In the Name of Allah, The Most Gracious, Ever Merciful.

Love for All, Hatred for None.

Browse Ahmadiyya Bangla

কুরআন আমার প্রিয় কুরআন

আলহাজ্জ মোহাম্মাদ মুতিউর রহমান

(দ্বিতীয় কিস্তি)

‘ইয়া রব্ব্‌ তু রহম করকে
হাম কো শিখা দে কুরআন
হার দু:খ কি ইয়ে দাওয়া হো
হার দারদ কা হো চারা।।’

(হে প্রভু-প্রতিপালক! তুমি দয়া করে
আমাকে কুরআন শিখিয়ে দাও
প্রত্যেক দু:খের হোক ইহা নিদান,
হোক প্রত্যেক কষ্টের প্রতিকার।)

কুরআন করীমের তেলাওয়াতকালে কিছু করণীয় কাজ

কুরআন করীমের বাণী আল্লাহ্‌ তাআলার সদা জীবন্ত বাণী। ব্যক্তিগতভাবে তিলাওয়াতের সময় বা নামাযে কেরাতের সময় স্বয়ং নিজে বা ইমামের পেছনে এর অনুসরণে অর্থ অনুধাবন করতে থাকা আবশ্যক। কোন কোন আয়াত তিলাওয়াতকালীন সময় জবাবে কিছু কিছু কালাম বা কথা উচ্চারণ করা উচিত। এ প্রসঙ্গে মহান কুরআনের আদেশ হলো,

ওয়াল্লাযীনা ইযা যুকিরূ বি আয়াতি রব্বিহিম লাম ইয়াখির্‌রূ আলায়হা সুম্মাওঁয়া ‘উমইয়ানান।

অর্থ: আর তাদের প্রভু-প্রতিপালকের আয়াতগুলো তাদের যখন স্মরণ করিয়ে দেয়া হয় তখন তারা ওগুলোর প্রতি বধির এবং অন্ধের ন্যায় আচরণ করে না।

(সূরা ফুরকান: ৭৪)

এতে সুস্পষ্টভাবে বুঝা গেল, কুরআন মজীদ তিলাওয়াতের সময় বিভিন্ন বিষয়বস্তু সামনে এলে সেই অনুযায়ী কথায় ও কাজে আমল করা আবশ্যক। দোয়ার উল্লেখ এলে এর শেষে আমীন (তা-ই হোক) বলা দরকার। কোন আনন্দ ও সুসংবাদের উল্লেখ এলে আল্‌ হামদুলিল্লাহ্‌ (সব প্রশংসা আল্লাহ্‌র) এবং কোন আযাব, গযব ও শাস্তি প্রভৃতির কথা এলে নাউযুবিল্লাহ্‌ (আমরা এত্থেকে আল্লাহ্‌র আশ্রয় চাচ্ছি) বা আল্‌ আয়াযু বিল্লাহ্‌ (আমি এত্থেকে আল্লাহ্‌র আশ্রয় চাচ্ছি) ইত্যাদি বলতে হয়। সূরা ফাতিহা পাঠ শেষ হলে ‘আমীন’ বলতে হয়। ‘আমীন’ বলা নিয়ে ছোট খাটো মতভেদ দেয়া যায়। কেউ বলেন, আমীন জোরে বলতে হবে আবার কেউ বলেন, আমীন আস্তে বলতে হবে। নবী করীম সাল্লল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লামের সুন্নত থেকে এটা প্রমাণিত, তিনি ‘আমীন’ উচ্চঃস্বরেও বলেন নি বা খুব মৃদু স্বরেও বলেন নি। মুখের কথা কানে পৌঁছলে তবে তা হৃদয়ে রেখাপাত করে থাকে। তাই দোয়া এমন আওয়াযে করা উচিত যেন তা কানের মাঝ দিয়ে হৃদয়ের গহীনে পৌঁছে যায় এবং তখন তা যথাযথ প্রভাব বিস্তার করে থাকে। নচেৎ দোয়ায় ফলোৎপাদনের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। তাই ‘আমীন’ একটি আকাংক্ষা ও আহ্বান বিধায় এটা অতি উচ্চ স্বরেও বলা উচিত নয় যে গোলমালের সৃষ্টি করে ইবাদতের ভাবগম্ভীর পরিবেশ বিনষ্ট করে, আবার অতি ক্ষীণ স্বরেও বলা উচিত নয় যে মনে রেখাপাত করে না। আহমদীরা এ ভাবেই আমল করে থাকেন। এখানে আরও একটি বিষয় জানা আবশ্যক, ‘আমীন’ শব্দটি সূরা ফাতিহার অংশ নয়।

কুরআন মজীদের বিশেষ বিশেষ আয়াত তিলাওয়াতের শেষে বা শুনার পরে যে কালাম বা বাক্য অথবা দোয়া পাঠ করতে হয় এর কয়েকটি উদাহরণ উল্লেখ করা হলো:

(সূত্র: দৈনিক আল ফযল, রাবওয়া)

তিলাওয়াতের সিজদাহ্‌

কুরআন মজীদের বিভিন্ন স্থানে আল্লাহ্‌ তাআলার উদ্দেশ্যে একটি সিজদাহ প্রদানের আদেশ দেয়া হয়েছে। এখন আমরা এসব চিহ্নিত স্থানগুলোর উল্লেখ করবো। নির্দিষ্ট আয়াত তিলাওয়াত করার পর চিহ্নিত স্থানে যেখানে ‘সিজদাহ’ শব্দটি লেখা আছে সেখানে সিজদাহ্‌ দেয়া অবশ্যকর্তব্য। তিলাওয়াতের সময় সিজদাহ্‌ দিতে কোন অসুবিধা থাকলে পরে দিলেও চলবে তবে সিজদাহ অবশ্যই দিতে হবে। কা’বা মুখী হয়ে সিজদা করতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা নেই। খুব তরিৎ সিজদা দিতে হবে। সিজদার জন্যে ওযূ করারও শর্ত জরুরী নয়। নিম্নে উল্লেখিত সূরা ও আয়াত তিলাওয়াত শেষে সিজদাহ দিতে হবে।

নং সূরার নাম আয়াত নং কখন সিজদাহ দিবেন
(১) আল আ’রাফ – ৭ ২০৭ আয়াত শেষে
(২) আর্ রা’দ – ১৩ ১৬ আয়াত শেষে
(৩) আল্ নাহল – ১৬ ৫১ আয়াত শেষে
(৪) বনী ইসরাঈল – ১৭ ১১০ আয়াত শেষে
(৫) মারইয়াম – ১৯ ৫৯ আয়াত শেষে
(৬) আল্ হাজ্জ – ২২ ১৯ আয়াত শেষে
(৭) আল্ ফুরকান - ২৫ ৬১ আয়াত শেষে
(৮) আল্ নামল – ২৭ ২৭ আয়াত শেষে
(৯) আস্ সাজদাহ্ – ৩২ ১৬ আয়াত শেষে
(১০) সাদ – ৩৮ ২৫ আয়াত শেষে
(১১) হামীম আস্ সাজদাহ্ – ৪১ ৩৯ আয়াত শেষে
(১২) আন্ নাজম – ৫৩ ৬৩ আয়াত শেষে
(১৩) আল্ ইনশিক্বাক্ব্ – ৮৪ ২২ আয়াত শেষে
(১৪) আল্ আলাক্ব্ – ৯৬ ২০ আয়াত শেষে

উল্লেখ্য, তিলাওয়াতের সিজদার সংখ্যার ব্যাপারে ইমামদের মাঝে কিছু মতভেদ রয়েছে। তাছাড়া ইমাম আবূ হানীফা (রহ)-এর মতে এ সিজদা ওয়াজিব এবং অন্যদের মতে সুন্নত। সিজদার তসবীহ পাঠের পরও নিম্নোক্ত দোয়াও পাঠের জন্যে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে:

(ক) সাজদা ওয়াজহী লিল্লাযী খালাক্বাহূ ওয়া শাক্কা সাম’আহূ ওয়া বাসারাহূ বিহাওমিহী ওয়া কুওওয়াতিহী, অর্থাৎ আমার মুখমন্ডল সিজদা করছে সেই সত্তার উদ্দেশ্যে যিনি একে সৃষ্টি করেছন এবং নিজে বিশেষ শক্তি ও মহিমায় একে শ্রবণ ও দর্শণ শক্তি দান করেছেন।

(তিরমিযী, খন্ড ২, পৃষ্ঠা: ১৮০)

তদুপরি এ দোয়াটিও পাঠ করা যায়,

(খ) আল্লাহুম্মা সাজদালাকা সাওয়াদী ওয়া আমানা বিকা ফুয়াদী ইয়া সাজদালাকা রূহী ওয়া জানানী।

(ফিকাহ আহমদীয়া, পৃষ্ঠা: ২১৬)

কুরআন মজীদ কতদিনে খতম বা গোটা কুরআন একবার তিলাওয়াত শেষ করা যায়

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম ৩ দিনের কমে সারা কুরআন মজীদের পাঠ একবার শেষ করতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন,

যে ব্যক্তি ৩ দিনের কম সময়ে কুরআন খতম করেছে সে কুরআন বুঝে নি।

(তিরমিযী, আবু দাউদ ও দারেমী)

অধিকাংশ বুযুর্গানের মতে ৭ দিন থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত সময় হলো কুরআন করীম খতমের মধ্যম সময়। প্রতি বছর রোযার মাসে ব্যক্তিগতভাবে কমপক্ষে একবার কুরআন খতম করা এবং এবং প্রতি দিন সামান্য হলেও অর্থসহ তিলাওয়াত করার জন্যে তাগিদ দেয়া হয়েছে।

হাফিয সাহেবরা, যারা কুরআন ‘খতম’ করে পয়সা আয় করেন। মাইক লাগিয়ে কয়েক ঘন্টার মাঝে কুরআন করীম ‘খতম’ করায় কতই না কসরৎ করে থাকেন তারা! আর তিলাওয়াত শুনার লোক খুবই কম দেখা, যায় বুঝার কথা দূরে থাকুক। কখনো কখনো দেখা যায় কোন বিশেষ দিনে (অবশ্য এসব দিনে এভাবে কুরআন খতম করার কোন সনদও কুরআন হাদীসে নেই) হাফিয সাহেবরা অনর্গল কুআন পাঠ করে যাচ্ছেন আর খোদ সেই বাড়ীর লোকেরা নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত আছেন বা নাক ডেকে ঘুমুচ্ছেন। সুতরাং এতদ্‌দ্বারা যে কুরআনের শিক্ষার পরিপন্থী কাজ করা হচ্ছে এবং কুরআনের প্রতি যে অবজ্ঞা প্রদর্শন করা হচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এর প্রতি আক্ষেপ করে সম্ভবত কুরআনে বলা হয়েছে:

ওয়াক্বলার রসূলু ইয়া রব্বি ইন্না কওমিত্তাখাযূ হায়াল কুরআন মাহজুরা

অর্থ: এ রসূল বলবে, হে আমার প্রভু! নিশ্চয় আমার জাতি এ কুরআনকে পরিত্যক্ত বস্তু বানিয়ে নিয়েছে।

(সূরা ফুরকান: ৩১)

এ জাতি বলতে সাহাবা কেরামের প্রশ্নই ওঠেনা। এটা নিঃসন্দেহে এ যুগের মুসলমানদের ব্যাপারে খাটে যারা কুরআনের প্রতি কোন ভ্রুক্ষেপ করে না। আল্লাহ্‌ আমাদেরকে এত্থেকে রক্ষা করুন।

আগেই বলেছি, কুরআন মজীদ একখানা পরিপূর্ণ জীবন বিধান। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

“তোমাদের মাঝে সেই ব্যক্তি উত্তম যে নিজে কুরআন করীম শেখে এবং অন্যকে শেখায়”।

(বুখারী, কিতাবু ফাযায়েলিল কুরআন)

নবী করীম (সা.) আরও বলেছেন,

“যার কুরআন করীমের কোন অংশ মুখস্থ নেই তার অবস্থা পরিত্যক্ত গৃহের ন্যায়”।

(তিরমিযী, ফযায়েলিল কুরআন)

কুরআন মজীদের ওপর সত্যিকারভাবে আমল করলে স্বল্প সময়ে এ কুরআন মানুষকে আধ্যাত্মিক উন্নত স্তরে পৌঁছে দিতে পারে। এ প্রসঙ্গে যুগ-ইমাম হযরত মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী, ইমাম মাহদী ও মসীহ মাওউদ (আ.) বলেছেন,

‘সব রকম কল্যাণ কুরআন শরীফে নিহিত আছে। বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ কোন বাধা না থাকলে কুরআন করীম এক সপ্তাহের মধ্যে মানুষকে পবিত্র করতে সক্ষম। তোমরা যদি কুরআন শরীফ হতে বিমুখ না হও তাহলে এ (কুরআন) তোমাদেরকে নবী সদৃশ করতে পারে’।

(কিশতিয়ে নূহ্‌)

অতএব কুরআন মজীদের প্রকৃত শিক্ষার ওপর পরিপূর্ণ আমলের মাধ্যমেই কেবল একজন কল্যাণমন্ডিত হতে পারে। একে মন্ত্র-তন্ত্র বা তাবিয কবচের কিতাব মনে করা বা এ উদ্দেশ্যে একে ব্যবহার করা নেহায়েৎ অন্যায় বরং পাপ। এর বিনিময়ে অর্থ উপার্জন করা কুরআন ও সন্নতের শিক্ষার পরিপন্থী। সূরা বাকারার ৪২ এবং ১৭৫ আয়াতে এ সম্বন্ধে চরম নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। যেমন বলা হয়েছে, একে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রী করো না। যারা এ কাজ করে তারা শুধু আগুন দিয়ে তাদের পেট ভরতি করে। কিয়ামতের দিন আল্লাহ্‌ তাদের সাথে কথা বলবেন না এবং তাদের পবিত্রও করবেন না। আসলে তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক আযাব।

মৃত ব্যক্তির নামে কুরআন ‘খতম’, কবরের কাছে কুরআন ‘খতম’ ইত্যাদির কোন বিধান ইসলামে আছে বলে আমাদের জানা নেই। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর জীবন থেকে এর কোন দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় না। এগুলো একদল ধর্ম ব্যবসায়ী নামধারী আলেম কর্তৃক বিজাতীয় সংস্কৃতি থেকে ইসলামে আমদানী করা হয়েছে। আমাদের জামাআতে এর প্রচলন নেই। আর যাতে এসব বিদা’ত ও কুসংস্কার আমাদের মাঝে প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা আবশ্যক। যখন মনে করা হয় যে কোন ব্যক্তি মৃত্যুর দিকে এগুচ্ছে তখন সূরা ইয়াসীন পাঠ করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এটা এজন্যে পছন্দ করা হয়েছে, এ সূরা যে বিষয়বস্তু সম্পর্কে আলোকসম্পাত করেছে তা এমনই প্রকৃতির যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কষ্ট ও যন্ত্রণা লাঘব করে তাকে এক প্রকার আত্মিক প্রশান্তি দিতে পারে। নচেৎ বেহুস ব্যক্তির বা মৃত ব্যক্তিদের কাছে কুরআন তিলাওয়াতে কোন কল্যাণ নেই। বরং সেক্ষেত্��ে হৈ হুল্লোরের মাঝে কুরআনের পবিত্রতাকে প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

হুরূফে মুকাত্তায়াত

আমরা জানি কুরআন করীমের ২৯টি সূরার প্রারম্ভে স্ব স্ব উচ্চারণে পৃথক পৃথক ভাবে উচ্চারিত এক বা একাধিক অক্ষর ব্যবহৃত হয়েছে। এগুলো ‘হুরূফে মুকাত্তায়াত’ বা শব্দ সংক্ষেপন (Abbreviation) নামে পরিচিত। প্রত্যেক ভাষায়ই এর ব্যবহার আছে। এ প্রসঙ্গে অআহমদী ওলামাদের মাঝে সর্বাধিক প্রচলিত মত হচ্ছে,

‘হরূফে মুকাত্তায়াতগুলো এমনি রহস্যপূর্ণ যার মর্ম ও মাহাত্ম্য একমাত্র আল্লাহ্‌ তাআলাই জানেন। অন্য কাকেও এ বিষয় জ্ঞান দান করা হয়নি’।

(মুফতি মুহাম্মদ শফী কর্তৃক অনূদিত পবিত্র কুরআনুল করীম, অনুবাদ ও সম্পাদনা-মাওলানা মুহিউদ্দীন খান)

এখন প্রশ্ন হতে পারে, যাঁর (সা.) কাছে এ মহান কুরআন অবতীর্ণ হয়েছিল তিনিও কি এর অর্থ ও তাৎপর্য বুঝেন নি? আর যদি তা-ই হয় তাহলে এ অবোধগম্য অক্ষরগুলো আল্লাহ্‌ তাআলা কেন তাঁর নবীর কাছে অবতীর্ণ করলেন যা তিনি (সা.) ও বুঝেন নি। আরাফাতের মাঠে বিদায় হজ্জের সময় যখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লাম উপস্থিত প্রায় এক লক্ষ সাহাবার কাছ থেকে এ স্বীকৃতি নিয়েছিলেন-আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে তিনি যা লাভ করেছেন তা কি সবই তাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন? এ হুরূফে মুকাত্তায়াত যদি তাদের বোধগম্য না হয়ে থাকতো তাহলে তাঁরা অবশ্যই এ সম্পর্কে হুযূর (সা.)-এর কাছে জানতে চাইতেন যে এগুলো সম্পর্কে তো আপনি আমাদের কিছু জানালেন না। যা-ই হোক কুরআন কামেল শরীয়ত। সুতরাং যুক্তির কথা এটাই, এর কিছু অস্পষ্ট ও অবোধগম্য থাকা বাঞ্ছনীয় নয়। সেক্ষেত্রে কুরআন করীম পরিপূর্ণ ও কামেল গ্রন্থ হতে পারে না।

আসল কথা এই, এগুলো সম্পর্কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লামও জানতেন এবং বিশেষ বিশেষ সাহাবারাও জানতেন। আরবদের মাঝে এ ধরনের মুকাত্তায়াতের ব্যবহার তাদের কথাবার্তা কবিতা ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হতো। যুগইমাম হযরত মসীহ্‌ মাওউদ ও ইমাম মাহদী (আ.) এ প্রসঙ্গে আলোকপাত করেছেন। প্রত্যেক ভাষায়ই এ ধরনের শব্দ সংক্ষেপন বা Abbreviation এর ব্যবহার প্রচলিত আছে। আমাদের জামাআতের কুরআন মজীদের টীকানুযায়ী মুকাত্তায়াত আল্লাহ্‌র গুণাবলী প্রকাশক শব্দগুলোর অক্ষর সংকেতস্বরূপ। যে সূরার পূর্বে এ অক্ষর-সংকেত ব্যবহৃত হয় এর বিষয়বস্তুর সাথে আল্লাহ্‌র কোন না কোন গুণের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকে। মুকাত্তায়াতের অক্ষরে সেই গুণটিই নিহিত থাকে। বিভিন্ন সূরার প্রারম্ভে যেন তেন বা অগোছালোভাবে এগুলো ব্যবহার করা হয় নি। যেখান একত্রে একাধিক অক্ষরের সমাবেশ ঘটানো হয়েছে সেখানেও সুশৃংখলা বিদ্যমান রয়েছে। আগের অক্ষর পরে বা পরের অক্ষর আগে রাখা হয়নি। বিভিন্ন সমষ্টি বা সেটের মাঝে নিগূঢ় সম্পর্ক ও গভীর তাৎপর্য রয়েছে। যেসব সূরা মুকাত্তায়াত দিয়ে আরম্ভ হয়নি এগুলো পূববর্তী সন্নিহিত মুকাত্তায়াত সম্বলিত আয়াতের আওতাধীন থেকে এরই বিষয়বস্তু, বাকধারা ও ভাবাধারা অনুসরণ করে থাকে। মুকাত্তায়াতের তাৎপর্যগুলোর মাঝে দুটি অধিকতর নির্ভরযোগ্য বলে মনে হয়: (১) প্রত্যেক অক্ষরের একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা মূল্য আছে (জরীর)। (২) আল্লাহ্‌র নির্দিষ্ট গুণাবলী জ্ঞাপক শব্দ-সংক্ষেপ। সূরা বাকারায় আলিফ লাম মিম ব্যবহৃত হয়েছে। এর অর্থ করা হয়েছে ‘আনল্লাহু আ’লামু’ অর্থাৎ আমি আল্লাহ্‌ সর্বজ্ঞ। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) এবং হযরত ইবনে মাসঊদ (রা.) এ অর্থ করেছেন। মোটকথা এশব্দ সংক্ষেপন কুরআনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা ওহীর মাধ্যমে এসেছে (বুখারী)। হযরত খলীফাতুল মসীহ সানী আল মুসলেহুল মাওউদ (রা.)-ও তফসীরে কবীরে বিস্তারিতভাবে এর ওপর আলোকসম্পাত করেছেন।

মাওলানা আব্দুল হক আব্বাসী (ফরিদপুরী) এক বিরাট আলেম। প্রায় হাজার পঞ্চাশেক লোক তার মাহফিলে সমবেত হয়। তাকে এ সম্বন্ধে প্রশ্ন করা হলে তিনি বল্লেন, এর ভেদ আল্লাহ্‌ ছাড়া কেউ জানে না। তিনি উদাহরণ দিতে গিয়ে বল্লেন, কাপড়ের দোকানের মালিক কাপড়ের আসল মূল্য গোপন রাখার জন্যে সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করে থাকে এগুলোও সে সেরকম। বলিহারি! এদের জ্ঞানের বহর দেখে আশ্চর্য হতে হয় এসব নামধারী আলেম এটা বুঝে না, দোকানের কর্মচারীরাও কি এগুলোর অর্থ বুঝে না। অতএব কেবল আল্লাহ্‌ই অবগত একথা বললে ইসলামের বিরুদ্ধবাদীদের আপত্তির অনেক দরজা খুলে দেয়া হয়।

কুরআন ‘খতম’ করার পর দোয়া

কুরআন ‘খতম’ করে কয়েক প্রকার দোয়াই পাঠ করার প্রচলন আছে। নিম্নোক্ত দোয়াটি বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ:

আল্লাহুম্মা আনিস ওয়াহ্‌শাতি ফী ক্ববরী-আল্লাহুম্মা রহামনী বিল ক্বুরআনিল আযীম ওয়াজআল হুলী ইমামাঁওয়া রহমাতান আল্লাহুম্মা যাক্কিরনী মিনহু মা নাসীতু ওয়া আল্লিমনী মিনহু মা জাহিলতু ওয়ারযুক্ব্‌নী তিলাওয়াতহূ আনায়াল্লায়লি ওয়া আনায়ান্নাহারি ওয়াজয়ালহুলী হুজ্জতান ইয়া রব্বাল ‘আলামীন।

অর্থ: হে আল্লাহ্‌! তুমি আমার কবরে আমার অস্বস্তিকে স্বস্তিতে রূপান্তরিত করো। হে আল্লাহ্‌! তুমি মহান কুরআনের কল্যাণে আমার প্রতি করুণা কর এবং একে আমার জন্যে পথের দিশারী, জ্যোতি ও পদনির্দেশনা এবং কৃপাস্বরূপ কর। হে আল্লাহ্‌! এত্থেকে যা কিছু আমি ভুলে গেছি তা আমাকে স্মরণ করিয়ে দাও এবং এর যা কিছু আমি জানি না তা আমাকে শিখিয়ে দাও। আর দিন রাতের বিভিন্ন মুহূর্তে এর তিলাওয়াতকে আমার জীবনোপকরণ করে দাও। হে বিশ্ব জগতের প্রভু-প্রতিপালক! তুমি একে আমার জন্যে অকাট্য যুক্তি প্রমাণস্বরূপ করে দাও।

কুরআনে কসম তত্ত্ব

মহান আল্লাহ্‌ তাআলা কুরআন মজীদে বিভিন্ন সৃষ্ট জিনিষের উল্লেখ করে কসম খেয়েছেন। যেমন চন্দ্র, সূর্য, বৃষ্টি, ডুমুর, জলপাই, সিনাই পর্বত প্রভৃতি। অজ্ঞরা এবং বিশেষ করে ইসলামের বিরুদ্ধবাদীরা এ প্রসঙ্গে আপত্তি করে থাকে। তারা মনে করে আল্লাহ্‌র কসম খাওয়া মানুষের ন্যায়। আল্লাহ্‌র কসম খাওয়ার মাঝে গভীর তাৎপর্য নিহিত রয়েছে। এ প্রসঙ্গে হযরত মসীহ্‌ মাওউদ (আ.) তাঁর বিখ্যাত পুস্তক ইসলামী নীতিদর্শনে যে গভীর তত্ত্ব কথার অবতরণা করেছেন কসম তত্ত্ব বুঝার জন্যে তা-ই আমাদের জন্যে যথেষ্ট। হুযূর (আ.) বলেন,

‘কসম করার মূল উদ্দেশ্য হলো কসমকারী তার দাবীর সমর্থনে একটি সাক্ষ্য উপস্থিত করতে চায়। কারণ যে ব্যক্তির দাবীর অন্য কোন সাক্ষী থাকে না সে সাক্ষীর বদলে খোদা তাআলার কসম এজন্য খায় যে খোদা হলেন অদৃশ্য বিষয়াবলীর পরিজ্ঞাতা এবং প্রত্যেক মোকদ্দমায় তিনিই সাক্ষী। অন্য কথায়, সে খোদার সাক্ষ্য এজন্যে উপস্থাপন করে যে এ কসমের পর খোদা তাআলা চুপ থাকলে এবং তার ওপর শাস্তি অবতীর্ণ না করলে এক দিক দিয়ে তিনি সেই ব্যক্তির কথাকে সাক্ষীদের ন্যায় সমর্থন করলেন। কোন সৃষ্টির জন্যে অন্য কোন সৃষ্ট বস্তুর কসম খাওয়া উচিত নয়। কারণ কোন সৃষ্টিই অদৃশ্য বিষয়ের পরিজ্ঞাতা নয় এবং মিথ্যা কসম করলে শাস্তি দিতেও অক্ষম। কিন্তু (কুরআনের) আলোচনাধীন আয়াতগুলোতে খোদার কসম খাওয়া মানুষের কসমের মত নয়। বরং এতে খাদা তাআলার বিধানের দু প্রকার ক্রিয়ার প্রকাশ ঘটে। প্রথমত প্রত্যক্ষ ক্রিয়া যা সবাই বঝুতে পারে এবং এতে কারও মতভেদ নেই। দ্বিতীয়ত সেই প্রক্রিয়া যা প্রচ্ছন্ন বা পরোক্ষ, যুক্তি প্রয়োগে যা বুঝা যায়। এক্ষেতে মানুষ ভুল করে এবং পরস্পরের মাঝে মতের অমিলও হয়ে থাকে। অতএব খোদা তাআলা তাঁর প্রত্যক্ষ ক্রিয়ার সাক্ষ্য উপস্থিত করে এর মাঝে নিহিত পরোক্ষ ক্রিয়া মানুষের কাছে প্রকাশ করতে চান’।

(ইসলামী নীতিদর্শন)

সৌর জগতের বস্তু নিচয়ের কসম খেয়ে আল্লাহ্‌ তাআলা এটা প্রমাণ করতে চান, এগুলো এক নিয়ম মাফিক নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে মহান সৃষ্টিকর্তার আদেশে তেমনি মানুষের জীবনের উদ্দেশ্য সাধনের জন্যে তাদেরও তাদের স্রষ্টার আদেশ নিষেধ পালন করা কর���তব্য। চন্দ্রও সূর্যের আলোতে যেমন সব কিছু আলোকিত হয় তেমনি মানুষ ঐশী জ্যোতি লাভ করে নিজেকে এবং সবাকে আলোকিত করতে পারে। এসব সৃষ্টির মাধ্যমে যেমন অন্ধকার বিদূরিত হয় তেমনি ঐশী আলোপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গের আলোতেও যুগের অন্ধকার দূরীভূত হয়ে পারে। আকাশ থেকে বারি ধারা বর্ষণের মাধ্যমে মৃত পৃথিবী যেমন সঞ্জীবিত হয়ে ওঠে তেমনি ঐশবাণী অর্থাৎ ওহী ইসলামের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক মানবগুলোও পুনর্জীবন লাভে সক্ষম হয়। ডুমুর, জলপাই, সিনাই পর্বত প্রভৃতির কসম খেয়ে আল্লাহ্‌ তাআলা এর সাথে সংশ্লিষ্ট নবীদের জীবনের ঘটনাবলীকে উপস্থাপন করে এর যেমন সত্যায়ন করেছেন তেমনি ভবিষ্যতে নবী করীম (সা.)-এর জীবনেও এমনসব সত্য ঘটনাবলী যে সংঘটিত হবে এবং হতে থাকবে এরও শুভ সংবাদ দান করেছেন। মোট কথা কুরআনের কসম তত্ত্ব কোন আজগুবী বিষয় নয়। সত্যের নিরিখে স্বপ্রমাণিত। এ সম্পর্কে লিখতে গেলে বিরাট প্রবন্ধ লিখতে হবে। এখানে এর অবকাশ নেই। সুতরাং এ প্রসঙ্গে সামান্য ইঙ্গিত করে আপতত এখানেই ইতি টানলাম।

কুরআনের কিসসা কাহিনী

এ কথা অনস্বীকার্য যে কুরআন করীমে হযরত আদম থেকে নিয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লামের ঘটনাবলী বর্ণনা করা হয়েছে। এমন কি আল্লাহ্‌ তাআলা হযরত ইউসুফ (আ.)-এর ঘটনাবলীকে স্বয়ং নিজে ‘আহসানাল কাসাস’ বা সর্বোত্তম বৃত্তান্ত বলে আখ্যায়িত করেছেন। কাফিররা এ কারণেই কুরআন সম্বন্ধে বলতো “হাযা আসাতিরুল আওওয়ালীন” অর্থাৎ এতো পূর্ববর্তীদের কিস্‌সা কাহিনী। এখন চিন্তার বিষয় আসলেই কি এসব নিছক কিসসা এবং কাহিনী নাকি এর অন্য কোন উদ্দেশ্যে রয়েছে। অআহমদী উলামা বন্ধুরা যেভাবে রসিয়ে রসিয়ে এসব ঘটনাবলী বর্ণনা করেন এতে এসব যে কেবল কিসসা ও কাহিনী এটা মনে করারও যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কুরআন কোন কিসসা কাহিনীর পুস্তক নয়। কুরআন করীমে যদিও পূর্ববর্তী নবী রসূলগণের সময়ের ঘটনাবলী বর্ণনা করা হয়েছে, কিন্তু এ সবের পেছনে শিক্ষা গ্রহণ করার তাগিদ রয়েছে এবং কোন কোন ব্যাপারে ভাবিষ্যদ্বাণীও রয়েছে যা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লামের জীবনে ঘটার কথা। সূরা ইউসুফের ঘটনাবলী তো প্রায় হুবহু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলায়হে ওয়া সাল্লামের জীবনে ঘটেছে। যাদের চোখ আছে কেবল তারাই এটা প্রত্যক্ষ করতে পারে। এমন কি তাঁর (সা.) উম্মতের জন্যেও এসব ঘটনার মাঝে ভাবিষ্যদ্বাণী নিহিত ছিল যা পরবর্তীকালে ঘটেছে বা কোনটি এখনও ঘটার অপেক্ষায় রয়েছে। কুরআন করীমে অনেক নবী ও তাঁর সময়ের লোকদের ঘটনা বর্ণনা করে দেখানো হয়েছে যে সেই নবী (আ.)-কে না মানায় পরবর্তী কালে সেই জাতির ওপর আল্লাহ্‌র ক্রোধের আযাব কিভাবে নেমে এসেছিল। উম্মতে মুহাম্মদীয়ার জীবনে যদি এ ধরনের ঘটনাবলীর পুনরাবৃত্তি না ঘটে তাহলে এসব বর্ণনা কাফিরদের বর্ণিত কিস্‌সা কাহিনী ছাড়া আর কিছু নয়। কথায় বলে History repeats itself - ইতিহাস বারে বারে পুনরাবৃত্ত হয়ে থাকে। কুরআনের বেলায় এটা পুরোপুরি খাটে। মানুষের সবচেয়ে পরিতাপ হলো তারা ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে না। কুরআনে বহু নবীর সময়ের ঘটনা উল্লেখ করে উম্মতে মুহাম্মদীয়াকে সতর্ক করা সত্ত্বেও তাদের মাঝেও মসীহ্‌ ও মাহদী (আ.) যখন আবির্ভূত হলেন তারা পূর্ববর্তী উম্মতের পথ অনুসরণ করে তাঁকে অস্বীকার করে তাঁকে ব্যর্থ করার চেষ্টা করলো। কিন্তু আল্লাহ্‌ তাআলা যাঁর সহায় তাঁকে কেউ আগে যেমন ব্যর্থ করতে পারে নি এখনও পারবে না, ইনশাআল্লাহ্‌। যারা ইতিহাসের শিক্ষা গ্রহণ করেন নি তারাই ব্যর্থ হচ্ছে এবং পরিশেষে ব্যর্থতার তিলক তাদের কপালে অঙ্কিত হবে একথা নিসন্দেহে বলা যেতে পারে। এ প্রসঙ্গে হযরত মসীহ্‌ মাওউদ (আ.)-এর চশমা মা’রেফত পুস্তক দেখুন।

কুরআনে পুনরুক্তি

ভাল কথা বার বার বলাতে দোষ হয় একথা বোধ করি কোন দুর্মুখই বলতে পারবে না। এটা ঠিক যে কুরআনে কোন কোন বিষয় বার বার বলা হয়েছে বা পুনরুক্তি করা হয়ছে। কেউ কেউ এটা নিয়ে আপত্তি করে থাকেন। এটা তাদের খাম খেয়ালীপনার ফসল। প্রকৃতিতে পুনরুক্তির শেষ নেই। এতে কেউ আপত্তি করে না। বরং এটা আছে বলেই জীবন ছন্দময় হয় এবং সুষমায় ভরে ওঠে। আমরা কি রোজ খাই না ঘুমাই না। কোথাও কোথাও পুনরুক্তি বিশেষ প্রয়োজন। কবি ও গায়করা এর বহুল ব্যবহার করে থাকেন। এটা তো কারো কানে বাজে না বরং এগুলো নানা ভঙ্গীমায় ঝংকৃত হয়ে গান ও কবিতার সমঝদার ব্যক্তিদের মাতিয়ে তোলে। কোন সতর্কবাণী যখন রেডিও টিভি থেকে বার বার প্রচারিত হয় তখন তা কি কারও খারাপ লাগে বরং তা বিশেষ প্রয়োজন বলে স্বীকার করে নেয়া হয়। তা শুনার জন্যে সবাই উন্মুখ হয়ে থাকে। কুরআনে কোন কথা বা বিষয় যদিও বার বার ব্যক্ত হয়ে থাকে বিশেষভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে প্রত্যেকের প্রেক্ষাপট ভিন্ন ভিন্ন এবং ভিন্ন ভিন্ন বাণী ও শিক্ষা নিয়ে সেগুলোর অবতারণা করা হয়েছে। উচ্চস্তরের ভাষা ও সাহিত্যেও পুনরুক্তি লক্ষ্য করা যায়। এতে ভাষার মাধুর্য ও লালিত্য গভীর থেকে গভীরতর তাৎপর্য বহন করে থাকে। সুতরাং কুরআনে পুনরুক্তি সম্বন্ধে যারা আপত্তি করে থাকে তাদের কাছে কবির এ আহ্বান মূর্ত হয়ে ওঠা আবশ্যক:

‘হে কল্যাণ! তোমাকে চাই, আরও চাই
বার বার চাই’।

৩য় কিস্তি

পাক্ষিক আহ্‌মদী - সংখ্যা: ৩১শে জুলাই, ২০০৮ইং

উপরে চলুন