In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

হযরত মির্যা গোলাম আহমদ (আ.)-এর দাবী

তাঁর অগনিত দাবী সমূহের মধ্য থেকে কিছু উল্লেখ করা হলো।

“হে ভাই সকল! আমি মহা সম্মানিত আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে ইলহাম প্রাপ্ত। ওলীদের জ্ঞান-ভান্ডার (ইলমে লাদুন্নী) থেকে আমাকে জ্ঞান দান করা হয়েছে। আবার, এই উম্মতের ধর্ম সংস্কারের লক্ষ্যে, মীমাংসাকারীরূপে এদের মত-বিরোধের নিস্পত্তি করার জন্য, ক্রুশীয় মতবাদকে ঐশী নিদর্শনাদির সাহায্যে ধ্বংস করতে আর খোদা-প্রদত্ত ক্ষমতা দ্বারা জগতে একটি পবিত্র পরিবর্তন সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে আমাকে শতাব্দীর শিরোভাগে আবির্ভূত করা হয়েছে। সুস্পষ্ট ইলহাম ও সত্য ওহী দ্বারা আল্লাহ্ তা’আলা আমাকে ‘মসীহ্ মাওউদ’ আর ‘প্রতিশ্রুত মাহ্‌দী’ নামে সম্বোধন করেছেন। আমি ভন্ড বা প্রতারকদের অন্তর্ভূক্ত নই, আমি মিথ্যাচারীও নই, মানুষকে বিপথে পরিচালনাকারীও নই”।

(‘নজমুল হুদা’ পুস্তক, রূহানী খাযায়েন, ১৪তম খন্ড)

“ধর্ম সংস্কারের লক্ষ্যে খোদার পক্ষ থেকে যার আসার কথা ছিল সেই ব্যক্তি আমিই। যাতে করে ধরাপৃষ্ঠ থেকে বিলুপ্ত ঈমানকে আমি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করি আর খোদার নিকট থেকে শক্তিলাভ করে তাঁরই প্রদত্ত ক্ষমতা বলে জগতকে সংশোধন, তাকওয়া ও সত্যনিষ্ঠার দিকে আকর্ষণ করি আর আমি যেন এদের বিশ্বাস ও আচরণগহত ভুলত্রটি দূরীভূত করি আর...আল্লাহ্‌র ওহী দ্বারা আমাকে একথা সুস্পষ্টরূপে বুঝানো হয়েছে, এই উম্মতের জন্য সূচনালগ্ন থেকে যে মসীহ্ সম্বন্ধে প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হয়েছিল আর সেই শেষ ‘মাহ্‌দী’-ইসলামের অধঃপতনের যুগে, পথভ্রষ্টতার বিস্তৃতির যুগে খোদা তা’আলার কাছ থেকে যার সরাসরি ‘হিদায়াত’ লাভ করার কথা ছিল আর ঐশী তকদীরে সেই আধ্যাত্মিক খাদ্যভান্ডার মানবজাতির সামনে যাঁর পক্ষ থেকে নতুনভাবে পরিবেশন করা নির্ধারিত ছিল, যাঁর আগমনের সুসংবাদ তের’ বছর পূর্বে আমাদের মহানবী (সাঃ) প্রদান করেছিলেন-আমিই সেই ব্যক্তি”।

(‘তায্‌কিরাতুশ শাহাদাতাইন’ পুস্তক, রূহানী খাযায়েন, ২০তম খন্ড)

“আমি এখন কেবল আল্লাহ্‌র প্রতি কর্তব্য হিসাবে অতীব জরুরী এই বিষয়টি জানাচ্ছি, আল্লাহ্ তা’আলা চতুর্দশ হিজরী শতাব্দীর প্রারম্ভে সুরক্ষিত ইসলাম ধর্মের সংস্কার ও সমর্থনের উদ্দেশ্যে আমাকে তাঁর পক্ষ থেকে প্রত্যাদিষ্ট করে প্রেরণ করেছেন।

এই রোগাক্রান্ত যুগে কুরআন শরীফের মাহাত্ম্য আর মহানবী হযরত মুহাম্মদ রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করা আমার কর্তব্য। আর খোদা-প্রদত্ত আত্মিক জ্যোতিঃ, অনুগ্রহরাজি, ঐশী নিদর্শন আর খোদা-প্রদত্ত বিশেষ জ্ঞান দ্বারা ইসলাম ধর্মের ওপর আক্রমণকালী সকল শত্রুকে প্রতিহত করাও আমার কাজ”।

(‘বারাকাতুদ্ দোয়া’ পুস্তক, রূহানী খাযায়েন, ৬তম খন্ড)

“আমরা ঈমান রাখি যে, খোদা তা’আলা ব্যতীত কোন মা’বুদ নাই এবং সৈয়্যদনা হযরত মুহাম্মদ মুস্তাফা সাল্লাল্লাহ আলায়হে ওয়া সাল্লাম আল্লাহ্‌র রসুল এবং খাতামুল আম্বিয়া। আমরা ঈমান রাখি যে, ফিরিশ্‌তা, হাশর, জান্নাত এবং জাহান্নাম সত্য এবং আমরা আরও ঈমান রাখি যে, কুরআন শরীফে আল্লাহ্‌ তা’আলা যা বলেছেন এবং আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম হতে যা বর্ণিত হয়েছে উল্লিখিত বর্ণনানুসারে তা সবই সত্য। আমরা এও ঈমান রাখি, যে ব্যক্তি এই ইসলামী শরীয়ত হতে বিন্দু মাত্র বিচ্যুত হয় অথবা যে বিষয়গুলি অবশ্যকরণীয় বলে নির্ধারিত তা পরিত্যাগ করে এবং অবৈধ বস্তুকে বৈধ করণের ভিত্তি স্থাপন করে, সে ব্যক্তি বে-ঈমান এবং ইসলাম বিরোধী। আমি আমার জামা’তকে উপদেশ দিচ্ছি যে, তারা যেন বিশুদ্ধ অন্তরে পবিত্র কালেমা “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্‌” এর উপর ঈমান রাখে এবং এই ঈমান নিয়ে মৃত্যূ বরণ করে। কুরআন শরীফ হতে যাদের সত্যতা প্রমাণিত, এমন সকল নবী (আলাইহিমুস সালাম) এবং কিতাবের উপর ঈমান আনবে। নামায, রোযা, হজ্জ ও যাকাত এবং এতদ্ব্যতীত খোদা তা’লা এবং তাঁর রসূল কর্তৃক নির্ধারিত কর্তব্যসমূহকে প্রকৃতপক্ষে অবশ্য-করণীয় মনে করে, আর যাবতীয় নিষিদ্ধ বিষয়সমূহকে নিষিদ্ধ মনে করে সঠিকভাবে ইসলাম ধর্ম পালন করবে। মোটকথা, যে সমস্ত বিষয়ের উপর আকিদা ও আমল হিসেবে পূর্ববর্তী বুযুর্গানের ‘ইজমা’ অর্থাৎ সর্ববাদী-সম্মত মত ছিল এবং যে সমস্ত বিষয়কে আহ্‌লে সুন্নত জামাতের সর্ববাদী-সম্মত মতে ইসলাম নাম দেয়া হয়েছে, তা সর্বতোভাবে মান্য করা অবশ্য কর্তব্য। যে ব্যক্তি উপরোক্ত ধর্মমতের বিরুদ্ধে কোন দোষ আমাদের প্রতি আরোপ করে, সে ত্বাকওয়া বা খোদা-ভীতি এবং সততা বিসর্জন দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ রটনা করে। কিয়ামতের দিন তার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযোগ থাকবে যে, কবে সে আমাদের বুক চিরে দেখেছিল যে, আমাদের এই অঙ্গীকার সত্বেও অন্তরে আমরা এ সবের বিরোধী ছিলাম?” “আলা ইন্না লা’নাতাল্লাহে আলাল কাযেবীনা ওয়াল মুফতারিয়ীনা”- অর্থাৎ, সাবধান! নিশ্চয়ই মিথ্যাবাদী ও মিথ্যারোপকারীদের উপর আল্লাহ্‌র অভিসম্পাত।

(আইয়ামুস সুলেহ্‌)

খোদাওন্দ করীম সেই রসূলে মকবুল সাল্লাল্লাহো আলায়হে ওয়া সাল্লামের প্রতি ঐকান্তিক আনুগত্য ও গভীর ভালবাসার কল্যাণে এবং নিজের পবিত্র কালামের (কুর’আন করীমের) পূর্ণ অনুবর্তিতার কার্যকর প্রভাবে এই অধমকে আপন সম্ভাষণের মাধ্যমে মনোনীত করেছেন; ‘ইল্‌মে লাদুন্নী’ (বিশেষ বর্ধিত জ্ঞান) দ্বারা গৌরবান্বিত করেছেন, বহু গুপ্ত রহস্য সম্পর্কে অবহিত করেছেন, বহু তত্ত্বজ্ঞান মা’রেফাত দ্বারা এই অধমের হৃদয়কে পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন এবং বার বার করে বলে দিয়েছেন যে, এই সমস্ত দান ও আশীর্বাদ, এই সকল ফযিলত ও অনুগ্রহরাজি এই সব মধুর আচরণ ও মনোনিবেশ, এই সমস্ত নেয়ামত ও সহায়-সমর্থন এবং এই সকল বাক্যালাপ ও সম্ভাষণ সমস্তই সম্ভবপর হয়েছে খাতামান্ নবীঈন সাল্লাল্লাহো আলায়হে ওয়া সাল্লামের প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্য ও নিবিড় ভালবাসার কল্যাণে।

(বারাহীনে আহ্‌মদীয়া)

আমি খোদা তা’আলার ঐ সব ইলহামের (ঐশীবানীর) উপরে, যা আমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে, ঠিক তদ্রুপ ঈমান রাখি যেরূপ ঈমান আমি তৌরিত, ইঞ��জিল ও পবিত্র কুরআনের প্রতি রাখি। ... ... ... অতএব, আমি এ সমস্ত পবিত্র ওহীর (ঐশীবাণীর) মধ্যে ঠিক ততখানি পূর্ণ অধিকার রাখি খোদা তা’আলার ঘনিষ্ঠ নৈকট্যের অবস্থায় মানুষের পক্ষে রাখা সম্ভব। যখন মানুষকে আবেগময় প্রেমের অগ্নিতে নিক্ষেপ করা হয়, যেভাবে সকল নবীকেই নিক্ষেপ করা হয়েছিল, তখন তার ওহীর সঙ্গে আর অর্থহীন স্বপ্নের কোনও সংশ্রব থাকে না, বরং তখন শুল্ক তৃণখন্ড যেমন তন্দুরের মধ্যে জ্বলে যায় তেমনি কল্পনা ও প্রকৃত্তিজাত ধারণা-কামনাও জ্বলে যায়। তখন অবশিষ্ট থাকে শুধু খোদার নির্মল ওহী। এই প্রকারের ওহী কেবল তিনিই পেয়ে থাকেন যিনি দুনিয়াতে পূর্ণ পবিত্রতা, প্রেম ও আত্মবিলীনতার দরুন নবীগণের রঙে রঞ্জিত হয়ে উঠেন। যেমন, বারাহীনে আহমদীয়ার ৫০৪ পৃষ্ঠায় ১৮ লাইনে আমার জন্যে এক ইলহাম আছে ‘জারি আল্লাহো ফি হুলালেল আম্বিয়া’ অর্থাৎ- আল্লাহ্‌র পাহলোয়ান নবীগণের পোষাকে।

(তবলীগে রেসালত)

যখন ত্রয়োদশ শতাব্দী (হিজরী) শেষ হয়ে এল এবং চতুর্দশ শতাব্দী শুরু হতে চললো, মুজাদ্দিদ এবং আল্লাহ্ তা’আলার তরফ থেকে এই ইলহাম হলো যে,

‘আর রহমানো আল্লামাল কুর’আন। লেতুনযেরা কাওমাম মা উনযেরা আবায়োহুম ওযালে তাজতাবীনা সাবীলুল মুজরেমীন। কুল্ ইন্নি উমেরতো ওয়া আনা আউয়ালুল মু’মিনীন।’

অর্থাৎ খোদা তা’আলা তোমাকে কুর’আন শিক্ষা দিয়াছেন এবং তার প্রকৃত অর্থ ও তাৎপর্য তোমার নিকট খুলে দিয়েছেন এবং তা দেওয়া হয়েছে এই জন্যে, যাতে তুমি মানুষকে তাদের অশুভ পরিণাম সম্পর্কে হুশিয়ার করে দিতে পার যারা অযথা বংশাণুক্রমিকভাবে গাফিলতি ও অসতর্ক অবস্থার দরুন নানাবিধ ভ্রান্তির মধ্যে পড়ে আছে এবং যাতে ঐ সব পাপাচারীদের রাস্তাও খুলে যায় যারা হেদায়াত পৌঁছুবার পরেও সত্যপথ গ্রহণ করতে চায় না, তাদেরকে বলে দাও,

“আমি আল্লাহ্ কর্তৃক প্রত্যাদিষ্ট এবং বিশ্বাসীদের মধ্যে প্রথম”।

(কিতাবুল বারিয়া)

আমার আবির্ভাবের আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে, দুনিয়াতে যেন খোদাতা-আলার তৌহীদ ও রসূলে করীম সাল্লাল্লাহো আলায়হে ওয়া সাল্লামের ইজ্জত সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।

(মলফুযাত)

বস্তুতঃ এ কথা সকল ইতিহাস-পাঠকেরই জানা আছে যে, হযরত ঈসা (আ.) এমন এক সময়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন যখন ইস্রাঈলী কওমগুলোর মধ্যে ভয়ানক মত পার্থক্যের সৃষ্টি হয়েছিল এবং একে অপরের জন্য কাফের ও মিথ্যাবাদী সাব্যস্তাকারী হয়ে গিয়েছিল। এই অধমও এমন এক সময়ে আবির্ভূত হয়েছে যখন অভ্যন্তরীণ মতভেদ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে এবং এক ফের্কা অপর ফের্কাকে কাফের বলে আখ্যায়িত করতে শুরু করেছে। এই মত-পার্থক্যের সময়ে উম্মতে মুহাম্মদীয়ার জন্য একজন ‘হাকেম’ (ফয়সালা কারীর) প্রয়োজন ছিল, তাই খোদা আমাকে ‘হাকেম’ করে পাঠিয়েছেন।

(কিতাবুল বারিয়া)

এ কথাও ভেবে দেখতে হবে যে, যখন আলেমদেরকে এই প্রশ্ন করা হয় যে, চৌদ্দ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ হওয়ার দাবী এই অধম ছাড়া আর কে করেছে, কে আল্লাহ্‌র প্রেরিত হবার কথা বলেছে এবং কে মুলহাম (ঐশীবাণীপ্রাপ্ত) ও প্রত্যাদিষ্ট হওয়ার দাবী করেছে, তখন এর জওয়াব দেওয়ার বদলে তারা বিলকুল খামুশ থেকে যান এবং এমন কোন ব্যক্তিকেই পেশ করতে পারেন না, যে এই প্রকারের দাবী করেছে।

(আয়নায়ে কামালাতে ইসলাম)

প্রত্যেক শতাব্দীর শিরোভাগে মুজাদ্দিদের আগমন হবে বলে আঁ হযরত সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছেন, তদনুযায়ী আল্লাহ্ তা’আলা আমাকে চতুর্দশ শতাব্দীর মুজাদ্দিদ করেছেন।

(তবলীগে হক্)

আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম প্রত্যেক শতাব্দীতে যুগ-ইমামের প্রয়োজনীয়তা নির্দিষ্ট করে গেছেন এবং পরিষ্কার ভাষায় বলে গেছেন যে, যে ব্যক্তি যামানার ইমামকে গ্রহণ না করে খোদা তা’আলার দিকে প্রত্যাবর্তন করবে সে দৃষ্টিহীন হয়ে মরবে এবং তার মৃত্যু জাহেলিয়তের মৃত্যু হবে।

............

শেষ প্রশ্ন এটাই বাকি আছে যে, বর্তমান যামানার ইমাম কে, যাঁর অনুসরণ করা সকল মুসলমানের, সকল খোদা-ভীরুগণের, সত্য-স্বপ্ন দ্রষ্টাগণের এবং ইলহাম বা ঐশীবাণী প্রাপ্তগণের জন্য আল্লাহ্ তা’আলা কর্তৃক অবশ্য বলে নির্ধারিত হয়েছে? এই প্রশ্নের জবাবে আমি দ্বিধাহীনচিত্তে ঘোষণা করছি যে, খোদার ফযলে এবং ইচ্ছায় ‘সেই যুগ-ইমাম আমি’। খোদা তা’আলা একজন যাবতয়ি নিদর্শন ও শতাব্দী আমার মধ্যে সমাবিষ্ট করেছেন এবং আমাকে শতাব্দীর শিরোভাগে আবির্ভূত করেছেন।

.........

মসীহ্ (আ.)-এর আবির্ভাব সম্বন্ধে বহু ভ্রান্ত ধারণা বিস্তার লাভ করেছিল। এ ব্যাপারে মত-পার্থক্যের অন্ত ছিল না। ... এইরূপ পরস্পর বিরোধী মত ও উক্তিগুলির মীমাংসা করার জন্য একজন হাকেম বা বিচারকের প্রয়োজন দেখা দিয়াছিল। সেই বিচারক আমি।

(জরুরতুল ইমাম)

এই লেখককে এই সংবাদ দেয়া হয়েছে যে, সে যামানার মুজাদ্দিদ (সংস্কারক) এবং তার রূহানী মর্যাদার সহিত ঈসা ইবনে মরিয়মের রূহানী মর্যাদার সাদৃশ্য রয়েছে এবং উভয়ে উভয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত এবং একে অপরের সদৃশ।

(আয়নায়ে কামালাতে ইসলাম)

বস্তুতঃ বর্তমান যামানায় ইসলামকে ধ্বংস করবার জন্য শয়তান তার শিষ্য-সন্তানদের নিয়ে মরিয়া হয়ে লেগেছে। যেহেতু, এতে কোন সন্দেহ নেই যে, এটাই হচ্ছে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে আখেরী লড়াই, সেহেতু যামানারও দাবী এটাই ছিল যে, সংস্কারের উদ্দেশ্যে কোন খোদা-প্রেরিত ব্যক্তির আগমন হোক। তিনিই প্রতিশ্রুত মসীহ্ যিনি তোমাদের মধ্যেই বর্তমান।

(চশমায়ে মা’রেফাত)

লক্ষ্যণীয় যে, ঈসা ইবনে মরিয়ম ছিলেন মূসা (আ.)-এর শেষ খলীফা, এবং আমি রসূলে পাক (সা.), যিনি খায়রুল মুরসালীন, তাঁর শেষ খলীফা।

(হাকীকাতুল ওহী)

খ্রিস্টানরা উচ্চঃস্বরে এই দাবী করে আসছিল যে, যীশু ছিলেন খোদার সান্নিধ্যের কারণে এবং তাঁর উচ্চ মর্যাদার কারণে অনন্য, তুলনাহীন। এখন খোদা ঘোষণা করেছেন যে, তিনি একজন দ্বিতীয় যীশুর সৃষ্টি করেছেন যে, প্রথম জনের চাইতে উত্তম এবং আহমদ (সা.)-এর একজন গোলাম।

(দাফেউল বালা)

আমি বার বার জোরের সঙ্গে বলেছি যে, আমার প্রতি যে সমস্ত ওহী ইলহাম অবতীর্ণ হয়েছে সে সবই নিশ্চিতরূপেই খোদার কালাম, ঠিক সেইভাবে, যেভাবে পবিত্র কুর’আন ও তৌরাত খোদার কলাম এবং প্রতিবিম্বের আকারে আমি একজন খোদার নবী। ধর্মীয় ব্যাপারে প্রতিটি মুসলমান আমাকে মানিতে বাধ্য এবং মসীহ্ মাওউদ হিসেবে মানিতেও বাধ্য .......... খোদা আমার সমর্থনে দশ সহস্রাধিক নিদর্শন প্রকাশ করেছেন। কুর’আন আমার পক্ষে সাক্ষ্য দান করছে, রসূলে পাক (সা.) আমার পক্ষে সাক্ষ্য দান করেছেন।

(তেহ্‌ফা তুন্ নদওয়া)

সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ আমাকে দু’টি উপাধি দান করেছেন, আমার একটি উপাধি হচ্ছে অনুসারী-যার ইঙ্গিত রয়েছে আমার নাম ‘গোলাম আহমদ’-এর মধ্যে। আমার দ্বিতীয় উপাধি-প্রতিবিম্ব-নবী (উম্মতি-নবী বা যিল্লী-নবী)।

(যমিয়া বারাহীনে আহ্‌মদীয়া)

আমার পক্ষে যমীনও সাক্ষ্য দান করেছে এবং আসমানও। একইভাবে আমার জন্য আসমানও বলেছে এবং যমীনও বলেছে যে, আমি খলীফাতুল্লাহ্।

………

এবং যে যে স্থানে আমি নবুওয়ত ও রেসালাত সম্পর্কে অস্বীকার জ্ঞাপন ��রেছি, তা শুধু এই অর্থে করেছি যে, না আমি স্বতন্ত্র কোন শরীয়তবাহী নবী এবং না আমি স্বীয় অধিকারে কোন নবী। বরং তা এই যে, আমি আমার রসূলে মুক্তেদা (সা.) থেকে বাতেনী ফয়েয বা গুপ্ত কল্যাণরাজি হাসিল করে এবং তাঁরই নামে আখ্যায়িত হয়ে তাঁরই মাধ্যমে আমি খোদার কাছ থেকে গায়েবের জ্ঞান লাভ করেছি, তাই আমি রসূল ও নবী। কিন্তু আমার কোন নতুন শরীয়ত নেই।

……

হ্যাঁ, একটা কথা মনে রাখতে হবে যে, এবং তা কখনও ভুলে গেলে চলবে না যে, যদিও আমি নবী ও রসূল নামে আখ্যায়িত হয়েছি, তথাপি খোদা তা’আলার তরফ থেকে আমাকে জানানো হয়েছে যে, তাঁর এই সকল আশিস ও কল্যাণ আমার প্রতি প্রত্যক্ষভাবে হয়নি বরং আসমানে এক পবিত্র অস্তিত্ব আছেন যাঁর রূহানি ফয়েয বা আধ্যাত্মিক শক্তিসমূহ আমার মধ্যে ক্রিয়াশীল হয়েছে অর্থাৎ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লামের। তাঁর উসিলা ও মধ্যস্থতা অক্ষুণ্ণ রেখে এবং তাঁর মধ্যে বিলীন হয়ে তাঁর মুহাম্মদ ও আহমদ নামে অভিহিত হয়ে আমি রসূলও হয়েছে। অর্থাৎ প্রেরিতও হয়েছি এবং খোদার কাছ থেকে অদৃশ্যের বা গায়েবের সংবাদ লাভকারীও হয়েছি এবং এর দরুন খাতামান্নাবীঈনের মোহরও অক্ষুন্ন রয়েছে। কেননা, আমি প্রতিফলিত ও প্রতিবিম্বরূপে প্রেমের আয়নার মধ্য দিয়ে ঐ নাম লাভ করেছি।

……

সুতরাং যে ব্যক্তি দুষ্টামি করে আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উত্থাপন করে যে, আমি নবুওয়ত ও রেসালতের দাবীদার, সে মিথ্যাবাদী এবং এই জাতীয় ধারণা অপবিত্র। বুরুজী (প্রতিবিম্ব) আকারে আমাকে নবী ও রসূল করা হয়েছে এবং এইভাবে খোদা বার বার আমার নবীউল্লাহ্ এবং রসূলুল্লাহ্ রেখেছেন, কিন্তু বুরুজী আকারে। এর মধ্যে আমার নফ্স বা সত্তা নেই, আছে মুহাম্মদ মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম। এই কারণে আমার নাম মুহাম্মদ এবং আহমদ হয়েছে। সুতরাং নবুওয়ত ও রেসালত অপর কারও নিকট যায়নি, মুহাম্মদ (সা.)-এর জিনিস মুহাম্মদ (সা.)-এর নিকটেই রয়ে গেছে, “আলায়হেস সালাতো ওয়াস্‌সালাম।”

(এক গল্‌তি কা ইজালা)

আমি যদি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মত না হতাম, এবং তাঁর অনুসারী না হতাম, তথাপি আমি কখনও খোদার সহিত বাক্যালাপ কিংবা তাঁর বাণী লাভের সম্মানের অধিকারী হতে পারতাম না। কেননা, এখন মুহাম্মদী নবুওয়ত ছাড়া বাকী তামাম নবুওয়তের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। আর কোনও শরীয়তবাহী নবী আসতে পারে না। কিন্তু শরীয়ত ছাড়া কোন নবী আসতে পারবেন, অবশ্য তিনি যদি রসূলে করীম (সা.)-এর অনুসারী হন। এইভাবে আমি একই সঙ্গে একজন উম্মতিও, একজন নবীও। আমার নবুওয়ত হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুওয়তের প্রতিবিম্ব। তাঁর (সা.) নবুওয়ত হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুওয়তের প্রতিবিম্ব। তাঁর (সা.) নবুওয়ত বাদ দিয়ে আমার নবুওয়তের কোনও অস্তিত্ব নেই। ইহা তো সেই মুহাম্মদী নবুওয়ত যা আমার মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে।

(তাজাল্লিয়াতে ইলাহিয়া)

আমি কুর’আন ও হাদীসের সত্যতা সাব্যস্তকারী এবং পরিবর্তে আমিও উহাদের দ্বারা সাব্যস্ত। আমি পথভ্রষ্ট নই, বরং আমি মাহ্‌দী।

(মুলফুযাত, ৪র্থ খন্ড)

খোদা তা’আলা সমগ্র মানবজাতিকে একত্রিত করার জন্য এবং তাদের সকলের পক্ষে একই ধর্ম গ্রহণের জন্য মুহাম্মদী নবুওয়তের সময়ের শেষ অংশকে নির্ধারিত করেছেন এবং সেই সময়টা কেয়ামতের পূর্ববর্তী সময়। এই উদ্দেশ্য সাধনের জন্য আল্লাহ্ তা’আলা মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মতের মধ্য থেকে একজন প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছেন, খাতামাল খোলাফা হিসাবে যার নাম দেয়া হয়েছে মসীহ্ মাওউদ।

(চশ্‌মায়ে মা’রেফত)

এই অধমকে মসীহ্-এর নাম দিয়ে প্রেরিত করা হয়েছে যেন আমি ক্রুশীয় মতবাদকে ধ্বংস করি। সুতরাং আমি ক্রুশ ভঙ্গ করার ও শূকর বধ করার জন্য প্রেরিত হয়েছি। ... ... ... তাদের (আমার সঙ্গে অবতীর্ণ ফিরিশ্‌তাদের) হাতে বড় বড় হাতুড়ী দেয়া আছে এবং তা দেয়া হয়েছে ক্রুশ ভঙ্গ করবার জন্য এবং সৃষ্টির উপাসনার উদ্দেশ্যে তৈরী মূর্তি ও মন্দিরসমূহ ধ্বংস করার জন্য।

(ফতেহ্ ইসলাম)

নবী রসূলগণের (আঃ) দুনিয়াতে আবির্ভাবের প্রধান উদ্দেশ্য এবং তাঁদের শিক্ষার ও প্রচারের মহান লক্ষ্য হচ্ছে, মানুষ যেন খোদা তা’আলাকে চিনতে পারে এবং তারা যেন পাপের জীবন যা দোযখের দিকে ধাবিত করে এবং ধ্বংস করে দেয়, তা থেকে পরিত্রাণ লাভ করে। বস্তুতঃ এই মহান লক্ষ্যই থাকে তাঁদের সামনে। সর্বশক্তিমান খোদা তা’আলা এই সম্বন্ধে একটি সেলসেলা প্রবর্তন করেছেন এবং আমাকে আবির্ভূত করেছেন। অন্যান্য সকল নবীর যে উদ্দেশ্য আমারও সেই উদ্দেশ্য। খোদা কী? আমি তা বোঝাতে চাই, দেখাতে চাই এবং আমি পাপ থেকে পরিত্রানের পথে পরিচালিত করতে চাই।

(মলফুযাত, ৩য় খন্ড)

আমার দাবী যদি আমার নিজের পক্ষে থেকেই হতো, তাহলে আমাকে প্রত্যাখ্যান করাতে তোমাদের কোনও দায়দায়িত্ব থাকতো না। কিন্তু যদি খোদা তা’আলার পবিত্র রসূল (সা.) তাঁর ভবিষ্যদ্বাণীসমূহের মাধ্যমে আমার পক্ষে সাক্ষ্যদান করে থাকেন এবং খোদা আমার সমর্থনে তাঁর নিদর্শনসমূহ প্রকাশ করে থাকেন, তাহলে আমাকে প্রত্যাখ্যান করার মধ্য দিয়ে নিজেদের অনিষ্ট করো না। একথা বল না যে, আমরা তো মুসলমান, মসীহ্কে মানবার কোনও প্রয়োজন আমাদের নেই।

(আইয়ামুস সুলেহ্‌)

আমার প্রতি এই ইলহামও হয়েছিল যে, ‘হে কৃষ্ণ রুদ্র গোপাল! তোমার মহিমা গীতায় লিখিত আছে!’

হিন্দুদের কিতাবগুলিতে একটি ভবিষ্যদ্বাণী আছে এবং তা হচ্ছে শেষ যুগে একজন অবতার আসবেন যিনি কৃষ্ণের সদৃশ হবেন এবং বুরুজ হবেন; এবং আমার কাছে প্রকাশ করা হয়েছে যে, সে আমিই।

(তোহ্‌ফা গোলড়বিয়া)

আমি ঠিক সেইভাবে খতমেবেলায়েতের মোকামে অধিষ্ঠিত যেভাবে সাইয়েদুল মুস্তাফা (সা.) খতমে নবুওয়তের মোকামে অধিষ্ঠিত। তিনি খাতামাল আম্বিয়া এবং আমি খাতামাল আওলিয়া। আমার পরে কোন হাকীকী ওলী নাই, সে ছাড়া যে আমা হতে হয়েছে এবং আমার অনুবর্তিতায় হয়েছে।

(খোত্‌বা ইলহামিয়া)

স্মর্তব্য যে, সকল ধর্মের কিতাবগুলিতে শেষ যুগে একজন প্রতিশ্রুত পুরুষের আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে এবং তাঁর আগমনকালের লক্ষণাবলীর বর্ণনা দেওয়া আছে নানাভাবে। তিনি এলে তাঁর দ্বারা সত্যধর্মের বিজয় হবে। যে বিজয় জগদ্ব্যপী হবে, সার্বজনীনভাবে হবে। সকল ধর্মের অনুসারীরা সেই প্রতিশ্রুত মহাপুরুষের আগমনের প্রতীক্ষায় ছিল এভং এখনও আছে। কিন্তু সত্যধর্ম যেহেতু এক হবে, একাধিক হবে না, সেহেতু সেই প্রতিশ্রুত পুরুষও একজনই হবেন, একাধিক হবেন না। তবে, একাধিক নামে তাঁকে আখ্যায়িত করা হয়েছে বিভিন্ন ধর্মের বিভিন্ন গ্রন্থসমূহে। হিন্দু ধর্মে বলা আছে শ্রীকৃষ্ণের পুনরাবির্ভাব ঘটবে বা নিষ্কলংক কল্কি অবতারের আগমন হবে। ইহুদীরা বলে, মসীহ্ আবির্ভূত হবেন। খ্রিস্টানরা বলে যীশু বা মসীহ্ পুনরায় অবতীর্ণ হবেন। বৌদ্ধরা বলে, মৈত্তেয় আসবেন। জরথুস্ত্রের অনুসারীরা বিশ্বাস করেন মেসিওদরবাহমী আবির্ভূত হবেন। মোটকথা, সব ধর্মের অনুসারীরাই তাদের ধর্মগ্রন্থাদিতে উল্লেখিত শেষ যুগে আগমনকারী একজন প্রতিশ্রুত পুরুষের প্রতি বিশ্বাস।

যেহেতু আমি প্রতিশ্রুত মসীহ্ এবং খোদা আমার সমর্থনে বহু ঐশী নিদর্শন প্রকাশ করেছেন, সেহেতু প্রতিশ্রুত মসীহ্ হিসেবে আমার আগমন সম্পর্কে যে ব্যক্তিকে খোদার দৃষ্টিতে যথেষ্ট সতর্ক করা হয়েছে এবং যে আমার দাবী সম্পর্কে অবহিত, তাকে খোদার কাছে জব���বদিহি করতে হবে। কেননা, খোদা-প্রেরিত ব্যক্তিগণকে স্বীকার করা ছাড়া কারও নিস্তার নেই; আর এক্ষেত্রে তো- আমি নিজে বাদী নই, বাদী হচ্ছেন তিনি যাঁর পক্ষে ও যাঁর পক্ষে ও যাঁর সমর্থনে আমাকে প্রেরণ করা হয়েছে, অর্থাৎ মুহাম্দ মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম। যে ব্যক্তি আমাকে গ্রহণ করে না, সে আমাকে অমান্য করে না বরং সে অমান্য করে তাঁকেই যিনি আমার আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন।

(হাকীকাতুল ওহী)

রসুলে করীম (সা.) তাঁর নবুওয়তকালের প্রথমে এবং প্রতিশ্রুত মসীহ্ শেষে অবস্থান করছেন এবং প্রয়োজন ছিল যে, এই সেলসেলা তাঁর (মসীহ্ মাওউদের) আগমনের পর কেটে দেয়া হবে না। কেননা, মানবজাতির একত্রীকরণের কাজ বা উম্মতে ওয়াহেদা প্রতিষ্ঠার কাজ সম্পন্ন হওয়া নির্ধারিত ছিল তাঁরই সময়ে। এ কথাই ব্যক্ত করা হয়েছে কুর’আন করীমের এই আয়াতে:

তিনিই সেই, যিনি তাঁর রসূলকে প্রেরণ করেছেন হেদায়াত ও সত্য ধর্মসহ যাতে তিনি সকল ধর্মের উপর ইহার বিজয় লাভ সম্পন্ন করেন। (৯:৩৩)

অর্থাৎ প্রতিশ্রুত মসীহ্ বিশ্বব্যাপী বিজয় লাভ করবেন। যাঁরা আমার পূর্বে অতীত হয়ে গেছেন তারা সবাই এ ব্যাপারে একমত পোষণ করতেন যে, প্রতিশ্রুত মসীহের যামানায় ইসলামের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হবে।

(চশ্‌মায়ে মা’রেফাত)

সর্বোপরি আমার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানবহৃদয়ে পুনরায় আল্লাহ্ তা’আলার সেই খাঁটি ও উজ্জল তৌহীদের প্রতিষ্ঠা করা, যা মানবপূজার বা পৌত্তলিকতার সর্ব প্রকার সন্দেহ থেকে মুক্ত এবং যা এখন সম্পূর্ণরূপে অন্তর্হিত হয়েছে গেছে। এই সব কাজ, আমার শক্তির দ্বারা সম্পাদিত হবে না, বরং তাঁরই শক্তি দ্বারা হবে যিনি আসমান ও যমীনের খোদা।

(লেকচার লাহোর)

খোদার ইচ্ছা ইহাই যে, মুসলমানদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি আমার থেকে দূরে থাকবে সে কাটা পড়বে; চাই সে বাদশা হোক আর প্রজা হোক।

(তায্‌কেরা)

আমি খোদা তা’আলার বাগিচা, যে আমাকে কাটতে চাইবে সে নিজেই কাটা পড়বে।

(নিশানে আসমানী)

খোদা আমাকে সম্বোধন করে বলেছেন,

“তুমি আমার পক্ষ থেকে সতর্ককারী। আমি তোমাকে প্রেরণ করেছি যাতে পাপীদেরকে পুণ্যবানদের থেকে পৃথক করা যায়”।

……

খোদা তা’আলা দুই প্রকারের কুদরত (শক্তি ও মহিমা) প্রকাশ করেনৎ প্রথম, নবীগণের মাধ্যমে তাঁর কুদরতের এক হস্ত প্রদর্শন করেন। দ্বিতীয়তঃ অপর হস্ত এমন এক সময় প্রদর্শন করেন, যখন নবীর ওফাতের পর, বহু বিপদাবলী হয় এবং দুশমন শক্তি পেয়ে মনে করতে থাকে যে, এই (নবীর) কার্য ব্যর্থ হয়েছিল এবং মরুবাসী বহু অজ্ঞ লোক মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল এবং সাহাবাগণও শোকে পাগলের মত হয়েছিলেন। তখন খোদা তা’আলা হযরত আবুবকর সিদ্দীক (রা.)-কে দন্ডায়মান করেন এবং পুনরায় তাঁর কুদরত প্রদর্শন করেন। তোমাদের জন্যেও দ্বিতীয় কুদরত দেখা প্রয়োজন ... সেই দ্বিতীয় কুদরত আমি না যাওয়া পর্যন্ত আসতে পারে না। তবে, আমি গেলে পরে খোদা তোমাদের জন্য সেই ‘দ্বিতীয় কুদরত’ প্রেরণ করবেন। তা তোমাদের সঙ্গে চিরকাল থাকবে। ইহাই অঙ্গীকার করেছেন খোদা তা’আলা বারাহীনে আহমদীয়া গ্রন্থে। সেই অঙ্গীকার আমার নিজের জন্য নয়, সেই অঙ্গীকার তোমাদের জন্য:

“আমি এই জামাতকে যা তোমার অনুসারী, তাকে কেয়ামত পর্যন্ত অন্য সকলের উপর বিজয় দান করব”।

(আল্ ওসীয়্যত)

এই যামানার দুর্ভেদ্য দূর্গ আমি। যে আমাতে প্রবেশ করে সে চোর, দস্যু ও হিংস্র জন্তু থেকে নিজ প্রাণ বাঁচায়। কিন্তু যে আমার প্রাচীর থেকে দূরে থাকতে চায়, তার চারিদিকে মৃত্যু বিরাজমান, তার লাশও নিরাপদ থাকবে না।

(ফতেহ্ ইসলাম)

মানবজাতির জন্য জগতে আজ কুর’আন ব্যতিরেকে আর কোন ধর্মগ্রন্থ নেই এবং আদম সন্তানের জন্য বর্তমানে মুহাম্মদ (সা.) ছাড়া কোন রসূল ও শাফায়াতকারী নেই। অতএব তোমরা সেই মহান গৌরবসম্পন্ন নবীর সঙ্গে প্রেমসূত্রে আবদ্ধ হতে চেষ্টা কর এবং অন্য কাউকেও তাঁর উপরে কোন প্রকারের শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করো না, যেন আসমানে তোমরা তোমরা নাজাত প্রাপ্ত বলে পরিগণিত হতে পার।

(কিশ্‌তি-এ-নূহ্)

এবং এই ধরনের লোক, যে মনে করে যে, কোন ব্যক্তি যদি খোদাকে ওয়াহেদ ও লা-শরীক জানে, কিন্তু আঁ হযরত সাল্লাল্লাহো আলায়হে ওয়া সাল্লামকে মানে না, সেও পরিত্রান পেয়ে যাবে। নিশ্চয় জেনে রাখ যে, ঐ ব্যক্তির হৃদয় কুষ্ঠ রোগাক্রান্ত এবং সে অন্ধ এবং সে কিছুই জানে যে, তৌহীদ কী জিনিষ! এই ধরনের তৌহীদের ঘোষণায় শয়তানও তার চাইতে উত্তম। কেননা, যদিও শয়তান গোনাহ্‌গার ও নাফরমান তবু, সে এই কথার উপর ঈমান রাখত যে, খোদা আছেন। কিন্তু ঐ ব্যক্তির তো খোদার উপরও বিশ্বাস নেই।

(হাকীকাতুল ওহী)

এই অধমকে তো এই উদ্দেশ্যেই প্রেরণ করা হয়েছে যে, সে যেন আল্লাহ্‌র সৃষ্টির কাছে এই পয়গাম পৌঁছিয়ে দেয় যে, দুনিয়ার বুকে যে সকল ধর্ম বর্তমান রয়েছে, তার মধ্যে এই পয়গাম পৌঁছিয়ে দেয় যে, দুনিয়ার বুকে যে সকল ধর্ম বর্তমান রয়েছে, তার মধ্যে সেই ধর্মই সত্যের উপরে আছে এবং খোদা তা’আলার ইচ্ছানুযায়ী বিদ্যমান রয়েছে যা কুর’আন করীম নিয়ে এসেছে এবং পরিত্রানের ঘরে দাখিল হওয়ার দরজার হচ্ছে, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহো মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ্”

(হুজ্জাতুল ইসলাম)

ইসলামের জীবনলাভ আমাদের নিকট থেকে এক প্রায়শ্চিত্ত চায়। উহা কী? এই পথে আমাদের মৃত্যু বরণ। এই মৃত্যুর উপরই ইসলামের জীবন, মুসলমানের জীবন এবং জীবন্ত খোদার মহিমার বিকাশ নির্ভর করে এবং ইহাই সেই জিনিস, অন্য কথায় যার নাম ইসলাম।

(ফতেহ্ ইসলাম)

খোদা ওন্দ করীম, যিনি মানবহৃদয়ের গুপ্ত ভেদসমূহ সম্পূর্ণরূপে জ্ঞাত, তাঁকে সাক্ষী রেখে এই কথা বলছি যে, যদি কোন ব্যক্তি কুর’আন করীমের শিক্ষা থেকে এক পরমানুর হাজার ভাগের একভাগের সমানও কোন ত্রুটি বের করতে পারে, তার মুকাবেলায় তাদের নিজেদের কোনও কিতাব থেকে এক পরমানুরও সমান এমন কোন শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে পারে, যা কুর’আন করীমের শিক্ষার বরখেলাফ অথচ তা থেকে উত্তম, তাহলে সেক্ষেত্রে আমি মৃত্যুদন্ড গ্রহণ করতেও প্রস্তুত।

(বারাহীনে আহমদীয়া)

আমি কাশ্‌ফে দেখলাম - হযরত আলী (রা.) আমাকে কুরআনের তফ্‌সীর দিলেন এবং বললেন, এই তফসীর আমি করেছি। এখন আপনিই এর হকদার। আপনার জন্য এই কিতাব পাওয়াটা মুবারক। আমি হাত বাড়িয়ে ঐ তফসীর নিলাম এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলাম।

(তাযকেরা)

খোদা ইচ্ছা করেছেন যে, তিনি সকল সাধু-স্বভাবের ব্যক্তিকে, তাঁরা ইউরোপেই বাস করুন আর এশিয়াতেই বাস করুন, তাঁদেরকে তৌহীদের প্রতি আকৃষ্ট করেন এবং তাঁর বান্দাদেরকে একই ধর্মের পতাকা তলে সমবেত করেন। এটাই খোদা তা’আলার অভিপ্রেত এবং এজন্যই আমি দুনিয়াতে প্রেরিত হয়েছি।

(আল্ ওসীয়্যত)

তিনি (আল্লাহ্ তা’আলা) সত্যই বলেছেন: “আমরাই কুর’আন অবতীর্ণ করেছি এবং আমরাই এর হেফাযত কারী।” তিনি এই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমাকে প্রেরণ করেছেন।

(তবলীগে হক্)

খোদা আমাকে খবর দিয়েছেন, “মুহাম্মদী মসীহ্, মুসায়ী মসীহ্ থেকে উত্তম”।

(তায্‌কেরা)

তোমরা নিশ্চয় জানিও, হযরত ঈবনে মরিয়ম (আ.)-এর মৃত্যু হয়েছে, এবং কাশ্মীরের শ্রীনগর শহরে খানাইয়ার মহল্লায় তাঁর মাজার আছে। খোদাতা’লা তাঁর প্রিয় কিতাব কুর’আন শরীফে ঈসা (আ.)-এর মৃত্যুর সংবাদ দিয়েছেন।

(কিশ্‌তি-এ-নূহ্)

যে ব্যক্তি সত্য সত্যই আমাকে প্রতিশ্রুত মসীহ্ ও প্রতিশ্রুত মাহ্‌দী হিসাব বিশ্বাস করে না, সে আমার সম্প্রদায়ভুক্ত নয়।

(কিশ্‌তি-এ-নূহ্)

আমি এই কথা বার বার বর্ণনা করব এবং এর ঘোষণা থেকে আমি কখনই বিরত হতে পারি না যে, আমিই সেই ব্যক্তি যাকে যথাসময়ে জগতের সংস্কারের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে যেন ধর্মকে পুনরায় নূতনভাবে মানবহৃদয়ে প্রতিষ্ঠিত করা হয়।

(কিশ্‌তি-এ-নূহ্)

হে সেই সকল লোকেরা যারা ভূপৃষ্ঠে অবস্থান করছ! হে সেই সমস্ত মানবের আত্মাগণ যারা প্রাচ্য ও প্রতীচ্যে বিচরণ করছ! আমি আপনাদের অতি জোরের সাথে এই দিকে আহ্বান করছি যে, পৃথিবীতে সত্য ধর্ম একমাত্র ইসলাম এবং সত্য খোদা সেই খোদা যার কথা কুর’আন বলেছে এবং সর্বকালের জন্য আধ্যাত্মিক জীবনের সিংহাসনে সমাসীন হচ্ছেন হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম, যাঁর আধ্যাত্মিক জিন্দেগীর এবং পবিত্র জালালের এই প্রমাণ আমরা পেয়েছি যে, তাঁর আনুগত্য ও ভালবাসার মধ্য দিয়ে আমরা রূহুল কুদুসকে (জিব্রাইলকে) পেয়ে থাকি, খোদা তা’আলার বাণী ও বার্তা লাভ করি এবং ঐশী নিদর্শনসমূহ দেখে থাকি।

(তিরিয়াকুল কুলুব)

যদি খোদা না খাস্তা, সত্য সত্যই, কুর’আন করীমে লিখা থাকতো যে, খোদাতালা সেই চিরন্তন নিয়ম ও সুন্নতের বরখেলাফে অর্থাৎ সমস্ত বনী-আদমের জন্য যে নিয়ম জারি আছে তার খেলাফে মসীহ্কে জিন্দা আসমানে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাঁকে কেয়ামত পর্যন্ত জিন্দাই রাখা হবে, তাহলে খ্রিস্টানদের পক্ষে বিভ্রান্ত করবার আরও বড় বড় উপায় উদ্ভাবন করা সম্ভবপর হত। কিন্তু, খুব কাজের কাজ হয়েছে যে, খ্রিস্টানদের সেই খোদা মারা গেছে; এবং এই যে হামলা তা কোনও বল্লমের হামলার চাইতে কম ছিল না, যা এই অধম করেছে খোদা তা’আলার পক্ষ থেকে মসীহ্ ইবনে মরিয়মের মত হয়ে ঐ সকল দাজ্জাল চরিত্রের লোকদের উপরে, যাদেরকে পবিত্র বস্তু দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা দজ্জাল চরিত্রের লোকদের উপরে, যাদেরকে পবিত্র বস্তু দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা তার সাথে অপবিত্র বস্তু মিশিয়ে ফেলেছে এবং সেই কাজই করেছে যা দজ্জালের করণীয়। .......

.......... এই যামানায় পাদ্রীদের মত আর কোনও দজ্জাল আজও পর্যন্ত পয়দা হয়নি এবং কেয়ামত পর্যন্ত পয়দা হবে না।

(এজালা আওহাম)

আমি এটাও প্রমানিত করেছি যে, ইয়া’জুজ মা’জুজের যামানাতেই মসীহ্ মাওউদের আবির্ভাব হওয়া জরুরী। যেহেতু আগুনকেই ‘আজীজ’ বলা হয়, যা থেকে ইয়া’জুজ ও মা’জুজ শব্দের উৎপত্তি। সেহেতু, যেভাবে আল্লাহ্ আমাকে বুঝায়েছেন, ‘ইয়া’জুজ মা’জুজ’ হলো সেই সব জাতি যারা পৃথিবীতে আগুন দ্বারা কাজ করতেই ওস্তাদ ........................ সুতরাং এরা হচ্ছে ইউরোপের জাতিগুলি ..................... পূর্ববর্তী কেতাবগুলিতেও ইউরোপের লোকদেরকেই ইয়া’জুজ মা’জুজ বলা হয়েছে, এমনকি মস্কোর নাম পর্যন্ত উল্লেখ করা আছে, যা প্রাচীনকাল থেকেই রাশিয়ার রাজধানী। আর, এটা নির্দিষ্ট ছিল যে, প্রতিশ্রুত মসীহ্ ইয়া’জুজ মা’জুজের যামানাতেই জাহির হবেন।

হাদীসসমূহে দৃশ্যত: একটা বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যায়, মসীহ্ মাওউদের আবির্ভাবের সময়ে একদিকে তো এই কথা বলা হয়েছে যে, ইয়া’জুজজ মা’জুজ সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং অপরদিকে এটাও বলা হয়েছে যে, তখন সারা পৃথিবীতে খ্রিস্টান জাতির জয় জয়াকার হবে। ... ... আবার অন্যান্য হাদীসে এ কথাও বলা আছে যে, মসীহ্ মাওউদের আবির্ভাবের সময়ে সারা দুনিয়াতে দজ্জালের জয় জয়াকার হবে এবং একমাত্র মক্কা মুয়ায্যামা বাদে সারা পৃথিবীকেই দজ্জাল ঘিরে ফেলবে। এখন, কোনও মৌলবী কি বলে দিবেন যে, এই যে বৈপরীত্য, তা দূর করা যাবে কীভাবে? যদি দজ্জাল গোটা দুনিয়াটাকেই ঘিরে রাখে, তাহলে খ্রিস্টান সাম্রাজ্য থাকবে কোথায়? তাছাড়া, ইয়া’জুজ মা’জুজ, যাদের ব্যাপক রাজত্বের খবর দিয়েছে কুর’আন শরীফ, তারাই বা থাকবে কোথায়?

... ... ঘটনাই তো প্রমাণ করছে যে, ইয়া’জুজ মা’জুজ ও দজ্জালের যে বৈশিষ্ট্য তা ইউরোপীয় জাতিগুলোর মধ্যেই বিদ্যমান। কেননা, ইয়া’জুজ মা’জুজের বর্ণনায় হাদীসে একথাও বলা আছে যে, তাদের সঙ্গে যুদ্ধে মোকাবেলার শক্তি কারও হবে না এবং মসীহ্ মাওউদও শুধু দোয়ার দ্বারাই কার্য সমাধা করবেন। তাদের এই বৈশিষ্ট্যের কথা কুর’আন শরীফেও পরিষ্কার বর্ণনা করা হয়েছে, বলা হয়েছে, ‘ওয়া হুম মিন কুল্লে হাদাবে ইঁয়ানসেলুন’, এবং দজ্জাল সম্পর্কে হাদীসে এই বয়ান এসেছে যে, সে দজ্জাল (মিথ্যা ও প্রবঞ্চনা) দ্বারা কার্য সম্পাদন করবে, ধর্মের আড়ালে দুনিয়ার বুকে ফিৎনা ছড়াবে। আর কুর’আন শরীফে তো এই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী বলা হয়েছে খ্রিস্টান পাদ্রীদেরকে।

এই আলোচনা থেকে এটাই প্রতিপন্ন হয় যে, এই তিন (দজ্জাল, ইয়া’জুজ মা’জুজ, খ্রিস্টান পাদ্রী) একই। এ কারণেই সূরা ফাতেহায় চিরন্তনরূপে এই দোয়াই শেখানো হয়েছে যে, তোমরা খ্রিস্টানদের ফেৎনা থেকে পানাহ্ বা আশ্রয় চাও, একথা বলা হয়নি যে, দাজ্জাল থেকে পানাহ্ চাও।

(চশমায়ে মারেফাত)

দাজ্জাল যদি আলাদা ফাসাদ সৃষ্টিকারী কেউ হতো তাহলে তো কুর’আন শরীফে খোদা তা’আলা ‘ওয়ায্যয়াল্লীন’ না বলে ‘ওলাদাজ্জাল’ বলতেন।

(হাকীকাতুল ওহী)

দুনিয়া আমাকে জানে না। কিন্তু তিনি আমাকে জানেন যিনি আমাকে প্রেরণ করেছেন। এটা তো ঐ সকল লোকের ভ্রম এবং দুর্ভাগ্য যে, তারা আমার ধ্বংস কামনা করে। আমি ঐ বৃক্ষ যাকে প্রকৃত মালিক স্বহস্তে রোপণ করেছেন। .. .. .. হে মানবমন্ডলী! তোমরা নিশ্চিতভাবে জেনে রাখ যে, আমার সঙ্গে সেই হস্ত রয়েছে যা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আমার সঙ্গে বিশ্বস্ততা রক্ষা করবে। .. .. .. .. খোদার সাথে যুদ্ধ করো না। এ তোমাদেও কাজ নয় যে, আমাকে ধ্বংস করে দিবে।

(তোহ্‌ফা গোলড়বিয়া)

পাদ্রীদের মোকাবেলার এই দেশ (হিন্দুস্থান) ‘দারুল হরব’। অতএব, আমাদের উচিত হবে না নিষ্ক্রিয় বসে থাকা। তবে, মনে রাখতে হবে যে, আমাদের যুদ্ধ হবে তাদের যুদ্ধের মতই। যে ধরনের অস্ত্র নিয়ে তারা ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছে, ঐ ধরনের অস্ত্র নিয়াই আমাদেরকে বেরিয়ে পড়তে হবে এবং সেই অস্ত্র হলো ‘কলম’। এজন্যই আল্লাহ্ তা’আলা এই অধমের নাম রেখেন ‘সুলতানুল কলম’ এবং আমার কলমকে বলেছেন ‘আলীর জুলফিকার’। এর মধ্যে এই তাৎপর্য নিহিত যে এই যুগ যুদ্ধ-বিগ্রহের যুগ নয়, এ যুগ কলমের যুগ।

(মালফুযাত, ১ম খন্ড)

এবং আমাদেরকে এই আদেশ দেওয়া হয়েছে যে, আমরা যেন কাফেরের মোকাবেলায় সেই ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করি, যে ধরনের প্রস্তুতি তারা আমাদের মোকাবেলায় গ্রহণ করে..... .. .. এবং যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা আমাদের উপর তওওয়ার উঠায়, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরাও তাদের উপর তলওয়ার উঠাব না।

(হাকীকাতুল মাহ্‌দী)

ইসলামের বাণীকে গৌরবান্বিত করার চেষ্টা করুন। বিরুদ্ধবাদীদের মিথ্যা অভিযোগের জবাব দিন। সত্য ধর্ম ইসলামের সৌন্দর্যাবলী দুনিয়ার বুকে বিস্তৃত করুন। আঁ হযরত সাল্লাল্লাহো আলায়হে ওয়া সাল্লামের সত্যতা পৃথিবীতে প্রকাশিত করুন। যতক্ষণ খোদাতায়ালা জেহাদের অন্য কোন অবস্থা প্রকাশ না করেন, ততক্ষণ পর্যন্ত ইহাই জেহাদ।

(হযরত মীর নাসের নওয়াব সাহেবের নামে লিখিত পত্রাবলী)

এখন থেকে অস্ত্রের জেহাদের অবসান হলো, কিন্তু নিজের নফ্‌সকে পবিত্র করবার জেহাদ বাকী রয়েছে। একথা আমি নিজের তরফ থেকে বলছি না, বরং এটাই খোদার ইচ্ছা। সহীহ্ বোখারীর সেই হাদীসটি সম্বণ্দে চিন্তা করুন, যেখানে মসীহ্ মাওউদের পরিচিতিতে লেখা আছে ‘ইউযাউল হরব’ অর্থাৎ মসীহ্ (আ.) যখন আবির্ভুত হবেন, তখন তিনি ধর্মযুদ্ধের অবসান করবেন।

(গবর্ণমেন্ট আংরেজি আওর জেহাদ)

পাঞ্জাব ও হিন্দুস্থানের তামাম মাশায়েখ, ফকীর, পুণ্যবান ও সৎসাহসী ব্যক্তিদের কাছে আল্লাহ্ জাল্লা শানুহুর কসম দিয়ে আমি এই আবেদন করছি যে, তাঁরা যেন আমার ব্যাপারে এবং আমার দাবীসমূহের ব্যাপারে দোয়া এবং ইস্তেখারার মাধ্যমে আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করেন। তাতে যদি তাঁদের ইলহাম, কাশ্ফ ও সত্য স্বপ্ন- যা শপথ করে প্রকাশ করতে হবে-বহুলভাবে এটাই প্রকাশিত হয় যে, এই অধম আসলেই মিথ্যাবাদী ও প্রবন্ধনাকারী তাহলে সমস্ত মানুষ যেন নিঃসন্দেহে আমাকে মরদুদ, মাহজুল, মালাউন, প্রবঞ্চক ও মিথ্যাবাদী মনে করে এবং যত খুশী অভিশাপ দেয়, তাতে তাদের সামান্য পাপও হবে না এবং সেক্ষেত্রে প্রত্যেক ঈমানদারের পক্ষে এটাই কর্তব্য হবে যে, সে যেন আমাকে প্রত্যাক্যান করে। এর ফলে খুব সহজেই আমার উপরে এবং আমার জামাতের উপরে বিপর্যয় সৃষ্টি করা যাবে। কিন্তু যদি কাশ্ফ ইলহাম ও সত্যস্বপ্নে বহুলভাবে এটাই প্রতিপন্ন হয় যে, এই অধম আল্লাহ্, কর্তৃক প্রেরিত এবং আনুগত্য করবে এবং অস্বীকার করা থেকে, মিথ্যা আরোপ করা থেকে বিরত থাকবে। এতো জানা কথা যে, প্রত্যেক ব্যক্তিকেই একদিন মরতে হবে। অতএব, যদি সত্যকে কবুল করার কারণে এই দুনিয়াতে কোন জিল্লতি পোহাতে হয়, তবে তা পরকালের জিল্লতির চাইতে উত্তম।

(তবলীগে রেসালাত, ষষ্ঠ খন্ড)

এই উম্মতের জন্য যে আগমনকারী ‘মসীহ্’-এর প্রতিশ্রুতি দেওয়া আছে সে হবে এই উম্মতের মধ্য থেকেই এক ব্যক্তি। বোখারী ও মোসলেমের সেই যে হাদীস, যাতে ‘ইমামুকুম মিনকুম’ এবং ‘আম্মাকুম মিনকুম’ লিখিত আছে, তার অর্থ হচ্ছে, সে তোমাদেও ইমাম হবে এবং তোমাদেও মধ্য থেকেই হবে। যেহেতু, এই হাদীস হচ্ছে আগমনকারী ঈসার (আ.) জন্যে এই হাদীসে ‘হাকাম’‘আদেল’ শব্দ গুণবাচক শব্দ হিসেবে বিদ্যমান আছে, যা এই কথার পূর্বেই বলা হয়েছে, সেহেতু ‘ইমাম’ শব্দটি তারই জন্যে ব্যবহৃত হয়েছে এবং এতে কোন সন্দেহ নেই যে, এখানে ‘মিনকুম’ শব্দটি তারই জন্যে ব্যবহৃত হয়েছে এবং এতে কোনও এক ব্যক্তি উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে যে খোদা তা’আলার জ্ঞানে সাহাবার ‘কায়েম মোকাম’ এবং সে হচ্ছে সেই ব্যক্তি যাকে নিম্নোক্ত আয়াতে কায়েম মোকাম সাহাবা করা হয়েছে অর্থাৎ ‘ওয়া আখরিনা মিনহুম লাম্মা ইয়ালহাকোবিহিম’ আয়াতে (সূরা জুমুআ)

কেননা, এই আয়াতে বলা হয়েছে যে, সেই ব্যক্তি রসূলের (সা.) রূহানিয়ত দ্বারা তরবীয়তপ্রাপ্ত হবে এবং এই অর্থে সে সাহাবাদের ভিতরে আছে এবং এই আয়াতের তাৎপর্য ব্যাখ্যার হাদীস হচ্ছে - ‘লাও কানাল ঈমানো মুয়াল্লাকা বেস্ সুরাইয়া লানালাহু রাজুলুম মেন ফারেস’, এবং এই ফারসী ব্যক্তির প্রতি সেই গুণই আরোপিত করা হয়েছে যা কিনা প্রতিশ্রুত মসীহ্ ও মাহদীর জন্য খাসভাবে নির্দিষ্ট। অর্থাৎ এই পৃথিবী, যা ঈমান ও তৌহিদশূন্য হয়ে যুলুম (পাপ ও অন্যান্য অনাচার) দ্বারা ভরে গেছে, তাকে পুনরায় তা ‘আদল’ (ন্যায় ও ইনসাফ) দ্বারা পরিপূর্ণ করা হবে। অতএব, সেই ব্যক্তিই হবে মাহদী ও মসীহ্ মাওউদ এবং সে আমিই এবং অন্য কোনও মাহদীয়তের দাবীদারের সময়ে রমযান মাসে আসমানে চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ হয়নি, তেমনি বিগত তেরশ’ বছরের মধ্যে কেউ খোদা তা’আলার ইলহামের মাধ্যমে জ্ঞান লাভ করে এই দাবীও করেনি যে, ‘লানালাহু রাজুলুম মেন ফারেস’ এই ভবিষ্যদ্বাণীর উদ্দেশ্য আমি।

(তোহ্‌ফা গোলড়বিয়া)

আমি আল্লাহ জাল্লা শানুহুর কসম খেয়ে বলছি যে, আমি অবিশ্বাসী নই। আমার আকিদা (ধর্ম বিশ্বাস) ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহো মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ্’ এবং আঁ হযরত সাল্লাল্লাহো আলায়হে ওয়া সাল্লাম সম্পর্কিত ‘ওলাকির রসূলুল্লাহে ওয়া খাতামান্নাবীইন’ (কিন্তু তিনি আল্লাহ্‌র রসূল ও খাতামান্নাবীঈন)-এর উপরেই আমার ঈমান। আমি আমার স্বীকৃতির উপরে তত কসম করছি যত পবিত্র নাম রয়েছে খোদার, যত অক্ষর আছে কুর’আন করীমের, যত কামালাত আছে আঁ হযরত (সা.)-এর খোদা তা’আলার কাছে। আমার কোনও আকিদাই আল্লাহ্ ও রসূলের হুকুমের বরখেলাফ নয়। তবু, যদি কেউ এর বিপরীত ধারণা পোষণ করে, তবে সেটা হবে তার ভ্রান্ত ধারণা। এবং যে ব্যক্তি এখনও মনে করে যে, আমি কাফের এবং সে তার কুফরী ঘোষণা থেকে বিরত না হয়, তবে সে যেন নিশ্চিত মনে রাখে যে, মরণের পরে তাকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হবে। আমি আল্লাহ্ জাল্লা শানুহুর কসম খেয়ে বলছি যে, আমার খোদা ও রসূলের উপরে এম দৃঢ়বিশ্বাস আছে যে, যদি এই যামানার সমস্ত ঈমান দাঁড়িপাল্লার এক পাল্লায় রাখা হয় এবং ঈমানকে অপর পাল্লায় রাখা হয়, তাহলে আল্লাহ্ তা’আলার ফযলে এই অপর পাল্লাই ভারী হবে।

(কেরামাতুস সাদেকীন)

... ... এবং যেহেতু বুদ্ধিমত্তার পথ ও পদ্ধতি ত্রুটিপূর্ণ, অসম্পূর্ণ ও সন্দেহযুক্ত হয়ে থাকে, সেহেতু কোনও ফিলসফি কেবল যুক্তি-বুদ্ধির দ্বারা খোদাকে চিনতে পারে না। বরং এই শ্রেণীর অধিকাংশ লোকই যারা শুধু বুদ্ধি দিয়েই খোদা তা’আলার সন্ধান পেতে চায়, তারা পরিণামে নাস্তিক হয়ে যায় ... ... এবং খোদা তা’আলার স্বয়ং-সম্পূর্ণতা নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করে। ... ... সুতরাং কেনা ব্যক্তির পক্ষেই ফিলসফির নৌকোয় বসে সংশয়ের তুফান থেকে পরিত্রান পাওয়া সম্ভব নয়। বরং সে ডুবে মরবেই।

.. .. .. .. .. এখন ভেবে দেখ, এই জাতীয় চিন্তা-ভাবনা কীরূপে মিথ্যা ও কত পুঁতিগন্ধময় যে, নবী সাল্লাল্লাহো আলায়হে ওয়াসাল্লামের উছিলা ছাড়াই তৌহীদ লাভ সম্ভব। ... ... ... ... কথা এটাই সত্য যে, যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ জিন্দা খোদার জিন্দা শক্তিসমূহের পরিচয় না পায়, ততক্ষণ পর্যন্ত, না তার হৃদয় থেকে শয়তান বহিষ্কৃত হয়, না তার হৃদয়ের মধ্যে সত্য তৌহিদ প্রবেশ করে, না সে দৃঢ়ভাবে খোদার অস্তিত্বে বিশ্বাসী হয় এবং এই পূর্ণ ও পবিত্র তৌহীদ একমাত্র আঁ হযরত সাল্লাল্লাহো আলায়হে ওয়া সাল্লামের মাধ্যমেই পাওয়া যায়।

(হাকীকাতুল ওহী)

“কুল্লু বারাকাতিম মিম মুহাম্মদিন সাল্লাল্লাহো আলায়হে ওয়া সাল্লা” অর্থাৎ সমস্ত আশীষ ও কলাণ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহো আলায়হে ওয়া সাল্লাম থেকে।

(ইলহাম)

খোদার পরেই আমি মুহাম্মদ (সা.)-এর ভালবাসায় বিলীন, যদি ইহাই কুফর হয়, তাহলে খোদার কসম, আমি শক্ত কাফের।

(দূর্‌রে সামীন)

এটা কখনই মনে করো না যে, বর্তমানে কিংবা ভবিষ্যতে আর খোদার ওহী অবতীর্ণ হবে না, যা হওয়ার অতীতেই হয়ে গেছে এবং রুহুল কুদুস পূর্বেই অবতীর্ণ হয়েছেন, বর্তমানে আর অবতীর্ণ হবেন না। আমি তোমাদের সত্য সত্যই বলছি যে, প্রত্যেক দুয়ারই বন্ধ হতে পারে, কিন্তু রূহুল কুদুসের নাযেল হওয়ার দুয়ার কখনও বন্ধ হতে পারে না। তোমরা তোমাদের হৃদয়ের দুয়ার উন্মুক্ত করে দাও যেন তিনি সেখানে প্রবেশ করতে পারেন।

(কিশ্‌তি-এ-নূহ্)

খোদা তা’আলা তোমাদেরকে কখনই ওহী ইলহাম (ঐশী-বাণী), মুকালেমা ও মুখাতেবা (খোদার সহিত ব্যাক্যাল���প) থেকে বঞ্চিত রাখবেন না। তিনি পূর্ববর্তী উম্মতকে যে সকল নেয়ামত দান করেছিলেন, সে সমস্তই তোমাদেরকে দান করবেন।

(কিশ্‌তি-এ-নূহ্)

এই আন্দোলনের জন্য যে নামটি যথোপযুক্ত এবং যা আমরা পছন্দ করেছি তা হচ্ছে আহ্‌মদীয়া ফেরকা মুসলিম সম্প্রদায়। আমরা যে এই নাম রেখেছি তার কারণ হচ্ছে, হযরত রসূলে করীম (সা.)-এর দু’টি নাম ছিল মুহাম্মদ ও আহমদ। ‘মুহাম্মদ’ হলো তাঁর ‘জালালী’ বা প্রতাপ প্রকাশক নাম এবং ‘আহমদ’ হলো তাঁর ‘জামালী’ বা সৌন্দর্য প্রকাশক না। মুহাম্মদ নামের মধ্যে এই ভবিষ্যদ্বাণী নিহিত ছিল যে, আঁ হযরত (সা.) তরবারি দ্বারা সেই সকল দুশমনদেরকে শাস্তি দান করবেন যারা তরবারি দ্বারা ইসলামকে আক্রমন করবে এবং শত শত মুসলমানকে হত্যা করবে এবং তাঁর আহমদ নামের মাধ্যমে এই ইংগিত করা হয়েছে যে, তিনি পৃথিবীতে শান্তি ও নিরাপত্তা স্থাপিত করবেন। আল্লাহ্ তা’আলা আঁ হযরত (সা.)-এর জীবনকে এভাবেই গঠিত করেছেন যে, তাঁর মক্কী যিন্দেগী ছিল তাঁর আহমদ নামের প্রকাশক এবং তখন মুসলমানদের ধৈর্য্য ও সহিষ্ণুতা শিক্ষা দেওয়া হয়েছিল। তাঁর মাদানী জিন্দেগীতে তাঁর মুহাম্মদ নামের প্রকাশ ঘটেছিল এবং আল্লাহ্ স্বীয় প্রজ্ঞায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন তাঁর (সা.) শত্রুদেরকে শাস্তিদানের। কিন্তু এই ভবিষ্যদ্বাণীও ছিল যে, আখেরী যামানায় আহমদ নামের প্রকাশ আবারও ঘটবে, এক ব্যক্তির আবির্ভাব ঘটবে যার মাধ্যমে সৌন্দর্য প্রকাশক গুণাবলী, যা আহমদ নামের বৈশিষ্ট্য, তা প্রকাশিত হবে এবং সকল প্রকার যুদ্ধ-বিগ্রহের পরিসমাপ্তি ঘটবে। এ কারণে এটাই যুক্তিযুক্তরূপে বিবেচিত হয়েছে যে, এই ফিরকা বা সম্প্রদায়ের নাম হবে আহ্‌মদীয়া জামাত। যাতে এই নাম শুনলেই সকলে বুঝতে পারে যে, এই জামাতকে খাড়া করা হয়েছে শান্তি ও নিরাপত্তা বিস্তারের জন্য এবং এই জামাতের সঙ্গে যুদ্ধ ও লড়াইয়ের কোন সম্পর্ক নেই।

(তবলীগে রেসালত, ৯ম খন্ড)

হযরত রসূলে করীম সাল্লাল্লাহো আলায়হে ওয়া সাল্লামের নাম ছিল দু’টি ‘মুহাম্মদ’‘আহমদ’। কেননা, মূসা (আ.) নিজেই ‘জালালী’ (তীব্র জ্যোতির্ময়) মর্যাদাসম্পন্ন ছিলেন। আর ঈসা (আ.) তাঁর (সা.) নাম বলেছেন ‘আহমদ’। কেননা, তিনি নিজেও ছিলেন সর্বদাই ‘জামালী’ (স্নিগ্ধকিরণময়) মর্যাদাসম্পন্ন। সুতরাং যেহেতু আমারও সেলসেলা (জামাত) ‘জামালী’ মর্যাদার, সেহেতু এর নাম ‘আহ্‌মদী’

(মলফুযাত, ২য় খন্ড)

আল্লাহ্ তা’আলার চিরন্তন নিয়ম এই যে, যখন থেকে তিনি এই পৃথিবীতে মানব সৃষ্টি করেছেন তখন থেকেই তিনি এই নিয়ম পালন করে আসছেন যে, তিনি তাঁর নবী-রসূলগণ সাহায্য করে থাকেন এবং তাদেরকে বিজয়মন্ডিত করেন। যেমন, তিনি (কুর’আন করীমে) বলেছেন: ‘কাতাবাল্লাহু লাআগলিবান্না আনা ওয়া রুসুলি’- আল্লাহ্ লিখে রেখেছেন যে, তিনি ও তাঁর রসূলগণ বিজয়ী থাকবেন।

(আল্ ওসীয়্যত)

এই অধমকে তো এই উদ্দেশ্যেই প্রেরণ করা হয়েছে যে, সে যেন আল্লাহ্‌র সৃষ্টির কাছে এই পয়গাম পৌঁছিয়ে দেয় যে, দুনিয়ার বুকে যে সকল ধর্ম বর্তমান রয়েছে, তার মধ্যে সেই ধর্মই সত্যের উপরে আছে এবং খোদা তা’আলার ইচ্ছানুযায়ী বিদ্যমান রয়েছে যা কুর’আন করীম নিয়ে এসেছে এবং পরিত্রানের ঘরে দাখিল হওয়ার দরজা হচ্ছে, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহো মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ্”

(হুজ্জাতুল ইসলাম)

উপরে চলুন