In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

ইসলামে খিলাফত

সরফরাজ এম, এ, সাত্তার রঙ্গু চৌধুরী

মহান প্রভু আল্লাহ্ তা’আলার সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হলো মানুষ। মানুষকে কেন্দ্র করেই আল্লাহ্ তা’আলা আসমান যমীন, চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, নক্ষত্র, অগ্নী, জল, বায়ু, নদ নদী, পাহাড় পর্বত, সাগর, উপসাগর, গাছপালা ইত্যাদি যাবতীয় কিছু সৃষ্টি করেছেন। সৃষ্টির সেরা এই মানুষ যাতে পৃথিবীর বুকে নিরাপত্তার সাথে শান্তি সুখে বসবাস করতে পারে তজ্জন্যই তাদের কল্যাণের নিমিত্ত ধর্মীয় বিধি-বিধান। ইসলাম আল্লাহ্ তা’আলার মনোনীত বিশ্ব-জনীন ধর্ম। ইসলামের অনুসারী মুসলমানেরা যদি আল্লাহ্ ‌তা’আলার দেওয়া বিধি-বিধানকে মেনে তার দেখানো পথে অবিচল থাকে তাহলে মুসলিমরা জাগতিক এবং আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রে অতি গৌরবের আসনে অধিষ্ঠিত থাকবে, ইহা আল্লাহ্ তা’আলার প্রতিশ্রুতি। আর যদি অবজ্ঞা অবহেলা ও অমান্য করে চলে তাহলে তাদের ললাটে নেমে আসবে অমুনিশার ঘনঘোর অন্ধকার।

ইসলামী জীবন দর্শনকে পবিত্র কুরআন করীমে বিশালাকার বৃক্ষের সাথে তুলনা করা হয়েছে,

“ধর্মের বাণী একটা বৃক্ষের মত, যার শিকড় থাকে।” (সূরা ইবরাহীম)

আল্লাহ্ এক ও অদ্বিতীয়। সমগ্র নিখিল বিশ্বেরই তিনি প্রভু। তাঁর অনুগ্রহ ও রহমত সবাই পেয়ে থাকে। কেউই বঞ্চিত নয়। সকল জাতি, সকল গোষ্ঠী, সকল ব্যক্তিই তাঁর অনুগ্রহ ও রহমত পেয়ে থাকে। তবে কোন জাতি, কোন গোষ্ঠী এবং কোন ব্যক্তির শ্রেষ্ঠত্ব নির্ভর করে ঈমানের উপর।

বাহ্যিক জগতে দেখা যায় যে প্রত্যেক দলের, প্রত্যেক সংগঠনের প্রত্যেক বিভাগেই একজন নেতা থাকে। কোন একজন নেতা ব্যতীত কোন দল বা সংগঠনই সুষ্ঠভাবে শৃংখলার সাথে চলতে পারে না। ইসলাম বিশ্বজনীন ধর্ম। ইসলামের অনুসারী মুসলমান জাতির একতা শৃংখলা বজায় রাখার জন্য কোন একজন নেতার প্রয়োজন নাই কি? তাই পাক কালামে আল্লাহ্ তা’আলা বলেন,

“হে ঈমানদারগণ! যারা ঈমান এনেছ, যদি তোমরা আল্লাহ্ ও পরকালে বিশ্বাস কর; তবে আনুগত্য কর আল্লাহ্‌র, আনুগত্য কর এই রসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যিনি আদেশ দেওয়ার অধিকারী তাঁকেও”। (সূরা নিসা)

আল্লাহকে মানতে হবে রসূলকে মানতে হবে এবং ‘উলিল আমর’ কে মানতে হবে। উলিল আমর বুঝাতে জাগতিক দিক দিয়ে রাষ্ট্র প্রধানকে বুঝায় এবং আধ্যাত্মিক দিক দিয়ে যুগ ইমামকে বুঝায়। যুগ ইমাম নবী না হলেও তাঁর মর্যাদা নবীর মর্যাদার তুল্য। একজন মানুষ যেরূপভাবে নবীকে মান্য করে চলে একই ভাবে যুগ ইমামকে মান্য করে চলতে হবে। ইসলাম প্রবর্তক হযরত রসূল করীম (সাঃ) নির্দেশ দিয়ে বলেছেন,

“যদি কোন হাবশী দাসও তোমাদের উপর অধিকার প্রাপ্ত হয় তাহলে তাঁর কথা শ্রবণ কর এবং তাঁকে মান্য কর।”

তিনি আরো বলেছেন,

“যদিও কোন থ্যাবড়া নাক ওয়ালা দাস আল্লাহ্‌র কিতাবানুসারে তোমাদের উপর অধিকার প্রাপ্ত হয় তবে তাঁকে শ্রবণ কর এবং মান্য কর।”

আল্লা্হ ও হযরত রসূল করীম (সাঃ)-এর নির্দেশ মোতাবেক বুঝা গেল যে মুসলমানগণের একজন নেতা বা ইমাম থাকবে। যাঁর আনুগত্যের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধভাবে পরিচালিত হবে ইসলামের আদেশ, শিক্ষা ও কার্যক্রম। তজ্জন্যই পবিত্র কালামে মুসলমানজতিকে আল্লাহ্ তা’আলা কঠোর হুশিয়ার বাণী উচ্চারণ করে বলেছেন,

হে ঈমানদারগণ! যারা ঈমান এনেছ। আল্লহকে ভয় কর যেমন ভয় করা উচিত; আর তোমরা মুসলামান না হয়ে মরো না। আর তোমরা সকলে মিলে একত্রে আল্লাহ্‌র ‘রজ্জু’ কে শক্তভাবে ধারণ কর। সাবধান! দলে উপদলে বিভক্ত হয়ো না। (আলে ইমরান)

উপরোক্ত আয়াতে ‘রজ্জু’ অর্থে আলেমগণ তাদের বিভিন্ন তফসীর গ্রন্থে কুরআনকে বুঝিয়েছেন। পবিত্র কুরআন তো বটেই কেননা ইহা মানবজাতির পথ প্রদর্শক। বিশেষ করে ধর্মভীরু তাকওয়াশীলদের জন্য। “হুদাল্লিল মুত্তাকিন” অর্থাৎ কুরআন তাদের হেদায়াতের কারণ হয় যারা তাকওয়া অবলম্বন করে। পথ প্রদর্শক এই কুরআন পাঠ করার মানে এই নয় যে, ইহা পাঠ করতঃ সাতবার চুমু খেয়ে এটাকে গিলাফে জড়িয়ে তাকে তুলে রাখা। ‘রজ্জু’ অর্থ সূরা নূরে বর্ণিত খিলাফত। যার মাধ্যমে মুসলমান জাতির একতা ও ভ্রাতৃত্ব, পরস্পর সহানুভূতি ও মহব্বতের বন্ধন অটুট থাকবে। খিলাফত আল্লাহ্ ও মানুষের সংযোগ স্থল। মুসলমান জাতির প্রাণ-শিরা। খিলাফত ব্যতীত মুসলমানজাতি প্রাণহীন দেহের তুল্য। ইসলামে পীর পুরোহিতের কোন স্থান নেই। পবিত্র কুরআনের উপরোক্ত আয়াত থেকে প্রমাণিত হয় যে, পৃথিবীতে মোমেনগণের খিলাফত থাকবে। খিলাফতকে অমান্য, অবহেলা ও অস্বীকার করে যারা দলে উপদলে বিচ্ছিন্ন হবে তাঁরা প্রকৃতপক্ষে মোমেন মুসলমান থাকবে না। খেলাফতের গুরুত্ব সম্পর্কে আগেকার দিনে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় আলোচনা হতো। যেমন,

“খিলাফত রক্ষা না হলে মুসলমান জাতির কোন মূল্য থাকতে পারে না। খলীফা ইসলাম ধর্ম ও মুসলমান জাতির মেরুদন্ড স্বরূপ”। (আল ইসলাম ৬ষ্ঠ বর্ষ ১০ম সংখ্যা মাঘ, ১৩২৭)

“শরিয়তের বিধানানুসারে খলীফা নির্বাচন করা মুসলমানের পক্ষে ওয়াজিব। খলীফাহীন ইসলাম কর্ণধার বিহীন তরনীর তুল্য। বিপন্ন ও লক্ষ্যভ্রষ্ট। এজন্য মুসলিম জগতের পক্ষে খলীফা নির্বাচন করা ওয়াজিব হয়েছে। উহা না করা পাপ ও ধর্ম বিচ্যুতি এবং নির্বাচিত খলীফাকে না মানা ধর্ম দ্রোহিতা।” (ইসলাম দর্শন ১ম বর্ষ, ১ম সংখ্যা বৈশাখ ১৩২৭)

কিন্তু পরিতাপের বিষয় বর্তমান কালে মুসলমানরা রাজনীতি নিয়ে মাথা ঘামায় কিন্তু খিলাফত নিয়ে কেউই আর চিন্তা ভাবনা করে না। প্রয়োজনীয় বোধ করে না। মনে পড়ে ছোট বেলায় আমরা খিলাফত আন্দোলনে শরীক হয়ে, “মোহাম্মদ আলী কি জয়” বলে শ্লোগান দিয়েছি কিন্তু সফলতা লাভ করা যায় নাই। কেননা ইহা আল্লাহ্ তা’আলার কাজ। রাজনীতি বা কোন আন্দোলনের মাধ্যমে খিলাফত কায়েম হয় না। নবুওয়্যত যেমন কোন প্রকার আন্দোলন বা সংগ্রাম করে কায়েম করা যায় না, তেমনি খেলাফতের খলীফাও আন্দোলন বা কোন প্রকার সংগ্রামের মাধ্যমে কায়েম করা যায় না। খলীফা বানানো আল্লাহ্‌ তা’আলার কাজ। হযরত রসূল করীম (সাঃ) বলেছেন,

“আমি আবু বকরকে আমার পর খলীফা নিযুক্ত করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পরে আমি চিন্তা করে দেখলাম যে, এটা আল্লাহ্ তা’আলার কাজ। আল্লাহ্ তা’আলা কখনো আবু বকর ব্যতীত অন্য কাউকে খলীফা করবেন না। আর মুমেনগণও আল্লাহ্‌ তা’আলার ইচ্ছায় আবু বকর ব্যতীত অন্য কারো খেলাফতে সন্তুষ্ট হবে না।” (বোখারী)

খেলাফতের গুরুত্ব সম্পর্কে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, হযরত রসূল করীম (সাঃ)-এর পবিত্র মরদেহ সমাহিত হয়নি, যতক্ষণ পর্যন্ত না আল্লাহ্ তা’আলার ইচ্ছায় মোমেনদের ভোটে হযরত আবু বকর (রাঃ) খেলাফতের আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন। এখানে আমি অতি সংক্ষেপে খোলাফায়ে রাশেদিন সম্পর্কে কিছু আলোকপাত করছি। হযরত আবু বকর (রাঃ) খেলাফতের আসনে আসিন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লক্ষ্য করলেন একের পর এক দূর্যোগের ঘনঘটা। কর্মনিষ্ঠ লৌহ মানব খরদীপ্ত ব্যক্ত্বি, তেজদীপ্ত মনস্বী দৃঢ়মতি হযরত আবু বকর (রাঃ) সকল কিছুর সম্মুখেই, অকুতোভয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন কেবল মাত্র সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ তা’আলার উপর দৃঢ়তম বিশ্বাস রেখে। “আল্লাহ্‌র রহমত হতে নিরাশ হয়ো না, তুমি ভয় করো না, নিশ্চয়ই তুমি শীর্ষস্থানের অধিকারী হবে, কার্য সম্পাদনে আল্লাহ্‌ই যথেষ্ট। তুমি চিন্তা করো না, তুমি বিজয়ী হবে যদি তুমি বিশ্বাসী হও”। আল কুরআনের পবিত্র এই অমোঘ বিধানকে মনে রেখে হযরত আবু বকর (রাঃ) শক্তি সঞ্চয় করলেন, হযরত রসূল করীম (সাঃ) এর দেওয়া পবিত্র কুরআন থেকে। তিনি দ্বিধাহীন চিত্তে সকল প্রকার দুর্যোগের মোকাবেলা করতঃ বিজয়ী হলেন। আবু বকর (রাঃ) সম্পর্কে হযরত রসূল করীম (সাঃ) বলেছেন,

“নবী রসূলদের বাদ দিলে আবু বকর অপেক্ষা অন্য কোন শ্রেষ্ঠ মানুষের মুখের ওপর সূর্য় উদয় হয়নি।”

“তাঁদের বাদ দিলে আবু বকরই মানবজাতির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ”।

“যদি আল্লাহ্ ব্যতীত কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম তাহলে আবু বকরকে গ্রহণ করতাম”।

খলীফা হযরত উমর (রাঃ) বলেছেন,

“ইসলামের খেদমতে কেউই হযরত আবু বকর (রাঃ)-কে অতিক্রম করতে পারবে না”।

অধ্যাপক মুর বলেছেন,

“আবু বকর (রাঃ)-এর খিলাফত স্বল্প মেয়াদী হলেও মোহাম্মদ (সাঃ)-এর পর আর কারও জীবনে তার পূর্ণ জীবন পদ্ধতি এমন জীবন্ত পরিগ্রহ করেনি”।

জগতের ত্রাণকারী এবং বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম মানব হযরত রসুলুল্লাহ্ (সাঃ)-এর খলীফা হযরত আবু বকর (রাঃ) ৬৩৪ খ্রীষ্টাব্দে ২৩শে আগস্ট ইন্তেকাল করে হযরত রসূল করীম (সাঃ)-এর পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন।

ইসলাম জগতের প্রথম খলীফা হযরত আবু বকর (রাঃ) যেদিন ইন্তেকাল করেন সেদিনই আল্লাহ্ তা’আলার ইচ্ছায় মোমেনদের ভোটে হযরত উমর (রাঃ) খলীফা নিয়োজিত হয়ে হযরত আবু বকর (রাঃ)-এর জানাযার নামায পড়ান। হযরত উমর (রাঃ)-এর ইসলাম গ্রহণের ঘটনা অনেকেরই জানা। আগের দিন হযরত রসূল করীম (সাঃ) আল্লাহ্‌র দরবারে দোয়া করেছিলেন এই বলে যে,

“আল্লাহুম্মা আই ইউজ্জল ইসলাম বে আহাদির রাজু লাইনে আম্মা আমর ইবনে হিসাম ওয়া আম্মা উমর ইবনে খাত্তাব।”
অর্থাৎ আল্লাহ্ তা’আলা আমর ইবনে হিসাম (আবু জেহেল) অথবা উমর ইবনে খাত্তাবকে ইসলামে দাখিল করে ইসলামের ইজ্জত বাড়িয়ে দাও।

আল্লাহ্ তা’আলা হযরত রসূল করীম (সাঃ)-এর দোয়া কবুল করেন। তাঁর এই দোয়ার ফলে হযরত উমর (রাঃ)-এর উপর আল্লাহ্ তা’আলার রহমতের বারী বর্ষিত হয় এবং হযরত রসূল করীম (সাঃ)-এর শীরচ্ছেদ করতে এসে নতশীরে ইসলাম গ্রহণ করেন। হযরত উমর ফারুক (রাঃ) ছিলেন উন্নত চরিত্রের শিরোমণি, সৎ গুণের ভান্ডার। তিনি এক দিকে ছিলেন কঠোর, অপরদিকে তাঁর হৃদয় ছিল কুসুমের মত কোমল। এক কথায়, তিনি ছিলেন সৎ গুণাবলীর আধার। ভোগ বিলাসে অনীহা, সত্য ও ন্যায়নিষ্ঠা সংযম, বিনয়, নম্রতা, সরলতা ইত্যাদি গুণাবলীতে তিনি ছিলেন মহীয়ান। তাঁর প্রভাব প্রতিপত্তি বিশ্বব্যাপী বিস্তৃতি লাভ করে। হযরত উমর (রাঃ)-এর যুগে বায়তুল মালের প্রভূত উন্নতি ও সংস্কার সাধিত হয়। মজলিসে শূরার অনুমোদনক্রমে বায়তুল মালের একটি কোষাগার স্থাপন করা হয়। এবং বিভিন্ন স্থানে এর শাখা প্রশাখা স্থাপিত হয়। জনসাধারণের কল্যাণের নিমিত্তে রাস্তা, ঘাট, সরাইখানা, মোসাফিরখানা, মসজিদ এবং কর্মচারীদের বাসভবন নির্মিত হয়। কৃষিকাজ সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে সারাদেশে অসংখ্য নহর খনন করা হয়। মক্কা থেকে মদীনার রাস্তায় পুলিশ ফাঁড়ি, পান্থশালা এবং পানির নহর তৈরী করা হয়। পরিতাপের বিষয় এই যে, নামায রত অবস্থায় আবু লালু নামক এক দুবৃত্ত তাঁর উপর ঝাপিয়ে পড়ে এবং সেই পাষন্ড নর পিশাচ তীক্ষ্ণ তরবারী দ্বারা উপর্যুপুরি ছয়টি আঘাত করে। একটি আঘাত লেগে ছিল তাঁর নাভির নিম্নদেশে। এই ঘটনার কয়েকদিন পরই তিনি ইন্তেকাল করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজিউন)

খলীফা পৃথিবীতে আল্লাহ্ তা’আলার প্রতিনিধি। স্বয়ং আল্লাহ্ তা’আলা যোগ্য ব্যক্তিকেই খলীফা বানিয়ে থাকেন। খলীফা কখনো স্বেচ্ছাচারী হতে পারেন না। জনসাধারণ স্বেচ্ছাচারী হলেই খিলাফত বিনষ্ট হয়। হযরত উমর (রাঃ) হযরত ওসমান (রাঃ) এবং হযরত আলী (রাঃ) এর শাহাদাতের পিছনে জনসাধারণের এই স্বেচ্ছাচারিতা লক্ষ্য করা যায়। যার কারণে খিলাফত বিনষ্ট হয়।

হযরত রসূল করীম (সাঃ) বলেছেন,

“আমার পর ত্রিশ বছর কাল খিলাফত কায়েম থাকবে অতঃপর রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে এবং তারপরে অত্যাচারী শাসকগণ আসবে অতঃপর নবুওয়তের পদ্ধতিতে পুনরায় পৃথিবীতে খিলাফত প্রতিষ্ঠিত হবে।”

হযরত রসূল করীম (সাঃ) দিব্য দৃষ্টিতে ভবিষ্যতের ঘটনাবলী দর্শন করে যা বলে গেছেন, তাঁর সেই পবিত্র বাণী অক্ষরে অক্ষরে পূর্ণ হয়েছে এবং হচ্ছে।

হযরত রসূল করীম (সাঃ)-এর ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী প্রায় ত্রিশ বছর কাল খিলাফত কায়েম থাকার পর হযরত আলী (রাঃ)-এর শাহাদত বরণের পর মুয়াবিয়া কর্তৃক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পৃথিবী থেকে খিলাফত বিদায় নেয় দীর্ঘকালের জন্য। পরবর্তীতে খলীফার নামাবলী গায়ে দিয়ে যারা খলীফা খেতাব ব্যবহার করেছেন তারা প্রকৃতপক্ষে কেউই খলীফা ছিলেন না। তাঁরা ছিলেন রাজা, বাদশা। অতঃপর আসে অত্যাচারী শাসক।

মুসলমান জাতির আজ চরম দূর্দিন, অধঃপতনের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত হয়ে দিশাহারা, নাই কোন নেতা, নাই একতা ও ভ্রাতৃত্ব, নাই পরস্পর সহানুভূতি। সকল জাতির কাছে অবহেলিত লাঞ্ছিত, অপমানিত, একথা সকলেই আজ এক বাক্যে স্বীকার করে। এই অবস্থায় “আমরাই এই যিকির অবতীর্ণ করেছি আমরাই ইহার রক্ষক” (আল হিজর), আল্লাহ্ তা’আলার এই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী হযরত মির্যা গোলাম আহ্‌মদ (আঃ) আখেরী যামানার প্রতিশ্রুত মহাপুরুষ হযরত ইমাম মাহ্‌দী ও মসীহ্‌ মাওউদ (আঃ) রূপে কাদিয়ানে আবির্ভূত হয়েছেন। তাঁর মাধ্যমে আল্লাহ্ তা’আলা নবুওয়তের পদ্ধতিতে পুণরায় পৃথিবীতে খিলাফত প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ইসলামের বিশ্ব বিজয়ের জন্য তিনি মুসলমানজাতির জাগতিক এবং আধ্যাত্মিক উন্নতির পথ খোলে দিয়েছেন। আল্লাহ্ তা’আলার প্রেরিত মহাপুরুষ হযরত ইমাম মাহ্‌দী ও মসীহ্ মাওউদ (আঃ) কে মেনে নেওয়া ব্যতীত মুসলমান জাতির ভাগ্য পরিবর্তনের দ্বিতীয় আর কোন পথ খোলা নেই। যতই চেষ্টা সাধনা করুক না কেন সকলই হবে অনন্ত মরুভূমিতে জল সেঞ্চন করার ন্যায় মূল্যহীন। পরিশেষে প্রার্থনা করি সত্যকে বুঝার এবং তা গ্রহণ করার জন্য আল্লাহ্ তা’আলা সকলকে তৌফিক প্রদান করুন। আমীন!

পাক্ষিক আহ্‌মদী - ৩০শে জুন ২০০৭

উপরে চলুন