In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

রোযার মাহাত্ম্য এবং গুরুত্ব

মৌঃ মোহাম্মদ মজিদুল ইসলাম, মোয়াল্লেম ওয়াকফে জাদীদ

ইসলামী পঞ্জিকা মোতাবেক প্রতি বছর পবিত্র রমযান আসে, রমযান যায়। মুসলিম জাহানের প্রাপ্ত বয়স্ক সুস্থ-সবল নর-নারী এ পবিত্র মাসে ইবাদতের নিয়তে সুবেহ সাদেক হতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সর্বপ্রকার পানাহার এবং স্বামী-স্ত্রীর দৈহিক মিলন হতে বিরত থেকে রোযা পালন করে থাকেন। রোযার মূল উদ্দেশ্য ব্যক্ত করতে যেয়ে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে:

“হে যারা ঈমান এনেছ ! তোমাদের জন্য রোযা ফরয করা হলো, যেভাবে ইহা ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীগণের জন্য, যেন তোমরা তাক্ওয়া অবলম্বন করতে পার।” (সূরাতুল বাকারাঃ ১৮৪)

প্রাপ্ত বয়স্ক সুস্থ-সবল মুসলিম নর-নারী যাদের পবিত্র রমযান লাভের সৌভাগ্য অর্জিত হয়েছে, তাদের উচিত অবজ্ঞা-অবহেলা আর কোন প্রকার বাহানার আশ্রয় না নিয়ে রোযা রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা-প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। কেননা মানুষ মরণশীল, অতএব যে রমজান চলে যাচ্ছে তা জীবনে দ্বিতীয়বার ফিরে না আসার সম্ভাবনাই বেশি। রমযান এমন একটি মাস, যে মাসের সাথে অন্য কোন মাসের তুলনা চলে না। কুরআন করীমে বর্ণিত হয়েছে:

রমযান সেই মাস যে মাসে নাযিল হয়েছে কুরআন যা মানবজাতির জন্য হেদায়াতস্বরূপ এবং হেদায়াত ও ফুরকান (হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্যকারী) বিষয়ক সুস্পষ্ট প্রমাণাদিস্বরূপ। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে কেউ এ মাসকে পায় সে যেন এতে রোযা রাখে। (সূরাতুল বাকারাঃ ১৮৬)

রোযা মানব হৃদয়ে আল্লাহ্‌র প্রতি বিশ্বাস, ভক্তি ও তাক্ওয়ার মান বাড়াতে লবণ সাদৃশ্য, রোযা রোযাদারের যাবতীয় পাপ মোচন করে জান্নাত লাভের নিশ্চয়তা প্রদান করে,

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, হযরত নবী করীম (সঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি বিশ্বাসের আন্তরিকতার ও উত্তম ফল লাভের বাসনায় রমযান মাসে রোযা রাখে, তার পুর্বের সর্বপ্রকার পাপ ক্ষমা করা হবে। (বোখারী, মুসলিম)

হাদীস হতে জানা যায় যে, ‘রোযা ধৈর্যের অর্ধেক আর ধৈর্য্য ঈমানের অর্ধেক’। ইসলামী পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে রমযানের রোযা স্রষ্টার সাথে বান্দার সাক্ষাত লাভের মাধ্যম হিসেবে সর্বশ্রেষ্ঠ স্তম্ভ। আর এজন্যই রসূলে করীম (সঃ) হাদীসে কুদসীর মাধ্যমে এরশাদ করেছেন

সম্মান ও মর্যাদার প্রভু আল্লাহ্ বলেন, ‘মানুষের অন্য সব কাজ তার নিজের জন্য, কিন্তু রোযা একান্তই আমার জন্য এবং আমি এর জন্য তাকে পুরস্কৃত করব’, রোযা ঢাল স্বরূপ। তাঁর নামে বলছি যার হাতে মুহাম্মদের জীবন, রোযাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহ্‌র নিকট মেশকের গন্ধের চেয়েও পবিত্র। একজন রোযাদার দু’টি আনন্দ লাভ করে, সে আনন্দিত হয় যখন সে ইফতার করে এবং রোযার কল্যাণে সে আনন্দিত হয় যখন সে তার প্রভূর সাথে মিলিত হয়। (বুখারী)

কুরআন শরীফ হতে প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহ্‌তা’আলা ধৈর্যশীলদেরকে বেহিসাব সওয়াব দান করবেন। রোযা পালন করার ফলে রোযাদার ধৈর্যের চূড়ান্ত নমুনা পেশ করেন, হাদীসে কুদসী হতে জানা যায় যে,

রসূলে পাক (সঃ) বলেছেন, আল্লাহ্ বলেন যে, রোযাদার তার ভোগ লিপ্সা এবং পানাহার শুধুমাত্র আমার জন্যই বর্জন করে; সুতরাং রোযা আমার উদ্দেশ্যে আমিই এর প্রতিদান (মুসলিম)

ইমাম গায্যালী (রহঃ) পবিত্র রমযানে রোযার হকীকত ব্যক্ত করতে যেয়ে বলেন যে,

“আল্লাহ্‌ তা’আলা রোযাদার ইবাদতে মশগুল যুবক দ্বারা ফিরিশতাদের কাছে বড়াই করেন; আর বলেন, হে আমার জন্য কামনা বাসনা দমনকারী যুবক! হে আমার সন্তুষ্টির লক্ষ্যে যৌবন অতিবাহিতকারী যুবক! কোন ফিরিশতার চেয়ে তুমি আমার নিকট কম নও। হে ফিরিশতা মন্ডলী! তোমরা আমার যুবক বান্দার প্রতি লক্ষ্য কর, সে তার কাম প্রবৃত্তি তার ক্রোধ, তার মুখ, তার পানাহার শুধুমাত্র আমারই সন্তুষ্টির লক্ষ্যে বর্জন করেছে।” (এহ্ ইয়া উলুমিদ্দীন)

হযরত আয়েশা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন,

রসূলে করীম (সঃ) বলেছেন, “শয়তান মানুষের ধমনীতে চলাচল করে, তোমরা যদি শয়তান হতে আত্মরক্ষা করতে চাও তবে রোযার মাধ্যমে তোমাদের ধমনীকে সংকীর্ণ করে দাও। রাবী আরো বলেন, একবার হুযূর (সঃ) আমাকে বললেন, হে আয়শা! সদাসর্বদা জান্নাতের দরজার কড়া নাড়তে থাক। জিজ্ঞাসা করলাম হে আল্লাহ্‌র রসূল (সঃ) তা কিভাবে? তিনি (সঃ) উত্তর দিলেন, রোযার মাধ্যমে”। (এহ্ ইয়াউ উলুমিদ্দীন)

হযরত আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হয়েছে,

রসূলে করীম (সঃ) বলেছেন, “যখন রমযান মাস আসে, তখন জান্নাতের দরজা খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ হয়ে যায়, আর শয়তানের পায়ে জিঞ্জির পরানো হয়”। (বুখারী)

প্রত্যেক রোযাদারকে গভীরভাবে মনে রাখতে হবে যে, রোযা আদায়ের অর্থ কতগুলো বিষয় থেকে বেঁচে থাকা ও কতগুলো বিষয়কে বর্জন করা। এর মাঝে বাহ্যিকতার কোন আমল নেই। অন্য যে কোন ইবাদত মানব দৃষ্টে ধরা পড়ে কিন্তু রোযা এমন এক ইবাদত যা শুধু আল্লাহ্ই দেখতে পান, যার মূল শিকড় রোযাদার ব্যক্তির হৃদয়ে লুকায়িত তাকওয়ার সাথে সংযুক্ত।

হাদীস হতে জানা যায় যে, হযরত মুহাম্মদ (সঃ) বলেছেন,

“মানুষের হৃদয়ে যদি শয়তানের আনাগোনা না থাকতো, তবে মানুষ উর্দ্ধজগত দেখার দৃষ্টিসম্পন্ন হয়ে যেত। শয়তানের আনাগোনা বন্ধে রোযা হচ্ছে ইবাদত কর্মসমূহের ঢাল স্বরূপ”।

উপরে চলুন