুতরাং আমরা সেই সৌভাগ্যবান যারা সে ইমামের মান্যকারী, যিনি এই পথকে পরিস্কার করে আমাদেরকে সেদিকে পরিচালিত করেছেন। তিনি আমাদের চিন্তাধারার অসচ্ছতা দূর করেছেন ফলশ্রুতিতে বেদাত এবং ভুল রীতি-নীতি থেকে আমাদের চিন্তাধারা পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন হয়েছে যে ভুল রীতি-নীতিতে আজ অ-আহ্‌মদী সমাজ নিমজ্জিত। অনেক ভুল রীতি-নীতির তাদের মাঝে অনুপ্রবেশ ঘটেছে, বেদাত স্থান করে নিয়েছে, যদ্দরুন তাদের বিভিন্ন বিষয় আল্লাহ্‌ তা’আলার, সে শিক্ষা থেকে যোজন যোজন দূরে সরে গেছে যা আল্লাহ্‌ তা’আলা আঁ-হযরত (সাঃ)-এর উপর অবতীর্ণ করেছিলেন। এসকল বিষয়ের মধ্যে একটি হচ্ছে জুমুআতুল বিদা। যদিও পবিত্র কুরআন এবং হাদীসসমূহ থেকে জুমুআতুল বিদার কোন ধারণা পাওয়া যায় না। হ্যাঁ, জুমুআর গুরুত্ব রয়েছে আর অনেক বেশি গুরুত্ব রয়েছে, আমি যে আয়াত পাঠ করেছি তার এবং বিভিন্ন হাদীসের আলোকে এ বিষয়ে বলবো। কিন্তু এর পূর্বে আমি অত্যন্ত দুঃখের সাথে একথা বলতে চাই যে, যুগ ইমামের হাতে বয়’আত করা সত্বেও আর এ ধারণাকে মস্তিষ্ক থেকে বের করে দেয়ার জন্য আহ্‌মদীয়াতের খলীফাগণ বার বার এদিকে মনযোগ আকর্ষন করেছেন, তবুও কিছু সংখ্যক আহ্‌মদীও সমাজের এই কুসংস্কার এবং বিদাতের শিকার হয়ে জুমুআর গুরুত্ব ভুলে জুমাতুল বিদার ধারণা মস্তিষ্কে লালন করছেন। এমন মানুষ মুখে স্বীকার করুন বা না করুন তাদের আচার-আচরণ ও কর্মদ্বারা এটি প্রকাশ করছেন। সাধারণত গোটা বছরে জুমুআর নামাযের যে উপস্থিতি হয়, রমযানে বিশেষ পরিবেশের কারণে জুমুআর উপস্থিতি এথেকে অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু রমযানের শেষ জুমুআয় এই উপস্থিতি রমযানের অন্যান্য জুমুআর তুলনায় বহুগুন বৃদ্ধি পায় যাথেকে সুস্পষ্টভাবে বুঝা যায় এ দিনের প্রতি মনযোগ বেশী। এটি হয়তো বলা যেতে পারে যে, কেন্দ্রে অথবা যেখানে খলীফায়ে ওয়াক্ত জুমুআর নামায পড়িয়ে থাকেন সেখানে মানুষ অধিক হারে অংশ নিতে চেষ্টা করে যা যুক্তিযুক্ত, কিন্তু বিভিন্ন জামা’ত যদি জরিপ চালায়, তাহলে প্রতিটি মসজীদে রমযানের শেষ জুমুআর উপস্থিতি পূর্বের তুলনায় বেশী বলে দৃশ্যমান হবে। সুতরাং এ আচরণ প্রকাশ করছে যে, রমযানের শেষ জুমুআয় অংশ নাও, জুমুআ আদায় করো আর পাপ ক্ষমা করিয়ে নাও। একথা ঠিক যে, আল্লাহ্‌ তা’আলা রমযানে বান্দার সাথে পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি ক্ষমার আচরণ করেন কিন্তু বান্দাদেরও আল্লাহ্‌ তা’আলার এরূপ আচরণের ফলে সাধ্য ও সামর্থ অনুযায়ী যা আল্লাহ্‌ তা’আলা আমাদেরকে শিখিয়েছেন তার উপর প্রতিষ্ঠিত থাকার চেষ্টা করা আবশ্যক। আমি পূর্বেই বলেছি! আল্লাহ্‌ তা’আলা পবিত্র কুরআনে এবং আঁ-হযরত (সাঃ) বিভিন্ন সময়ে জুমুআর দিনের গুরুত্বের প্রতি মনযোগ আকর্ষন করেছেন কিন্তু জ���মু’আতুল বিদার গুরুত্বের কোন ধারনা পাওয়া যায়না। বরং যেভাবে হযরত খলীফাতুল মসীহ্‌ রাবে (রাহেঃ) বলতেন,

এই জুমুআ যা রমযানের শেষ জুমুআ তাথেকে আমরা এই শিক্ষ��� পাই যে, নিজেদের মাঝে পবিত্র পরিবর্তন সৃষ্টি করতঃ এই জুমুআ থেকে এমনভাবে বের হউন যেন রমযানের পরে আগত জুমুআর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বা জুমাকে স্বাগত জানাচ্ছেন বলে প্রতিভাত হয়। একইভাবে প্রত্যেক জুমুআ পরবর্তী জুমুআর জন্য প্রস্তুত করে আমাদের জন্য আধ্যাত্মিক উন্নতির ক্ষেত্রে নতুন পথের দিশারী হোক। আর এভাবেই আমাদের অভ্যন্তরে আধ্যাত্মিক আলোর প্রদীপ থেকে প্রদীপ জ্বলতে থাকবে আর এ ধারাবাহীকতা যেন নিরবচ্ছিন্ন হয় এবং প্রত্যেক আগত রমযান আমাদেরকে আধ্যাত্মিকতার নতুন পথ প্রদর্শনকারী রমযান হোক, নতুন গন্তব্যের প্রতি পরিচালিত রমযান হোক যার প্রভাব আমরা প্রতিমূহুর্ত নিজেদের জীবনেও দেখি আর আমাদের স্ত্রী, সন্তান-সন্ততির মধ্যে ও দেখি এবং নিজেদের পরিবেশেও দেখি।

আমি বলেছিলাম যে, কুরআন ও হাদীস থেকে আমরা জুমুআর গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারি। পবিত্র কুরআন আল্লাহ্ ‌তা’আলা এ সম্পর্কে যে আদেশ অবতীর্ণ করেছেন সর্বপ্রথমে তা আমি আপনাদের সামনে বর্ণনা করছি। এ আয়াত যা আমি তেলাওয়াত করেছি এতে আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন,

হে যারা ঈমান এনেছ! যখন তোমাদেরকে জুমুআর দিনের একটি বিশেষ অংশে নামাযের জন্য আহবান করা হয় তখন আল্লাহ্‌র স্মরণের উদ্দেশ্যে দ্রুত আস এবং ক্রয়-বিক্রয় পরিত্যাগ কর। এটিই তোমাদের জন্য উত্তম যদি তোমরা জানতে।

এর পরের আয়াতে বলেছেন,

অতঃপর যখন নামায শেষ হয়ে যায় তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহ্‌র ফযল অন্বেষণ কর আর আল্লাহ্‌কে বেশি বেশি স্মরণ কর যেন তোমরা সফলকাম হও। তারপর বলেন, এবং যখন তারা কোন ব্যবসা-বাণিজ্য অথবা আমোদ-প্রমোদের উপকরণ দেখতে পায় তখন তারা তোমাকে একাকী দন্ডায়মান অবস্থায় ছেড়ে তার দিকে ছুটে যাবে। তুমি বল! যা আল্লাহ্‌র কাছে আছে তা আমোদ-প্রমোদ এবং ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে উৎকৃষ্টতর, বস্তুত আল্লাহ্‌ রিয্‌কদাতাদের মধ্যে সর্বোত্তম।

দেখুন কত সুস্পষ্ট নির্দেশ! কোন জুমুআর প্রতি আহবান করা হচ্ছে সেসম্পর্কে কোন কিছু অস্পষ্ট রাখা হয়নি? কেবল নির্দেশ হচ্ছে জুমুআর দিনে জুমুআর নামাযের প্রতি আহবান করা হলে এই প্রিয় যিকর (নামায) এর উদ্দেশ্যে দ্রুত ধাবিত হও। এই চিন্তা করো না যে, সামান্য একটু কাজ বাকী আছে তা শেষ করে তারপর যাবো। এখানে অধিকাংশ সময়ে দেখা যায় যে, খুৎবা আরম্ভ হবার সময়ে এই মসজিদের অর্ধেকের কম স্থান পূর্ণ হয় এরপর ধীরে ধীরে মানুষ আসা শুরু করে আর স্থান পূর্ণ হতে থাকে। কেবল এখানেই নয় পৃথিবীর সর্বত্র একই অবস্থা বিরাজমান বরং অনেকেই সানী খুৎবার সময় এসে থাকেন। অনেকের কর্মক্ষেত্রে ছুটির সমস্যা রয়েছে, কিছু আছেন যাদের অনেক সময় যানবাহনের সমস্যায় পড়তে হয় কিন্তু অনেকেই দেরীতে আসতে অভ্যস্ত আর যথাসম্ভব দেরীতে আসতে চেষ্টা করে যেন নামায ধরে দ্রুত ফিরে আসা যায় অথবা খুৎবার সামান্য অংশ শুনে নিলেই চলবে বলে মনে করা হয়। যদিও হাদীসে এসেছে:

হযরত আবু হুরায়রাহ্‌ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত যে, নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, জুমুআর দিন ফিরিশতা মসজিদের দরজায় দাঁড়িয়ে যায় এবং সর্ব প্রথম আগমনকারীকে প্রথমে লিখেন আর প্রথমে আগত ব্যক্তির দৃষ্টান্ত এমন যেন কেউ উট কুরবাণী করল। এর পরে আগমনকারী তার ন্যায় যে গাভী কুরবাণী করে, অতপর ছাগল, মুরগী সবশেষে ডিম কুরবাণীকারীর ন্যায়। অতপর ইমাম যখন মিম্বরে এসে যান তখন সে তার রেজিষ্টার বন্ধ করে যিকর শোনা আরম্ভ করে দেয়। (বুখারী, কিতাবুল ইসতিমা ইলাল খুৎবাতে ইয়াওমিল জুমুআতে)

অতএব দেখুন! জুমুআর নামাযে আগেভাগে আসার গুরুত্ব কত প্রাঞ্জলভাবে বর্ণনা করেছেন। যেভাবে আমি পূর্বেও বলেছি, বিভিন্ন কর্মে নিয়োজিত এমন মানুষও আছেন যাদের অপারগতা রয়েছে কিন্তু একটি সংখ্যা এরূপও আছে যাদের মাঝে এই চেতনাই নেই যে, সময়মত জুমুআয় যেতে হবে। এখানে অধিকাংশ সময়ে অনেকেই আমার সামনে মসজিদের সম্মুখাংশে বসেন, প্রায় নব্বই ভাগ একই চেহারা, আর আজও তারাই বসে আছেন। তাদের মাঝে অনেককে আমি জানি, তারা কাজও করেন আর এখানে সাধারণত অধিকাংশ লোক নিজের কাজ করে থাকেন। কেউ হয়তো ট্যাক্সি চলাচ্ছেন কেউবা অন্য কোন কাজ করছেন। তাই যারা প্রথমে আসেন তারা এবং যারা বিলম্বে আসে তারা আর যারা আসেন না তাদের সবার কাজের প্রকৃতি প্রায় একই ধরণের। তাই সঠিক সময়ে না আসা কেবল অযুহাত মাত্র। যারা সঠিক সময়ে আসেন তারাও তো নিজেদের কাজের ব্যঘাত ঘটিয়ে এসে থাকেন।

সুতরাং আল্লাহ্‌ তা’আলার এই নির্দেশকে স্মরণ রাখুন যে, জুমুআর নামাযের জন্য দ্রুত আস আর নিজেদের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কাজ-কর্ম পরিত্যাগ কর এবং সর্বদা স্মরণ রেখ ‘রিযকদাতা’ হচ্ছেন স্বয়ং খোদাতা’লা। তাঁর নির্দেশের উপর আমল করতঃ বাহ্যত ক্ষতির সম্মুখিন হয়েও যদি জুমুআর জন্য আস তাহলে খোদাতা’লা এরূপ উপায়-উপকরণ সৃষ্টি করবেন যারফলে যে ক্ষতির তোমরা আশংকা করছিলে তা হবে না আর কোথাও যদি সামান্য কোন অভাব থেকেও যায় তাহলে আল্লাহ্‌ তা’আলা একারণে তোমাদের অন্য কোন মাধ্যমে প্রভূত কল্যাণে ভূষিত করবেন।

জুমুআর ক্ষেত্রে তোমরা যে আলস্য বা অসাবধানতা প্রদর্শন করো তা প্রকৃতপক্ষে অজ্ঞানতার কারণে। যদি তোমরা জানতে যে, এর কত উপকার এবং আল্লাহ্‌ তা’আলা কিভাবে নিজ কল্যাণরাজি দান করবেন তাহলে এত আলস্য আর অসাবধানতা কখনও হত না। কখনও অসাবধান হবার প্রশ্নই উঠতো না বরং সর্বদা চেষ্টারত থাকতে যেন উট অথবা গাভী কুরবাণী করার সওয়াব অর্জিত হয়। সুতরাং প্রতিটি আহ্‌মদীকে সর্বদা জুমুআর গুরুত্বকে দৃষ্টিগোচর রাখা আবশ্যক আর ছোট-খাট অযুহাত দেখিয়ে অথবা বাহানা করে আল্লাহ্‌ তা’আলার নির্দেশাবলীকে উপেক্ষা করা উচিত নয়। জুমুআর খুৎবা এবং নামাযে আসা-যাওয়া সর্বোচ্চ দেড়-দু ঘন্টার ব্যাপার। অন্যান্য কাজে, কাজের বাহিরে অনেকেই অনেক সময় নষ্ট করে থাকে। মোকাররম চৌধুরী জাফর উল্লাহ্‌ খান সাহেবের একটি কথা আমার মনে পড়ছে, এখানেই কোথাও; পাশ্চাত্ব্যের কোন দেশে অমুসলমানদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা ছিল, কোন স্থান ছিল তা আমার পুরোপুরি স্মরণ নেই কিন্তু মোটকথা সেখানে তিনি ইসলামী ইবাদতসমূহের উল্ল্যেখ করেন আর জুমুআর দৃষ্টান্ত ও দেন যে, সপ্তাহ শেষে জুমুআ একটি আবশ্যকীয় ইবাদত। এ সম্পর্কে নির্দেশ রয়েছে, অবশ্যই আদায় করো। অনেকের জন্য এটি অনেক বড় একটি বোঝা। তিনি প্রশ্নের আকারে বলেন যে, এতে কতটা সময় লাগে। তারপরে তিনি সময়ের দৃষ্টান্ত দিতে গিয়ে বলেন, যতটা সময় দু’দান ব্রীজ (তাস) খেলুড়ে এই ব্রীজ খেলা শেষ করার পিছনে ব্যয় করে তাথেকে কম সময় লাগে এর জন্য। ব্রীজও এক ধরণের তাস খেলা। আমোদ-প্রমোদে মনযোগ থাকে কিন্তু জুমুআর প্রতি কোন আকর্ষণ নেই। সুতরাং, জাগতিকতার পূজারীদেরকে বুঝানোর জন্য তিনি এই দৃষ্টান্ত দিয়েছেন। অনরূপভাবে অন্যান্য অর্থহীন খেলা-ধুলা রয়েছে। অনেকে গল্প-গুজবে সময় ব্যয় করে, বসে থাকে অথচ জুমুআয় আসার ব্যাপারে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগে যে, এতটা সময় লাগবে? যাবো, বসতে হবে আর যদি খুৎবা দীর্ঘায়ীত হয় তাহলে কি করবো? জামাতের উপর এটি আল্লাহ্‌ তা’আলার ফজল যে, স্বামী-স্ত্রী’র মধ্যে কেউ না কেউ অবশ্যই পূণ্যের প্রতি অনুরক্ত হয়ে থাকেন। বিভিন্ন মহিলা এবং মেয়েরা একান্ত উদ্বেগের সাথে নিজেদের স্বামী সম্পর্কে দোয়ার জন্য লিখেন যে, আমাদের স্বামীদের জুমুআয় যাওয়ার অভ্যাস নেই আর অধিকাংশ সময়ে অকারণে অযুহাত দেখিয়ে জুমুআ নষ্ট করে থাকেন। দোয়া করুন যেন জুমুআয় যেতে অভ্যস্ত হয়। একটি হাদীস যাতে জুমুআর গুরুত্ব এবং জুমুআ না আদায়কারীদের সম্পর্কে আল্লাহ্‌ তা’আলার অসন্তুষ্টির কথা উল্ল্যেখ করে জুমুআ নষ্টকারীদের সম্পর্কে বর্ণিত হ��েছে যে,

হযরত আবু জা’দ যামরি বর্ণনা করেন, আঁ হযরত (সাঃ) বলেছেন, যে তাসাহুল বা উদাসীনতার সাথে লাগাতার তিনটি জুমুআ ছেড়ে দেয় আল্লাহ্‌ তাঁর হৃদয়ের উপর মোহর মেরে দেন। (সুনানু আবী দাউদ, কিতাবুস সালাত বাবুত্‌ তাশাদদুদে ফী তরকিল জুমুআতে)

দেখুন! কত বড় সাবধানবাণী! জুমুআ পরিত্যাগের ফলাফল কত ভয়ানক। আল্লাহ্‌ তা’আলা এধরণের লোকদের হৃদয় কঠোর করে দেন আর তাদের কর্মের ফলেই এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। জুমুআ সম্পর্কে উদাসীনতার কারণেই এ পরিণতির সৃষ্টি। দেখুন! এখানে অনবরত তিন জুমুআ পরিত্যাগ করা সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে, রমযানের শেষ জুমুআ পরিত্যাগের কোন উল্ল্যেখ এখানে নেই। অর্থাৎ, যে একাধারে তিনটি জুমুআ পরিত্যাগ করে তার হৃদয় কঠোর হয়ে যায়, তার হৃদয়ে মোহর মেরে দেয়া হয়। একথা বলা হয়নি, যে রমযানের শেষ জুমুআ পরিত্যাগ করে অথবা একাধারে তিন রমযানের শেষ জুমুআয় যাবে না তার হৃদয় কঠোর হবে। এজন্য বিশেষভাবে জুমুআর গুরুত্ব স্মৃতিপটে রাখতে হবে এছাড়া নিজের সর্বপ্রকার ইবাদতকে জীবিত করার চেষ্টা করা প্রয়োজন যেন আল্লাহ্‌ তা’আলা যিনি একান্ত ক্ষমাশীল তার কাছ থেকে স্বীয় পাপ ক্ষমা করানো আর তাঁর কল্যাণরাজি অর্জন এবং তার জন্য সচেষ্ট সাব্যস্ত হও।

হযরত আবু হুরায়রাহ্‌ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত যে, নবী করীম (সাঃ) বলেছেন,

যদি মানুষ কবিরা গুনাহ্‌ বা বড় বড় পাপ থেকে নিজেকে রক্ষা করে তাহলে পাঁচ বেলার নামায, এক জুমুআ থেকে পরবর্তী জুমুআ এবং রমযান থেকে পরবর্তী রমযান উভয়ের মাঝে সংঘটিত অপরাধের প্রায়শ্চিত্ব হয়ে থাকে। (আত্‌তারগীব ওয়াত্‌ তারহীব কিতাবুল জুমুআ, বাবুত্‌ তারগীবে ফী সালাতিল জুমুআ ওয়াস্‌ সাঈয়ে ইলাইহা)

অর্থাৎ মানুষ যদি বড় বড় পাপ থেকে বিরত থাকে আর নিজ নামাযের প্রতি যত্নবান হয়ে নিয়মিত জুমুআ আদায় করে এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে রমযানের রোযা রাখে তাহলে এই কর্মের কারণে আল্লাহ্‌ তা’আলা তাঁর বান্দার ছোট-খাট ভুল-ভ্রান্তি, ত্রুটি-বিচ্যূতি আর গুনাহ্‌কে উপক্ষো করবেন। মানুষ প্রত্যেক নামাযের পর যদি পরবর্তী নামাযের জন্য অপেক্ষমান থাকে আর পরের ওয়াক্তের নামায আদায় করে তাহলে আল্লাহ্‌ তা’আলা তার মধ্যবর্তী সময়ের ভুল-ভ্রান্তি ক্ষমা করে দেন। জুমুআর পরে সপ্তাহব্যাপী যে সকল ত্রুটি-বিচ্যূতি হয়ে থাকে তা পরবর্তী জুমুআয় ক্ষমা করে দেন। অনুরূপভাবে বছরব্যাপী যদি কোন ভুল-ত্রুটি হয়ে যায় তাহলে রমযানে আল্লাহ্‌ তা’আলা ক্ষমার দ্বার উম্মুক্ত করেন এবং ক্ষমা করে দেন। অতএব দেখুন! এখানে কেবল জুমুআ বা জুমুআতুল বিদার উল্ল্যেখ নেই বরং রোযা ও নামাযের প্রতি মনোনিবেশেরও প্রয়োজন রয়েছে। তারপর প্রত্যেক জুমুআর প্রতি দৃষ্টি প্রদান আবশ্যক। যেমন, অনেকের ধারণা যে, পুরো জীবনের ক্বাজা পড়ে নিয়েছি তাই পাপ ক্ষমা হয়ে গেছে বা জুমুআতুল বিদা আদায় করে নিয়েছি তাই গুনাহ মাফ হয়ে গেছে! এমন কথা এখানে বলা হয়নি। বরং প্রত্যেক জুমুআ পরবর্তী জুমুআ পর্যন্ত কৃত ভুল-ভ্রান্তির প্রায়শ্চিত্ব হয়ে থাকে। যেভাবে আমি বলেছিলাম জুমুআতে যাতায়াত এবং খুৎবা শোনার জন্য সর্বোচ্চ দেড়-দু ঘন্টার প্রয়োজন কেননা, যারা কাছাকাছি বসবাস করেন তারাই মসজিদে এসে থাকেন। তাই আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন, এটি সামান্য সময়ের ব্যাপার মাত্র, যখন তোমরা জুমুআ শেষ কর তখন সানন্দে কাজকর্মে ব্যপৃত হও আর জাগতিক সকল কাজ-কর্ম সম্পাদন কর আর আল্লাহ্‌র ফযল অন্বেষণ কর। আল্লাহ্‌ তা’আলা নিজ দয়ায় এ সকল জাগতিক নেয়ামত আর বৈধ ব্যবসা-বাণিজ্য তোমাদেরকে উপকৃত হবার লক্ষ্যে দান করেছেন। তাই এ কল্যাণদ্বারা লাভবান হও। এখানে এদিকেও ইঙ্গীত রয়েছে যে, অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্য বা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে যে ব্যবসা করা হয় তা বর্জন কর কেননা, আল্লাহ্‌ তা’আলার যে নিষেধাবলী রয়েছে তাথেকে মুক্ত থেকেই আল্লাহ্‌ তা’আলার দয়ার উত্তরাধিকারী হতে পারবে, তা করে নয়। নিজেদের কাজ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বৈধ-অবৈধের পার্থক্যের প্রতিও সর্বদা দৃষ্টি রাখবে। ঐ সকল লোকদের ন্যায় হওয়া উচিত নয় যারা অবৈধ ব্যবসাদ্বারা কালো টাকা উপার্জন করে আর চোরাকারবারী করে তারপরে হজ্জ করতে চলে যায় আর মনে করে, আমরা পবিত্র হয়ে গেছি আর আমাদের অতীত পাপসমূহ ক্ষমা হয়ে গেছে।

এ হাদীস যা আমি পাঠ করেছি তাতে বর্ণিত হয়েছে, জুমুআ হচ্ছে কাফ্‌ফারা বা প্রায়শ্চিত্ত্ব! এটি তখনই কাফ্‌ফারা হবে যখন মানুষ বড় গুনাহ্‌ থেকে বিরত থাকে অর্থাৎ কবিরা গুনাহ্‌ এড়িয়ে চলে। এথেকে বাচার জন্য এই আয়াতে একথাও বলা হয়েছে যে, আল্লাহ্‌ তা’আলার (যিকর) স্মরণ বেঁচে থাকার একটি মাধ্যম। প্রথমতঃ আল্লাহ্‌কে যারা স্মরণ করে তারা আল্লাহ্‌কে ভয় করবে, অবৈধ কাজ করবে না আর এই যিকর তোমাদের হৃদয়কেও প্রশান্ত করবে। অবৈধভাবে লাভবান হওয়া আর অবৈধ ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতি যে ঝোঁক তা আর থাকবে না, স্বল্পে তুষ্টি সৃষ্টি হবে। ‘যিকর’ পূণরায় এদিকে দৃষ্টি আকর্ষন করছে যে, জুমুআ আদায় করে নামায থেকে ছুটি পাবে না বরং এরপরে আসরের নামায তারপরে মাগরীবের নামায, এশার নামায রয়েছে। এভাবে এ ধারাবাহীকতা চলতে থাকবে, এদিকেও প্রত্যেকের মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন। এই ‘যিকর’ এর ফলে অনুকম্পা বৃদ্ধি পেতে থাকবে, ছোট-খাট ভুল-ভ্রান্তি ও দূর্বলতার কাফ্‌ফারাও হতে থাকবে। সুতরাং সর্বদা এ দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখ যে, ‘যিকর’ করতে হবে। এর পরের আয়াতে বলা হয়েছে, যাদের হৃদয় সর্বদা জাগতিক উপকরণাদির প্রতি আসক্ত থাকে, আকৃষ্ট থাকে তারা আল্লাহ্‌ তা’আলার নির্দেশাবলীর উপর অনুশীলনকারী নয়। আল্লাহ্‌ তা’আলার আশিষসমূহ অর্জন করার জ্ঞান-বুদ্ধিই তাদের নেই। তারা ব্যবসা-বাণিজ্যকেই নিজেদের খোদা বানিয়ে বসে। ইবাদতের পরিবর্তে ক্রীড়া-কৌতুকের প্রতি তাদের হৃদয় বেশী আকৃষ্ট। যেভাবে আমি বলেছিলাম, তাস খেলুড়েরা ঘন্টার পর ঘন্টা তাস খেলতে থাকে সময় নষ্ট হচ্ছে এ চেতনা তাদের থাকে না। তাই বলা হয়েছে, যাদের হৃদয় ঈমান শুন্য অথবা ঈমান কেবল মৌখিক দাবীতেই সীমাবদ্ধ তারা ইবাদতের প্রতি মনযোগ প্রদানকারী নয়, কুরবাণীকারী নয়। আঁ-হযরত (সাঃ)-এর সময়ে সাহাবীগণ ত্যাগস্বীকার কারী ছিলেন। তারা ধন-সম্পদ, প্রাণ, সময় আর সম্মাণ সবকিছুকে ইসলামের জন্য উৎসর্গ করে দিয়েছিলেন। কেবল হাতে গোনা কয়েকজন মুনাফেক ছাড়া যারা নিজেদের প্রাণ রক্ষায় ব্যস্ত ছিলো। আল্লাহ্‌ তা’আলা তাদেরও উল্ল্যেখ করে দিয়েছেন।

সুতরাং যারা ব্যবসা-বাণিজ্য এবং ক্রীড়া-কৌতুকের প্রতি আকৃষ্ট তারা এ যুগের মানুষ যখন শয়তান বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে তাদেরকে নিজের প্রতি আহবান করে, আর আজকে সে সকল প্রলোভন ও চিত্তবিনোদনের বিবিধ উপকরণ উদ্ভাবিত হয়েছে। সূরা জুমুআতে মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর আগমনেরও সংবাদ রয়েছে। এ সকল মানুষ যারা ক্রীড়া-কৌতুক আর ব্যবসা-বাণিজ্যে লিপ্ত, মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর আহবানে সাড়া দিতে অনিচ্ছুক আর আল্লাহ্‌র বাণী শোনার জন্য প্রস্তুত নয় এ আয়াতে ঐ সকল লোকের কথা বিবৃত হয়েছে। কিন্তু যারা মু’মিন, যারা মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-কে মেনেছে তাদেরকে এই নির্দেশ দেয়া হয়েছে যে, তোমাদের কাজ হচ্ছে ইবাদতসমূহকে জীবিত রাখা আর আল্লাহ্‌র স্মরণে সর্বদা জিহ্‌বাকে ব্যপৃত রাখা। হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-কে মান্য করার সৌভাগ্য লাভ করা সত্ত্বেও যদি ‘যিকরে’ এলাহীর প্রতি মনোনিবেশ না করো তাহলে স্মরণ রেখ! আল্লাহ্‌ ও তাঁর রসূল এবং হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর কোনই ক্ষতি করতে পারবে না কেননা, ���োমাদের বয়আত করায় তাদের কোন লাভ নেই। সব ধরণের নেয়ামত যা তোমরা লাভ করছ এর মূল ঊৎস হচ্ছে আল্লাহ্‌ তা’আলার সত্ত্বা। সর্বপ্রকার রিযক তাঁর কাছ থেকেই আসে এবং আল্লাহ্‌ তা’আলার সান্নিধানে যে সকল নেয়ামত রয়েছে তা ঐ সমস্ত মনোরঞ্জনের উপকরণাদী আর ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে উৎকৃষ্টতর। যদি আল্লাহ্‌ তা’আলার প্রতি অনুগত না হও তাহলে ঐ সকল নেয়ামত থেকেও বঞ্চিত হবে। আল্লাহ্‌ তা’আলা সর্বদা প্রত্যেক আহ্‌মদীকে এ বিষয়টি বুঝে আল্লাহ্‌ তা’আলার অনুগ্রহকে আকর্ষনকারী করুন। এরূপ যেন কখনই না হয় যে, তারা আল্লাহ্‌ তা’আলার নির্দেশাবলীর প্রতি ভ্রুক্ষেপহীন হবে।

একটি হাদীসে এসেছে,

হযরত যাবের কর্তৃক বর্ণিত যে, নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌ এবং কিয়ামত দিবসের উপর ঈমান রাখে তার জন্য জুমুআর দিনে জুমুআর নামায আদায় করা ফরজ । কেবল রোগী, ভ্রমনকারী, মহিলা, শিশু এবং গোলাম বা দাস ব্যতিত। যে ব্যক্তি আমোদ-প্রমোদ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের কারণে জুমুআ আদায়ের ক্ষেত্রে উদাসীন আল্লাহ্‌ তা’আলাও তার সাথে উদাসীনতার আচরণ করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ মহা প্রশংসিত ও মর্যাদাবান। (সুনান দার কুতনী কিতাবুল জুমুআ, বাব মিন তাজিবু আলাইহিল জুমুআতু)

সুতরাং পুরো চেতনার সাথে জুমুআর নামায আদায় করা উচিৎ। আর যারা ব্যতিক্রম তাদের কথা এ হাদীসে বিবৃত হয়েছে, রোগীর অপরাগতা রয়েছে তাই সে যেতে পারে না। তারপরে (মুসাফির) ভ্রমনকারী! অনেক সময় বাধ্য হয়ে সফর করতে হয় এজন্য মুসাফির সম্পর্কেও বলা হয়েছে যে, যদি কেউ মুসাফির হয়, কিন্তু সময় পরিবর্তন করা যেতে পারে, তাসত্ত্বেও যারা অকারণে জুমুআর দিনে সফর করেন তাদের কোন অপারগতা নেই তাদেরকে অবশ্যই এথেকে বিরত থাকা উচিৎ। এজন্য আঁ-হযরত (সাঃ) বৃহস্পতিবারে সফর করা পছন্দ করতেন যেন জুমুআর পূর্বেই নিজ গন্তব্যে পৌঁছে যেতে পারেন। অনুরূপভাবে মহিলাদের জন্য জুমুআয় আসা আবশ্যক নয়, ঈদে আসা প্রত্যেক মহিলার জন্য অত্যাবশ্যক। প্রত্যেক সুস্থ মন-মানসিকতার অধিকারী মহিলার জন্য ঈদে আসা একান্ত আবশ্যক, সর্বাবস্থায় আসা আবশ্যক। কিন্তু জুমুআয় আসা মহিলাদের জন্য আবশ্যক নয় এজন্য এটি ব্যতিক্রম। এভাবে গোলামদেরও বাধ্য-বাধকতা থাকে, তাদেরকেও অবকাশ দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন কারণে তারা অপারগ হয় তাই তাদের উপর কোন পাপ বর্তাবে না। জুমুআর গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে আঁ-হযরত (সাঃ) বলেছেন,

হযরত আবু হুরায়রাহ্‌ (রাঃ) বলে, নবী করীম (সাঃ) জুমুআর কথা এভাবে বলেন যে, জুমুআর দিনে এমন একটি মুহুর্ত আসে যখন মুসলমান নামাজরত অবস্থায় আল্লাহ্‌র কাছে যে কল্যাণেরই দোয় করে আল্লাহ্‌ তা’আলা তাকে তা দান করেন। হাদীসের শব্দ হলো, ‘ওয়া হুয়া ক্বায়ীমুন ইউসাল্লী’। (বুখারী কিতাবুল জুমুআ বাব সাআতীল্ল্লাতী ফী ইয়াওমিল জুমুআ)

আর ও কিছু এমন রেওয়ায়েত আছে, হাদীস বিশারদগন এ প্রসঙ্গে বলেন যে, কেবল নামায আদায়ের সময়ই নয় বরং জুমুআর খুৎবাও জুমুআরই অংশ এভাবে এটিও এতে অন্তর্ভূক্ত হয়, কেবল দন্ডায়মান হওয়াই নয়। অনেকে এথেকেও বেশি সময় নির্ধারণ পূর্বক বলেন যে, এসময় সন্ধা পর্যন্ত চলমান থাকে। যাই হোক এ হাদীসে বলা হয়েছে, মুসলমান নামায রত অবস্থায় যে কল্যাণই কামনা করে আল্লাহ্‌ তা’আলা তাকে তা দান করেন এবং আঁ-হযরত স্বীয় পবিত্র হস্ত দ্বারা ইঙ্গিত করতঃ বলেছেন সেই মুহুর্ত খুবই সংক্ষিপ্ত ও ছোট । সুতরাং এ সুযোগ প্রত্যেককে কাজে লাগানে উচিত। নিজের জন্যও দোয়া করুন, জামাতের জন্যও দোয়া করুন। কে জানে যে, সেই মুহুর্ত কখন আসবে, এ জন্য আগেভাগে আসার চেষ্টা করা প্রয়োজন। এটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট যে, জুমুআর খুৎবা নামাযের অংশ।

হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ) জুমুআর গুরুত্ব সম্পর্কে বর্ণনা করেন যে,

এটি একটি মেমোরিয়াল ছিল যা জুমুআর ছুটির জন্য ভাইস্‌রয়কে পাঠানো হয়েছিল। এতে জুমুআর গুরুত্বকে বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন যে, জুমুআ একটি মহান ইসলামী উৎসবের দিন, পবিত্র কুরআন বিশেষভাবে এই দিনকে ছুটির দিন সাব্যস্ত করেছে এবং এ প্রসঙ্গে একটি বিশেষ সূরা পবিত্র কুরআনে রয়েছে যার নাম সূরাতুল জুমুআ আর এতে নির্দেশ রয়েছে, যখন জুমুআর আযান দেয়া হয় তখন তোমরা জাগতিক সকল কাজ-কর্ম বন্ধ করে দাও আর মসজীদে এসে একত্রিত হও এবং সকল শর্ত পূর্ণ করতঃ জুমুআর নামায আদায় করো। কিন্তু যে ব্যক্তি এরূপ করবে না সে চরম পাপী বা গুনাহ্‌গার তার অচিরেই ইসলাম থেকে বহিস্কৃত হওয়ার আশংকা থাকবে। পবিত্র কুরআনে জুমুআর নামায আদায় ও জুমুআর খুৎবা শুনার জন্য যত জোরালো নির্দেশ দেয়া হয়েছে তত বেশী তাগীদ ঈদের নামাযের জন্য ও দেয়া হয়নি। (বিজ্ঞাপন সংকলন, নব সংস্করণ: ২য় খন্ড, পৃষ্ঠা: ৫৮০-৫৮১, রাবোয়া থেকে প্রকাশিত)

এখন আমি গত খুৎবার বিষয়বস্তুর দিকে ফিরে আসছি আর আজও কয়েকটি দোয়া আপনাদের সামনে উপস্থাপন করবো। আমরা একটি হাদীস থেকে আঁ-হযরত (সাঃ)-এর এ উক্তি পড়েছি, জুমুআর সময়ে এমন একটি মূহুর্ত আসে যা গ্রহণীয়তার মর্যদা রাখে তাই এত্থেকে উপকৃত হওয়া উচিৎ।

আল্লাহ্‌ তা’আলা আমাদেরকে একটি দোয়া শিখিয়েছেন যা বর্তমান অবস্থায়ও একান্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা বর্তমান কালের সমাজ নোংরামীতে নিমজ্জিত। দোয়াটি হচ্ছে,

قَالَ رَبِّ انصُرْنِي عَلَى الْقَوْمِ الْمُفْسِدِينَ

অর্থাৎ, হে আমার প্রভূ প্রতিপালক! তুমি আমাকে বিশৃঙ্খলাপরায়ণ জাতির বিরুদ্ধে সাহায্য করো। (সূরা আন্‌ কাবুত: ৩১)

যেভাবে আমি বলেছি বর্তমানে বিশ্ব সব ধরণের নোংরামীতে লিপ্ত আর এ কারণে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়েছে। আর মুসলমান দাবীকারীদেরকেও এই ক্রীড়াকৌতুক নিজের আয়ত্বাধীন করে নিয়েছে ফলে, তারা মসীহ্‌ মওউদকে (আঃ)-কে মানতেও অস্বীকার করছে। যেভাবে আমি বলেছিলাম, সুরা জুমুআর শেষ আয়াতও সেদিকেই ইঙ্গীত করছে যে, দুনিয়ার চাকচিক্যে তোমরা খোদাকে ভুলে গেছ! যে কারণে যুগ ইমামকে সাহায্য করার পরিবর্তে তাঁকে ছেড়ে অন্য দিকে দাঁড়িয়ে আছ। সুতরাং বর্তমান সময়ের নোংরামী থেকে রক্ষা পাবার লক্ষ্যে যেখানে ভ্রমনের সুযোগ-সুবিধাও রয়েছে, স্যাটেলাইট যোগাযোগের মাধ্যমে যেখানে গোটা পৃথিবী প্রায় এক হয়ে গেছে, এক সংবাদ খুব দ্রুত অনত্র পৌঁছে যাচ্ছে, ছবি পৌঁছে যাচ্ছে, পরষ্পরের কাছে অন্যের শিক্ষা-সংস্কৃতি পৌঁছুচ্ছে, ঐতিহ্য পৌছুচ্ছে (তাই) পাপ-মন্দের চেতনার মাপকাঠিই বদলে গেছে। কোন কোন জিনিষের চেতনাই নেই যে, অমুক জিনিষ মন্দ। চিন্তা শক্তিই হারিয়ে গেছে। তাই এ দোয়া করার অনেক বেশি প্রয়োজন রয়েছে যেন প্রত্যেক আহ্‌মদী এবং তার প্রজন্ম, তারা প্রাচ্যের হোক বা পাশ্চাত্ব্যের, সব ধরণের নোংরামী এবং মন্দ থেকে যেন নিরাপদ থাকে আর এভাবেই ফিৎনা-ফাসাদ থেকে রক্ষা পায়।

আঁ-হযরত (সাঃ) আমাদেরকে আরেকটি দোয়া শিখিয়েছেন যা নিজেকে সঠিক পথে পরিচালিত করা এবং স্বীয় আশা-আকাংখা, কাজ-কর্ম এবং আচার-আচরণকে আল্লাহ্‌ তা’আলা প্রদত্ত শিক্ষা মোতাবেক পরিচালিত করার জন্য একান্ত আবশ্যক। যেভাবে আমি পূর্বেও বলেছি, বর্তমানে এত প্রকারের নোংরামীর ছড়াছড়ি যে, আল্লাহ্‌ তা’আলার আশ্রয়ে আশ্রয় নেয়া ছাড়া এথেকে রক্ষা এবং মুক্তি লাভ খুবই দুষ্কর। এ দৃষ্টিকোণ থেকে আঁ-হযরত (সাঃ)-এর এই দোয়াও বর্তমান কালের জন্য অত্যাবশ্যকীয়।

হযরত যিয়াদ বিন এলাকাহ্‌ (রাঃ) তাঁর চাচা কুতবাহ্‌ বিন মালিকের বরাতে বর্ণনা করেন যে, আঁ হযরত (সাঃ) এই দোয়া করতেন,

‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযুবিকা মিন মুনকারাতিল আখলাকি ওয়াল আ’মালি ওয়াল আহওয়ায়ে’। (সুনান তিরমিযি, কিতাবুদ্‌ দাওয়াত, বাব জামিউদ্‌ দাওয়াত)
অর্থাৎ, হে আমার আল্লাহ্‌! আমি নোংরা স্বভাব, মন্দ কর্ম এবং মন্দ কামনা বাসনা থেকে তোমার আশ্রয় ভিক্ষা করছি।

ক্ষমা এবং মাগফিরাত লাভের জন্য একটি দোয়া:

হযরত আবু মূসা আশআরী (রাঃ) স্বীয় পিতার বরাতে বর্ণনা করেন যে, নবী করীম (���াঃ) দোয়া করতেন:

রব্বিগ ফিরলী খাতিয়াতি ওয়া জাহলী ওয়া ইসরাফী ফী আমরী কুল্লিহী ওয়ামা আনতা আ’লামু বিহী মিন্নী। আল্লাহুম্মাগফিরলী খাতাইয়ায়া ওয়া আমদী ওয়া জাহলী ওয়া জিদ্দী ওয়া কুল্লু যালিকা ইনদী আল্লাহুম্মাগ ফিরলী মা কাদ্দামতু ওয়া মা আখ্‌খারতু ওয়া মা আসরারতু ওয়া মা আ’লানতু আনতাল মুকাদ্দিমু ওয়া আনতাল মুয়াখ্‌খিরু ওয়া আনতা আলা কুল্লি শাইঈন ক্বদীর। (বুখারী, কিতাবুদ্‌ দাওয়াত-বাব ক্বওলিন নবী ‘আল্লাহুম্মাগ ফিরলী মা কাদ্দামতু ওয়া মা আখ্‌খারতু’)

অর্থাৎ, হে আমার প্রভু-প্রতিপালক! আমার ভুল-ত্রুটি, অজ্ঞতা, আমার সকল কাজ-কর্মে বাড়াবাড়ির ঘটনা তুমি আমার চেয়ে ভালো জান, তাই আমাকে ক্ষমা করো। হে আমার আল্লাহ্‌! আমার ত্রুটি-বিচ্যুতি, আমার ইচ্ছাকৃত ভুল-ভ্রান্তি এবং আমার জ্ঞাত ও অজ্ঞাতসারে হয়ে যাওয়া সকল ভুল-ক্রুটি ক্ষমা করে দাও। আর এসব কিছুই আমার দ্বারা সম্পাদিত হয়েছে। হে আল্লাহ্‌! আমার সে অপরাধ ক্ষমা কর যা আমি ইতোপূর্বে করেছি আর যা পরবর্তীতে আমার দ্বারা সম্পাদিত হবে, আর যা আমি গোপনে করেছি আর যা আমি প্রকাশ্যে করেছি। তুমিই অনাদি-অনন্ত এবং তুমিই সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।

এই দিনগুলোতে যদি সত্যিকার অর্থে খাটি হৃদয় নিয়ে তাঁর সম্মুখে ঝুঁকেন তাহলে নিশ্চয় তিনি আমাদের অবস্থা পরিবর্তন করার শক্তি এবং সামর্থ রাখেন আর দোয়া গ্রহণীয়তার একটি মূহুর্তও আমাদের ইহকাল ও পরকালকে সুনিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট হতে পারে।

হযরত মসীহ্‌ মওউদ (আঃ)-এর একটি দোয়া আছে তিনি বলেন,

খোদাতা’লার কাছে দোয়া করো যে, আমরা তোমার পাপী বান্দা, কুপ্রবৃত্তি আমাদের উপর ছেয়ে আছে। তুমি আমাদেরকে ক্ষমা কর আর ইহকাল ও পরকালীন বিপদাবলী থেকে রক্ষা কর। (মলফুযাত, নব সংস্করণ-৫ম খন্ড, পৃষ্ঠা: ৪৪)

সুতরাং যে সকল ভুল-ত্রুটি হয়ে গেছে আল্লাহ্‌ তা’আলা তা ক্ষমা করুন এবং তাঁর সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করুন আর সব ধরণের অনিষ্ঠ থেকে আমাদেরকে এবং আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে রক্ষা করুন।

অন্যত্র তিনি (আঃ) বলেন,

অনেক বেশি দোয়া করতে থাকো। আর বিনয় ও নম্রতাকে নিজেদের স্বভাবে পরিণত কর। যে দোয়া কেবল প্রথা এবং অভ্যাসবসে মৌখিক ভাবে করা হয় তার কোন অর্থ নেই। দোয়ার জন্য ফরজ নামায ছাড়াও নিভৃতে ইবাদতের রীতি অনুসরণ করো। আবশ্যকীয় নামায ছাড়া ও নিভৃতে নফল পড়ো, যিকরে এলাহী করো। এক তুচ্ছাতি-তুচ্ছ দাসের ন্যায় নিজ ভাষায় একান্ত বিনয় ও নম্রতার সাথে খোদাতা’লার সমীপে দোয়া করো,

হে রাব্বুল আলামীন! আমি তোমার ইহসান বা অনুগ্রহের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ক্ষমতা রাখি না। তুমি একান্ত দয়ালু ও কৃপালু। আমার উপর তোমার অশেষ অণুগ্রহ রয়েছে। আমার পাপ ক্ষমা করে দাও কোথাও আমি ধ্বংস না হয়ে যাই। আমার হৃদয়ে তোমার আন্তরিক ভালবাসা সৃষ্টি করো যেন জীবন লাভ হয়। আমাকে মার্জনা করো এবং আমার দোষ-ক্রুটি ঢেকে রাখো। আমা কর্তৃক এমন কাজ সম্পাদন করাও যাতে তুমি সন্তুষ্ট হবে। আমি তোমার সম্মানের দোহাই দিয়ে তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি যেন তোমার ক্রোধ আমার উপর বর্ষিত না হয়। করুণা কর, আর ইহকাল ও পরকালীন বিপদাবলী থেকে আমাকে রক্ষা করো কেননা তোমার সন্নিধানেই রয়েছে সব ধরণের কল্যাণ এবং অনুকম্পা, আমীন সুম্মা আমীন। (মকতুবাতে আহমদ, ৫ম খন্ড ৪র্থ নাম্বার, পৃষ্ঠা: ৫-৬)

আল্লাহ্‌ করুন যেন আমরা দোয়া গৃহিত হবার এই দৃশ্য দেখা অবস্থায় রমযান থেকে বের হই এবং যেন শুধু আল্লাহ্‌র হয়ে যাই আর জাগতিক ক্রীড়া কৌতুক যেন আমাদের সামনে একতুড়ি মাটির সমান মূল্য না রাখে।

সানী খুৎবায় হুযূর আনোয়ার বলেন:

একটি দুঃসংবাদ আছে। আমাদের শ্রীলংকা মসজিদের খাদেম আব্দুল্লাহ্‌ নিয়াজ সাহেবকে ১৪ই অক্টোবর বিরুদ্ধবাদী শত্রুরা শহীদ করে দিয়েছে। তাঁর ৯৬ বছর বয়স্কা মাতা এখনও জীবিত আছেন। এছাড়া তাঁর তিন ছেলে এক মেয়ে আর বিধবা স্ত্রী আছেন। তিনি মসজিদের খাদেম হিসেবে জামাতের খিদমত করছিলেন আর অত্যন্ত নিষ্ঠা ও ওয়াকফের প্রেরণা নিয়ে সেবা করতেন। মস্‌জিদ খোলা-বন্ধ করা, পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করা এবং আযান প্রভৃতি দায়িত্ব পালন করতেন। শিশুদেরকে পবিত্র কুরআন নাযেরা পড়াতেন। ১৪ই অক্টোবর সকাল ৪টায় বিরুদ্ধবাদীরা তাঁর বাসার কাছে চাকু ও তরবারীদ্বারা আক্রমন করে তাঁকে শহীদ করে। তিনি তখন নামাযের উদ্দেশ্যে মসজীদে আসছিলেন। সেখানে (শ্রীলংকায়) বর্তমানে ব্যপক বিরোধীতা চলছে। পাকিস্তান থেকে এক মৌলভী জামা’তবিরোধী বইপূস্তক এবং প্রশিক্ষন ইত্যাদী নিয়ে এখানে এসেছে, আর মুসলমানদেরকে খুবই উত্তেজিত করছে যে, এরা মুরতাদ এদের হত্যা কর এটি পূণ্যের কাজ আর এটিই সবচেয়ে বড় জেহাদ। এই রমযানে যদি আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি অর্জন করতে চাও, তাহলে আহ্‌মদীদেরকে হত্যা কর। সে স্বয়ং উমরাহ্‌ করার জন্য চলে গেছে, আর তাদেরকে তারিখ দিয়ে গেছে ৩০ অথবা ৩১ শে অক্টোবর আমি ফিরে আসবো সেই সময় পর্যন্ত আহ্‌মদীদের বড় বড় যত কর্মকর্তা আছে তাদের শহীদ করো (ওরাতো হত্যা করাই বলে থাকে)। তারপর আমি যখন ফিরে আসবো তখন তাদের মস্‌জিদ দখল করব। যাই হোক এই হচ্ছে তাদের ষড়যন্ত্র। আল্লাহ্‌ তা’আলা ওদের সকল অনিষ্ঠ থেকে জামা’তকে নিরাপদ রাখুন আর তাদের ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করুন। যাদের জন্য আল্লাহ্‌ তা’আলা বিবেক খাটানো এবং সত্যকে মান্য করা নির্ধারণ করেছেন তারা তাদের কান্ডজ্ঞান ফিরে পাক আর না হয় দৃষ্টান্তমূলক নিদর্শনে পরিণত করুন।

আমাদের একজন পাকিস্তানী আহ্‌মদী বর্তমানে সেখানে গিয়েছেন, গুজরাঁওয়ালার অধিবাসী ২১ বছরের যুবক তার উপর আক্রমন করা হয়েছে। তিনি মস্‌জিদ থেকে বাসায় আসছিলেন তখন তার উপরও ছুরি ও তরবারীদ্বারা আক্রমন করা হয়। তার দু’টো হাতই যখম হয়েছে, লোকজন এসে গিয়েছিল ফলে তিনি বেঁচে যান, কোনমতে রক্ষা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তার জন্য দোয়া করুন যেন আল্লাহ্‌ তা’আলা তাকে শীঘ্র আরোগ্য দান করেন।

সানী খুৎবার শেষে হুযূর আনোয়ার (আই:) বলেন, এখন জুমুআর নামাযের পরে আমি শহীদের গায়েবী জানাযা পড়াবো।

প্রাপ্ত সুত্রঃ কেন্দ্রীয় বাংলা ডেস্ক, লন্ডন, ইউকে